Saturday, June 6, 2020

বিপাশা 
.... ঋষি 

হিপ জিন্স পরে যে নেপালি মেয়েটা তমালের দিকে এগিয়ে আসছে সম্পর্কে সে তমালের কেউ না ,সত্যি বলতে কি তমালের নিজের বলতে কেউ ছিল না কোনোদিন। কোনো এক অনাথশ্রমের দরজায় তমাল কে পাওয়া গেছিল তখন তার এক বছর বয়স আর সেই একই দিনে অন্য একটি ছমাসের এক  শিশুকন্যা পাওয়া যায় যার নাম বিপাশা। অনাথ আশ্রম কতৃপক্ষ মনে করে 
বিপাশা হলো তমালের বোন। তমাল মেনেছে সেই কথা ,সেই একমাত্র তার জীবনের সম্পর্ক বিপাশা,তার বোন।  চৌদ্দ বছর বয়সে তমাল অনাথাশ্রম থেকে বিপাশাকে ছেড়ে পালায় তারপর থেকে নিজের ভাত সে নিজেই জোগাড় করেছে এতদিন। সে উপায়টা কোনমতে আইনত নয়,চুরি ,চোরা জিনিস পাচার ,পকেট মারা।দু এক বার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও ছাড়া পেয়ে গেছে কারণ তমাল চোখে ,মুখের দৃপ্তি আর নিরীহ গোছের চেহারা  দেখলে তাকে সকলে ভালো ঘরের ছেলে বলেই মনে করে। কিছুদিন হলো সে এক নতুন কাজ করছে নিজেকে বিক্রি ,এই কাজে তেমন কোনো পুলিশের ঝামেলা নেই আর ফুল মস্তি। 
       তমাল প্রথমদিন  খবরের কাগজ দেখে সেখানে যায় ,আসলে এই কাজটার একটা সংগঠন আছে ,যারা বিভিন্ন ডিভোর্সি ,বিভিন্ন বয়সের ও কারণের সঙ্গমে অতৃপ্ত মেয়েদের সাথে তমালের মতো পুরুষদের যোগাযোগ  করিয়ে দেয়  বদলে একটা পার্সেন্টেজ কেটে নেয়। সেখানে আলো অন্ধকারময় একটা ঘরে  অনেক বড় এক মহিলা জিজ্ঞাসা করেছিল তমালকে , "তুমি জানো কোথা তুমি এসেছ? এখানে শরীর কেনাবেচা হয়, তুমি জানো ? তুমি পুলিশের লোক কিংবা খোচর নও তো  ? এলাকায় নতুন দেখছি। "তমাল  জবাব দিয়েছিলাম, জানি , আমি শরীর বিক্রি করতে এসেছি টাকা দরকার প্রচুর। 
তারপর সেই মহিলা তমালকে বলেছিল , "তোর ছবি তুলতে হবে। ছবি না পাঠালে কেউ কথাও বলবে না এই মার্কেটে।"তারপর  একবার ডানদিকে মুখ করে, একবার বাঁদিকে মুখ করে কয়েকটা ছবি তোলা হল। কয়েকটা 'বোল্ড' ছবিও তোলা হল।আমার সামনেই ওই ছবিগুলো হোয়াটস্অ্যাপে পাঠানো হল কাউকে। সঙ্গে লেখা হল, "নতুন 'মাল'। রেট বেশী লাগবে। কম পয়সার লাগলে অন্য ছেলের ছবি পাঠাচ্ছি।"
তমালের সেই সময়  রেট ঠিক হচ্ছিল। মুহুর্তেই তমাল ওদের কাছে নতুন পরিচিতি পেল, 'মাল' বলে।তমালের  দর ঠিক হল পাঁচ হাজার টাকা। 
তারপর তমাল প্রথমবার একটা হলুদ ট্যাক্সিতে চেপে   কলকাতার বড়লোকদের পাড়ায় একটা বাড়িতে পৌঁছিয়েছিল। তমালের  ক্লায়েন্ট ৩২-৩৪ বছর বয়সী এক বিবাহিতা নারী। উনি বলছিলেন, "আমি তো ভুল জায়গায় ফেঁসে গেছি। আমার স্বামী সমকামী। আমেরিকায় থাকে। ডিভোর্সও দিতে পারছি না। বিবাহ-বিচ্ছিন্না একজন মেয়েকে কে বিয়ে করবে? এদিকে আমারও তো ইচ্ছা-অনিচ্ছা রয়েছে! তুমিই বল আমি কী করব?"কিছুক্ষণ পরে বসার ঘর থেকে সেই মহিলা তমালকে  বেডরুমে নিয়ে গেছিল ।তারপর যখন  কাজ শেষ হল, তখনই তমালের হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে তিনি বললেন, এবার ভাগ এখান থেকে।তমালের রাগ হয়েছিল কিন্তু টাকা এমন জিনিস যেখানে মানুষের নিজের স্বত্বা কিছু থাকে না ,আর তমালের মতো ছেলের তো কোনো 
অস্তিত্বই নেই পৃথিবীতে। 
                             তারপর সপ্তাহে চারপাঁচবার একইরকম প্রায় পাঁচবছর চলছে। টাকা মন্দ আসে নি  পকেটে  তাই আজ তমালের নিজের একটা ফ্ল্যাট ,নিজের একটা বাইক সব আছে।  সে এখন বাইকের নিয়ে ক্লাইন্টের কাছে যায়। আজ সে এসেছে কার্জন পার্কে ,অপেক্ষা করছে ক্লাইন্টের জন্য। হিপ জিন্স পরে যে নেপালি মেয়েটা তমালের কাছে এসে দাঁড়ালো সে ক্লাইন্টেরি লোক। তমাল এগিয়ে গেলো গলি ধরে ,পাড়ার মাঝামাঝি একটা বিশাল প্রাসাদ প্রতিম বাড়িতে  তমাল ঢুকলো। খানিক্ষন পরে একটা বন্ধ ঘরের দরজা সেই নেপালি মেয়েটা তমালকে দেখিয়ে দিলো। তমাল দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো ,হঠাৎ অন্ধকার থেকে আলোতে চোখটা হারিয়ে গেলো ,কয়েকসেকেন্ড থিতু হওয়ার পর সে দেখলো একজন কেউ সামনে বিছানার উপর শুয়ে। একটা মেয়েলি গলার স্বর শুনতে পেলো চলে এসো। বিছানার দিকে এগিয়ে যেতেই একটা নগ্ন নারী শরীর চিতা বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো। তমাল অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছে এইধরণের ক্লাইন্টদের বেশিক্ষন ঝক্কি পোহাতে হয় না ,তাড়াতাড়ি টাকা নিয়ে বেরোনে যায়। কিছুক্ষন তারপর হটাৎ ঘরে একটা ডিমলাইট জ্বলে উঠলো সেই নেপালি মেয়েটাও এগিয়ে আসছে নগ্ন সম্পূর্ণ। তমাল পাশ থেকে একটা কান্নার শব্দ শুনতে পেলো " নো লুসি নো ,হি ইজ মাই ব্রাদার। " তমাল চমকে উঠলো ,বিপাশা  ! 

সরি


সরি 
.... ঋষি 

অবিরত ঢেউ বুকের উপর ,ক্রমশ চোখ সময়ের গভীরে থাকা হিসেবনিকেশে আর বারংবার মরে ফেরায়।সমস্ত অধিকারের বাইরে কিছু অধিকার আজও অসামাজিক।  বড় অস্থির লাগছে স্বর্ণপ্রিয়ার । জানলার বাইরে চায়ের দোকানে সে তাকিয়ে আছে অর্কপ্রভর দিকে যে অপেক্ষায় সানুর অফিসে বেড়োনোর   । অর্কপ্রভ মানে আকু   আর স্বর্ণপ্রভা সানু দুজনে ছোটবেলার বন্ধু।  আকু সেই সাত বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে তুলে নিয়েছে সংসারের সমস্ত দায়িত্ব নিজের হাতে। আর সানু নরেশ ডাক্তারের মেয়ে এখন ডাক্তারি শেষে একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ,তাছাড়া তার নিজেরও একটা চেম্বার আছে শ্যামবাজারে। 
.
               আকু  অনেক্ষন তাকিয়ে আছে নরেশ ডাক্তারের বাড়ির দিকে একবার সানুকে দেখবে বলে  ,তার কারখানার দেরি হয়ে যাচ্ছে। একবার উঁকি মারলো বোধহয়। আকুর মনে আছে বাবার মারা যাবার পর আকুর  মা তখন আকুকে নিয়ে প্রায় না খেয়ে রাস্তায়। প্রথম যেদিন মা আকুকে রমেশ জ্যেঠুর চায়ের দোকানে কাজে লাগালো খুব কেঁদেছিল ,বলেছিল আকু সকলের কপাল থাকে না রে পড়াশুনা ,আমি জানি তুই বড় হবি নিজের জোরে একদিন। আকু আজও বোঝে না বড় হওয়ার মানে ,সে কি এখনও বড় হয়েছে ? এই যে এতগুলো বছর সময় সুযোগ মতো সে  ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকেছে  নরেশ ডাক্তারের বাড়ির দিকে তাকিয়ে শুধুমাত্র  একবার  সানুকে দেখবে বলে ,এটা  কি বড় হবার পরিচয়। কবেই তো সানু তাকে বলে দিয়েছে সেই ছোটবেলায় ,বাবা বলেছে কোনো চা ওয়ালার সাথে কথা বলতে না , মিশতে না। কিন্তু এতগুলো বছর আকু ছায়ার মতো সানুকে ফলো করেছে   রাস্তায় ,স্কুলের সামনে ,কলেজের সামনে ,তার ডাক্তারি চেম্বারের সামনে কিসের জন্য ? সেই যখন সে স্কুলে পড়তো সেই সময় সানুর গলা জড়িয়ে  বলা ,তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড, সেই জন্য। সে  জানেও না সানু জানে কিনা আকু বলে কেউ তাকে দেখতে চায় বারংবার।  লোকের বাড়ি ঝিগিরি করে তার মা যে তাকে বড় করেছে ,সেই মায়ের কষ্ট ,চোখের তলায় কালি সব কেন জানি আকুর বড় অকারণ মনে হয় ,আকুর অভিমান হয় সেখান থেকে বিদ্রোহ সে পড়তে পারলো না ,আকু তার মায়ের দিকে ফিরেও তা তাকায় না আজকাল তার অন্যতম কারন হয়তো সানু।
.
              সানু বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এখন বাসস্ট্যান্ডে,সে জানে আকু তাকে ফলো করছে ,প্রতিদিন করে। কিন্তু আকুর দিকে তাকালেই সে লুকিয়ে পরে ,সেদিন থেকে যেদিন থেকে বাবার বলায়   আকুকে সে  সেই কঠিন কথা গুলো বলেছিল । আজ এতগুলো বছর সানু ভেবেছে কেন সে বলেছিল এই কথা  আকুকে?এই কারণে সে পুড়েছে হাজারো দিন ,হাজারো রাত  নিজের ভিতর। মাঝে ভেবেছিল আকুকে ডেকে সরি বলবে ,বলতে পারে নি হয়তো সেদিনকার বাবার শেখানো সেই সামাজিক শিক্ষা সানুকে বলতে দেয়  নি। শুনেছে সানু ,আকু এখন কোন চামড়ার ফ্যাক্টরীতে কাজ করে ,মায়ের সাথে পাশের পাড়ায় থাকে। সানু মাঝে মাঝে  লুকিয়ে দেখে আকুকে স্যানগ্লাসের ভিতর দিয়ে ,বেশ হ্যান্ডসাম হয়েছে তার ছোটবেলার বন্ধু। কিন্তু আজও সানু জানে না কেন ছেলেটা তার পিছনে এমন ঘোরে  ,কিছু কি বলার আছে তার ? এই কথা ভেবে সানু আজও জেগে থাকে বহুরাত সিলিঙের দিকে চেয়ে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সানু নিজের দিকে তাকিয়ে বেশ মুগ্ধ হয় ,সুন্দরী সে ,এই বয়স অবধি কম তো লাভ প্রপোস সে পেল না ,তবু আকু কেন জানি অদ্ভুত ভাবে ছেয়ে  থাকে সানুর মনে। 
.
                       আজ রবিবার তাই সানুর  অফিস ছুটি  ,এখন রাত্রি ,ও ঘরে বাবা খবর শুনছে। সানু চেয়ে আছে জানলার আড়ালে চায়ের দোকানের দিকে চেয়ে আজ সকাল থেকে সে আকুকে দেখে নি ,ভিতরে একটা ভাবনা হচ্ছে কি হল ছেলেটার ? কাজের লোক এসে ডাকলো দিদি নিচে পাড়ার কিছু ছেলে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছে। সানু ভাবলো চাঁদা ছাড়া কিছু না ,সামনে কালী পুজো। সে নেমে এলো সিঁড়ি বেয়ে ,মোট পাঁচটা ছেলে। একটা হোমড়া মতো ছেলে এগিয়ে বললো দিদি দয়া করে  একবার  চলুন অর্কপ্রভর মা বড়ো অসুস্থ।  অর্কপ্রভ মানে আকু ?
.
                          সানু এখন অর্কপ্রভর ভাড়া বাড়িতে তার মায়ের সামনে। আকুর মা মারা গেছে। আকু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। স্বর্ণপ্রিয়া পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো ,কি রে মা তোর এতো অসুস্থ ছিল  একবার বলতে পারলি না,একবার চেষ্টা করতে পারলাম। আকু একবার ফিরে তাকালো সানুর মুখের দিকে , কিন্তু  কিছু বললো না,পিছন ফিরে কাঁদতে লাগলো । তবে সানু ঠিক বুঝে গেলো আকুর  চোখের ভাষা , আকু বললো  তোর সাথে কথাই  তো বলতে চেয়েছিলাম সেই ছোটবেলা থেকে কিন্তু তুই বলতে দিলি কই ? 
সানু জড়িয়ে  ধরলো আকুকে পিছন থেকে ,মুখ দিয়ে তার বেড়োলো ,সরি  ! 

Friday, June 5, 2020

চুমু


চুমু 
.... ঋষি 

আর কত চুমু খাবি এবার তো ভিতরে আয় বলে অঙ্কিতা ,চয়নকে বুকে টানলো। চয়ন বললো দাঁড়া সবে তো শুরু তুই জানিস পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চুমুর সময়টা থাইল্যান্ডের রেকর্ড আটান্ন ঘণ্টা পঁয়ত্রিশ মিনিট আটান্ন সেকেন্ডের ,ভাবছি রেকর্ডটা ভেঙে ভারতবর্ষের করবো বাঙালির নামে।অঙ্কিতা বললো  আচ্ছা আর আঁতেলগিরি করতে হবে না আয় ভিতরে আয় ,দেখি তুই কেমন বিশ্বরেকর্ড করিস। চয়ন ঝাঁপিয়ে পড়লো অঙ্কিতার বুকে। চয়ন প্রামানিক পেশায় বিমান চালক ,২০০০ স্কয়ারফিটের ফ্ল্যাট  এয়ারপোর্টের পাশে ,আর অঙ্কিতা তার স্ত্রী আর এককালীন বন্ধুও বটে। 
.
চয়নের নেশা বলতে আকাশ আর চুমু। আকাশ জিনিসটা চয়নকে টানতো যখন সে প্যান্ট পড়তে শেখে নি তখন থেকে। বাবা নাম করা ব্যবসায়ী কোচবিহারে ,মা বলতো বাবুন আকাশ না ,আকাশ বড়ো গভীর হারিয়ে যাবি  যে আয় বুকে আয়। বাবা মার্ অমতে চয়নের এই পেশায় আসা একরকম ,প্রথম যেদিন সে প্লেন নিয়ে আকাশে উঠবে সেদিন মা খুব কেঁদেছিল ,বাবা বলেছিল ছেলের পাখা গজিয়েছে তাই বাবার ব্যবসা ছেড়ে উনি চললেন প্লেন ওড়াতে। এসব বহুদিনের আগের কথা। অঙ্কিতা ছিল আন্তর্জাতিক বিমানের সেবিকা ,প্লেনে পরিচয় তারপর প্রেম। চয়নের ইচ্ছে ছিল সে আকাশেই বিয়ে করবে অঙ্কিতার সাথে ,হয়ে ওঠে নি। 
.
                   চয়নের জীবনে চুমুর মাহাত্ম মহান আর ডেফিনেশন ভাবলে চয়ন অবাক হয় মায়ের চুমু ,গার্লফ্রেন্ডের চুমু ,দিদি স্থানীয়দের চুমু ,বৌদির চুমু ,বৌয়ের চুমু ,সন্তানের চুমু সব স্পর্শগুলো আলাদা। চয়ন বোঝে চুমুর এই আলাদা আলাদা মাপকাঠিতে স্বাদগুলোও আলাদা কিন্তু ডিফাইন করা সম্ভব নয়।  পৃথিবীতে প্রায় বাহান্ন রকমের চুমুর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শীল কোনটা সেটাও বলা সম্ভব নয়। তবে এই পৃথিবীতে চুমু হলো একটা ভালোবাসার প্রতীক ,একটা সিম্বল। তখন অঙ্কিতার সঙ্গে দেখা হয় নি ,চয়ন অস্ট্রেলিয়ায় এক মেয়ের সাথে সহবাস করে ,সেই মেয়ে তাকে কোনো গভীর মুহূর্তে চয়নকে এমনকরে চুমু খেতে মানা করেছিল ,এমন করে চুমু খেলে নাকি তার ঠোঁটগুলো গরুর মতো ঝুলে যাবে ,চয়ন চমকে উঠেছিল।অঙ্কিতাকে  পরে  চয়ন বলেছিল এই কথা ,অঙ্কিতা হেসেছিল বলেছিল তোর চুমুটা জাস্ট নেওয়া যায় না ,যেন চুমু খেয়ে তুই ভিতরে ঢুকে যেতে চাস।চয়ন প্রায় স্বপ্নে দেখে চুমু খেতে ,আর আপনারা বিশ্বাস করবেন না সেদিন সে নীল আকাশকে জড়িয়ে চুমু খেয়েছিল। সকালে সেদিন ঘুম থেকে উঠে চয়ন খুব হেসেছিল মনে মনে ,অঙ্কিতাকে জানায় নি পাশে সে এই নিয়ে ইয়ার্কি মারে। 
.
                    আজ চয়নের এক সপ্তাহ ছুটির দিন শেষ ,চয়নকে পারি দিতে হবে ইরাকে প্লেন  নিয়ে। আজ সকাল থেকে খুব বৃষ্টি ,আবহদপ্তরের খবরে বলছে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা। তুমুল ঝড়বৃষ্টিতে চয়ন এর আগে  প্লেন উড়িয়েছে ,তার ভালো লাগে কালো মেঘের মধ্যে দিয়ে ,বিদ্যুতের চমকের মধ্যে দিয়ে প্লেন চালাতে। সে নিজেকে মাঝে মাঝে প্লেন চালাতে চালাতে মায়ের মুখে  শোনা বীরপুরুষের  সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ফেলে। সে বেড়োনের সময় প্রতিবারের মতো অঙ্কিতা  তার বুকে এসে পড়লো ,বললো তাড়াতাড়ি আসিস ,সাবধানে  থাকিস, চয়ন চুমু খেতে গেলো,অঙ্কিতা বললো না একদম আমার ঠোঁটটি কিছু রাখিস নি কাল সারারাতে পাজি ,তারপর নিজেই ঠোঁট চুবিয়ে দিল চয়নের ঠোঁটে। 
.
     তখন অঙ্কিতা বাথরুমে গুনগুন করে গান করতে করতে চান করছে , বাইরে তখন  খুব বৃষ্টি  চান সেরে অঙ্কিতা বাথরুমের আয়নায় নিজের ঠোঁটের দিকে তাকাচ্ছে। মনে মনে ভাবছে আজ রাত্রে রাক্ষসটা ফিরছে ,তার ঠোঁটটা আর রাখবে না। হঠাৎ ঘরের ভিতর টেলিফোনটা বেজে উঠলো ,অঙ্কিতা ফোনটা তুললো ওপারে কোন মেয়ের গলা ,হ্যালো ! মিসেস চয়ন বলছেন ,চয়ন স্যারের একটা প্লেনটা ক্রাশ করেছে  ,প্লিজ একবার হাসপাতালে আসবেন। 
.     
                     আজ ১৭ দিন পর চয়ন বাড়ি ফিরলো। ওয়েলবিল্ড চয়নের প্লেন ক্রাশ করলেও শেষ মুহূর্তে সে প্লেনটাকে ল্যান্ড করিয়েছিল বাঁকুড়ার কোন এক পাহাড়ের উপর ,যাত্রীদের কিছু উন্ডেড হলেও কোনো মৃত্যুর খবর নেই। 
চয়ন বেঁচে ফিরেছে শুধু তার মুখের সামনে চোয়ালের অংশটা ভেঙে গেছে,পাটাও উন্ডেড। সে শুয়ে আছে অঙ্কিতা পাশে বসে ,সে চয়নকে সাহস দিচ্ছে সব ঠিক হয়ে যাবে ,আর কদিন। চয়ন ইশারায় একটা পেন চাইলো কিছু লেখার জন্য। অঙ্কিতা এগিয়ে দিলো একটা সাদা পাতা আর পেন। 
চয়ন লিখলো জানিস আমি আকাশকে চুমু খেতে চেয়েছিলাম তাই আমার চোয়ালটা ভেঙে দিল আকাশ তারপর যোগ করলো  কিন্তু বলতো এখন আমি তোকে চুমু খাবো কি করে  ? অঙ্কিতা জড়িয়ে ধরলো চয়নকে ,চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিলো চয়নের প্লাস্টার করা মুখ। চয়ন আবার সাদা পাতায় লিখলো এইবার তোর কিছুদিন শান্তি  ,তোর ঠোঁটগুলো বাঁচবে আমার ঠোঁট থেকে  ।  
                                 

বেজন্মা !


বেজন্মা ! 
.......ঋষি 

ফিরে আসা সময় থেকে সাদা পাতায় জীবন অবিরত ক্ষয় ছাড়া কিছু নয়। সময় হয়তো মানুষের দরজায় দাঁড়িয়ে একটার পর একটা দরজা বন্ধ করে, হয়তো কিছু খোলে। পবিত্র অন্ধকার বিছানায়  ভাবছিল এই কথা। মানুষের সমুদ্রে পবিত্র নামক ছেলেটা ভাসতে থাকা একটা ডিঙি নৌকো ,সাধারণ মানুষের যেমন হয়। খুব কমন একটা বাঁচা স্বামী ,স্ত্রী আর সাথে  ছ  বছরের ছেলে। জীবন হয়তো সুখের হতে পারতো কিন্তু হয় নি ,পবিত্র ভয় পাই নি বারংবার লড়ে গেছে জীবনের সাথে। 
.
                       সে তো আজ থেকে লড়ছে না ,সেই ছোটবেলা থেকে। মায়ের মুখ তার মনে পরে না ,বোঝার বয়স হওয়ার পর সে বুঝেছে যাকে সে তার বাবা মা বলে চেনে তারা আসলে তাকে পালন করেছে ,দত্তক নিয়েছিল তাকে কোন অনাথ আশ্রম থেকে। তার সেই বাবা ,মাও আর নেই তবে সে কৃতজ্ঞ তাদের কাছে কারণ সে একটা পরিচয় তো পেয়েছে।  পবিত্র নিজে একটা বেসরকারি অফিসে কাজ করে ,যা পায় তাতে সে, অমৃতা আর ছ বছরের বুবুন ভালো ভাবে চলে যায় ,মাথার উপর দত্তক ছাদও আছে ,সুতরাং মোটের উপর  পবিত্রের তো  ভালো থাকার কথা ছিল।  
.
                        পবিত্র ভাবছিল সে কেন ভালো নেই  ? কারণ  কি অমৃতা।  অমৃতা বাবা মায়ের এক সন্তান ,অবস্থা তেমন ভালো ছিল না ওদের ,পবিত্র তাকে পড়াতো ক্লাস টুয়েলভ থেকে ,তারপর হঠাৎ প্রেম তারপর বিয়ে। বিয়ের আগের অমৃতা আর আজকের অমৃতার ভিতর ভীষণ তফাৎ। বিয়ের একমাস পরে প্রথম যেদিন অমৃতার সাথে সাংসারিক ঝগড়ায় অমৃতা যেদিন তাকে বেজন্মা  বলে গালাগাল দেয় ,পবিত্র ভেঙে পড়েছিল কিন্তু আজ বিয়ের ষোলো বছর পর অভ্যাস হয়ে গেছে এই কথা শুনতে শুনতে। প্রথম প্রথম সে প্রতিবাদ করতো বলতো তুমি তো সব জানতে, তোমার বাবা ,মাও জানতো তবে কেন বিয়ে করলে আমায় ? এখন আর কিছু বলে না শুধু বেজন্মা শব্দটা শুনলে সে স্তব্ধ হয়ে যায়। অমৃতা প্রায়ই সুযোগ সময় বুঝে তাকে বিভিন্ন কারণে আঘাত করে,প্রায়ই কথা বন্ধ থাকে তাদের আর শারীরিক ভাবে কেউ একে অপরকে আকৃষ্ট করে না আর।   অমৃতার মনে হয় সে ভীষণ অসুখী ,পবিত্রকে বিয়ে করে তার জীবনটা শেষ হয়ে গেছে,সুতরাং এক ছাদের তলায় থেকে তারা দুইগ্রহে বাস করা ভিন্ন মানুষ। ওদের দুজনের চাওয়া  পাওয়া গুলো আলাদা সম্পর্ণ ,পবিত্র বই পড়তে ভালোবাসে ,ভালোবাসে ভালো গান শুনতে ,ঘুরতে আর অমৃতার কাছে এগুলো আদিখ্যেতা ছাড়া কিছু নয়।  আজকে বোধহয় তাদের এই সম্পর্কটা টিকে থাকার অন্যতম কারণ বোধহয় বুবুন আর কিছুটা পবিত্র ,পবিত্র কিছুতেই বুবুনকে  আরেকটা পবিত্র তৈরী  হতে দেবে না। .
.
                সময় দরজা বন্ধ করে কিছু দরজা খোলে অবশ্য  ,পবিত্রের জীবনে একটা ফ্যান্টাসি আছে ,আছে একটা গোপন প্রেম সুমনা। সুমনার সাথে পরিচয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ,প্রথমে ফোন নম্বর আদানপ্রদান তারপর হঠাৎ ভালো লাগা ,কাছে আসা। সুমনা বিবাহিত তার এক ছেলে আছে ,স্বামী তার ভালো না ,কোথাও বাইরে একটা সম্পর্ক আছে কারো সাথে। সুমনা একটু জেদি ,সে কাঁদে নি এই নিয়ে কোনোদিন পবিত্রর কাছে ,শুধু তাকে ভালবাসে নিঃস্বার্থ। আজকের দুনিয়া যেখানে কারণ ছাড়া কিছু হয় না সেখানে সুমনা অদ্ভুত একটা মেয়ে। তাদের এই পাঁচ বছরের সম্পর্কটা পৃথিবীর কাছে
বেআইনি হলেও ,নিজেদের কাছে বাঁচার নিশ্বাস। দুজনেই বেঁচে আছে কারণ 
তাদের সন্তান আর দুজনেই নিজেদের দায়িত্বের প্রতি তারা একনিষ্ট। বেশ কাটছিল জীবন পবিত্রের একদিকে দায়িত্ব অন্যদিকে সুমনা। হয়তো দু মাসে তাদের একবার দেখা হয় ,কথা হয় প্রতিদিন ,কিন্তু  বেশ কাটছিল জীবন তাদের । আসলে পৃথিবীতে বায়ুশূন্য বলে কিছু নেই ,সেখানে মানুষের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকম।   
.
                  এর মধ্যে এক ঘটনা ঘটলো যা পবিত্রর জীবনটা হঠাৎ দুমড়েমুচড়ে ভেঙে দিল। আজ দু মাস সে বাড়িতেই আছে ,চাকরিটাও গেছে কারণ তার একটা পা কাটা গেছে বাইক একসিডেন্টে,ডাক্তার আরো দুমাস তাকে ঘরে থাকতে বলেছে।  আজকাল আর সুমনার সাথে বিশেষ  তার কথা হয় না ,আসলে অমৃতা সবসময় কান পেতে থাকে। সুমনা বোঝে ব্যাপারটা কিন্তু সেও কষ্ট পায়। এখন অমৃতার কথা বলার ধরণ পবিত্র অসহ্য  লাগে ,কথায় কথায় এমন একটা ব্যাপার করে তাকে বোঝায় যে সে অকর্মন্য আর তার জীবনটা নষ্ট হলো ,কারণ অকারণে তাকে বুঝিয়ে দেয় সো বেজন্মা। 
পবিত্রর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে ,মনে হয় মৃত্যু ভালো এর থেকে তবুও নিজেকে বোঝায় বুবুন আর সুমনার কথা ভেবে। 
.
                            আজ সকালে অমৃতা যখন বাথরুমে সুমনার সাথে কথা হলো। খবরটা পেয়ে সে চমকে উঠো সুমনা প্রেগনেন্ট। পবিত্র জানে এটা তার অসর্কতার কারণে ,কি করবে সে। সারাদিন ভেবেছে ,ভেবেছে সুমনার মুখ ,সুমনার কান্নার শব্দ। সে চাই তাদের এই ভালোবাসার সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখুক , কিন্তু কিভাবে  ? কিভাবে এই সমাজে তাদের এই সন্তানের পরিচয় দেবে ? পবিত্রর মাথা ভার হয়ে আসছে ,খিদে তেষ্টা কিছু নেই তার। এখন সে সারারাত জেগে আসছে বিছানায় ,পাশে তার বিয়ে করা স্ত্রী অমৃতা ,বুবুন ঘুমিয়ে। কি করবে সে ? আজকে যেন পবিত্রর অন্ধকারটা আরও গভীর মনে হচ্ছে ,অন্ধকার চেয়ে থাকা চোখে সে স্বপ্ন দেখেছে সুমনা আর সন্তানের। 
.
                       ঘুমটা ভাঙলো তার রাতজাগা বিরক্তি নিয়ে অমৃতার ডাকে। অমৃতা বলছে এই যে লাটের বাট উঠুন এবার ,আপনার আর কি বিছানা তুলতে হবে ,বাজার যেতে হবে ,রান্না করতে হবে ,অনেক কাজ বাকি ,আপনার মতো চিতিয়ে থাকলে জীবন কাটবে না। সেই মুহূর্তে পবিত্রর একটা চড় মারতে ইচ্ছে করছিল অমৃতাকে ,তার পয়সায় খেয়ে ,তার পয়সায় বেঁচে এতো সাহস কিন্তু কিছু করলো না সে। জানলার দিকে তাকিয়ে তার সুমনার কথা মনে হলো ,কি করছে সুমনা  ? কাঁদছে  ? পবিত্র অপেক্ষা করছিল কখন অমৃতা বাজার যাবে। 
.
                   অমৃতা বাইরে তালা বন্ধ করা মাত্র পবিত্র ফোন করলো সুমনাকে। হ্যালো ,হ্যালো  ! সুমনা হাসছে  ,বললো গতকাল সে এবোসান করছে  আর কোনো চিন্তা নেই তাদের।  বললো এই বাচ্চা নাকি নষ্ট করারি  ছিল ,না হলে একটা বেজন্মার জন্ম  হতো, সোনা তুমি পরের বার থেকে কন্ডোম ব্যবহার করো। পবিত্রর হাত থেকে মোবাইলটা  খসে পড়লো ,চোখ থেকে ঝরলো দু এক ফোঁটা  জল ,সে উচ্চারণ করলো বেজন্মা !

Friday, March 27, 2020

রোবোস্যাপিয়ান

রোবোস্যাপিয়ান
.. ঋষি

সময় যেখানে শেষ হয় সেখান থেকে আমার এই গল্পটা শুরু।
আমি অনেকেত দাঁ অবশ্য এখন শুধুই একটা নাম্বার ৭০০১৩৬।
না পিন কোড না এটা স্যিটিজেন সিপ নাম্বার। আমাদের এখানে
মানে শহরে কারোর কোন নাম নেই আমরা সকলেই নাম্বার,তাতে
আমদের লোকসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।
অবাক হচ্ছেন
আমার এই লেখা শুধু পরের প্রজন্মের জন্য।এটা পৃথিবী না,
তবে পৃথিবীর তলায় একটা শহর।প্রথিবী শেষ হয়ে গেছে আজ
প্রায় সাতশো বছর আগে।কি ভাবছেন আমার বয়স?  তা প্রায়
সাতশো বিয়াল্লিশ হবে।কি ভাবে বেঁচে?  মশাই আমার শরীরের
 ভিতর ফুসফুস,লিভার,কিডনি সব যান্ত্রিক।অবাক হবেন না পৃথিবীর
শেষ দিনে আমরা কিছু মানুষ মানে সায়েন্সটিস্ট,সাহিত্যিক, পেন্টার
 অর্থাৎ কিছু বুদ্ধিজীবি নিজেদের বাঁচাতে পালিয়ে আসি মাটির নিচে।
পরে তৈরি করি এই শহর  , নাম রাখি ড্রিম ল্যান্ড।
ড্রিম ল্যান্ড  বটে এই শহরের লোকসংখ্যা ২৪ লাখ,তার মধ্যে মশাই দশ লাখ মতো
আমার মতো মানুষ, বাকি সব রোবট।এই ড্রিম ল্যন্ডে পৃথিবীর মতো দিন, রাত
সব হয়,গাছপালা, পশু পাখি, নদী পাহাড় সব আছে,তবে সবটাই যান্ত্রিক।
পৃথিবীর উপরে আমাদের সোলার প্যানেল বসানো আর পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে
জমা এনার্জি থেকে আমার এই শহরে সবরকম এনার্জি তৈরি হয়। দাঁড়ান একটু
আসছি  আমার রুমের অক্সিজেন লেভেল নেমে যাচ্ছে, এলার্ম বাজছে,একটা
ফোন করা জরুরী।
হ্যা বেশ কোথায় ছিলাম, ও আচ্ছা আমদের এখাবে সব আছে পৃথিবীর মত,
হ্যাঁ অবশ্যই জাত আছে তবে হিন্দু, মুসলিম, শিখ এমন নয় আমরা সকলেই
রোবোস্যাপিয়ান যার দুটো জাত পুরুষ আর নারী ।আমাদের অনুভুতিতে
 পৃথিবীর মানুষের মতো সব আছে অর্থাৎ পঞ্চরিপু।তবে এখানে কোন
পুলিশ স্টেশন নেই,কারন ডাকাতি, চুরি, রেপ এগুলো আমাদের ডিক্সানারিতে
নেই।আমাদের এখানে সেক্স লাইব্রেরী আছে যেখানে হাজারো ধরনের নারী ও
পুরুষ রোবট পাওয়া যায়,আপনি ইচ্ছে মতো তাদের সাহায্য নিতে পারেন আপনার
যৌন ক্ষুধা মেটাবার জন্য,এমন এখানে বইয়ের লাইব্রের, এক্সারসাইজ পারলার
সমস্ত ফেসিলিটি আছে।   
আমাদের শহরে টাকা পয়সা নেই,  পৃথিবীর ভাষায় সব ফ্রি সারভিস।
এখানে আমরা কাজ করি কারণ ওটা আমাদের দায়িত্ব, আমরা যারা মানূষ
রোবট আছি তারা সকলে বুদ্ধির কাজ করি যেমন সৃষ্টি,আবিষ্কার আর বলাবাহুল্য
খাটনির কাজ গুলো সমস্ত রোবট করে।যেমন ধরুন গাছপালা তৈর, নকল সুরজ আর
চাঁদের রক্ষনাবেক্ষন ইত্যাদি।আমাদের খিদে পায় না কারণ আমাদের শরীরের ভিতর
একরকম পজিটিভ এনার্জি ট্রান্সফরমার আছে যা আমাদের সাপ্তাহিক সাইকেলে রিচারজ
করতে হয় ।তাই আমদের শহরে কোন অসুখ নেই,অবশ্যই জন্ম, মৃত্যু এসব তো নেই।
তাই রোবোস্যাপিয়ান মানে আমরা নিজেদের এই সৃষ্টির সব থেকে উন্নত জন্ম মনে করি। 
 আমাদের এখানে একটা আকর্ষণীয় মিউজিয়াম আছে যেখানে আমরা পৃথিবীর নষ্টের
কারনগুলো রেখেছি কাঁচের বাক্সে সাজিয়ে।পৃথিবীর মানুষের লোভ, হিংসা,পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার
কারন,প লিউসান  ইত্যাদি,তাছাড়া রেখেছি রবিন্দ্রনাথ,আইনস্টাইন,গ্যালিলিও - দের মত অজস্র নক্ষত্রের
সৃষ্ট। আমরা পৃথিবীর মতো মাস, বছর ক্যালেন্ডার এক রেখেছি কিন্তু আনাদের ড্রিমল্যান্ডে মানুষের
নষ্ট অনুভুতিগুলো ঢুকতে দি নি।
আমার কানের কাছে মোবাইলের রিংটোনের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। আমি অবাক কি অদ্ভুত
কি দেখছিলাম এতক্ষন।ধরফর করে বিছানায় উঠে বসে মোবাইলটা ধরলাম।হ্যালো! হ্যাঁ মিস্টার দাঁ
বলছি,  অপাশ দিয়ে কেউ বলছে শুনলাম " মিস্টার দাঁ,দিস ইস আ রিমাইন্ডার কল ফ্রম রোবোস্যাপিয়ান ,
দিস ড্রিম ফর ইউর নেক্সট লিভিং অনলি"।         
     
 

Saturday, November 7, 2015

আলোর কাছে

আলোর কাছে
................ ঋষি
=====================================================
                                        মহাবিশ্বের অসংখ্য গোলকের যাতায়াতে একটা নিয়ম বর্তমান সৃষ্টিতেকেউ কাউকে বিরক্ত করে না ,কেউ কাউকে আঘাত করে ,মহা আনন্দে একে অপরের সাথে বসবাসভূগোলের এই মহান তথ্যটা জানতে পেরে খুব অবাক হলো আলোআলো মজুমদার ক্লাস ফাইভের স্টুডেন্ট ,বাবা ,মায়ের একমাত্র কন্যাবাবা আনন্দ মজুমদার এক ব্যাঙ্কেরকর্মী  , মা চেনা মজুমদার কোনো বেসরকারী কোম্পানিতে কাজ করেনসুতরাং অভাব কিছুই নেই আলোর ,একমাত্র বাবা মায়ের সহচর্য ছাড়াসকালে ঘুম থেকে উঠে আলো দেখে মা রেডি বেরোবার জন্য ,আলোর কপালে চুমু খেয়ে বলেন কাজের দিদিকে বিরক্ত করবে না ,পড়াশুনা করবে, আমি আসবার সময় তোমার রঙের খাতা নিয়ে আসবো।  বাবা জিম থেকে ফিরতে ফিরতে আলো স্কুলের জন্য রেডি ,বাবা তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে যেতে যেতে বলেন  এই রবিবার আমরা ঘুরতে যাব হ্যা মাঅদ্ভূত একটা ব্যস্ততা এই বাড়িতে লেগে থাকে সবসময়শুধু আলোর কোনো ব্যস্ততা নেই ,তবে একটা ভয় আছে মনে স্কুলে যাবার
               কাজের দিদি আলোকে স্কুল বসে তুলে দিয়ে আসেআলোর যেন সময়টা
খারাপ শুরু হয়একটা আলাদা অনুভব যেটা মনের মধ্যে বাসা বাঁধে "ভয় " ছোটবেলা যখন আলো অন্ধকারকে ভয় পেতো একদিন বাবা বলেছিলেন তোর নাম
আলো কেন বলতো মা কারণ অন্ধকার আলোকে ভয় পায়তারপর থেকে যখনি ভয় পেয়েছে আলো অন্ধকারকে মনে মনে বলেছে আমার নাম আলো ,অন্ধকার কেটে গেছে ,সমস্ত ভয় পালিয়েছে
                      স্কুল বাসের যে গনেশ কাকু যে হেলপার ,যে সকলকে বসে উঠতে সাহায্য করে সে অদ্ভূত ভাবে হাসে আলোকে দেখলেঘুমের মধ্যেও আলো মাঝে মাঝে চমকে ওঠে ওই পান মশলা খাওয়া লাল দাঁত দেখে ,ঘুম ভেঙ্গে যায় বারংবার মনের মধ্যে বলে আমি আলো ,আমি আলো কিন্তু ভয় যায় না কিছুতেইআলো কাউকে বলতে পারে না গনেশ কাকু অসভ্যতা করে আলোর সাথেবাসে ওঠার সময় ,অন্য যে কোনো অছিলায় আলোর শরীরে হাত দেয়একবার বাসে ওঠার পর সে যে সিটে বসে সেই সিটে ওর ক্লাস ফ্রেন্ড অক্ষয় বসে থাকায় আলোকে একটু পিছনে বসতে হয়েছিলসেই সিটে কেউ ছিল না ,ও একলা ,স্কুল ফেরৎ
বাসটা খালি হচ্ছিল ,আলো জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলকখন যেন
হালকা ঘুম ধরে  গেছিল চোখেঘুম ভাঙ্গলো আচমকা একটা যন্ত্রণা বুকে টের পেল আলো ,একটা হাত আলোর বুকেআলো চোখে খুলে দেখে গনেশ কাকু
আলো কিছু বলতে পারে নি ,যন্ত্রনায় চোখে জলগনেশ কাকু অদ্ভূত ভাবে হাসলো
পিশাচের মতন ,বললো কেমন লাগলো মামুনিভাগ্যিস আলোর স্টপেজ এসে গেছিল ,আলো নামলো বাস থেকেদেখে কাজের মাসি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো আলো
কি হয়েছে তোমারআলো বলতে পারে নি ,তখন থেকে আলোর অন্ধকার দেখলে ভয় পায়তবে একটা আলাদা বোধ আলোর মধ্যে কাজ করে ,ও বোধ হয় বড় হয়ে 
যাচ্ছে যেটা অন্যায় এই পৃথিবী নামক গোলকে
              চেনা কদিন ধরে মেয়েকে দেখেছে কেমন আনমনাখাওয়া দাওয়া করছে না ঠিকঠাক মনে হয় ,একটু রোগা লাগছেকি করবে চেনা বেসরকারী কোম্পানিতে হরেক জ্বালা ,ছুটিছাটা একদম নেইএকদিন সপ্তাহে ছুটি থাকে নিজের কাজ করতে করতে সময় কেটে যায়মেয়েটাকে সময় দেওয়া হয় না ,কি করে যে মেয়েটা বড় হয়ে গেলো জন্মের পর টেরি পেলো না চেনাপরশু ছুটির দিন  ,পরশু সে মেয়ের সাথে থাকবে বলে ঠিক করলো
                              আনন্দর আজ ব্যাঙ্কে প্রচুর কাজকিছু আগের কাজও পেন্ডিং যা তুলতে হবে আজই ,কাল মসের শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নেই আনন্দের
ঠিক এই সময় ফোনটা বাজলো ,একটা আননোন নাম্বারসাধারণ এমন ফোন ধরে না আনন্দ আজ ধরলোহ্যালো আনন্দ মজুমদার থানার থেকে বলছি ,আপনার মেয়ে এখানে আছেএকবার আসতে হবে আপনাকেআকাশ ভেঙ্গে পড়লো আনন্দের মাথায়গাড়ি ড্রাইভ করতে করতে মেয়েটার মুখ চোখের সামনেকি জানি খুব ছোটো লাগছিল আনন্দের নিজেকে মেয়েটাকে ঠিক মতন সময় দিতে পারে নি সে ,কি করে যে মামুনি বড় হয়ে যাচ্ছে
                              "  আজ সময় " নামক খবরের কাগজে প্রথম পৃষ্ঠায় আলোর ছবিআলো মজুমদার ক্লাস ফাইভের ছাত্রী কিভাবে নিজেকে রক্ষা করেছে ,কোনো এক গনেশ নামে সমাজের এক অন্ধকারকে কি ভাবে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে
তাকে সরকার থেকে সাহসের জন্য নমিনেট করা হয়েছে আলো নামক পুরস্কারেরআলো বলে কোনো এক সংস্থা আলোকে তার সাহসিকতার জন্য অনেক শুভেচ্ছা জানিয়েছেআলো নামে সেই ক্লাস ফাইভের ছাত্রী এখন স্যাটেলাইট মিডিয়াতে পপুলার ফেস ,হাজার লাইক আর কমেন্টস তার নামে।  

                        আলো  এখন ভূগোল পরছেপৃথিবীতে কি ভাবে রাত্রি হয় ,কিভাবে দিন হয় সেটা জানছেআলো ভেবে অবাক হচ্ছে বাবা ঠিক বলেছিল অন্ধকারকে আলো হারিয়ে দেয়আলো যখন আসে সে সর্বত্র নিজের উপস্থিতি জাহির করেঅন্ধকার যতই শক্তিশালী হোক না কেন ,আলোর কাছে বাচ্চাআলো আনমনে মুচকি হেসে ওঠে

Friday, November 6, 2015

মানুষ নামক ছেলেটি

মানুষ নামক ছেলেটি
.................... ঋষি
=======================================================
যুতসই খিস্তি খুঁজে পাচ্ছিল না মানুষ নামক ছেলেটি। আসলের এই বস্তি পাড়ায় বেজন্মারা জন্ম নেয় এমনি বিশ্বাস মানুষের, আর বাইরের উচ্চবৃত্তরা যে এই বেজন্মাদের অন্য চোখে দেখে মানে মানুষ ভাবে না এটাই স্বাবাভিক। এই রেল বস্তির অধিকাংশ সকলের জীবিকা হলো খেটে খাওয়া অর্থ দিন মজুরি ,আইসক্রিম বিক্রি ,ফুচকা বিক্রি ,মিস্ত্রী ,লেবার এই আর কি। সরকার বাবুর একটা নোটিস এসেছে এই মহল্লাতে ,পাড়া খালি করতে হবে ,রেল লাইনের শুভাকাঙ্খী সরকার বাবু পাঁচ দিন সময় পাঠিয়েছে। সকলের মাথায় হাত।
                            মানুষ নামক ছেলেটি একটু ঘাবড়ে গেছিল প্রথমে ,কিন্তু পিতৃ মাতৃহীন এই ছেলেটির মেরুদন্ডে একটা রোগ আছে সোজা হাঁটার ,মাথা নিচু না করার। প্রচুর শিকড় বাকড় ,ডাক্তার ,হেকিম এমনকি থানা পুলিশ সবই করেছে কিন্তু রোগটা সারে নি ,এই তো কদিন আগে জেলের ভাত খেয়ে এলো  বেমক্কা পাঁচ দিন। কে এক উঁচু ঘরের সোনার ছেলে পথ চলতি এক মেয়েকে টিটকিরি দিচ্ছিল ,রাস্তার পাশে মানুষ বলে ছেলেটা সাইকেলের চেইন পরে যাওয়ায় ,আটকাতে চেষ্টা করছিল ,পরবি পর ওরই চোখে পড়লো। আর কি তারপর মার সেই ছেলে আর তার বন্ধুদের ধরে। মানুষ ও মার খেলো  প্রচুর কিন্তু সোনার ছেলে আর বন্ধুরা জখম হলো বেশি যাই হোক এ যে মানুষের খেটে খাওয়া হাত ,পাথরের মতন শক্ত। পুলিশ এলো ,রাস্তায় সাইকেল পরে থাকলো মানুষের  ,তুলে নিয়ে গেলো কিন্তু সরকার বাবুর কোন আইনে যে সোনার ছেলে ছাড়া পেয়ে গেলো আর মানুষ নামক ছেলেটি জমা পড়লো জেলে সেটা বোধগম্য হয় নি মানুষের।
      এমনি এক ঘটনা ঘটেছিল সেদিন হাসপাতালে। বস্তির কোনো এক মরনাপন্ন বয়স্ক ভদ্র মহিলার শরীর খারাপ হয়েছিল সেদিন রাত্রে। কোনরকম ভ্যানে করে মানুষ নামক ছেলেটি আর তার বন্ধুরা নিয়ে গেলো সেই ভদ্রমহিলাকে জেলা হাসপাতালে। তখন রাত্রি উচ্চবিত্তের ডাক্তারবাবু ব্যস্ত মসকরাতে  বন্ধুদের সাথে ,ওই আর কি খোশ মেজাজে সদ্য মাত্র মদের বোতল খুলেছেন । সেই সময় মানুষের প্রবেশ ,ডাক্তার কে অনুরোধ করা হলো একটু বয়স্ক ভদ্রমহিলার দেখার জন্য। কিন্তু ডাক্তার বাবু মানতে নারাজ বললেন পরের দিন আসতে। ডাক্তারকে বোঝাতে চেষ্টা করা হলো যে আজ যদি চিকিত্সা না হয় তবে রোগী মারা যাবে। কিন্তু কে কার কথা শোনে ডাক্তার মানতে নারাজ। ঠিক এই সময় মানুষ নামক ছেলেটার মেরুদন্ড খাড়া হলো ,সোজা একটা সাদা কাগজ আর একটা পেন এগিয়ে দিল ডাক্তারের কাছে বললো লিখে দিতে কাল যদি ভদ্রমহিলা মারা যান তবে সমস্ত দায়িত্ব ডাক্তারের থাকবে ,ডাক্তার মানলেন না। তারপর যা হবার হলো সোজা চেপে ধরলো ডাক্তারের গলা মুঠিতে মানুষ। চিকিত্সা হলো বটে এই কারণে  সেই ভদ্র মহিলার,বয়স্ক ভদ্র মহিলা বেঁচে গেলেন সেই যাত্রায়। কিন্তু মানুষ বাঁচলো না ,পরের দিন পাড়া থেকে তুলে নিয়ে গেলো সরকার বাবুর পুলিশ।বেধরক মার কপালে জুটলো মানুষের। মানুষ বুঝলো না এই মারের মানে। মানুষ এটা জানে তাকে মার খেতে হয় প্রতিটা প্রতিবাদে ,তার গলার নলি চেপে ধরে অন্য কোনো উচ্চবৃত্ত প্রতিটা বেঁচে ফেরায় ,প্রতিদিন বাঁচায়। তাই আর গায়ে মাখে না এই মারকে কোনভাবে ,ভয় ও পায় না মানুষ নামক ছেলেটি।
                                  মানুষের জীবনের প্রতি পদে অসংখ্য প্রশ্ন ,অসংখ্য বিপদ মানুষ জানে। মানুষ জানে বাঁচতে গেলে লড়তে হবে নিজের সাথে ,স্বত্বার অধিকারের জন্য। কালকের বেঁচে থাকার জন্য ,কালকের নতুন জন্মকে উত্তর তো দিতে হবে যতই বেজন্মা হোক এই মানুষ নামক ছেলেটি কিন্তু তার ভিতরে কোথাও লুকোনো মানুষ আছে। কিন্তু এবার প্রশ্ন মানুষের বাঁচার অধিকারের ,বাসস্থান নিয়ে বিপদ ,কি করবে মানুষ নামক ছেলেটি। যুতসই খিস্তি খুঁজে পাচ্ছিল না সে সরকার বাবুকে দেওয়ার।
                      প্রত্যেক মানুষের ভিতর জানোয়ার থাকে। কেউ কেউ তাকে অশুভ কাজে ব্যবহার করে ,কেউ কেউ শুভ কাজে। আমরা সকলে জানি রক্ত একমাত্র বেরোয় না খুন হলে ,মারামারি করলে ,, প্রতিবাদ করলেও রক্ত পাত হয়। প্রাণ হানি একমাত্র ঘটে না বন্দুকের বুলেটের আঘাতে ,প্রতিবাদ করলেও প্রাণহানি ঘটে। আজ অবধি মানুষের কোনো প্রতিবাদ রক্ত ছাড়া হয় নি ,ফল যে সবসময় মানুষের পক্ষে গেছে তাও নয় ,তবু মানুষ প্রতিবাদ ভোলে নি। যখনি মানুষের পিঠ ঠেকে  গেছে দেওয়ালে ইতিহাস সাক্ষী মানুষ ফিরে দাঁড়িয়েছে ,প্রতিবাদ করেছে  বাঁচবার জন্য । মানুষ নামক ছেলেটি সেই প্রতিবাদের পথ বেছে নিল। সে ঠিক করলো প্রতিবাদ করবে আজকের সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। তাকে ঘেরাও করবে ,বড় বড় বোর্ডের  ফেস্টুন নিয়ে। তাতে লেখা থাকবে মানছি না ,মানবো না তোমাদের দুর্নীতি ,মানুষের  অধিকার আমরা কখনো ছাড়বো  না। সে যতই ছুটে আসুক না কেন সরকার বাবুর পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ,বুলেট ,কিছুতেই পিছু হটবে না তারা।
তাদের প্রাপ্য তারা বুঝে ছাড়বে ,তার জন্য মরতে হলে মরবে। এই ভাবনায় মানুষ নামক ছেলেটি অপেক্ষা করছিল পরের দিন সকালের ,নতুন আলোর ,একটা নতুন দিনের।