হাওড়া ব্রিজ
.... ঋষি
চারিদিকে থেকে এগিয়ে আসছে পুরুষ ,বিভিন্ন বয়স ,কারোর চুল পাকা ,কারোর সদ্য গোঁফ উঠেছে। না হলেও কম করে তিরাশটা হাত এই মুহূর্তে শুঁয়োপোকা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে কৃষ্ণার আদুল সারা শরীরে।আস্তে আস্তে একটা চাপ অনুভব করছে সে বুকের উপর ,দমবন্ধ হয়ে আসছে কৃষ্ণার। বিছানায় জেগে উঠলো কৃষ্ণা ধড়ফড়িয়ে ,সারা শরীর ঘেমে চান করে। জানলার বাইরে তাকিয়ে কৃষ্ণা বুঝতে পারলো সকাল হতে এখনো কম করে দুঘন্টা বাকি। না কৃষ্ণা এখন আর ঘুমোবে না ,বরং রান্নাটা সেরে নিতে হবে। আজ সকাল সকাল কৃষ্ণাকে বেড়োতে হবে মার্কেটে কিছু কেনাকাটি আছে ।
.
কৃষ্ণা মাহাতো এই নামটাই পেয়েছে সে অনাথ আশ্রমের দিনগুলো থেকে। কৃষ্ণার মনে পরে না সে কোথায় জন্মেছে ,কে তার মা কিংবা বাবা ,শুধু কৃষ্ণার মনে পরে কিছু যৌনতার শিওরে ওঠার দৃশ্য ,বুকের উপর ঝুঁকে পরা কিছু কামুক লোকেদের মুখ ,মারাত্নক যন্ত্রনা শরীরের ,রক্তের দাগ বুকের স্তনে লাগা দাঁত। ভাবলেই মাথাটা যন্ত্রনা করে ,আজ বহুদিন ঠিক করে ঘুমোতে পারে না কৃষ্ণা,ঘুমোলে স্বপ্নেও কেঁপে ওঠে । কৃষ্ণার পরিচয়টা আসলে এই সভ্যতার কাছে একটা শরীর ছাড়া কিছু না। যখন কৃষ্ণা কিছু বুঝতো না ঠিক তখন থেকে দিনেরপর দিন তাকে ধর্ষণ করেছে অনাথাশ্রমের সুপার থেকে দারোয়ান ,সুইপার নিজের ইচ্ছে মতো।এমনকি যখন তার যখন প্রথম ঋতু হয় সেই দিনটাও কৃষ্ণা আলাদা করে বুঝতে পারে নি কিসের রক্ত ওটা ,শুধু সে কুঁকড়ে শুয়ে থেকেছে সে দিনের পর দিন তলপেটে ব্যাথা নিয়ে। আর ভয় সে তো ভয়ঙ্কর ,কৃষ্ণার নিজের চোখে দেখা তার প্রিয় বান্ধবী তমালিকে কিভাবে গলা টিপে হত্যা করে পুঁতে দেওয়া হয় অনাথ আশ্রমের পিছনের মাঠে ,কারণ সে সুন্দরী ছিল ,তার শরীর ছিল তুলোর মত নরম ,আর তার হয়েছিল মরণ রোগ অনাথ আশ্রমের সেই কুত্তার মতো দেখতে লোকগুলো থেকে। কথা আশ্রম থেকে তাকেও একসময় রিলিজ করা হয় কারণ সেখানকার সুপারের মতে কৃষ্ণার শরীরে আর কিছুই নেই ,সব নাকি হাওড়া ব্রিজ হয়ে গেছে। সেদিনটা মনে আছে কৃষ্ণার ,লাইন দিয়ে অনাথ আশ্রমের যত মেয়ে সবাইকে ন্যাংটো করে দাঁড় করানো হয়েছিল ,হাতে গ্লাভস পরে দিয়ে চেক করছিলেন স্বয়ং সুপার, প্রত্যেকের যোনি ,স্তন ,শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ,কারণ সেই রাতে তিন চারটে শরীর পাঠানো দরকার ছিল কোন নামকরা পার্টির গেস্টহাউসে। কৃষ্ণাও ছিল সেখানে ,তাকে ছুঁয়ে সুপার বলেছিলেন সরকার কি পয়সা দিচ্ছে এই সব মাল পোষার জন্য ,এ যে হাওড়া ব্রিজ। সেদিন সেই হাওড়া ব্রিজকে কলকাতার সড়কে একলা দাঁড়াতে হয়েছিল শুধুমাত্র এই শরীরের সম্বলে।
.
আজ সেই কৃষ্ণা মাহাতো ওরফে জুলি শহরের নামকরা কলগার্ল। হ্যা এই শরীরটাই কৃষ্ণাকে আজও ভাত জোগাড় করে দেয়। কৃষ্ণা থেকে জুলি হওয়ার রাস্তাটাও খুব সহজ ছিল না কৃষ্ণার কাছে। সেদিন ওই অবস্থায় রাস্তায় কৃষ্ণাকে দেখে এগিয়ে এসেছিল অচেনা মৃত্তিকাদি যে কিনা বার ডান্সার ছিল। নিজের কাছে রেখেছিল তাকে ,সব শুনে বলেছিল বুঝলে কৃষ্ণা শুয়োরের বাচ্চাগুলো জানে না ,ওই হাওড়া ব্রিজ না থাকলে কে পার করতো তাদের শিয়ালদা থেকে। পরে শুনেছে কৃষ্ণা এই লাইনে একটা চলতি কথা হাওড়া ,শিয়ালদা ,তারপর হাওড়া শিয়ালদা ,তারপর বজবজ। মৃত্তিকা দি যে বারে কাজ করে শেখানেই কাজ পেয়েছিল কৃষ্ণা ,তারপর এই শরীর তাকে সময়ের পাঁকে জড়িয়ে জড়িয়ে আজ করে তুলেছে জুলি। জুলির কাছে আজ নিজের ফ্ল্যাট আছে ,চার ,পাঁচজন বাঁধা কাস্টমার মানে পুরুষ কুকুর আছে ,যারা জুলির জন্যও জানও দিতে পারে,আছে নিজের গাড়ি আর শরীর । মাঝে মাঝে রাত্রে চান করার পর সে চেয়ে থাকে তার সিলিকন দেওয়া ভরা বুকের দিকে ,নিজের মুখের উপর প্লাস্টার সার্জারির দিকে ,নিজেকে তার মানুষ মনে হয় না ,মনে হয় শরীর ,একটা মৃত শরীর।
.
আজ একজন গর্ভমেন্ট অফিসারের লেট্ নাইট পার্টিতে জুলি নতুন ভাবে পরিচিত হলো অন্য একজন সরকারি উচ্চপদে থাকা সমরের সাথে। সমর বয়সে তার বাপের সমান হলেও ,রসে ভরপুর হয়ে গলে গলে এইসময় পড়ছিল জুলির শরীরে ,জুলির ভরা বুকে।জুলি প্রশ্রয় দিচ্ছিল কারণ এরাই তো তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সমর প্রায় নেশায় মাতাল হয়ে জুলিকে জড়িয়ে ,তার স্তনের দিকে তাকিয়ে বাচ্চার মতো বলছিল এগুলো আমার চায়। জুলি বলছিল হ্যা দেব তো সোনা। তারপর তারা গাড়িতে করে পাশের একটি ফাইভ ষ্টার হোটেলে গিয়ে ওঠে।
.
সমরের আর তর সইছিল না। রুমের দরজা বন্ধ করা মাত্র প্রাই পাগল কুকুরের মতো সময় ঝাঁপিয়ে পরে জুলির বুকে ,বিছানায় নিয়ে যায় জুলির শরীরটা অনাবৃত করতে করতে। চেপে বসে সমর জুলির বুকে ,জুলি বলে এতো তাড়া কিসের সোনা ,এসো না সারা রাত্র ধরে উপভোগ করি এই যৌবন। জুলি ব্যাগ থেকে দুটো দড়ি বের করে বেঁধে ফেলে সমরের দুটো হাত বিছানার দুদিকে ,তারপর সম্পূর্ণ নগ্ন পুরুষাঙ্গের উপর হাত বোলাতে বোলাতে বেঁধে ফেলে সমরের চোখ। তারপর সমরের মুখে চেপে ধরে নিজের যোনি ,আর সমরকে জুলি বলে এসো সোনা হাওড়া ব্রিজে আমরা চান করি, সমর আঁতকে ওঠে।চোখটা খুলে দেয় জুলি সমরের ,সমরেরসাদা কালো চুলে হাত বোলাতে বোলাতে জুলি ব্যাগ থেকে বের করে ছুড়ি , ছুড়ি দেখে সমর চিৎকার করে তুমি কে ? কে তুমি ? জুলি চেপে বসে সমরের পুরুষাঙ্গে ,জড়িয়ে ধরে সমরকে ,কানে কানে বলে ,চিনতে পারছেন স্যার ,চিনতে পারছেন আমি কৃষ্ণা।
.
পরেরদিন খবর কাগজে খবর বেড়োয় ,এই নিয়ে শহরে দ্বিতীয় খুন কোন অনাথ আশ্রমের কর্মরত কর্মীর। গতরাতে শহরের এক ফাইভ ষ্টার হোটেলের রুম থেকে পাওয়া গেছে এক অনাথ আশ্রমের সুপারের নগ্ন রক্তাক্ত শরীর। মৃত্যুর কারণ হিসেবে পুলিশের বয়ান থেকে পরিষ্কার অতিরিক্ত রক্তপাত এই মৃত্যুর কারণ ,অপরাধী নির্মম ভাবে পুরুষাঙ্গ কেটে সুপারকে হত্যা করে। কৃষ্ণা এখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পাগলের মতো হাসছে ,তারপর কাঁদছে চিৎকার করছে বারংবার হাওড়া ব্রিজ,হাওড়া ব্রিজ করে । নিজের যোনির উপর কৃষ্ণা হাত রাখছে পরম স্নেহে তারপর মনে মনে বলছে আরও তেরোজন ।

No comments:
Post a Comment