Sunday, June 14, 2020

অপ্রাকৃতিক


অপ্রাকৃতিক

...... ঋষি

.

মানুষ যা ভাবে ,যে ভাবে সময়ের দিকে তাকাতে চায় সেটাই প্রকৃতি আর প্রকৃতির বাইরে ,ভাবনার বাইরে যেটা ঘটে সেগুলো অপ্রাকৃতিক কিংবা অসামাজিক  আমার বিশ্বাস এই পৃথিবীতে প্রতিটা মানুষের সমঅধিকার আছে বাঁচার একজন মানুষ কি ভাবে বাঁচবে সেটা ঠিক করার অধিকার তার নিজের ,সেখানে তার বাবা মা কিংবা আত্মীয় তাকে  একটা বয়সের অবধি ভালো খারাপ বোঝাতে পারেন কিন্তু তারপর সম্ভব নয় আমার এই গল্পের নায়ক অপু ওরফে অপূর্ব চৌধুরী  এই মুহূর্তে বন্ধ একটা ঘরের থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে অপুর বয়স ২১ বছর ,সে কম্পিউটার  ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে তার বাড়িতে  তার দাদা গণপতিও একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ,মা গত হয়েছে বহুদিন ,বাবা একজন রিটায়ার্ড সরকারি অফিসার ইদানীং বেশ কিছুদিন ধরে গণপতির জন্য মেয়ে দেখা চলছে ,বিয়ের বয়স হলে  বিয়ে তো করতেই হয় পুরুষদের ,এটাই রীতি

.

                               অপু ছোটবেলা থেকে একটু বেশি মা ঘেঁষা ,ছোটবেলায় মার্ নকলে সে শাড়ি পড়তো ,সিঁদুর দিত ,লিপস্টিক মাখতো ,অপুর মা শীলাদেবী বলতেন অপু তুই বোধহয় মেয়ে হতে হতে ছেলে হয়ে গেছিস অপুর বাড়িতে তার বাবা অর্থাৎ চঞ্চল চৌধুরী একটু গম্ভীর মানুষ ,নেশা করেন প্রতিদিন সন্ধ্যাতে  ,এমনি  কথা কম বলেন ছোটবেলা থেকে অপু দেখে এসেছে  নেশা করার পর বাবা প্রায়শই মাকে মারতেন শোয়ার ঘরে  ,তারপর ঘরের মধ্যে থেকে শোনা যেত মায়ের সাথে বাবার সঙ্গমের শব্দ যা আজও মনে করলে অপুর বুক কাঁপে মায়ের সঙ্গে দিনের পর দিন অবিচার আর অত্যাচার অপুর মনে একটা ভয়ের সৃষ্টি করে ছোটবেলা থেকে, বাবাকে সে ভূতের মতো ভয় করে আজও চঞ্চল বাবু তাদের দুই ভাইকে কনভেন্টে পড়িয়েছেন ,ছোটবেলা থেকে গণপতির সাথে অপুর একটা স্বভাবগত তফাৎ দৃষ্টিনীয় ছিল,যে বয়সে ছেলেরা ক্রিকেট কিংবা ফুটবলকে জগৎ মনে করে ,সেই বয়সে অপু নিজের ঘরে খেলনা পুতুল খেলতো ,রান্না করতো ,পুতুলের বিয়ে দিত অপুর চেহারাতেও  একটা মেয়েলি ব্যাপার লক্ষণীয় ,গোঁফ ,দাঁড়ির হালকা রেখা থাকলেও ,তার ঠোঁট মেয়েদের মতো ,শরীর মেয়েদের মতো নরম তার পড়াশুনা জীবন আর কলেজ জীবন সবটাতেই তার সাথে ছেলেদের একটা অন্যরকম সখ্যতা আছে,মেয়েদেরকে অপু নিজের মতো মনে করতো

.

                            স্কুলে পড়তে তার ক্লাস টিচার অরিন্দম বাবু অপুকে একটু হলেও বুঝতেন ,উনি অবসরে অপুকে বাড়িতে ডেকে আদর করতেন উনি আদর করতে করতে অপুর সারা শরীরে হাত বলতেন ,আর বলতেন তুই ছেলে না রে মেয়ে তারপর অপুকে বিছানায় কোলে করে নিয়ে যেতেন , অপুকে নগ্ন  করে নিজে নগ্ন  হয়ে চেপে ধরতেন বুকে বলতে গেলে অরিন্দম মাস্টার অপুকে প্রথম বোঝান অপু আসলে ছেলে নয় মেয়ে যেদিন অরিন্দম মাস্টারের বিয়ে হলো অপু খুব কেঁদেছিল ,পরেরদিন ছুটে গেছিল মাস্টারমশাইয়ের কাছে ,প্রশ্ন করেছিল আমার কি হবে  ? অরিন্দম মাস্টার বলেছিলেন অপু তোকে ভালোবাসি ,এই পৃথিবীতে তোরা অন্যরকম ,তোদের কেউ বুঝবে না ,অনেক কষ্ট পেতে হবে তারপর বলেছিলেন তুই আর আসিস না অপু এখানে ,তুই চাস না আমি ভালো থাকি তারপর অরিন্দম মাস্টারের বদলি হয়ে যায় কিছুদিনের মধ্যে

.

                       অপু যখন খুব ছোট তখন একবার স্কুলে কোনো এক অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে একটা নাটকে অভিনয় করছিল ,সেজন্য তাকে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ শিশু শিল্পীর পুরস্কার পুরস্কার পাওয়ার পর মা শীলাদেবী জড়িয়ে ধরেছিলেন তাকে বুকে আজ অপুর সেই মার্ কথা বড় মনে পরে ,মা বলতেন অপু পৃথিবীতে সবাই একইরকম হয় না রে ,আমরা আসলে সকলে অন্য গ্রহের মানুষ নিজেদের কাছে  ,তুই দুঃখ করিস না একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে ,প্রথম প্রথম সকলের কষ্ট হয় পরে অভ্যেস হয়ে যায় অপুর মনে হয় মা তাকে বুঝতেন হয়তো মনে মনে ,মা জানতেন তার ছোটছেলে আসলে মনেতে একটা মেয়ে

.

                       ইঞ্জিয়ারিং কলেজে অপুর কাটানো ছোটবেলার মতো সকলে তাকে এড়িয়ে চলতো তার বন্ধু  বলতে ছিল প্রীতম যে একজন পাঞ্জাবি ছেলে  ,অপু প্রীতমের সাথে একই রুম শেয়ার করতো কলেজে ,ফলে তাদের মধ্যে সম্পর্কটা গভীর থেকে গভীরতম হতে থাকেপ্রীতম তাকে বুঝতো ,নিয়মিত তাকে আদর করতো বুকে নিয়ে কলেজের এই কদিনে অপুর জীবনের ক্ষতগুলো যখন একটু একটু করে ভরে উঠছিল অপু তখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে নিজের স্বাধীনতার ,ভারতীয় দণ্ড বিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সেও এখন বুকফুলিয়ে পছন্দ করতে পারে তার সঠিক জীবনসঙ্গীকে  কিন্তু পৃথিবীতে সবকিছু মনের মতো হয় না ,প্রীতম এইসময় হঠাৎ প্রেম করতে শুরু করলো পাশের ডাক্তারি কলেজের কোন এক মেয়ের সাথে তাকে প্রশ্ন করায় সে বললো অপু তুই আমার সোনা ,তোকে আমি ছাড়তে পারি, তো আমার বন্ধু রে এর কিছুদিন পরে প্রীতম বয়েস কলেজের রুম  চেঞ্জ করলো এবং অন্যদের মতো তাকে এড়িয়ে যেতে লাগলো অপুর জীবন অসহ্য হয়ে উঠলো ,সে একদিন শাড়ি পরে ,লিপস্টিক মেখে ,মাথায় সিঁদুর দিয়ে কলেজের লেডিস বাথরুমে ঢুকে নিজের হাতের শিরা ব্লেড দিয়ে কেটে দিলো

.

চঞ্চল বাবু যখন প্রথম খবরটা শুনলেন বিশ্বাস  করতে পারলেন না হাসপাতাল থেকে আসার পর অপু যখন সব খুলে বললো বাবাকে ,চঞ্চল বাবু টেনে এক চড় কষালেন ছেলেকে বললেন এই সব তোর মায়ের জন্য ,তোর মা তোর মাথাটা খেয়েছে অপু তুই একবারও আমাদের বংশের কথা ভাবলি না অপু এই প্রথম বাবার মুখের উপর কথা বললো আমি এমনি বাবা ,আমি কি করবো ,আমার যে ছেলেদের ভালো লাগে সেদিন বোধহয় চঞ্চল বাবু অপুকে পিটিয়ে মেরে ফেলতেন যদি না গণপতি তার ভাইকে বাঁচাতো এরপর চঞ্চল বাবু ভেবে নিলেন অপুর মাথা খারাপ হয়েছে ,কিংবা ভূতে ধরেছে এখন নিয়মিত অপুকে সাইক্রাটিসের ওষুধ খেতে হয় ,মাঝে মাঝে এক ভূত ছাড়ানোর বাবা এসে তাকে উদোম ঝাঁড়ু পেতে করে অপু চুপচাপ হয় করে সব ,সেদিন দাদা তাকে বললো তোর্ জন্য অপু আমার বিয়ে হবে না , আমাকে  কোনো বাপ্ মেয়ে দেবে না ,আমার কি দোষ  ? অপু তার দাদাকে বলে আমি কি করবো বল ,আমি যে এরকমই  ?

.

আজ খুব কেঁদেছে অপু ,ঘুম আসছে না তার কিছুতেই সে তার খাটে  শুয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে চেয়ে ছিল,তার মায়ের জন্য মন কেমন করছিল এই সময় অপু বাইরে বন্ধ দরজার তালা খোলার শব্দ পেল ,সে চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান করে শুয়ে ছিল বাবা ঢুকলো ঘরে তুমুল নেশা করে ,এগিয়ে এলেন অপুর দিকে ,শুয়ে থাকা অপুর পাশে আড়াআড়ি শুয়ে পড়লেন বাবা এই মুহূর্তে বাবা হাত বোলাচ্ছেন অপুর শরীরে,অপুর কানে  বাবা ফিসফিস করে বলছেন তোর মাকে বলেছিলাম তোর ছোটবেলায় একবার আমার কাছে দিতে ,আমি তোকে পুরুষ করে দিতাম মাগীটা বুঝলো না ,আগলে রাখলো জোঁকের মতো তোর সাথে ,মারও খেত খুব ,মাগীটা নিজে তো মরলো  তোকেও মেয়ে করে দিয়ে গেলো এই কথা বলতে বলতে উনি একটা শক্ত দন্ড গুঁজে দিলেন অপুর কোমড়ের নিচে ,মুখে বললেন তুইতো দেখছি তোর মায়ের  থেকে কম নোস অপু হঠাৎ কেঁদে উঠলো যন্ত্রনায় ,তার মনে পড়লো অরিন্দম মাষ্টারের কথা ,এই পৃথিবীতে তোরা অন্যরকম ,তোদের কেউ বুঝবে না ,অনেক কষ্ট পেতে হবে 


No comments:

Post a Comment