বিপাশা
.... ঋষি
হিপ জিন্স পরে যে নেপালি মেয়েটা তমালের দিকে এগিয়ে আসছে সম্পর্কে সে তমালের কেউ না ,সত্যি বলতে কি তমালের নিজের বলতে কেউ ছিল না কোনোদিন। কোনো এক অনাথশ্রমের দরজায় তমাল কে পাওয়া গেছিল তখন তার এক বছর বয়স আর সেই একই দিনে অন্য একটি ছমাসের এক শিশুকন্যা পাওয়া যায় যার নাম বিপাশা। অনাথ আশ্রম কতৃপক্ষ মনে করে
বিপাশা হলো তমালের বোন। তমাল মেনেছে সেই কথা ,সেই একমাত্র তার জীবনের সম্পর্ক বিপাশা,তার বোন। চৌদ্দ বছর বয়সে তমাল অনাথাশ্রম থেকে বিপাশাকে ছেড়ে পালায় তারপর থেকে নিজের ভাত সে নিজেই জোগাড় করেছে এতদিন। সে উপায়টা কোনমতে আইনত নয়,চুরি ,চোরা জিনিস পাচার ,পকেট মারা।দু এক বার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও ছাড়া পেয়ে গেছে কারণ তমাল চোখে ,মুখের দৃপ্তি আর নিরীহ গোছের চেহারা দেখলে তাকে সকলে ভালো ঘরের ছেলে বলেই মনে করে। কিছুদিন হলো সে এক নতুন কাজ করছে নিজেকে বিক্রি ,এই কাজে তেমন কোনো পুলিশের ঝামেলা নেই আর ফুল মস্তি।
তমাল প্রথমদিন খবরের কাগজ দেখে সেখানে যায় ,আসলে এই কাজটার একটা সংগঠন আছে ,যারা বিভিন্ন ডিভোর্সি ,বিভিন্ন বয়সের ও কারণের সঙ্গমে অতৃপ্ত মেয়েদের সাথে তমালের মতো পুরুষদের যোগাযোগ করিয়ে দেয় বদলে একটা পার্সেন্টেজ কেটে নেয়। সেখানে আলো অন্ধকারময় একটা ঘরে অনেক বড় এক মহিলা জিজ্ঞাসা করেছিল তমালকে , "তুমি জানো কোথা তুমি এসেছ? এখানে শরীর কেনাবেচা হয়, তুমি জানো ? তুমি পুলিশের লোক কিংবা খোচর নও তো ? এলাকায় নতুন দেখছি। "তমাল জবাব দিয়েছিলাম, জানি , আমি শরীর বিক্রি করতে এসেছি টাকা দরকার প্রচুর।
তারপর সেই মহিলা তমালকে বলেছিল , "তোর ছবি তুলতে হবে। ছবি না পাঠালে কেউ কথাও বলবে না এই মার্কেটে।"তারপর একবার ডানদিকে মুখ করে, একবার বাঁদিকে মুখ করে কয়েকটা ছবি তোলা হল। কয়েকটা 'বোল্ড' ছবিও তোলা হল।আমার সামনেই ওই ছবিগুলো হোয়াটস্অ্যাপে পাঠানো হল কাউকে। সঙ্গে লেখা হল, "নতুন 'মাল'। রেট বেশী লাগবে। কম পয়সার লাগলে অন্য ছেলের ছবি পাঠাচ্ছি।"
তমালের সেই সময় রেট ঠিক হচ্ছিল। মুহুর্তেই তমাল ওদের কাছে নতুন পরিচিতি পেল, 'মাল' বলে।তমালের দর ঠিক হল পাঁচ হাজার টাকা।
তারপর তমাল প্রথমবার একটা হলুদ ট্যাক্সিতে চেপে কলকাতার বড়লোকদের পাড়ায় একটা বাড়িতে পৌঁছিয়েছিল। তমালের ক্লায়েন্ট ৩২-৩৪ বছর বয়সী এক বিবাহিতা নারী। উনি বলছিলেন, "আমি তো ভুল জায়গায় ফেঁসে গেছি। আমার স্বামী সমকামী। আমেরিকায় থাকে। ডিভোর্সও দিতে পারছি না। বিবাহ-বিচ্ছিন্না একজন মেয়েকে কে বিয়ে করবে? এদিকে আমারও তো ইচ্ছা-অনিচ্ছা রয়েছে! তুমিই বল আমি কী করব?"কিছুক্ষণ পরে বসার ঘর থেকে সেই মহিলা তমালকে বেডরুমে নিয়ে গেছিল ।তারপর যখন কাজ শেষ হল, তখনই তমালের হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে তিনি বললেন, এবার ভাগ এখান থেকে।তমালের রাগ হয়েছিল কিন্তু টাকা এমন জিনিস যেখানে মানুষের নিজের স্বত্বা কিছু থাকে না ,আর তমালের মতো ছেলের তো কোনো
অস্তিত্বই নেই পৃথিবীতে।
তারপর সপ্তাহে চারপাঁচবার একইরকম প্রায় পাঁচবছর চলছে। টাকা মন্দ আসে নি পকেটে তাই আজ তমালের নিজের একটা ফ্ল্যাট ,নিজের একটা বাইক সব আছে। সে এখন বাইকের নিয়ে ক্লাইন্টের কাছে যায়। আজ সে এসেছে কার্জন পার্কে ,অপেক্ষা করছে ক্লাইন্টের জন্য। হিপ জিন্স পরে যে নেপালি মেয়েটা তমালের কাছে এসে দাঁড়ালো সে ক্লাইন্টেরি লোক। তমাল এগিয়ে গেলো গলি ধরে ,পাড়ার মাঝামাঝি একটা বিশাল প্রাসাদ প্রতিম বাড়িতে তমাল ঢুকলো। খানিক্ষন পরে একটা বন্ধ ঘরের দরজা সেই নেপালি মেয়েটা তমালকে দেখিয়ে দিলো। তমাল দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো ,হঠাৎ অন্ধকার থেকে আলোতে চোখটা হারিয়ে গেলো ,কয়েকসেকেন্ড থিতু হওয়ার পর সে দেখলো একজন কেউ সামনে বিছানার উপর শুয়ে। একটা মেয়েলি গলার স্বর শুনতে পেলো চলে এসো। বিছানার দিকে এগিয়ে যেতেই একটা নগ্ন নারী শরীর চিতা বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো। তমাল অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছে এইধরণের ক্লাইন্টদের বেশিক্ষন ঝক্কি পোহাতে হয় না ,তাড়াতাড়ি টাকা নিয়ে বেরোনে যায়। কিছুক্ষন তারপর হটাৎ ঘরে একটা ডিমলাইট জ্বলে উঠলো সেই নেপালি মেয়েটাও এগিয়ে আসছে নগ্ন সম্পূর্ণ। তমাল পাশ থেকে একটা কান্নার শব্দ শুনতে পেলো " নো লুসি নো ,হি ইজ মাই ব্রাদার। " তমাল চমকে উঠলো ,বিপাশা !
No comments:
Post a Comment