সম্পূর্ণা
.... ঋষি
.
মানুষের ভালো আছি বলাটা একটা আর্ট ,সম্পূর্ণা তাই মনে করে। পৃথিবীর দিন থেকে রাত ,তারপর আবার দিন এর মধ্যে কতো মানুষ বাঁচে ,মরে তার ঠিকানা নেই অথচ সম্পূর্ণার কিছু এসে যায় না তাতে ,সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে আকাশের দিকে । দিন কাটছে ,রাত কাটছে সম্পূর্ণার , পরে আছে সে মিত্তির বাড়ির এক কোনে পুরোনো গাছের মতো। বাবা ,মা কি ভেবে নাম রেখেছিলো সম্পূর্ণার সেটাই মাঝে মাঝে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় সম্পূর্ণার কাছে। তার জীবন মোটের উপর কোনোভাবেই সম্পূর্ণ নয়। মিত্তির বাড়ির ছোট মেয়ে সম্পূর্ণা ,দেখতে মন্দ নয় , ভাইয়ের পরে জন্ম ,বেশ আদরে মানুষ ,পড়াশুনায় ভালো ছিল শুধু জীবনের একটাই তার ভুল অরণ্যকে ভালোবাসা। আর প্রাচীন মিত্তির বাড়ির রীতি অনুযায়ী আজ অবধি এই বাড়ির কোনো মেয়ে ভালোবেসে বিয়ে করে নি। বাড়িতে জানাজানি হয়ে গেছিল ব্যাপারটা ,বাবা বলেছিল এই মেয়ে বংশের মুখ পোড়াবে ,মা বলেছিল জন্মে মরে গেলি না কেন তুই। তড়িঘড়ি তাই বিয়ে দেওয়া হলো কলকাতায় থাকা ,মাসে চল্লিশ হাজার টাকা ইনকাম করা সমরের সাথে।
.
বিয়ের ফুলশয্যার রাতে সমর সময় তুমুল নেশা করে এসে একটানে ছিঁড়ে ফেলে সম্পূর্ণার নাকের নথ ,রক্তে ভেসে যায় ফুলশয্যার খাট ,তারপর তাকে নগ্ন করে সারারাত ধরে চলে শারীরিক অত্যাচার ,কখনও চুলের মুঠি ধরে ,কখনো স্তন পিষে ধরে ,চলে চড়থাপ্পড়। সম্পূর্ণা চুপ ছিল কারণ সম্পূর্ণা মা বলেছিল মিত্তির বাড়ির মেয়েরা লক্ষী হয়। তারপর প্রতিদিন ,রোজদিন একইরকম চলছিল ,বাপের বাড়ি থেকে ফোন এলে সম্পূর্ণা বলতো ভালো আছে সে ,খুব ভালো। সম্পূর্ণার মা গীতাদেবী হয়তো কিছুটা বুঝতেন কিন্তু চুপ থাকতেন। বিপদটা ঘটলো বিয়ের প্রিয় একবছর পর এক রাতে প্রতিদিনকার মতো সমর প্রচুর নেশা করে চড়াও হয় সম্পূর্ণার শরীরে ,প্রায় কান কামড়ে বলে কি রে মাগী ,তোর বাচ্চা আসে না কেন পেটে ? কাকে মাড়িয়েছিলি বিয়ের আগে ,নষ্ট করে ফেলেছিস নাকি নিচের ফুল। সম্পূর্ণা কিছু বলে নি পরের দিন ছুটে গেছিল ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার বলেছিল সম্পূর্ণা সম্পূর্ণ সুস্থ কিন্তু অনিয়মের জীবনযাত্রার জন্য সমরের স্পার্ম কাউন্ট কম। সম্পূর্ণা চাইতো একটা বাচ্চা আসুক কারণ সে ভাবতো যদি বাচ্চার মুখ দেখে সময় বদলায়। এরই মধ্যে একদিন সমর তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মদ খাচ্ছিল বারান্দায় বসে ,মধ্যরাতে সম্পূর্ণা টের পাই তার বর বলছে তার বন্ধুদের যা ওই ঘরে শুয়ে আছে মাগীটা ,ভালো করে রগড়াস আমার কিন্তু বাচ্চা চায়। ঢুকে আসে দুই মদ্যপ শয়তান সম্পূর্ণার ঘরে ,সম্পূর্ণা নিজেকে বাঁচাতে ছুটে যায় রান্নাঘরে তুলে নেয় মাছ কাটার বঁটি। বঁটি দেখে সম্পূর্ণার হাতে সমরের বন্ধুরা পালালেও সমর আসে তেড়ে মারতে।চুলের মুটি ধরে তাকে চেপে ধরে দেওয়ালে ,তারপর প্রায় তার যোনিতে হাত ঢুকিয়ে ছিঁড়ে ফেলতে চায় যোনিটা ,প্রায় অসহ্য যন্ত্রনায় সম্পূর্ণা হাতের মাছ কাটার বঁটিটা বসিয়ে দেয় সমরের ঘাড়ে। পরের দিন পুলিশ এসে সম্পূর্ণাকে উদ্ধার করে যখন সম্পূর্ণা বসে ছিল তার স্বামীর রক্তের মাঝে ,সে ছিল চৈতন্যহীন।
জ্ঞান ফেরার পর সম্পূর্ণার ব্যবহার ছিল পাগলের মতো। কোর্টে কেস চলে বহুদিন কিন্তু অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত আর সম্পূর্ণার মস্তিষ্কের বিভ্রমের কারণে সে মুক্তি পায়। সম্পূর্ণা ফিরে আসে মিত্তির বাড়িতে তার বাবার কাছে ,এখন আর মা নেই আছে এক দাদা। সম্পূর্ণা সাধারণত নিজের ঘরে থাকে ,বেরোয় না বিশেষ ঘর থেকে ,মাঝে মাঝে ওই ঘর থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যায় ,মাঝে মাঝে পাওয়া যায় বিভিন্ন কবির কবিতা ,সম্পূর্ণা চিরকাল কবিতা পাগল যে।
.
মিত্তিররা এই পাড়ার খুব পুরোনো লোক ,শোনা যায় মিত্তিরদের বাপ্ ,ঠাকুরদারা এককালীন জমিদার ছিল। এখন এই বাড়িতে লোক বলতে কর্ত্তা মশাই মিহির মিত্র ,কর্ত্তা মশাইয়ের বড় ছেলে অমূল্য ,মিত্তির মশায়ের মেয়ে যে কিনা স্বামীকে মেরে বাপের বাড়ি থাকে ,লোকে তাকে পাগল বলে আর এক মেয়ে কাজের ঝি মানু যে প্রায় ছোটবেলা থেকে এখানে আছে । অমূল্যর পড়াশুনায় মাথা ছিল না ,তার স্বভাব চরিত্রও ভালো নয়। পাড়ায় এই বিষয়ে অমূল্যের ভালো বদনাম আছে ,এই তো কিছুদিন আগে পাড়ার কোন এক মেয়েকে বিরক্ত করার জন্য পাড়ার লোক তাকে প্রায় পিটিয়েই মেরে ফেলতো যদি সময় মতো কর্ত্তা মশাই মিহির মিত্তির না ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতেন। মিহির মিত্তির আজকাল খুব দুঃচিন্তায় ভোগেন ছেলেটা তো মানুষ না আর মেয়েটা সেও প্রায় পাগল। সম্পূর্ণার জন্য মিহির মিত্তির কিছুটা আজ নিজেকে দোষ দেন ,সেদিন যদি উনি তাড়াহুড়ো না করতেন।
.
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে অমূল্যের চোখ গেলো মানুর দিকে ,মানু আজকাল গায়ে গতরে বেশ সোমত্ত হয়েছে ,মানু এক মনে অমূল্যের ঘরের টেবিল পরিষ্কার করছিল। অমূল্য এগিয়ে গেলো মানুর দিকে ,কি রে মানু কি করছিস রে বলে সোজা কাঁধে হাত রাখলো মানুর। মানু সরে গেলো ,বললো দেখতে পাচ্ছেন না ,বলে যোগ করলো আপনি এইভাবে গায়ে হাত দেবেন না ,আমার ভালো লাগে না। অমূল্য উত্তরে বললো আমি কিছু জানিস না ভাবিস ,রোজ দুপুরে উত্তরের ঘাটে তুই আর রাখাল কি করিস। খাবি আমাদের আর শরীর দিবি কাউকে ,আর আমাকে তুই কি মনে করিস আমিও তোকে খুব ভালোবাসি বলে অমূল্য মানুর দিকে এগিয়ে গেলো। মানু বললো দাঁড়াও আমি বড়ো কত্তা মশাইকে বলে দেবো। অমূল্য বললো বল গিয়ে যা বাবাকে আমিও বলবো তুই রাখালের সাথে কি করিস। মানু বললো রাখাল আমার বন্ধু ,একটু গল্প করি ,অমূল্য বললো আমি জানি তুই কি করিস। যদি ভালো করে আমাকে খুশি করিস তবে কিছু বলবো না বাবাকে ,না হলে বাবাকে এমন বলবো দেখবো তুই থাকিস কি করে এই বাড়িতে। অমূল্য আবার মানুর বুকে হাত রাখলো ,মানুর শরীরটা শিউরে উঠলো ,মানু পালালো সেখান থেকে।
.
মাঝরাতে সম্পূর্ণার ঘুমটা ভেঙে গেলো ,পাশের ঘর থেকে একটা মেয়েলি গোঙানির শব্দ পেল সে।তার পাশের ঘরটা মানুর ঘর ,মানুর কান্না ,ভয়ার্ত একটা গলা সে শুনতে পেলো। সম্পূর্ণা উঠে এলো মানুর ঘরের দরজায় ,দরজাটা ভেজানো ,ঠেলা মারলো সে। দরজাটা খুলে গেলো, সম্পূর্ণা যা দেখলো তাদেখে সে হঠাৎ আতংঙ্কিত হয়ে গেলো। তার দাদা অমূল্য মানুকে মাটিতে ফেলে উপরে উঠে বসেছে ,মানুর মুখ বাঁধা ,মানুর সারা শরীরে কাপড় নেই ,অমূল্য জন্তুর মতো ছিঁড়ে খাচ্ছে মানুর শরীরটা। একমুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণার চোখের সামনে ভেসে উঠলো সমরের মুখটা ,হঠাৎ কিছু বোঝার আগেই পাশে দাঁড় করানো দরজার খিলটা তুলে সজোরে মারলো সে অমূল্যের মাথায়। অমূল্যের শরীরটা ছিটকে পরে গেলো মানুর উপর থেকে। সম্পূর্ণা চিৎকার করতে লাগলো দাদা তুইও ,তোরা সবাই ,তোরা সবাই !
No comments:
Post a Comment