চুমু
.... ঋষি
আর কত চুমু খাবি এবার তো ভিতরে আয় বলে অঙ্কিতা ,চয়নকে বুকে টানলো। চয়ন বললো দাঁড়া সবে তো শুরু তুই জানিস পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চুমুর সময়টা থাইল্যান্ডের রেকর্ড আটান্ন ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট আটান্ন সেকেন্ডের ,ভাবছি রেকর্ডটা ভেঙে ভারতবর্ষের করবো বাঙালির নামে।অঙ্কিতা বললো আচ্ছা আর আঁতেলগিরি করতে হবে না আয় ভিতরে আয় ,দেখি তুই কেমন বিশ্বরেকর্ড করিস। চয়ন ঝাঁপিয়ে পড়লো অঙ্কিতার বুকে। চয়ন প্রামানিক পেশায় বিমান চালক ,২০০০ স্কয়ারফিটের ফ্ল্যাট এয়ারপোর্টের পাশে ,আর অঙ্কিতা তার স্ত্রী আর এককালীন বন্ধুও বটে।
.
চয়নের নেশা বলতে আকাশ আর চুমু। আকাশ জিনিসটা চয়নকে টানতো যখন সে প্যান্ট পড়তে শেখে নি তখন থেকে। বাবা নাম করা ব্যবসায়ী কোচবিহারে ,মা বলতো বাবুন আকাশ না ,আকাশ বড়ো গভীর হারিয়ে যাবি যে আয় বুকে আয়। বাবা মার্ অমতে চয়নের এই পেশায় আসা একরকম ,প্রথম যেদিন সে প্লেন নিয়ে আকাশে উঠবে সেদিন মা খুব কেঁদেছিল ,বাবা বলেছিল ছেলের পাখা গজিয়েছে তাই বাবার ব্যবসা ছেড়ে উনি চললেন প্লেন ওড়াতে। এসব বহুদিনের আগের কথা। অঙ্কিতা ছিল আন্তর্জাতিক বিমানের সেবিকা ,প্লেনে পরিচয় তারপর প্রেম। চয়নের ইচ্ছে ছিল সে আকাশেই বিয়ে করবে অঙ্কিতার সাথে ,হয়ে ওঠে নি।
.
চয়নের জীবনে চুমুর মাহাত্ম মহান আর ডেফিনেশন ভাবলে চয়ন অবাক হয় মায়ের চুমু ,গার্লফ্রেন্ডের চুমু ,দিদি স্থানীয়দের চুমু ,বৌদির চুমু ,বৌয়ের চুমু ,সন্তানের চুমু সব স্পর্শগুলো আলাদা। চয়ন বোঝে চুমুর এই আলাদা আলাদা মাপকাঠিতে স্বাদগুলোও আলাদা কিন্তু ডিফাইন করা সম্ভব নয়। পৃথিবীতে প্রায় বাহান্ন রকমের চুমুর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শীল কোনটা সেটাও বলা সম্ভব নয়। তবে এই পৃথিবীতে চুমু হলো একটা ভালোবাসার প্রতীক ,একটা সিম্বল। তখন অঙ্কিতার সঙ্গে দেখা হয় নি ,চয়ন অস্ট্রেলিয়ায় এক মেয়ের সাথে সহবাস করে ,সেই মেয়ে তাকে কোনো গভীর মুহূর্তে চয়নকে এমনকরে চুমু খেতে মানা করেছিল ,এমন করে চুমু খেলে নাকি তার ঠোঁটগুলো গরুর মতো ঝুলে যাবে ,চয়ন চমকে উঠেছিল।অঙ্কিতাকে পরে চয়ন বলেছিল এই কথা ,অঙ্কিতা হেসেছিল বলেছিল তোর চুমুটা জাস্ট নেওয়া যায় না ,যেন চুমু খেয়ে তুই ভিতরে ঢুকে যেতে চাস।চয়ন প্রায় স্বপ্নে দেখে চুমু খেতে ,আর আপনারা বিশ্বাস করবেন না সেদিন সে নীল আকাশকে জড়িয়ে চুমু খেয়েছিল। সকালে সেদিন ঘুম থেকে উঠে চয়ন খুব হেসেছিল মনে মনে ,অঙ্কিতাকে জানায় নি পাশে সে এই নিয়ে ইয়ার্কি মারে।
.
আজ চয়নের এক সপ্তাহ ছুটির দিন শেষ ,চয়নকে পারি দিতে হবে ইরাকে প্লেন নিয়ে। আজ সকাল থেকে খুব বৃষ্টি ,আবহদপ্তরের খবরে বলছে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা। তুমুল ঝড়বৃষ্টিতে চয়ন এর আগে প্লেন উড়িয়েছে ,তার ভালো লাগে কালো মেঘের মধ্যে দিয়ে ,বিদ্যুতের চমকের মধ্যে দিয়ে প্লেন চালাতে। সে নিজেকে মাঝে মাঝে প্লেন চালাতে চালাতে মায়ের মুখে শোনা বীরপুরুষের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ফেলে। সে বেড়োনের সময় প্রতিবারের মতো অঙ্কিতা তার বুকে এসে পড়লো ,বললো তাড়াতাড়ি আসিস ,সাবধানে থাকিস, চয়ন চুমু খেতে গেলো,অঙ্কিতা বললো না একদম আমার ঠোঁটটি কিছু রাখিস নি কাল সারারাতে পাজি ,তারপর নিজেই ঠোঁট চুবিয়ে দিল চয়নের ঠোঁটে।
.
তখন অঙ্কিতা বাথরুমে গুনগুন করে গান করতে করতে চান করছে , বাইরে তখন খুব বৃষ্টি চান সেরে অঙ্কিতা বাথরুমের আয়নায় নিজের ঠোঁটের দিকে তাকাচ্ছে। মনে মনে ভাবছে আজ রাত্রে রাক্ষসটা ফিরছে ,তার ঠোঁটটা আর রাখবে না। হঠাৎ ঘরের ভিতর টেলিফোনটা বেজে উঠলো ,অঙ্কিতা ফোনটা তুললো ওপারে কোন মেয়ের গলা ,হ্যালো ! মিসেস চয়ন বলছেন ,চয়ন স্যারের একটা প্লেনটা ক্রাশ করেছে ,প্লিজ একবার হাসপাতালে আসবেন।
.
আজ ১৭ দিন পর চয়ন বাড়ি ফিরলো। ওয়েলবিল্ড চয়নের প্লেন ক্রাশ করলেও শেষ মুহূর্তে সে প্লেনটাকে ল্যান্ড করিয়েছিল বাঁকুড়ার কোন এক পাহাড়ের উপর ,যাত্রীদের কিছু উন্ডেড হলেও কোনো মৃত্যুর খবর নেই।
চয়ন বেঁচে ফিরেছে শুধু তার মুখের সামনে চোয়ালের অংশটা ভেঙে গেছে,পাটাও উন্ডেড। সে শুয়ে আছে অঙ্কিতা পাশে বসে ,সে চয়নকে সাহস দিচ্ছে সব ঠিক হয়ে যাবে ,আর কদিন। চয়ন ইশারায় একটা পেন চাইলো কিছু লেখার জন্য। অঙ্কিতা এগিয়ে দিলো একটা সাদা পাতা আর পেন।
চয়ন লিখলো জানিস আমি আকাশকে চুমু খেতে চেয়েছিলাম তাই আমার চোয়ালটা ভেঙে দিল আকাশ তারপর যোগ করলো কিন্তু বলতো এখন আমি তোকে চুমু খাবো কি করে ? অঙ্কিতা জড়িয়ে ধরলো চয়নকে ,চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিলো চয়নের প্লাস্টার করা মুখ। চয়ন আবার সাদা পাতায় লিখলো এইবার তোর কিছুদিন শান্তি ,তোর ঠোঁটগুলো বাঁচবে আমার ঠোঁট থেকে ।

No comments:
Post a Comment