Sunday, June 21, 2020

ডিপ্রেশন


ডিপ্রেশন

... ঋষি

                                      

দুমাস ধরে বাড়ি ভাড়া বাকি তুমি বলছো জামা কাপড় ধুই  কিনা ,চাকরিটা থাকলে হয় ,বস  মাদারির বাদর করে নাচাচ্ছে ছুটির দিনগুলোতেও শান্তি নেই ,এখন রাখছি অফিসে যেতে হবে ,এই বলে ফোনটা কেটে দিল অরিত্র ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো .৩০ ইশ দেরি হয়ে গেলো ঈপ্সিতার সাথে কথা বলতে বলতে  ,অরিত্রকে আজ পৌঁছতেই হবে অফিসে .০০ টায়ঈপ্সিতা হলো অরিত্রের বউ ,বাবা মায়ের সাথে মেদিনীপুর থাকে অরিত্র ঘর ভাড়া করে কলকাতায় থাকে চাকরি সূত্রে  ,সে একটা সেলসের অফিসে কাজ করেমেদিনীপুরে অরিত্রের পূর্বপুরুষের বাস ,মা ,বাবা দুজনেই অসুস্থ ,অরিত্র একমাত্র সন্তান তাদের ,বাবা ,মাকে   দেখাশোন করতে ঈপ্সিতা ওখানেই থাকে ,মাসের মধ্যে চারদিন অরিত্র গ্রামে যায় ঈপ্সিতা ওই গ্রামেরই মেয়ে ,সে ওখানে সব সামলে নেয় শুধু অরিত্রের মাঝে মাঝে মন খারাপ করে ,সে মনে মনে ইপ্সিতাকে কলকাতায় এনে রাখতে চায় ,কিন্তু বাবা ,মার্ কথা ভেবে আর হয়ে ওঠে না

.

              অরিত্র অফিস পৌঁছলো কুড়ি মিনিট  লেট্ করে,একে তো নিজের রান্না করা , নিজের টিফিন প্যাক করা থেকে সবটাই তার নিজেকেই করতে হয় ,তার উপর কলকাতার জ্যাম অফিস ঢোকা মাত্র প্রিয়াঙ্কা ডেস্ক থেকে ফোন করে বললো বস ডেকেছে অরিত্র পড়িমরি করে ছুটলো বসের ঘরে ,দরজা টোকা দিতেই  মিস্টার চিন্তন বলতেই প্লিজ কাম ,তারপর নিজের স্বভাবচিত মাড়োয়ারি ভঙ্গিতে বললেন অরিত্র তুমহারা সেলস রিপোর্ট ম্যা দেখা লাস্ট মান্থকা  ,নাথিং ইম্প্রোভ ,আপ এক কম কিজিয়ে ব্যাক অফিসমে শিফট হো যাইয়ে ,অরিত্র উঠে পড়ছিল চেয়ার থেকে ,তিনি আবার যোগ করলেন হ্যা অরিত্র তুম্হারে মাফিক এক কাম  হ্যা, মিস্টার গোলদার  হামলোগোকে মুম্বইকাইকে ক্লাইন্ট ,উনকি  ওয়াফ পার্ক হোটেলমে রুকি হুয়ি হ্যা ,তুম অভি চলে যাও ,উনকে সাথে রহো ,ঊনকো কলকাতা ঘুঘুমানা  হ্যা তুম সাথ রহো অরিত্র আবার চেয়ার থেকে উঠছিল মিস্টার চিন্তন বললেন ওর হ্যা শুনো উনসে জাদা বাত করনেকা জরুরত নেহি হ্যা কিঁউকি ম্যা নেহি চাহাতা মেরি কোম্পানিমে  কোই ইডিয়েট কাম করতা হ্যা উনহে পতা চলে,মিসেস গোলদার জো বলে ওহি শুননা 

.

অরিত্র বেজার মুখে অফিস থেকে বেরিয়ে এলো তার শুধু মনে পড়ছিল বসের মুখটা যখন বস বলছিল  কিঁউকি ম্যা নেহি চাহাতা মেরি কোম্পানিমে  কোই ইডিয়েট কাম করতা হ্যা উনহে পতা চলে,অরিত্রর ইচ্ছা করছিল একটা ঘুরিয়ে ঘুষি মারে বসের মুখে অফিসের চাপে তার মাঝে মাঝে পাগল পাগল লাগে ,আর তার বস তাকে দিয়ে কি না করায় ,পারলে টয়লেটটা তাকে পরিষ্কার করতে বলে কিন্তু কি করবে অরিত্র  ? গ্রামের সংসার ,নিজের খরচ তার  পুরোটাই চলে তার এই চাকরি থেকে সে মাঝে মাঝে ভাবে সে কি ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে আজকালকার প্রজন্মের মানুষের কাছেডিপ্রেশনশব্দটি বহুল প্রচলিত এই ডিপ্রেশনের সঠিক সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা অরিত্রের কাছে  নেই অরিত্র কোথাও পড়েছিল  মনের একটি জটিল স্তরে  ডিপ্রেশন হল একধরনের ইমোশনাল ইম্ব্যালেন্সকোনো ব্যাক্তির স্বাভাবিক অনুভূতি কিংবা মেজাজের অবনতিকেমেজর ডিপ্রেসিভ ইলনেসবলে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় তিনশ মিলিয়ন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি জনের জন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটিতে ভুগছেনএই ডিপ্রেশন থেকে ক্রমশ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা তবে ডিপ্রেশনের সঙ্গে আত্মহত্যার যে ক্লিনিক্যাল সম্পর্ক তার বাইরেও কিছু বক্তব্য থেকে যায় অনেকেই মনে করেছেন আত্মহত্যা একটি শিল্প,আমেরিকান কবি সিলভিয়া প্লাথ বলেছিলেন “Dying is an art, like everything else. I do it exceptionally well.” এবং ১৯৬৩ সালে একটি শীতের সকালে, ভোরবেলায় উনি গ্যাস ওভেনে নিজের মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন এই আত্মহত্যাকে কি আমরা শুধুই ডিপ্রেশন বলতে পারি..? আমরা এডলফ হিটলারের জীবন ঘাঁটলেও দেখতে পাই যে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ইভা ব্রাউনকে তিনি বিয়ে করে, তার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ফিউরার বাংকারে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেনএছাড়াও সিগমন্ড ফ্রয়েড, যাঁকে আমরা সাইকো-অ্যানালেসিসের জনক বলি, তিনি নিজেই ম্যাক্স স্কার কন্যা আনা ফ্রয়েডের সঙ্গে যৌথ পরামর্শ করে অধিক মরফিন গ্রহণের মাধ্যমে স্বেচ্ছামৃত্যু হিসেবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেনঅরিত্র ভাছিল  এই মৃত্যু গুলোকে কি মানুষের শুধুমাত্র চূড়ান্ত ডিপ্রেশনের  উদাহরণ হঠাৎ পার্ক হোটেলের সামনের রাস্তা ক্রস করতে করতে অরিত্রর পায়ের সামনে একটা গাড়ি খুব জোরে  ব্রেক মারে ,ভিতর থেকে ড্রাইভার চিৎকার করে অরিত্রকে গালাগাল দেয় ,মরবার জন্য কি আমার গাড়িটাই ছিল সারা শহরে 

.

রিসেপশনে খোঁজ নিয়ে অরিত্র লিফট বেয়ে এখন পার্ক হোটেলের চতুর্থ ফ্লোরের  ৪০৪ নম্বর রুমের কলিংবেল টিপলো একজন মধ্যবয়স্কা  গোলাগাল বাঙালি ভদ্রমহিলা দরজা খুললেন অরিত্র বললো মিস্টার চিন্তন পাঠিয়েছেন ,ভদ্রমহিলা বললেন ইয়েস চিন্তন কল করেছিল,কাম ইন অরিত্র ঘরে ঢুকে বুঝলো  তার মতো সাধারণ  কেরানির কাছে এই হোটেল রুম চিরকাল স্বপ্ন মিসেস গোলদার অরিত্রকে বাইরে ড্রইংরুমে  বসতে বললেন ,প্রশ্ন করলেন উড ইউ লাইক ওয়ান অর শ্যাম্পেন ? অরিত্র মাথা নাড়লো ,ভদ্রমহিলা অরিত্রকে বসতে বলে অন্য ঘরে চলে গেলেন অরিত্র মাথা ঘুরিয়ে দেখছিল ড্রইংরুমটা ,তার মনে পড়ছিল ঈপ্সিতার সাথে বিয়ের পর হানিমুনের পুরীর হোটেলটার কথা ,অরিত্রর মনে হচ্ছিল সত্যি এই জীবনে তার কিছুই করা হলো না মিসেস গোলদার ফিরে এলেন ,হাতে মদের গ্লাস ,বিদেশী একটা মিউজিক চালিয়ে ড্রইংরুমে  দুলতে লাগলেন ,অরিত্র অবাক হচ্ছিল দেখে এখন মধ্যবয়স্ক ভদ্রমহিলা কি করে একজন পুরুষের সামনে শরীর দেখানো পাতলা  পোশাক পরে এমন করে নাচতে পারে মিসেস গোলদার আবার বললেন কাম ড্যান্স উইথ মি ,অরিত্র বসের কথা মনে করে এগিয়ে গেলো মিসেস গোলদার অরিত্রকে জাপ্টে ধরলেন যেমন করে একটা সিংহ মানুষের উপর চেপে বসে,মিসেস গোলদার বললেন কাম ওন হ্যাগ মি অরিত্র কলের পুতুলের মতো হাত রাখলো মিসেস গোলদারের দুপাশে কোমরে মিসেস গোলদার ক্রমশ মূখ ঘষতে লাগলো অরিত্রর বুকে ,অরিত্র ঈপ্সিতার কথা মনে পড়ছিল ,একসময় মিসেস গোলদার অরিত্রকে টেনে নিয়ে এলো একটা সাজানো বেডরুমে ,উনি জোর করছিলেন অরিত্রের প্যান্টটা খোলার চেষ্টা করছিলেন  অরিত্র চোখ বন্ধ করে চেষ্টা করছিল সহ্য করার ,ধুমসি মহিলাকে হাত দিয়ে ঠেলবার চেষ্টা করছিল মিসেস গোলদার বললেন আই ডোন্ট থিঙ্ক ডিস্ ইস ইউর ফাস্ট টাইম ,লজ্জা পাচ্ছো কেন  ? তারপর যোগ করলেন চিন্তন কি লোক খুঁজে পায় না ,তোমার মতো একজন বোকা সিট কে পাঠিয়েছে হঠাৎ করে অরিত্রর মাথাটা গরম হয়ে গেলো সে ওই মহিলার চুলির মুঠি ধরে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দিলো ,তারপর চড়ে বসলো তার বুকে তারপর গায়ের জোরে ঘুষি মারতে লাগলো ভদ্রমহিলার মুখে,চিৎকার করতে লাগলো আই এম নট আ সিট্ ,আই এম নট আ ইডিয়ট , সেই  মুহূর্তে অরিত্র মিসেস গোলদারের মুখ আর মিস্টার চিন্তনের মুখ দুটো একসাথে দেখছিলপ্রথমে মিসেস গোলদার চিৎকার করছিলেন ,তারপর রক্তাক্ত ,তারপর কখন যেন স্থির হয়ে গেলেন,কিন্তু অরিত্র তখনও এলোপাহাড়ি ঘুষি চালাচ্ছিল মিসেস গোলদারের মুখে  ,চিৎকার করছিল সে          


No comments:

Post a Comment