ঈশ্বরের গর্ভ দান
.... ঋষি
ঈশ্বর বাবু বাজার থেকে থলি হাতে ফিরছেন। চায়ের দোকান থেকে বেয়াড়া ফচকে ছেলেগুলো বললো কি দাদু কেমন আছেন ? ঈশ্বর তার স্বভাবসিদ্ধ হাসিটা হেসে বললেন , চলে যাচ্ছে বাবারা। ঈশ্বর বাবু এগিয়ে গেলেন পেছন থেকে ছেলেগুলো বলছে শুনতে পেলেন চলছে না ,দৌড়োচ্ছে ,মাইরি কি কপাল বাড়িতে যদি এমন কচি সুন্দরী মাল থাকে । ঈশ্বর পুরোটাই শুনলেন কথাটা মিথ্যে নয় কিন্তু মাল শব্দটা ঠিক অনন্যার সঙ্গে যায় না,অনন্যা সুন্দরী ,বয়স প্রায় ঈশ্বর বাবুর অর্ধেক। ঈশ্বরের কি কপাল আছে অনন্যার মতো স্ত্রী পাবার। ঈশ্বর ঠাকুর তৈরী করে ,মোটামুটি নামডাক আছে এই শহরে ,দুর্গাপুজোর প্রতিবারে মোটামুটি ভালোই বায়না পাই সে। কিন্তু ঈশ্বর জানতো ঠাকুর তৈরী করে বিয়ে করে সংসার করা সম্ভব না এই বাজারে অথচ বাপ্ ঠাকুরদার এই কাজটা ছেড়ে সে যে নতুন কিছু করবে তার ইচ্ছা করে নি তার।সুতরাং অবিবাহিত থেকে সে যৌবনটা কাটিয়ে ফেলেছে কিন্তু কপালে যদি থাকে ঠেকায় কে।
.
মৃত্যুর মুখে থাকা মলিনের সাথে সে দেখা করতে গেছিল ঈশ্বর গ্রামে। মলিন তখন তার মা মড়া এই অনন্যাকে ঝুলিয়ে দেয় ঈশ্বরের কাঁধে ,মলিনের কথায় সে প্রায় তার মেয়ের বয়সী অনন্যাকে বিয়ে করে নিয়ে আসে এই শহরে। ঈশ্বরের নিজের বলতে তিন কূলে কেউ আর বেঁচে নেই তাই অনন্যাকে অবলম্বন করে সে বাঁচতে থাকে। হ্যা পাড়ায় তাকে এই বিয়ে নিয়ে অনেক টিটকিরি শুনতে হয় কিন্তু অনন্যা বড়ো ভালো মেয়ে,বড় বক বক করে বটে কিন্তু সে বোঝে ঈশ্বরকে। ঈশ্বর তার সাধ্য মতো চুলের ক্লিপ ,স্নো ,পাউডার ,সেন্ট কিনে দেয় ,সবসময় চেষ্টা করে অনন্যাকে ভালো রাখার।
.
অনন্যা মন দিয়ে এখন মাটি লেপছে কাঠামোতে । সামনে দূর্গা পুজো ,ঈশ্বরের অনেকগুলো অর্ডার ,লোকটার খাওয়া পড়ার সময় নেই ,সারাদিন সে কাজ করছে। কাজ তো কম নয় প্রথম কাঠামো তৈরী ,তারপর মাটি লেপা ,তারপর কাপড় পড়ানো ,গয়না পড়ানো ,রং করা। সবটাই ঈশ্বর একাই করে শুধু অনন্যা সাধ্য মতো তাকে সাহায্য করে ,মাটি লেপার কাজটা প্রধানত অনন্যা করছে আজ চারবছর ধরে। সেই ছোটবেলায় তার বাপটা মরেছিল এই লোকটার সাথে তাকে বিয়ে দিয়ে। এখন অনন্যা চেয়ে ছিল ঈশ্বরের দিকে ,ঈশ্বর মন দিয়ে এখন চোখে আঁকছে প্রতিমার। লোকটা খারাপ নয় ,তাকে ভালো রাখতে চেষ্টা করে ,চেষ্টা করে তাকে হাসাবার বিভিন্ন কথা বলে শুধু লোকটা তাকে কোনোদিন ছুঁয়ে দেখে নি। ছোটবেলায় বিন্নির কাছে শোনা তার বাবা মার্ অন্ধকারে সঙ্গমের আদর ,না সেই আদর সে পাই নি কোনোদিন। লোকটা তাকে চিরকাল যেন নিজের মেয়ের মতো দেখে ,স্নেহ করে ,ভালোবাসে কিন্তু সেই ভালোবাসা মোটেও শারীরিক নয় ,অনেকটা তার মৃত বাবার মতো। হবেই না কেন ,বয়স তো কম না ,বাবাই মরার সময় বলে গেছিল ঈশ্বর আমার বন্ধু ,তোকে ওর হাতে দিলাম ,ভালো রাখবে তোকে ,মোটের ওপর অনন্যা ভালোই আছে।
.
ঈশ্বরের শরীরটা ভালো থাকছে না আজকাল ,আসলে পুজোর ঠাকুর তৈরির ধকলটা সে নিতে পারে নি এইবার ,মাঝে মাঝেই তার জ্বর আসছে। অনন্যা সাধ্য মতো তার শুশ্রূষা করছে ,জল পট্টি দিচ্ছে ,ডাক্তার ডেকে এনেছিল নিজে গিয়ে। ডাক্তার দেখে বললেন ঠান্ডাটা তার খুব জোরে লেগেছে ,বুকে কফ জমে ,সাবধানে থাকা জরুরী।
.
অনন্যা পাশে বসে তার এখন ,সে ঈশ্বরকে বললো জানো তো রাস্তার উপর চায়ের দোকানের হারুদার আজ সকালে ছেলে হয়েছে। ঈশ্বর তার স্বভাবসিদ্ধ হাসিটা হাসলো। অনন্যা আবার বললো জানো তো আমারও ইচ্ছে আমাদেরও একটা ছেলে হোক। ঈশ্বর তাকালো অনন্যার মুখের দিকে ,কি বলবে বুঝতে পারলো না ? অনন্যা ঈশ্বরের বুকে মাথা রাখলো ,বললো তুমি একবার চেষ্টা করো না ,আমি জানি তুমি পারবে,হারুদারও তো কত বয়স । তারপর আবার যোগ করলো আমি হারুদার বৌয়ের মুখে শুনেছি হারুদা তুমুল নেশা করে বৌকে আদর করে, তুমিও সুস্থ হয়ে ওঠো,তুমিও ঠিক ওইভাবে একদিন আমাকে আদর কোরো ,দেখো আমার ছেলে হবে।
.
ঈশ্বর একটা কাঠামো টেনে আনলো তার ঠাকুর তৈরির কারখানার মাঝখানে ,এখন প্রায় মধ্যে রাত।ঈশ্বর এখন সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্থ ,অনন্যার কথায় সে আজ নেশা করে অনন্যাকে আদর করতে গেছিল। অনন্যাকে কোনোদিন এমন করে দেখতে পাবে সে ভাবে নি ,ঈশ্বর অবাক হয়ে দেখছিল অনন্যার শরীরটা ,কি নিটোল ,কি সুন্দর। ঈশ্বর আজ অবধি এমন প্রতিমার শরীর তৈরী করে নি। তারপর সে যখন অনন্যাকে জড়িয়ে ধরলো একটা নরম গন্ধ ,একটা উষ্ণতা তার শরীরে প্রবেশ করছিল। ঈশ্বর অনেক চেষ্টা করেছিল ,কিন্তু শেষ অবধি পারে নি। সে যখন তুমুল তাড়নায় অনন্যাকে আদর করছিল ,চাইছিল তার মরা সাপটা গর্তে ঢুকে অনন্যাকে কামড় মারে,যাতে তাদের একটা ছেলে হয় ,না পারে নি সে । অনন্যা তাকে শেষ অবধি লাথি মেরে খাট থেকে ফেলে দেয় ,তাকে বলে বুড়ো ঢ্যামনা জানিস যখন ছুঁবি না ,পারবি না বিয়ে করলি কেন ?
.
অনন্যা হুড়মুড় করে ঘুম থেকে উঠে বসলো সকালে ,কাল রাতের কথা মনে করে তার বুকটা ভেঙে যাচ্ছিল। ছি ছি ,ঠিক করে নি সে,ঈশ্বরকে তার এমন করা উচিত হয় নি। সে ছুটে গেল পাশে ঠাকুর তৈরির কারখানায়। অনন্যা দেখলো ঈশ্বর মাটিতে পরে আছে একটা সদ্য তৈরী মাটির মূর্তির সামনে ,ঈশ্বরের মুখে সেই স্বভাবসিদ্ধ হাসি ,তার চোখ দুটো মূর্তির দিকে স্থির। অনন্যা ঈশ্বরের চোখ ছুঁয়ে তাকালো মূর্তিটার দিকে ,একি এ যে অনন্যা দাঁড়িয়ে আয়নার সামনে নগ্ন হয়ে ,কিন্তু মূর্তির পেটটা ফোলা ,মূর্তিটা গর্ভবতী। অনন্যা কান্নায় ভেঙে পড়লো ঈশ্বরের বুকের উপর ,চিৎকার করতে থাকলো আমার ছেলে চায় না ,আমার তোমাকে চায় ,আমার তোমাকে চায়।

No comments:
Post a Comment