Thursday, January 28, 2021

কুমুদিনী

 কুমুদিনী 

............. ঋষি 


এক পরিচয় হাজার মানুষ ,বুকের আকাশে মানুষগুলো সব ক্রমাগত স্থবির হয়ে হৃদয়ের আদেশে। আজ আপনি যাকে দেখছেন নিজের আয়নায় ,সে আদৌ আপনি নন ,এমনটা মনে হয় যাদের তাদেরই একজন সুবীর হালদার। নামটা আপনি চেনেন আজকের দিনে ,খুব পরিচিত কারণ এই জামানার একজন ডাকসাইটে রাজনৈতিক নেতা। যার নামে এককালীন গোটা বিশ মার্ডারের চার্জ আছে তবে নেই কোন ধর্ষণের অভিযোগ। আপাতদৃষ্টিতে বেঁটে ,কালো সুবীরবাবু আজও অবিবাহিত ,থাকার মধ্যে এক আধা পাগল বোন সুবর্ণলতা অর্থাৎ সুবীরবাবুর আদুরে সুবর্ণা। শোনা যায় সুবর্ণা  আদৌ সুবীরবাবুর মায়ের পেটের বোন না। 

আজ সকাল থেকে সুবীরবাবুর মনটা ভালো নেই ,গতকাল রাতে আগুন লেগেছে বস্তিপাড়ায় ,সেখানেই থাকে কুমুদিনী সেই বৃদ্ধা ,যাকে সুবীর মা বলে ডাকে।কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি ,অনেকটা পুড়ে গেছে।  বহুবার কুমুদিনীকে সুবীরবাবুঅনুরোধ করেছে সুবীরবাবুর সাথে থাকতে কিন্তু  কুমুদিনীর একই কথা আমি অলক্ষী তোর সাথে থাকবো তোর ক্ষতি হবে ,আমি চাই না এমন বাবা ,তুই আরও বড় হ। কুমুদিনীর সাথে সুবীরবাবুর বাবুর পরিচয় সেইসব দিনে যখন সুবীর পার্টির জন্য লোককে ধমকাতো ,দরকার হলে সরিয়ে দিতো পৃথিবী থেকে। 

                             যার হাত ধরে সুবীরবাবু রাজনীতিরে আসা ,সেই প্রবীরদা  সুবীরকে ডেকে বললেন বস্তিপাড়ার মহিরুলকে একবার রগড়াতে হবে ,শালা বস্তির লোকগুলোকে ওস্কাচ্ছে  যাতে তারা জমি না দেয় ,দরকার হলে সরিয়ে দিস ,বাকিটা আমি বুঝে নেবো। সেই রাতে রাস্তায় সুবীর আর তার লোকজন বোঝাতে চেষ্টা করে মহিরুলকে কিন্তু মহিরুলের এক গো ,শুনলো না। রাতে বোমা মারলো সুবীর উড়ে গেলো মহিরুলের বস্তির ঘরটা ,শুধু বেঁচে গেলো মহিরুলের পালিয়ে নিয়ে আসা বৌটা কুমুদিনী আর সুবর্ণা। পুলিশ এলো কেস সাজালো আগুন লেগে দুর্ঘটনা ,খবরের পাতায় এলো মহিরুল বলে কেউ মারা গেছে বস্তিতে আগুন লেগে। পুলিশের সাথে গেছি সুবীর ,দেখেছিলো মধ্যবয়স্ক কুমুদিনীর কান্না তার মেয়েকে কোলে জড়িয়ে ,কেঁদে উঠেছিল বুক সুবীরের ,সেএ কি করলো ?

                            প্রবীরদা সুন্দর করে সাজিয়ে সেই বস্তির ডেফলপমেন্ট প্ল্যান্ট বড়ো কমিশনের বদলে দিলেন এক কালো প্রোমোটারকে ,সামনে ভোট ছিল ,খুব দরকার ছিল পার্টি ফান্ডের টাকার। কিন্তু সুবীর ভিতর ভিতর দগ্ধ হচ্ছিল ,ছুটে গেছিল সে কুমুদিনীর কাছে ,দোষ স্বীকার করেছিল। কুমুদিনী বলেছিল তোর দোষ নেই রে বাবা ,আমার কপাল পোড়া। সুখের মুখ দেখতে ঘর ছেড়েছিলাম ওর হাত ধরে ,কিন্তু ওই যে ধর্মে সইলো না ,সবার সব পেপার শাস্তি এই পৃথিবীতে পেতে হয়। কিন্তু ভাবনা হলো এই পাগলী মেয়েটাকে নিয়ে ,কে দেখবে ওকে ? কি করে মানুষ করবো ? সেদিন থেকে সুদীপ সুবর্ণার সব দায়িত্ব নিয়েছিল। 

                      সুবীর সেদিন আড্ডা মারছিল বেদিপাড়ার নর্দমার উপর বসে। দেখলো সুবর্ণা কাঁদতে কাঁদতে  ছুটে ছুটে আসছে ,বলছে দাদা দাদা ওরা মাকে মারছে। সুদীপ ছুটে গেছিল দলবল নিয়ে ,দেখলো মিউনিস্যিপালটির বিশাল এক ট্রলার বস্তি ভাঙতে এসেছে ,কুমুদিনী সামনে দাঁড়িয়ে আটকাবার চেষ্টা করছে ,তাই তাকে মারা হচ্ছে। সুবীর রুখে দাঁড়িয়েছিল সেদিন আর সেই রাতেই সে খুন করে প্রবীরদাকে। সামনের ভোটে পার্টি থেকে তাকে দাঁড় করানো হয় ,সুবীর জিতে যায় বস্তিপাড়ার লোকজনের ভোটে। তারপর সে সুবর্ণাকে নিয়ে এসে রাখে বটে নিজের কাছে কিন্তু কুমুদিনী আসে নি। 

                হাসপাতালে যাবার আগে চান করে   আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সুবীর তাকিয়ে ছিল নিজের দিকে ,আধপাকা চুল ওয়ালা মধ্যবয়স্ক লোক। তার চোখে কেমন যেন এক যন্ত্রনা। এই সেই সুবীর হালদার যে সেদিন সুবীর মস্তান। নিজের দিকে তাকিয়ে সুবীর নিজেকে চিনতে পারছিলো না নিজেকে। 

দাদা দাদা ডাক শুনে ফিরে থাকলো সুবীর ,তার আধ পাগল বোনটা কাঁদছে। 

-কি হয়েছে কাঁদছিস কেন সুবর্ণা  ?এগিয়ে গেলো বোনের দিকে সুবীর। 

- মা ,ফোন শুধু এতটুকু বুঝলো 

ছুটে গেলো সে টেলিফোনের দিকে। হ্যালো হ্যালো ,ওপার থেকে তার এক পার্টির ছেলের গলা 

- স্যার কুমুদিনী ম্যাডাম আর নেই।  

 

No comments:

Post a Comment