মানুষ নামক ছেলেটি
.................... ঋষি
=======================================================
যুতসই খিস্তি খুঁজে পাচ্ছিল না মানুষ নামক ছেলেটি। আসলের এই বস্তি পাড়ায় বেজন্মারা জন্ম নেয় এমনি বিশ্বাস মানুষের, আর বাইরের উচ্চবৃত্তরা যে এই বেজন্মাদের অন্য চোখে দেখে মানে মানুষ ভাবে না এটাই স্বাবাভিক। এই রেল বস্তির অধিকাংশ সকলের জীবিকা হলো খেটে খাওয়া অর্থ দিন মজুরি ,আইসক্রিম বিক্রি ,ফুচকা বিক্রি ,মিস্ত্রী ,লেবার এই আর কি। সরকার বাবুর একটা নোটিস এসেছে এই মহল্লাতে ,পাড়া খালি করতে হবে ,রেল লাইনের শুভাকাঙ্খী সরকার বাবু পাঁচ দিন সময় পাঠিয়েছে। সকলের মাথায় হাত।
মানুষ নামক ছেলেটি একটু ঘাবড়ে গেছিল প্রথমে ,কিন্তু পিতৃ মাতৃহীন এই ছেলেটির মেরুদন্ডে একটা রোগ আছে সোজা হাঁটার ,মাথা নিচু না করার। প্রচুর শিকড় বাকড় ,ডাক্তার ,হেকিম এমনকি থানা পুলিশ সবই করেছে কিন্তু রোগটা সারে নি ,এই তো কদিন আগে জেলের ভাত খেয়ে এলো বেমক্কা পাঁচ দিন। কে এক উঁচু ঘরের সোনার ছেলে পথ চলতি এক মেয়েকে টিটকিরি দিচ্ছিল ,রাস্তার পাশে মানুষ বলে ছেলেটা সাইকেলের চেইন পরে যাওয়ায় ,আটকাতে চেষ্টা করছিল ,পরবি পর ওরই চোখে পড়লো। আর কি তারপর মার সেই ছেলে আর তার বন্ধুদের ধরে। মানুষ ও মার খেলো প্রচুর কিন্তু সোনার ছেলে আর বন্ধুরা জখম হলো বেশি যাই হোক এ যে মানুষের খেটে খাওয়া হাত ,পাথরের মতন শক্ত। পুলিশ এলো ,রাস্তায় সাইকেল পরে থাকলো মানুষের ,তুলে নিয়ে গেলো কিন্তু সরকার বাবুর কোন আইনে যে সোনার ছেলে ছাড়া পেয়ে গেলো আর মানুষ নামক ছেলেটি জমা পড়লো জেলে সেটা বোধগম্য হয় নি মানুষের।
এমনি এক ঘটনা ঘটেছিল সেদিন হাসপাতালে। বস্তির কোনো এক মরনাপন্ন বয়স্ক ভদ্র মহিলার শরীর খারাপ হয়েছিল সেদিন রাত্রে। কোনরকম ভ্যানে করে মানুষ নামক ছেলেটি আর তার বন্ধুরা নিয়ে গেলো সেই ভদ্রমহিলাকে জেলা হাসপাতালে। তখন রাত্রি উচ্চবিত্তের ডাক্তারবাবু ব্যস্ত মসকরাতে বন্ধুদের সাথে ,ওই আর কি খোশ মেজাজে সদ্য মাত্র মদের বোতল খুলেছেন । সেই সময় মানুষের প্রবেশ ,ডাক্তার কে অনুরোধ করা হলো একটু বয়স্ক ভদ্রমহিলার দেখার জন্য। কিন্তু ডাক্তার বাবু মানতে নারাজ বললেন পরের দিন আসতে। ডাক্তারকে বোঝাতে চেষ্টা করা হলো যে আজ যদি চিকিত্সা না হয় তবে রোগী মারা যাবে। কিন্তু কে কার কথা শোনে ডাক্তার মানতে নারাজ। ঠিক এই সময় মানুষ নামক ছেলেটার মেরুদন্ড খাড়া হলো ,সোজা একটা সাদা কাগজ আর একটা পেন এগিয়ে দিল ডাক্তারের কাছে বললো লিখে দিতে কাল যদি ভদ্রমহিলা মারা যান তবে সমস্ত দায়িত্ব ডাক্তারের থাকবে ,ডাক্তার মানলেন না। তারপর যা হবার হলো সোজা চেপে ধরলো ডাক্তারের গলা মুঠিতে মানুষ। চিকিত্সা হলো বটে এই কারণে সেই ভদ্র মহিলার,বয়স্ক ভদ্র মহিলা বেঁচে গেলেন সেই যাত্রায়। কিন্তু মানুষ বাঁচলো না ,পরের দিন পাড়া থেকে তুলে নিয়ে গেলো সরকার বাবুর পুলিশ।বেধরক মার কপালে জুটলো মানুষের। মানুষ বুঝলো না এই মারের মানে। মানুষ এটা জানে তাকে মার খেতে হয় প্রতিটা প্রতিবাদে ,তার গলার নলি চেপে ধরে অন্য কোনো উচ্চবৃত্ত প্রতিটা বেঁচে ফেরায় ,প্রতিদিন বাঁচায়। তাই আর গায়ে মাখে না এই মারকে কোনভাবে ,ভয় ও পায় না মানুষ নামক ছেলেটি।
মানুষের জীবনের প্রতি পদে অসংখ্য প্রশ্ন ,অসংখ্য বিপদ মানুষ জানে। মানুষ জানে বাঁচতে গেলে লড়তে হবে নিজের সাথে ,স্বত্বার অধিকারের জন্য। কালকের বেঁচে থাকার জন্য ,কালকের নতুন জন্মকে উত্তর তো দিতে হবে যতই বেজন্মা হোক এই মানুষ নামক ছেলেটি কিন্তু তার ভিতরে কোথাও লুকোনো মানুষ আছে। কিন্তু এবার প্রশ্ন মানুষের বাঁচার অধিকারের ,বাসস্থান নিয়ে বিপদ ,কি করবে মানুষ নামক ছেলেটি। যুতসই খিস্তি খুঁজে পাচ্ছিল না সে সরকার বাবুকে দেওয়ার।
প্রত্যেক মানুষের ভিতর জানোয়ার থাকে। কেউ কেউ তাকে অশুভ কাজে ব্যবহার করে ,কেউ কেউ শুভ কাজে। আমরা সকলে জানি রক্ত একমাত্র বেরোয় না খুন হলে ,মারামারি করলে ,, প্রতিবাদ করলেও রক্ত পাত হয়। প্রাণ হানি একমাত্র ঘটে না বন্দুকের বুলেটের আঘাতে ,প্রতিবাদ করলেও প্রাণহানি ঘটে। আজ অবধি মানুষের কোনো প্রতিবাদ রক্ত ছাড়া হয় নি ,ফল যে সবসময় মানুষের পক্ষে গেছে তাও নয় ,তবু মানুষ প্রতিবাদ ভোলে নি। যখনি মানুষের পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে ইতিহাস সাক্ষী মানুষ ফিরে দাঁড়িয়েছে ,প্রতিবাদ করেছে বাঁচবার জন্য । মানুষ নামক ছেলেটি সেই প্রতিবাদের পথ বেছে নিল। সে ঠিক করলো প্রতিবাদ করবে আজকের সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। তাকে ঘেরাও করবে ,বড় বড় বোর্ডের ফেস্টুন নিয়ে। তাতে লেখা থাকবে মানছি না ,মানবো না তোমাদের দুর্নীতি ,মানুষের অধিকার আমরা কখনো ছাড়বো না। সে যতই ছুটে আসুক না কেন সরকার বাবুর পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ,বুলেট ,কিছুতেই পিছু হটবে না তারা।
তাদের প্রাপ্য তারা বুঝে ছাড়বে ,তার জন্য মরতে হলে মরবে। এই ভাবনায় মানুষ নামক ছেলেটি অপেক্ষা করছিল পরের দিন সকালের ,নতুন আলোর ,একটা নতুন দিনের।
.................... ঋষি
=======================================================
যুতসই খিস্তি খুঁজে পাচ্ছিল না মানুষ নামক ছেলেটি। আসলের এই বস্তি পাড়ায় বেজন্মারা জন্ম নেয় এমনি বিশ্বাস মানুষের, আর বাইরের উচ্চবৃত্তরা যে এই বেজন্মাদের অন্য চোখে দেখে মানে মানুষ ভাবে না এটাই স্বাবাভিক। এই রেল বস্তির অধিকাংশ সকলের জীবিকা হলো খেটে খাওয়া অর্থ দিন মজুরি ,আইসক্রিম বিক্রি ,ফুচকা বিক্রি ,মিস্ত্রী ,লেবার এই আর কি। সরকার বাবুর একটা নোটিস এসেছে এই মহল্লাতে ,পাড়া খালি করতে হবে ,রেল লাইনের শুভাকাঙ্খী সরকার বাবু পাঁচ দিন সময় পাঠিয়েছে। সকলের মাথায় হাত।
মানুষ নামক ছেলেটি একটু ঘাবড়ে গেছিল প্রথমে ,কিন্তু পিতৃ মাতৃহীন এই ছেলেটির মেরুদন্ডে একটা রোগ আছে সোজা হাঁটার ,মাথা নিচু না করার। প্রচুর শিকড় বাকড় ,ডাক্তার ,হেকিম এমনকি থানা পুলিশ সবই করেছে কিন্তু রোগটা সারে নি ,এই তো কদিন আগে জেলের ভাত খেয়ে এলো বেমক্কা পাঁচ দিন। কে এক উঁচু ঘরের সোনার ছেলে পথ চলতি এক মেয়েকে টিটকিরি দিচ্ছিল ,রাস্তার পাশে মানুষ বলে ছেলেটা সাইকেলের চেইন পরে যাওয়ায় ,আটকাতে চেষ্টা করছিল ,পরবি পর ওরই চোখে পড়লো। আর কি তারপর মার সেই ছেলে আর তার বন্ধুদের ধরে। মানুষ ও মার খেলো প্রচুর কিন্তু সোনার ছেলে আর বন্ধুরা জখম হলো বেশি যাই হোক এ যে মানুষের খেটে খাওয়া হাত ,পাথরের মতন শক্ত। পুলিশ এলো ,রাস্তায় সাইকেল পরে থাকলো মানুষের ,তুলে নিয়ে গেলো কিন্তু সরকার বাবুর কোন আইনে যে সোনার ছেলে ছাড়া পেয়ে গেলো আর মানুষ নামক ছেলেটি জমা পড়লো জেলে সেটা বোধগম্য হয় নি মানুষের।
এমনি এক ঘটনা ঘটেছিল সেদিন হাসপাতালে। বস্তির কোনো এক মরনাপন্ন বয়স্ক ভদ্র মহিলার শরীর খারাপ হয়েছিল সেদিন রাত্রে। কোনরকম ভ্যানে করে মানুষ নামক ছেলেটি আর তার বন্ধুরা নিয়ে গেলো সেই ভদ্রমহিলাকে জেলা হাসপাতালে। তখন রাত্রি উচ্চবিত্তের ডাক্তারবাবু ব্যস্ত মসকরাতে বন্ধুদের সাথে ,ওই আর কি খোশ মেজাজে সদ্য মাত্র মদের বোতল খুলেছেন । সেই সময় মানুষের প্রবেশ ,ডাক্তার কে অনুরোধ করা হলো একটু বয়স্ক ভদ্রমহিলার দেখার জন্য। কিন্তু ডাক্তার বাবু মানতে নারাজ বললেন পরের দিন আসতে। ডাক্তারকে বোঝাতে চেষ্টা করা হলো যে আজ যদি চিকিত্সা না হয় তবে রোগী মারা যাবে। কিন্তু কে কার কথা শোনে ডাক্তার মানতে নারাজ। ঠিক এই সময় মানুষ নামক ছেলেটার মেরুদন্ড খাড়া হলো ,সোজা একটা সাদা কাগজ আর একটা পেন এগিয়ে দিল ডাক্তারের কাছে বললো লিখে দিতে কাল যদি ভদ্রমহিলা মারা যান তবে সমস্ত দায়িত্ব ডাক্তারের থাকবে ,ডাক্তার মানলেন না। তারপর যা হবার হলো সোজা চেপে ধরলো ডাক্তারের গলা মুঠিতে মানুষ। চিকিত্সা হলো বটে এই কারণে সেই ভদ্র মহিলার,বয়স্ক ভদ্র মহিলা বেঁচে গেলেন সেই যাত্রায়। কিন্তু মানুষ বাঁচলো না ,পরের দিন পাড়া থেকে তুলে নিয়ে গেলো সরকার বাবুর পুলিশ।বেধরক মার কপালে জুটলো মানুষের। মানুষ বুঝলো না এই মারের মানে। মানুষ এটা জানে তাকে মার খেতে হয় প্রতিটা প্রতিবাদে ,তার গলার নলি চেপে ধরে অন্য কোনো উচ্চবৃত্ত প্রতিটা বেঁচে ফেরায় ,প্রতিদিন বাঁচায়। তাই আর গায়ে মাখে না এই মারকে কোনভাবে ,ভয় ও পায় না মানুষ নামক ছেলেটি।
মানুষের জীবনের প্রতি পদে অসংখ্য প্রশ্ন ,অসংখ্য বিপদ মানুষ জানে। মানুষ জানে বাঁচতে গেলে লড়তে হবে নিজের সাথে ,স্বত্বার অধিকারের জন্য। কালকের বেঁচে থাকার জন্য ,কালকের নতুন জন্মকে উত্তর তো দিতে হবে যতই বেজন্মা হোক এই মানুষ নামক ছেলেটি কিন্তু তার ভিতরে কোথাও লুকোনো মানুষ আছে। কিন্তু এবার প্রশ্ন মানুষের বাঁচার অধিকারের ,বাসস্থান নিয়ে বিপদ ,কি করবে মানুষ নামক ছেলেটি। যুতসই খিস্তি খুঁজে পাচ্ছিল না সে সরকার বাবুকে দেওয়ার।
প্রত্যেক মানুষের ভিতর জানোয়ার থাকে। কেউ কেউ তাকে অশুভ কাজে ব্যবহার করে ,কেউ কেউ শুভ কাজে। আমরা সকলে জানি রক্ত একমাত্র বেরোয় না খুন হলে ,মারামারি করলে ,, প্রতিবাদ করলেও রক্ত পাত হয়। প্রাণ হানি একমাত্র ঘটে না বন্দুকের বুলেটের আঘাতে ,প্রতিবাদ করলেও প্রাণহানি ঘটে। আজ অবধি মানুষের কোনো প্রতিবাদ রক্ত ছাড়া হয় নি ,ফল যে সবসময় মানুষের পক্ষে গেছে তাও নয় ,তবু মানুষ প্রতিবাদ ভোলে নি। যখনি মানুষের পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে ইতিহাস সাক্ষী মানুষ ফিরে দাঁড়িয়েছে ,প্রতিবাদ করেছে বাঁচবার জন্য । মানুষ নামক ছেলেটি সেই প্রতিবাদের পথ বেছে নিল। সে ঠিক করলো প্রতিবাদ করবে আজকের সরকার বাবুর বিরুদ্ধে। তাকে ঘেরাও করবে ,বড় বড় বোর্ডের ফেস্টুন নিয়ে। তাতে লেখা থাকবে মানছি না ,মানবো না তোমাদের দুর্নীতি ,মানুষের অধিকার আমরা কখনো ছাড়বো না। সে যতই ছুটে আসুক না কেন সরকার বাবুর পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ,বুলেট ,কিছুতেই পিছু হটবে না তারা।
তাদের প্রাপ্য তারা বুঝে ছাড়বে ,তার জন্য মরতে হলে মরবে। এই ভাবনায় মানুষ নামক ছেলেটি অপেক্ষা করছিল পরের দিন সকালের ,নতুন আলোর ,একটা নতুন দিনের।

No comments:
Post a Comment