তরফদার পরিবার বহুদিন অপেকক্ষা ,হাজারো মন্দির ,মসজিদ করার পর তাদের শেষ বয়সে এক ছেলে সন্তান জন্মালো ,স্বভাববত তরফদার পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গেলো। রঞ্জন তরফদারের মা নাতির মুখ দেখে বললেন এই ছেলে সাধারণ না যত্নে মানুষ করি। তারপর নাম নিয়ে সমস্যা কি নাম রাখা যায় রঞ্জনের স্ত্রী বহুদিনকার ইচ্ছা মেয়ে হবে ,তার নাম রাখবেন বৃষ্টি ,হলো ছেলে। এই অবস্থায় বৃদ্ধা মুকুলিকা দেবীর বিধানে ছোট সেই শিশুটির নাম রাখা হলো বৃষ্টিরঞ্জন।
বৃষ্টিরঞ্জন সম্পর্কে তার ঠাকুমার ভবিষ্যৎ দর্শন সত্যি হলো। তরফদার পরিবারে ছেলে তো হলো কিন্তু তাকে ছেলে না বলে জ্যাঠা বলা চলে। যখন বৃষ্টিরঞ্জনের পাঁচ বছর বয়স তখন তার হাবভাব একজন দশ এগারো বছরের সমান। তার প্রশ্নগুলো স্বয়ং রঞ্জন বাবুকে মাঝে মাঝে অপ্রস্তুত ফেলেছে ,ছেলের যখন সাত বছর বয়স সে তার বাবাকে প্রশ্ন করে
আচ্ছা বাবা গরুর যদি সারাবছর প্রায় দুধ দিতে পারে তবে মা পারবে না কেন ? গরুর দুধ আর মায়ের দুধের রং কি একই রকম। রঞ্জন বাবু চমকে যান ছেলের কথা শুনে ,তিনি তার স্ত্রী শীলাকে দেখে বলেন ওগো শুনছো তোমার ছেলে কি প্রশ্ন করছে দেখো। রঞ্জনবাবুর বড় চিন্তা ছিল তখন ছেলে মাঠে যায় না ,খেলে না ,সারাদিন বই পরে আর ছবি আঁকে মানুষের শরীরের। রঞ্জনবাবু খুব চিন্তিত হয়ে বৃষ্টি রঞ্জনকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। বৃষ্টি রঞ্জন সোজা ডাক্তারকে প্রশ্ন করে তুমি তো ডাক্তার ,কিসের ডাক্তার তুমি কাকু ?ডাক্তার সমস্ত চেকাপ শেষে বলেন আপনার ছেলে একটু স্টুডিয়াস ,সবাইকে যে একইরকম হতে হবে তার তো কথা নেই ছেলে ,আপনার ছেলে ব্রিলিয়ান্ট ,ভবিষ্যতে আপনার ছেলের উজ্বল ভবিষ্যৎ।
রঞ্জনবাবু ছেলের চিন্তা করতে করতে বোধহয় নির্দিষ্ট বয়সের আগে মারা গেলেন। রঞ্জন বাবুর কাঠের রপ্তানির কারবার,কোচবিহারে রঞ্জনবাবু বড় ব্যবসায়ী এবং ধনবান বলে খ্যাতি। বাবা মারা গেলো বৃষ্টিরঞ্জন তখন সদ্য কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান অন্যাটোমি নিয়ে সায়েন্সের ডিগ্রি অর্জন করেছে। সে সটান এসে শীলা দেবীকে বলে দিলো আমার দ্বারা ব্যবসা হবে না ,আমাকে আরও পড়তে হবে ,কলকাতায় যাবো। ভিতর ঘর থেকে অসুস্থ মুকুলিকা দেবী চিৎকার করলেন বংশ মর্যাদার আর কিছু রইলো না ,চারপুরুষের ব্যবসা ছেড়ে ছেলে কিনা পড়াশুনা করবে। কিন্তু কি করা ? রঞ্জন কলকাতায় চলে এলো হায়ার স্ট্যাডির জন্য ,তারপর লন্ডন ইউনিভ্যারসিটি থেকে হিউম্যান অন্যাটোমি আর পদার্থ বিদ্যায় ডিগ্রি নিয়ে ফিরে এলো যখন কোচবিহার তখন তার মা আর ঠাকুমা কেউ অবশিষ্ট নেই ,থাকার মধ্যে মাসতুতো এক ভাই নিত্য যে আজকাল তাদের পিতৃক ব্যবসা দেখাশুনা করে।
বৃষ্টিরঞ্জনের বেশ ভালো হলো ,তার কোনো তন্ থাকলো না ,সে নিত্যকে বাড়ির নিচ তলা দিয়ে উপরতলায় খুলে ফেললো তার গবেষণার। এখন তার সঙ্গী বলতে একটা দেশি কুকুর যার নাম রেখেছে বৃষ্টিরঞ্জন ক্যানিস আর যত রাজ্যের বাঁদর ,ইঁদুর ,টিকটিকি ,মানুষের কঙ্কাল,পুরোনো বইপত্র । সকাল বিকেল নিত্যর স্ত্রী অহল্যার খাওয়ার দিয়ে যায় উপরতলায় ,আবার এঁটো বাসন টাসন নিয়ে যায়। বৃষ্টি রঞ্জন নিজের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ,গাছ পাতা সংগ্রহ ছাড়া ,কারোর সঙ্গে মেসে না। পাড়ার লোকেরা বলে রঞ্জনবাবুর ছেলেটা পড়তে পড়তে পাগল হয়ে গেলো। বৃষ্টিরঞ্জন দাঁড়ি কাটে না আজ কতদিন ,হয়তো চানও করে না ,অহল্যা মাঝে মাঝে বলে এমন করে চলবে তোমার ঠাকুরপো ,লোকে যে এবার বেবুন বলবে। বৃষ্টি রঞ্জন হাসে আর বলে বেবুন খারাপ কি সে তো ইতিহাসের মানুষ। অহল্যা কিছু এঁটো বোঝে না ,হা করে চেয়ে থাকে বৃষ্টিরঞ্জনের মুখের দিকে।
আজ কিছুদিন হলো অহল্যা লক্ষ্য করছে বৃষ্টি রঞ্জন খুব মনোযোগ দিয়ে একটা মানুষের মতো দেখতে লোহার শরীরের ভিতর হাজারো তার জুড়ছে ,কি যে করছে কে জানে ? সেইদিন অহল্যা কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলো কি গো এটা ,কি তৈরী করছো গো ? বৃষ্টিরঞ্জন অহল্যার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে তোমরা তো আমার বিয়ে টিয়ে দেবে না তো কি করি নিজের পাত্রী নিজেই তৈরী করছি ,তারপর যোগ করে এর নাম হোমি ,এ হলো একটা অতিআধুনিক মেয়ে রোবট,তুমি যা করতে পারো মেয়ে হিসেবে এটাও তৈরী হয়ে যাবার পর সব কাজ পারবে। অহল্যা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো রান্না করবে ,বাসন মাজবে ? বৃষ্টিরঞ্জন বললো সব পারবে ,এমনকি এ মেয়ে মানুষের মতো জন্ম দিতে পারবে ওর মতো মানুষ । অহল্যা
অবাক হলো রাত্রে নিত্য বাড়ি ফিরলে তাকে বললো বুঝলে ঠাকুরপোর মাথাটা একদম গেছে এবার বিয়ে দেয় ,সে নাকি কি রোবট তৈরী করছে ,বলছে তাকে বিয়ে করবে।
বৃষ্টি রঞ্জন খুব মন দিয়ে এখন হোমির অঙ্গপ্রতঙ্গ তৈরী করছে ,এখন সে নারীর স্তনের গঠন নিয়ে ভাবছে ,ভাবছে তার কর্ম ক্ষমতা। বৃষ্টিরঞ্জন অতি দক্ষতায় হোমির শরীরের মানুষের পঞ্চরীপুর জন্য আলাদা মেমোরি এবং মানুষের মতো ভাবনার জন্য আলাদা অজস্র চিপ তৈরী করেছে। তার এই রোবট আগামী ভবিষ্যতে বিজ্ঞান জগতে একটা বিবর্তন আনবে। তার ইচ্ছে আছে আগামী দিনে সে এমনি পুরুষ রোবট ,জন্তু জানোয়ার সব তৈরী করবে। তার এই রোবট তৈরী করার উদ্দেশ্য আগামী পৃথিবীর জনবসতির চাপ কমানো।মানুষ চাঁদে পা দিয়েছে কিন্তু চাঁদ কতটা মানুষের বাসযোগ্য সেটা মানুষের জানা নেই ,আগামী দিনে তার এই রোবট চাঁদ বা সৌরজগতের অন্য গ্রহতে গিয়ে মানুষের উপযুক্ত বাসযোগ্যতার খোঁজ দেবে,এমনকি এদেরকে দেশের সামরিক বাহিনীতে নিযুক্ত করা যায় ,যাতে আগামী কোনো যুদ্ধে মানুষের রক্ত না ঝরে। মানুষের চিরকাল সমস্ত সমস্যার সমাধান করেছে মেশিন ,বৃষ্টি রঞ্জনের এই রোবট আগামী পৃথিবীতে মানুষকে পৌঁছে দেবে এমন এক স্তরে যখন মানুষ সত্যি অনুভব করবে সে ঈশ্বর। এই নিয়ে বৃষ্টি রঞ্জনেই একটা পেপার জমা পড়েছে জার্মান রোবটিক্স সায়েন্স ,দেশ বিদেশের সায়েন্স ম্যাগাজিনে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে বৃষ্টি রঞ্জনের এই রিসার্চ।
বৃষ্টি রঞ্জনের কাজ প্রায় শেষের দিকে ,হোমি এখন প্রায় তৈরী। সে মেয়েদের মতো সমস্ত ঘরের কাজ করে। বৃষ্টি রঞ্জন তার দোতলায় একটা রান্নাঘর তৈরী করিয়েছে যেখানে হোমি রান্না করে দেশ ,বিদেশের বিভিন্ন পদ। সেদিন বৃষ্টি রঞ্জন নিত্য আর অহল্যাকে খেতে বলেছিল দোতলায় ,অহল্যা এক্সসটিক স্যালাডে মুখ দিয়ে বলেছিল এ মা এগুলো তো গরুছাগলে খায়। বৃষ্টিরঞ্জন প্রশ্ন করে অহল্যাকে কি খাবে বলো ,অহল্যা পাঁঠার মাংস কেহেটে চায় কিন্তু বাড়িতে কাঁচা মাংস ছিল না তবুও বৃষ্টিরঞ্জকে হমিকে বলে যাও না একটু মাংস রান্না করে নিয়ে এসো। হোমি মিনিট পনেরোর মধ্যে মাংস রান্না করে নিয়ে হাসতে হাসতে পরিবেশন করে অহল্যাকে ,অহল্যা মুখে দিয়েই বলে ,তোমার এই বৌ দারুন রান্না করে। বৃষ্টি রঞ্জন বলে বলতো এটা কিসের মাংস ,অহল্যা গোল চোখে তাকায় ? বৃষ্টিরঞ্জন বলে এটা থোর দিয়ে তৈরী ,অবাক হয়ে যায় অহল্যা। অহল্যা বলে তোমার এই মেমসাহেব বৌকে এইবার শাড়ি পড়তে বোলো এমন ধবধবে শরীর নিয়ে হাঁটা চলা করলে আমার স্বামীটাও যে পাগল হবে। তারপর কিছুটা জ্বালায় অহল্যা বৃষ্টি রঞ্জনকে বলে যবে থেকে তোমার হোমি না চুমি রান্না করছে তুমি তো ঠাকুরপো আমার হাতের রান্না খাও না ,আমি ও তো খারাপ রান্না করি না বোলো। আমি তোমার এই বৌয়ের মতো সুন্দরী না জানি তাই বলে আমার দিকে তাকাতে নেই। এই সময় বলে হোমি তার নারীকণ্ঠে বলে আমি তো মেশিন গো দিদি ,তুমি তো মানুষ ,তবু হিংসা করছো আমায়। অহল্যার মুখটা ছোট হয়ে যায় ,অহল্যা বলে নতুন বৌ তার আবার এতো চোপা ,বুঝলে ঠাকুরপো আমার যখন সদ্য বিয়ে হয়েছিল আমিও কখনো এমন কটকট করে বলি নি।
আজ দিনটা একটু অন্যরকম বৃষ্টিরঞ্জন বহু চেষ্টায় ,বহু রিসার্চ করে হোমির শরীরে জেনিটাল পার্টস লাগিয়েছে। বৃষ্টি রঞ্জনের মাথায় একটা অদ্ভুত ভাবনা মানুষের ষড়রিপু নিয়ে। মানুষের কাম , ক্রোধ , লোভ , মোহ , মদ ও মাৎসর্য সবকটির মুখোমুখি মানুষেকে নিত্য হতে হয়। আর যেহেতু হোমি একটা মেয়ে তাই বৃষ্টিরঞ্জনকে সমস্ত প্লট করে ,ছোট ছোট চিপে ইন্সটল করতে হয়েছে হোমির ব্রেইন সিস্টেমে। হোমির শরীরে আসলে ভিতরে রক্তের বদলে আছে অসংখ্য তামার তার যেগুলো হোমির ব্রেইনের ডিভাইস থেকে তৎক্ষণিক পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করার জন্য ডেটা সাপ্লাই করে তার অঙ্গপ্রতঙ্গে। মানুষের মতো হোমি চালিত হয় তার ব্রেইনের মাধ্যমে ,প্রকৃতির সাথে তার সংযুক্তিকরণ মানুষ কিংবা প্রকৃতির রিফ্লেকশনে।
হোমি পারে মানুষকে বুঝতে ,মানুষকে এনালাইসিস করে তার সামনে যে তার চাওয়া পাওয়াগুলো অনুভব করতে। বৃষ্টিরঞ্জন সমস্ত কিছু মানুষের ভাবনা হোমির চিপে ইন্সটল করেছে ,কিন্তু পারে নি অবস্থা বুঝে মানুষ যেমন মিথ্যে বলে হোমি তা পারে না। যেমন ধরুন কোনো অসুস্থ লোককে আমরা দেখতে গেলে বলি আপনি সুস্থ হয়ে যাবে ,সেখানে হোমি তার পর্যবেক্ষণে এনালাইসিস করে বলে দেবে আপনি ঠিক এতদিন বাঁচবেন ,আপনার সুস্থ হবার সম্ভাবনা নেই। যেমন এই মুহূর্ত হোমি বৃষ্টি রঞ্জনকে বলছে
- তুমি ঠিক করে আমার ভ্যাজিনাল সেটাপটা করতে পারলে না ,এতে পুরুষ আমাকে সম্ভোগ করতে পারে কিন্তু আমি তো মা হতে পারবো না।
বৃষ্টিরঞ্জন বললো আমি চেষ্টা করছি হোমি ,ঠিক করে দেবো।
হোমি বললো তুমি একবার আমার সাথে মিলিত হতে পারো ,তবে হয়তো তোমার এই পার্টসটা তুমি আরো ক্লারিফাই করতে পারো।
বৃষ্টিরঞ্জন হাসছিল হোমির কথা শুনে --- সে বললো হোমি তোমাকে তোমার ষড়রিপুর প্রতিটি পরীক্ষা দিতে হবে ,আমি আশা করি তুমি পারবে।
হোমি উত্তরে বললো অন্য সাধারণ মেয়ের মতো তুমি আমাকে তৈরী করেছো ,তোমার জন্য আমি ,তোমাকে আমি খুশি করার যথা সাধ্য চেষ্টা করবো।
.
প্রথম পরীক্ষা (কাম )
কাম বা লাস্য বা লালসা বা লিপ্সা হল শরীরে অনুভূত প্রবল চাহিদা, কামনা ও বাসনার একটি আবেগ বা অনূভূতি। কাম বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে; যেমন: যৌনসঙ্গমের জন্য কাম, জ্ঞানের জন্য কাম, শক্তির জন্য কাম, লক্ষ অর্জনের জন্য কাম ইত্যাদি। তবে যৌনসংগমের বাসনা অর্থেই এটি অধিকহারে ব্যবহৃত হয়।এখন বৃষ্টি রঞ্জনের সমস্যা কাম সম্বন্ধে প্রাক্টিক্যালি কোনো জ্ঞান তার নেই। আজ একত্রিশ বছর বয়সেও বৃষ্টিরঞ্জন কমপ্লিট ভার্জিন। তার কাম সম্বন্ধে জ্ঞান শুধু পুঁথিগত ,সামান্য যা পর্ণ সাইট ঘেঁষে বৃষ্টিরঞ্জনের অভিজ্ঞতায় কাম হলো মানুষের একটি রাক্ষস সৃষ্টির প্রবৃত্তি। হ্যা দুটি পর্যাপ্ত বয়সের মানুষ কামে লিপ্ত হন শুধুমাত্র সন্তান উৎপাদনের জন্য নয় ,নিজেদের স্যাটিসফেকশনের জন্য। কিন্তু স্যাটিসফেকশন লেভেলটা কি সেটা বৃষ্টি রঞ্জন বোঝে না। এই যে নিত্যর বউ অহল্যা প্রায় নিয়ম করে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ তাকে প্রদর্শন করে তার কারণ কি কাম ? আর যদি কাম হয় সে তো অসামাজিক মানে মানুষের ডিকশনারির বাইরে।
আজ রাতে বৃষ্টি রঞ্জন এক্সপেরিমেন্ট করতে চলেছে কাম তার সৃষ্ট রমণীর সাথে। হোমিকে এই বিষয়ে বলায় হোমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়েছে ,হেসেছে তারপর বলেছে যাক মশায়ের সময় হল । অহল্যা এসেছিলো বিকেলের দিকে চা দেওয়ার অছিলায় ,তাকে এই আজকের রাতের এক্সপেরিমেন্টের কথা বলায় সে বৃষ্টিরঞ্জনকে বললো একবার তো তোমার এই এক্সপেরিমেন্ট আমার সাথে করতে পারতে ,তারপর বলেছে জানি আমি তোমার ফর্সা বৌয়ের মতো এতো সুন্দরী না কিন্তু কি জানো ঠাকুরপো মজা পাবে না ওটা তো মেশিন ,মাংস তো নেই। এই কথাটা সেই বিকেল থেকে বৃষ্টিরঞ্জনকে ভাবাচ্ছে ,সত্যি কি হোমি পারবে না।
নিত্যকে প্রায় জোর করে অহল্যা আজ অন্য শহরে পাঠিয়েছে ব্যবসার কাজে বিকেলে। নিত্য লোকটা খারাপ না কিন্তু নিত্যর তো মুরোদ নেই একটা সন্তান দেওয়ার। অহল্যা বহুদিন ধরে অনেক ডাক্তার ,তাবিজ করেও গর্ভবতী হতে পারে নি। সে দেখতে সুন্দরী না হলেও ,গ্রামের মেয়ে তার একটা আলাদা রূপ আছে ,কিন্তু সে রূপ দিয়ে আজ অবধি সে ঠাকুরপোকে গলাতে পারে নি। অহল্যা অনেকবার চেষ্টা করেছে বোঝাবার ঠাকুরপোকে কিন্তু ঠাকুরপো মানুষটা পাগল বৈজ্ঞানিক ,সারাদিন শুধু ওই মেয়েমানুষটাকে পরে আছে ,কি যে আছে ওর শরীরে ,কি যে পাবে ঠাকুরপো ওই মেশিন মানুষটার কাছ থেকে। আজ ঠাকুরপো এক্সপেরিমেট করবে নাকি সেক্স ওই মেশিন মেয়েটার সাথে। অহল্যা সেই দৃশ্য দেখবে বলে ঠাকুরপোর বিছানার ঘরের জানলায় একটা ফুটো করে রেখেছে ,এখন শুধু অপেক্ষা।
রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি অহল্যা বারান্দায় বসে জানলার ফুটোয় চোখ দিয়ে মশা কামড় খাচ্ছে। তখন থেকে বিছানায় বসে ঠাকুরপো কি যে বলছে কে জানে মেয়েটাকে। এইতো মেয়েটা জামাকাপড় খুলছে ,কি সুন্দর শরীর মেয়েটার ,নিজের শরীরে হাত বুলিয়ে একবার দেখে নিলো অহল্যা। এই তো ঠাকুরপো প্রায় নগ্ন ,একি ঠাকুরপোকে জড়িয়ে ধরেছে বেহায়া মেয়েটা ,চুমু খাচ্ছে ওরা। ওই তো শুয়ে আছে ঠাকুরপো ,ওই তো মেয়েটা চড়ে বসেছে ,ঠাকুরপো হাত বাড়িয়ে লাইটটা বন্ধ করে দিলো। কিছু দেখা যাচ্ছে না ,অহল্যা কান পেতে শোনার চেষ্টা করছে ,কোনো শব্দ। একি ঠাকুরপো চিৎকার করছে ,লাগছে হোমি ,লাগছে ,তুমি রেডি নও এখনো সরো সরো,আহ লাগছে তো ,তুমি কি হোমি বাংলা বোঝো না। হোমির গলার স্বর পাওয়া যাচ্ছে হোমি বলছে আমি পারলাম না তোমায় খুশি করতে কিন্তু দোষ তোমার ,তুমি আমাকে তৈরী করতে পারো নি।
বারান্দার দরজা খুলে বৃষ্টিরঞ্জন বেরিয়ে এলো ,দেখলো অন্ধকারে জানলার কাছে অহল্যা বসে ,চাঁদের আলোয় বৃষ্টি রঞ্জন বুঝতে পারছে অহল্যার বডির পার্টসগুলো অনেকটা খোলা। বৃষ্টিরঞ্জন বললো
- একি তুমি এখানে কি করছো ?
অহল্যা প্রায় তাচ্ছিল্লের সঙ্গে বললো মাগীটা পারলো না তো ,আমি জানতাম পারবে না ,বলে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়লো বাঘিনীর মতো বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে।
বৃষ্টি রঞ্জন কিছু বোঝার আগেই অহল্যা চড়ে বসলো বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে ,তারপর বৃষ্টিরঞ্জনের হাতটা নিয়ে বুলিয়ে দিতে থাকলো নিজের সারা শরীরে।
এই সময় হোমি এসে তুলতে চেষ্টা করছিল অহল্যাকে বৃষ্টি রঞ্জনের বুক থেকে ,বৃষ্টি রঞ্জন বললো না এখানে না ,তারপর হোমির দিকে তাকিয়ে বললো তোমাকে যদি পূর্ণাঙ্গতা দিতে হয় এটা আমাকে করতে হবে তুমি আটকিও না প্লিজ। অহল্যা প্রায় চিৎকার করে বললো আজ ছাড়বো না ঠাকুরপো তোমায় আমার একটা বাচ্চা চায় ,তোমার যা চায় তোমার যত এক্সপেরিমেন্ট করে নেও আমার উপর। হোমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলো ,বৃষ্টিরঞ্জন আর অহল্যা এগিয়ে গেলো শোয়ার ঘরের দিকে।
তখন প্রায় পাঁচটা বৃষ্টিরঞ্জন সারারাত জেগে আছে আজ। সে সারারাত ধরে জীবনের প্রথমবার আবিষ্কার করলো নারী তার অন্য নারীর জন্য আর আবিষ্কার করলো নিজেকে জীবনের প্রথমবার পুরুষ হিসেবে। বিছানার উপর ক্লান্ত অহল্যা শুয়ে আছে নগ্ন হয়ে আর বৃষ্টিরঞ্জন খুব পরিমিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে নারী শরীরের দিকে ,সেই দৃষ্টিতে কাম নেই আছে আবিষ্কার। বৃষ্টিরঞ্জনের একজন নারীর দরকার ছিল ,দরকার ছিল অহল্যার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো না হলে সে হোমিকে তৈরী করতে পারবে না সম্পূর্ণ নারী রূপে।
আজ সকালে বৃষ্টি রঞ্জনের ঘুম ভাঙলো পরম তৃপ্তিতে,সে তার এতদিনকার গবেষণার পর হোমির মধ্যে একজন কামার্ত নারীর ভাবনাকে স্থাপন করতে পেরেছে ,করতে পেরেছে হোমিকে কাম শাস্ত্রে পটু। আজকের তারিখে বৃষ্টিরঞ্জন হলফ করে বলতে পারে পৃথিবীকে হোমি কামের জন্য যে কোন রক্তমাংসের মহিলার থেকে বেশি কাঙ্খিত। সকালের প্রথম আলো এসে পড়ছিল হোমির নগ্ন শরীরের উপর ,বড়ো অদ্ভুতভাবে বৃষ্টি রঞ্জন খুঁজে পাচ্ছিল অহল্যার অঙ্গপ্রতঙ্গের মিল হোমির শরীরে। অহল্যার সাথে মিলিত হবার পর বৃষ্টিরঞ্জন হোমির স্কিনের কালারটা একটু চেঞ্জ করে ডার্ক কমপ্লেক্সন করেছে কারণ বৃষ্টি রঞ্জনের মনে হয়েছে ভারতীয় নারীরা একটু ডার্ককমপ্লেকশনে মানায় ভালো। বৃষ্টিরঞ্জন নিজের মধ্যে হেসে উঠলো শেষপর্যন্ত তার আবিষ্কার জিতলো প্রথম রিপু পাশ করে কিন্তু এখনো পাঁচটা বাকি।
দ্বিতীয় পরীক্ষা (ক্রোধ )
তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।বৃষ্টিরঞ্জন একটি বিদেশি আর্টিকেলে পড়েছে মনোচিকিত্সক মাইকেল সি গ্রাহামেরে মতে বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা এবং অনুমানের ক্ষেত্রে ক্রোধকে সংজ্ঞায়িত করেন। উধারণস্বরূপ বলা যায় আপনার নতুন গাড়িতে পিছন দিয়ে অন্য একটি গাড়ি ধাক্কা মারলো তবে নিশ্চয় আপনার রাগ বা ক্রোধ হবে। আসলে ক্রোধ হলো মানুষের বিপরীতে একটা গতি ,এর সাথে অভিমানও জড়িত থাকে কখনো কখনো। অবশ্যই অভিমানঘটিত ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ সর্বদা একটু আদুরে হয়। বৃষ্টি রঞ্জন ভাবছিল ঠিক কোন দিক থেকে ,কিভাবে হোমির এই পরীক্ষাটা নেওয়া যায়।সেই রাতে যখন অহল্যা ছেলে বসেছিল বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে সে হোমি ছুটে এসেছিল অহল্যাকে সরাতে ,কিন্তু সেই সময় হোমির চোখে বৃষ্টিরঞ্জন ক্রোধ পাই নি ,পেয়েছে একটা অভিমান। সেদিন বরং অহল্যা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে তখন অহল্যার মধ্যে একটা ক্রোধ কাজ করছিল বঞ্চিত থাকার জন্য ,তার স্বামী নিত্যের নপুংসক হবার কারণে কিংবা নিজের সময়ের অসহায়তার বিরুদ্ধে।
. গত বেশ কিছুদিন ধরে হোমি আর বৃষ্টিরঞ্জন শারীরিক ভাবে মিলিত হচ্ছে এবং সেই মিলন সুখদায়ক। এই নিয়ে অহল্যা সেদিন বলে গেলো বেশ পীড়িত জমেছে বোলো ওই মেশিনটার সাথে। বৃষ্টিরঞ্জন ঠিক করলো আজ থেকে সে হামির সাথে মিলিত হবে না বরং অভিনয় করবে অহল্যার খুব কাছাকাছি থাকার। সেই উদ্দেশ্যে ইদানিং সে অহল্যাকে যখন তখন ডেকে পাঠায়, অহল্যা পুরো সুযোগের সৎব্যবহার তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।বৃষ্টিরঞ্জন একটি বিদেশি আর্টিকেলে পড়েছে মনোচিকিত্সক মাইকেল সি গ্রাহামেরে মতে বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা এবং অনুমানের ক্ষেত্রে ক্রোধকে সংজ্ঞায়িত করেন। উধারণস্বরূপ বলা যায় আপনার নতুন গাড়িতে পিছন দিয়ে অন্য একটি গাড়ি ধাক্কা মারলো তবে নিশ্চয় আপনার রাগ বা ক্রোধ হবে। আসলে ক্রোধ হলো মানুষের বিপরীতে একটা গতি ,এর সাথে অভিমানও জড়িত থাকে কখনো কখনো। অবকরে। বৃষ্টিরঞ্জন অহল্যাকে বলেছে আসল গূঢ় কারণটা কিন্তু অহল্যা বলে তোমার কাছে যেটা এক্সপেরিমেন্ট আমার কাছে সেটা সুযোগ মা হবার কিংবা নিজেকে সম্পূর্ণ নারী রূপে ফিরে পাওয়ার। হোমি চায় প্রতি রাত্রে বৃষ্টিরঞ্জনের সাথে মিলিত হতে কিন্তু বৃষ্টিরঞ্জন পুরো ব্যাপারটাকে ইচ্ছাকৃত আমল দেয় না। ফলস্বরূপ হোমির মধ্যে রাগের বদলে কেমন একটা অভিমানের জন্ম দেয়।
বৃষ্টিরঞ্জন বুঝতে পারে না কি ভাবে হোমির মধ্যে রাগ নামক রিপুটা আবিষ্কার করা যায়।
এমনি চলতে থাকে বেশ কিছুদিন ,আজ হোমির সম্বন্ধে একটা খবর বেরিয়েছে টোকিওর নিউজ পেপারের পাতায় ,সকাল বেলায় চায়ের টেবিলে হোমি তুলে দিল বৃষ্টিরঞ্জনের হাতে ,বেশ খুশি মুখে। বৃষ্টিরঞ্জন অবাক হলো হোমির মধ্যে কোনোরকম দুঃখ বা বেদনার প্রকাশ নেই ,কোথাও নিজের ভিতর বৃষ্টিরঞ্জন হয়তো কিছুটা দুঃখিত হলো সে বোধহয় অন্যায় করছে হোমির সাথে। এই সময় অহল্যা উঠে এলো সিঁড়ি বেয়ে ,সোজা এসে প্রায় বৃষ্টিরঞ্জনের কোলে বসে গলা জড়িয়ে ধরলো ,বললো তোমার ভাই বাজারে গেছে আমি ভাবলাম আদর করে আমার ঠাকুরপোকে ,তারপর বাজে একটা ইঙ্গিতে জানতে চাইলো দুপুরে হবে তো ,হোমি সব দেখছিল উঠে চলে গেলো ভিতরের ঘরে।
নিত্য কদিন থেকেই অহল্যার মধ্যে একটা অদ্ভুত তফাৎ লক্ষ্য করছে। যে সবসময় খিটখিটে করতো ,সুযোগ পেলেই নিত্যকে জড়িয়ে ধরতো আদর পাওয়ার জন্য সে কেমন জানি গা ছাড়া আজকাল। নিত্যর কোনোবিষয়ে খবর রাখে না ,খেতে দেয় ,রান্না করে ,সব কিছু করে কিন্তু বারংবার কেন জানি ছুটে যায় ওপরে দাদার ঘরে। নিত্য প্রশ্ন করলে বলে এক মানুষ ,ওই তো মেশিনের সঙ্গে থাকে ,কাছের বলতে আমরা ছাড়া কে আছে বোলো। পাড়ার লোকজন আজকাল বলাবলি করছে আজ বহুদিন এই নিয়ে ,নিত্য গা করে না কিন্তু আজকাল খুব সন্দেহ হয় অহল্যাকে।
অহল্যা পরম তৃপ্তিতে শুয়ে আছে বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে। বৃষ্টিরঞ্জন ভাবছে হোমি কি করছে এখন ? অহল্যা এলেই হোমি চলে যায় রান্নাঘরে কিংবা পিছনের বারান্দায়। কেন জানি এই মেশিন মেয়েটার উপর বৃষ্টিরঞ্জনের মায়া পরে যাচ্ছে ,বৃষ্টিরঞ্জন নিজেকে বোঝাতে চেস্ট করে আজকাল ওটা ওর বৌ না একটা এক্সপেরিমেন্ট। এই সময় দুমদাম করে শব্দ পাওয়া গেলো বারান্দা ঘেঁষা সিঁড়িতে ,ভেজানো দরজা ঠেলে ঢুকে এলো ঘরে নিত্য। ঢুকেই বৃষ্টিরঞ্জনকে উদ্দেশ্য করে বললো আমি জানতাম শালা তুমি বৈজ্ঞানিক টৈজ্ঞানিক কিছু নও ,শালা পয়লা মাগিবাজ ,এতই যদি মাগিবাজী করার ইচ্ছা থাকে বিয়ে করো না কেন ? প্রচন্ড রাগে নিত্য বৃষ্টিরঞ্জনকে চেপে ধরলো গলা ,ছিটকে ফেলে দিলো ছাড়াতে আসা অহল্যাকে। ঠিক এই সময় প্রচন্ড রুদ্রমূর্তিতে ছুটে এলো হোমি ,এক হাতে প্রায় ঘাড় ধরে তুলে নিল নিত্যকে ,তারপর বললো কাকে কি বলছো যেন না। হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে বলছিল উনি কতবড় মানুষ তুমি জানো ,উনি এই সব করছেন শুধু আমার জন্য ,আমাকে সম্পূর্ণ করবেন বলে। একইসময় ঘরের কোন থেকে অহল্যা নিজের কাপড় সামলাতে সামলাতে বললো মুরোদ তো নেই ,যদি হয় তবে ওই ঠাকুপরি সন্তান আমার কোল ভরাবে। নিত্য এগিয়ে গেলো অহল্যাকে মারবে বলে ,এই সময় হোমি নিত্যের সামনে মা দুর্গার মতো দাঁড়ালো বললো যদি ওর গায়ে হাত দেও ,হোমির হুঙ্কারে নিত্য পিছু হটে গেলো। ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে অহল্যার উদ্দেশ্যে বললো তুমি যদি যেতে চাও জিনিসপত্র গুছিয়ে নেও এক্ষুনি। অহল্যা এগিয়ে এলো হোমির দিকে তারপর হোমির গাল টিপে বৃষ্টিরঞ্জনকে বললো আমার আর চিন্তা নেই ,তারপর আবার হোমির দিকে তাকিয়ে বললো এই অভাগী দিদির যদি কোন ভুলচুক হয় ক্ষমা করিস বোন। অহল্যা একছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
এতক্ষন যেন একটা চিত্রনাট্য হচ্ছিল আর বৃষ্টি রঞ্জন অবাক হয়ে দেখছিল দর্শকের আসনে। এইবার সম্বিৎ ফেরার পর সে হোমিকে বললো "তাহলে তুমি সব জানতে " ? হোমি ঘাড় নাড়িয়ে বললো জানতাম তো পরীক্ষা চলছে।
বৃষ্টিরঞ্জন বললো তুমি তবে রাগ করলো না কেন।
হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো " আমার জন্য করছিলে তাই বোধহয় "। তারপর বললো তবে কি আমি পাশ করলাম মশাই ?
বৃষ্টিরঞ্জন জড়িয়ে ধরে হোমিকে চুমু খেয়ে বললো ,পাশ তো করলে কিন্তু আরও যে ছাড়তে পরীক্ষা বাকি।
তৃতীয় পরীক্ষা (লোভ )
লোভের যদি সঠিক অর্থ বলতে হয় তা হলো অপরের জিনিস পাবার প্রবল বাসনা, লিপ্সা, বিষয়-তৃষ্ণা।আরো গভীর করে যদি ভাবা হয় তবে তার অর্থ হলো যেটা তোমার না সেটা পাবার বাসনা ,উদাহরণস্বরুপ বলা যেতে পারে ধরুন আপনার বন্ধুর হাতঘড়িটা খুব সুন্দর ,আর আপনার ইছ্চা হলো অমন একটা ঘড়ি কিনতে ,এই যে এই ভাবনাটা মানুষের লোভের পরিচয়। বৃষ্টিরঞ্জন অনবরত ভাবছিল লোভ নিয়ে। অহল্যার মধ্যে যে সন্তান পাবার আকাঙ্খা সেটা কি লোভ ছিল ? হোমি বললো আমি যাচ্ছি গো দোকানে ,তুমি সময় করে খেয়ে নিও ,আমি পাঁচটার আগে চলে আসবো। নিত্য চলে যাবার পর হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের পৈত্রিকব্যবসাটার দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। প্রথম প্রথম বৃষ্টিরঞ্জন আপত্তি করলেও ,পরে মেনে নিয়েছে। হোমির ব্যবহার থেকে কোনোভাবেই প্রকাশ পায় না সে আসলে মানুষ নয় ,মানুষরূপী মেশিন।
আজ কেন জানি বৃষ্টিরঞ্জন বললো হোমিকে আমিও যাবো তোমার সাথে ,দাঁড়াও একটু আমি ফ্রেশ হয়ে নি।
বৃষ্টিরঞ্জন এই প্রথমবার এলো তাদের কাঠ গোডাউনের । গোডাউনের পুরোনো যে ম্যানেজার বৃষ্টিরঞ্জনকে দেখা মাত্র বললো ছোটবাবু আপনি এলেন তবে। আপনার বাবা বলতো আমার ছেলেটা একটু পাগল বটে তবে দেখো সে একদিন ঠিক আমার ব্যবসা সামলাবে ,অবশ্য আপনার স্ত্রী কোনোভাবেই বুঝতে দেন না মালিকের অভাব।বৃষ্টিরঞ্জন গম্ভীর ভাবে একটা চেয়ারে বসে খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করছিল হোমির আলাপ আলোচনা গোডাউনের সকল কর্মচারীর সাথে। এই সময় গোডাউনের ম্যানেজার এক কাপ চা এগিয়ে দিলো বৃষ্টিরঞ্জনের দিকে, তারপর ফিসফিস করে বললো নিত্য বাবু যাওয়ার সময় আপনাদের সম্বন্ধে অনেক বাজে কথা বলেছেন ,উনি বলেন আপনার স্ত্রী আদৌ মানুষ না একটা মেশিন ,বৃষ্টিরঞ্জন ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে বললেন আপনার কি মনে হয়। ম্যানেজার একটু অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিলেন না না তা ঠিক না ,হতেই পারে না ,তবে একটা নালিশ আছে আপনার স্ত্রী সম্বন্ধে,তারপর যোগ করলেন আপনার স্ত্রী আমার মেয়ের মতো কিন্তু কি জানেন আপনার স্ত্রী আজ অবধি এই কাঠগোডাউনে একটুও কিছু খান না ,জল না বললে বলেন ওসব আমার খাবার না।
বৃষ্টিরঞ্জন এখন এক মনে হোমির প্রতিটা মুভমেন্ট ভালো করে লক্ষ্য করছে ,আর মনে মনে ভাবছে হোমির ভিতর কোনো পাঁচন তন্ত্র নেই ,তবে একটা সোলার প্যানেল প্লাস একটা ইলেকট্রিক চার্জ সেকশন আছে ,যা হোমিকে এনার্জি সাপ্লাই করে। এই সময় হঠাৎ একাউন্টস সেকশনে একটা চিৎকার শুনে বৃষ্টিরঞ্জন ছুতে গেলো। ভিতরে হোমি এক্যাউন্টসের ভদ্রলোককে কিছু বলছে ,হোমি বলছে
- কবে থেকে চলছে এই সব ?
- না মানে ,নিত্য স্যারের সময় থেকেই তো এমন চায়ের বরাদ্দ প্রতিদিন দুশো টাকা ,যতটা লাগলো লাগলো বাকিটা আমার পকেটে যায়।
- হোমি চিৎকার করলো আপনার তো সাহস তো কম না ,এর মানে আপনি বোঝেন ,আমি আপনাকে পুলিশে দিতে পারি।
- না ম্যাডাম এমন করবেন না ,বাড়িতে এত বড় সংসার ,তাই লোভ করেছিলাম।
- হোমি বলছে আপনার টাকার দরকার আপনি বলতে পারতেন মাইনে বাড়াতাম ,তাই বলে চুরি।
এই সময় বৃষ্টিরঞ্জন ঢুকে পরে একাউন্টসরুমে ,সোজা হোমিকে প্রশ্ন করে
লোভের মানে কি তুমি বোঝো ?
হোমি বলে লোভ হলো মানুষের ষড়রিপুর অন্যতম ,লোভের কারণে যেমন অনেককিছু ধ্বংস হতে পারে ,তেমন যদি লোভ নিজের সৎ উদ্দেশ্যের প্রতি হয় তবে অনেককিছু সৃষ্টি হয়।
বৃষ্টিরঞ্জন বলে কেমন সেটা
হোমি বলে যেমন ধরো এই ভদ্রলোকের এখন চাকরি চলে যেতে পারে লোভের জন্য কিন্তু অন্যদিকে এই ভদ্রলোক যদি নিজের ভবিষ্যতের প্রতি লোভ করে নিজের পড়াশুনার ডিগ্রি আরো বাড়াতো তবে হয়তো ওনার এমন করে চুরি করার দরকার পড়তো না।
এক্যান্টসের ভদ্রলোক প্রায় হোমির পায়ে হুমকি খেয়ে পরে ,হোমি বলো ওঠো উঠে দাঁড়াও ,আর এমন করো না ,তোমার মাইনে কিছুটা বাড়ানো যায় কিনা দেখছি।
বৃষ্টিরঞ্জন চমকৃত হলো হঠাৎ আনন্দে টাকা বের করে সামনে দাঁড়ানো কর্মচারীকে বললো তোমরা মিষ্টি খেও।
ফিরতি পথে হোমি বৃষ্টিরঞ্জনকে প্রশ্ন করলো সংসার মানে কি ? বৃষ্টিরঞ্জন অবাক হলো বললো এই যে তুমি আর আমি যেটা করছি। তারপর অবাক করে হোমি প্রশ্ন করলো বৃষ্টিরঞ্জনকে মেশিনের সাথে সংসার করা যায়।
বৃষ্টিরঞ্জন অপ্রস্তুত হলো তারপর বললো তুমি তোমার তৃতীয় পরীক্ষাটা পাশ করলে আজ।
চতুর্থ পরীক্ষা (মোহ )
লোভ আর মোহের মধ্যে দুস্তর তফাৎ তেমন কিছু নেই ,তবে গভীর ভাবে ভাবলে লোভের সাথে যদি ঈশ্বর যোগ করা হয় ,যোগফল দাঁড়ায় মোহ।
অনেকেই আছেন মোহকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করেন,অথচ ভালোবাসার শব্দের গভীরে শুয়ে আছে দুটো আত্মা। যে আত্মাগুলো নিজের থেকে ওপরের কথা বেশি ভাবে ,নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়েও যদি কোনো আত্মা অন্য কাউকে ভালো রাখতে চায় সেটা নিশ্চয় ভালোবাসা। কাউকে প্রথম দর্শনে ভালোবাসা কিংবা তার শরীরকে ভালোবাসা এগুলো সব মোহই বটে।
এই সব ভাবছিল বৃষ্টিরঞ্জন আর খুব খুশি হচ্ছিল মনে মনে হোমির দিকে তাকিয়ে। হোমি একমনে রবীন্দ্রসংগীত গাইছে আর রান্না করছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টিরঞ্জন নিজের দৃষ্টি দেখে অবাক হয়ে যায় ,সত্যি সেও বুঝতে পারে না হোমি আদৌ মানুষ না একটি মেশিন রোবট। গতসপ্তাহে জাপান থেকে কিছু ডেলিকেট ঘুরে গেছে ,ঘুরে গেছে ওদের ওখানকার সায়েন্স জার্নালের হেড মিস্টার চিং জো। মিস্টার চিং জো যথেষ্ট অবাক হয়েছেন হোমিকে দেখে,সে অনায়াসে চিং জোর সাথে ওদের ভাষায় কথা শুধু বলে নি ,বৃষ্টিরঞ্জনের হয়ে দোভাষীর কাজটাও করেছে। চিং জো আগামী মাসে সিঙ্গাপুরে হওয়া ওয়াল্ড সাইন্স প্রজেক্টের সেমিনারে বৃষ্টিরঞ্জন আর হমিকে আমন্ত্রণ করেছে।
বৃষ্টি রঞ্জন বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে এই সব কথা ভাবছিল।বাইরে তখন সন্ধ্যা হয়েছে সবে ,এই মাত্র হোমি ফিরলো কাঠের গোডাউন থেকে। ফিরেই ঘরের বৌয়ের মতো জামা কাপড় চেঞ্জ করে রান্নাঘরে চা বানাতে ঢুকেছিল। দু কাপ চা নিয়ে এসে দাঁড়ালো হোমি ,বারান্দায় উল্টোদিকে চেয়ারে বসলো সে। ঠিক সেই সময় পাশের বাড়িতে কোথাও শঙ্খ বেজে উঠলো সন্ধ্যা পুজোর। হোমি প্রশ্ন করলো ওটা শঙ্খের শব্দ না ? কিন্তু বাজছে কেন এখন ?
বৃষ্টিরঞ্জন উত্তর দিল সন্ধ্যের পুজো হচ্ছে ,গৃহস্থের বাড়িতে সকাল সন্ধ্যে মেয়েরা পুজো করে সংসারের মঙ্গলের জন্য।
হোমি বললো পুজো মানে কি ? আর তবে আমি করি না কেন ? এটাও তো একটা সংসার তাই না।
বৃষ্টিরঞ্জন বললো পুজো মানে হলো তুমি যার ওপর ভরসা করো ,তাকে খুশি করার জন্য সকাল ,সন্ধ্যা তার আরাধনা করা।
হোমি বললো আমি তো তোমার ওপরই ভরসা করি ,তবে তোমাকেই অমন সকাল সন্ধ্যে পুজো করতে পারি।
বৃষ্টিরঞ্জন বললো আমি তো মানুষ ,পুজো তো ঈশ্বরের হয়।
হোমির বললো ঈশ্বর কাকে বলে ?
বৃষ্টিরঞ্জন বললো এই যে গোলকটা শাস্ত্রমতে ঈশ্বর তৈরী করেছে তুমি জানো নিশ্চয়। ঈশ্বর হলেন মানুষের একটা ভাবনা বা ভয়,যার প্রকৃত বিজ্ঞানে কোনো জায়গা নেই। মানুষ তার স্বার্থ ,জাত ,বর্ণ এগুলো আলাদা করতে ঈশ্বরকে খুব ভালোভাবে বিভেদ করছে ,করছে হাজারো ঈশ্বর। তারপর বৃষ্টিরঞ্জন যোগ করে ঈশ্বরের কোন মৃত্যু নেই ,নেই জন্ম ,ঈশ্বর অমর। আমি ঈশ্বর হতে পারবো না কারণ আমি মৃত্যুমুখী।
হোমি প্রশ্ন করে আমার তো মৃত্যু নেই ,আমি কি ঈশ্বর ?
বৃষ্টিরঞ্জন হোমির স্তিমিত হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে বললো তুমি ঈশ্বর নও কারণ তুমি মানুষ সৃষ্ট, তোমার আত্মা নেই।তারপর হঠাৎ বৃষ্টিরঞ্জন হোমিকে প্রশ্ন করলো ,আচ্ছা আমি মরে গেলে তুমি কি করবে ?
হোমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে ছলোছলো চোখে বললো তুমি আমার ঈশ্বর ?
তবে তুমি মরে গেলে আমি তোমার ভাবনা নিয়ে বেঁচে থাকবো ,নিজেকে আরো উন্নত করবো মানুষ সভ্যতার স্বার্থে। ভালোবেসে তো সকল মানুষ মারা যায় ,কিন্তু তুমি মরে গেলেও আমার ভালোবাসা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে কারণ আমি এতদিন ধরে তোমার সমস্ত আচার ,আচরণ ,ভাবনা সব আলাদা আলাদা ডিস্কে কপি করছি। তুমি মোর গেলে আমি তোমাকে মরতে দেব না বরং তোমার মতো একটা রোবট তৈরী করে জীবিত রাখবো।
বৃষ্টিরঞ্জন প্রশ্ন করলো কেন ?
উত্তরে হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে ঝাঁপিয়ে পরে বললো তোমাকে ভালোবাসি যে ঈশ্বরের মতো ,তোমার জন্য বাঁচতে পারি আবার মরতেও।
বৃষ্টিরঞ্জন এতক্ষন কথোপকথনে লক্ষ করছিল তার চোখে জল আসা এক্সপেরিমেন্টটা সফল হয়েছে ,সফল হয়েছে আজ হোমি মোহের পরীক্ষায়।
পঞ্চম পরীক্ষা (মদ )
মদ শব্দের অর্থ হলো অহংকার, গর্ব, আত্মগৌরব। মানুষের সাধারণ ভাবে জীবন-যাপন করার মত বিশেষ প্রয়োজনীয় বিষয় বস্তু সমুহ থাকা সত্ত্বেও অতৃপ্ত মন অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী হওয়ায় মনের সে অস্থিরতা, ‘আরও চাই আরও চাই’ ভাব তার নাম মদ রিপু।অন্যভাবে যেকোন মত্ততা সৃষ্টির দ্রব্যকে মদ বলে। এই রিপুটির পরিক্ষার জন্য বৃষ্টি রঞ্জন একটা উপায় আবিষ্কার করছে। সে পাড়ার চায়ের দোকানে খোঁজ করে একজন কাজের মহিলা তৃপ্তিকে নিযুক্ত করেছে। এই নিয়ে হোমি প্রশ্ন করেছিল আমি তো আছি তো আবার তৃপ্তি কেন ? উত্তরে বৃষ্টিরঞ্জন শুধু বলেছিল তুমি তবে আমাকে আরো সময় দিতে পারবে। কিন্তু লক্ষণীয় এটা তৃপ্তি সারাদিনের কাজের লোক হওয়া সত্বেও ,বাড়ির অধিকাংশ কাজ আজও হোমি করে। হোমির অসীম শক্তি হওয়ার কারণে বৃষ্টিরঞ্জন হোমিকে আজ অবধি কখনো ক্লান্ত হতে দেখে নি। বৃষ্টিরঞ্জন রোজ নিয়ম করে যে সুক্ষ অণুবীক্ষণে হোমিকে রেখেছে সেখান থেকে সে ক্রমশ নিশ্চিত একটা মানুষ আর হোমির মধ্যে তফাৎ হোমি নিজের শক্তি রিচার্জ করার জন্য প্রতি রাত্রে নিজেকে চার্জ করে আর মানুষ খাওয়ার খেয়ে সেই শক্তি তৈরী করে। সে দিক থেকে বিচার করলে হোমি মানুষের থেকেও বেশি গ্রহণযোগ্য কারণ তার জীবনে রান্না বান্না ,মলমূত্র ত্যাগ এসবের কোনো জায়গা নেই। এই তো কয়েকদিন হলো বৃষ্টিরঞ্জন হোমির শরীরে সন্তান উৎপাদনের জন্য একটা ক্লিনিক্যাল ডোম ইনস্টল করেছে যেটা অনেকটা আজকে টেস্টটিউব বেবির মতো সন্তান তৈরীতে সক্ষম। এই কারণে আজকাল হোমির সাথে মিলিত হবার জন্য বৃষ্টিরঞ্জনকে কন্ডোম ইউস করতে হয়।
আজ রবিবার বৃষ্টিরঞ্জন তার গবেষণাগারে খুব মনোযোগ দিয়ে তৈরী করার চেষ্টা করছে একটা গাছ,এমন একটা গাছ যা মানুষের সমস্ত রকম সবুজ শস্য মানুষের প্রয়োজন মতো খুব কম সময়ে উৎপাদন করতে পারে। বৃষ্টিরঞ্জনের মাথায় অদ্ভুত একটা ভাবনা তার সাথে কাজ করছে ,গাছ কার্বনডাই অক্সাইড শোষণ করে তার সালোকসংশ্লেষে আর তার পরিবর্তে অক্সিজেন সরবারহ করে কিন্তু তা পৃথিবীর পলিউশান লেভেলকে কমাতে পারে নি। যদি এমন এক বিশেষ শ্রেণীর উদ্ভিত তৈরী করা যায় যা খুব অতিরিক্ত অক্সিজেন সহ ,সমস্ত সবুজ শস্য মানুষের প্রয়োজন মতো উৎপাদন করতে পারে ,তবে পৃথিবীটা বদলাবে ,রোগ কমবে ,মানুষগুলো আর না খেয়ে মরতে হবে না। এই ব্যাপারে তাকে সাহায্য করছে হোমি এটা ,ওটা এগিয়ে দিয়ে। তৃপ্তি ওই ঘরে কাজ করছে ,রান্নাঘরে শব্দ থেকে বোঝা যাচ্ছে তার রান্না প্রায় শেষ। এর মধ্যে একবার সে এই ঘরে হাঁক দিয়ে গেছে টেবিলে যাওয়ার জন্য ,দুপুরের খাবারগুলো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আবার একবার শোনা গেলো গবেষণাগারের দরজার কাছে তৃপ্তির গলা ,খেয়ে নেন দাদাবাবু ,ভাতগুলো যে জল হয়ে যাবে ,আপনিও আসুন গিন্নিমা।
হোমি বৃষ্টিরঞ্জনকে বললো যাও খেয়ে নেও আমি দেখছি। বৃষ্টিরঞ্জন টেবিলে এসে বসলো ,তৃপ্তি বললো গিন্নিমা এলেন নি ?বৃষ্টিরঞ্জন বললো ও কাজ করছে পরে খাবে ,আমাকে খেতে দেও। তৃপ্তি দুটো থালায় ভাত বাড়লো ,ডাল দিলো ,দিলো ভাজা। একটা থালা গুছিয়ে এগিয়ে দিলো বৃষ্টিরঞ্জনের দিকে আর অন্য থালাটা তুলে সে এগিয়ে গেলো গবেষণাগারের দিকে বললো যাই মাকে দিয়ে আসি অবেলায় খেলে শরীর খারাপ করবে। বৃষ্টিরঞ্জন প্রথমে আতংকিত হয়ে বললো ওখানে এতো রাসায়নিক জিনিষ রয়েছে ,নোংরা হবে। তৃপ্তি হাসতে হাসতে বললো
আমাকে কি করতে রেখেছেন বাবু ,নোংরা হোক না আমি পরিষ্কার করবো,বলে সে ঢুকে গেলো গবেষণাগারে।
বৃষ্টিরঞ্জন মনে মনে ভাবছিল যে হোমি কি আর খাবে ভাত ,আর হাসছিল মনে মনে। এই সময় তৃপ্তির চিৎকার শুনে বৃষ্টিরঞ্জন ছুটে গেলো গবেষণাগারে,দেখলো হোমি মাটিতে পরে আছে তার চোখগুলো বন্ধ ভেতর থেকে কেমন পোড়া গন্ধ আসছে। তৃপ্তি বললো গিন্নিমা খাবে না বলেছিল আমি জোর করে ভাত মেখে মায়ের মুখে তুলে দিলাম আর সেই ভাত খেয়েই কেমন হুমড়ি খেয়ে পড়লো। বৃষ্টিরঞ্জন চিৎকার করে উঠলো তুমি বেরিয়ে যায় এক্ষুনি ,কি হলো দাঁড়িয়ে আছো কেন। তৃপ্তি বেড়িয়ে গেলো মাথা নিচু করে।
প্রায় দেড় দিন ধরে বৃষ্টিরঞ্জন হোমির ভিতর জলে যাওয়া তারগুলো রিপ্লেস করে যখন প্রথম হোমি চোখ খুলেই বললো তৃপ্তি কোথায় ?
বৃষ্টিরঞ্জন বললো বের করে দিয়েছি ?
হোমি বললো কেন ?বৃষ্টিরঞ্জনের উত্তর শুনে হোমি বললো ওর কোন দোষ নেই গো,আমি যদি ঐসময় না খেতাম তবে ও দুঃখ পেত।
বৃষ্টিরঞ্জন বাঁকা ঠোঁটে একটু হাসলো বললো তোমার একটুও মনে হলো না কাজের লোকের হাতে খাচ্ছো।
হোমি বললো মানুষ তো ,আর কাজ সে তো মানুষ বাঁচার জন্য করে ,তারপর বললো আমি যখন তোমায় খাইয়ে দি তখন তো তুমি এমন ভাব না,তারপর বললো প্লিজ তুমি তৃপ্তিকে ফিরিয়ে আনো ওর সংসারে কষ্ট তার উপর মেয়েটা একমাস পোয়াতি।
বৃষ্টিরঞ্জন হাসলো মনে মনে।
শেষ রিপু (মাৎসর্য)
মাৎসর্য হচ্ছে ষড় রিপুর শেষ রিপু যার অর্থ হচ্ছে হিংসা। মনের অনেক নিচু বৃত্তি সমূহের মধ্যে হিংসা হচ্ছে সর্ব নিৎকৃষ্ট বৃত্তি। হিংসা আগুনের মত; যা মনে দাউ দাউ করে প্রতিনিয়ত জ্বলতে পারে। হিংসার কারণে মন কখনও শান্তি ও স্বস্তি লাভ করতে পারে না।অন্যের ভাল সহ্য করতে না পারা এবং অতি আপন জনকেও অযথা সন্দেহের চোখে দেখা মাৎসর্য্য রিপুর কাজ। মাৎসর্য্য রিপুর বশবর্তী মানুষ অন্যের ভাল সহ্য করতে না পারার কারণে অপরের দুঃখে আনন্দিত হয় অপরের আনন্দে হিংসা হয় এবং মনেমনে অপরের অনিষ্ট চিন্তা করে, দেহ মন বাক্য দ্বারা কুট-কৌশলে অপরের ক্ষতি সাধন করে। এই সব কথা ভাবছিল বৃষ্টিরঞ্জন সিঙ্গাপুর এয়ারল্যান্সের জানলার পাশে বসে উপর দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে। তারপাশের সিটে বসে আছে সেই যন্ত্র মানবী যার নাম হোমি। বৃষ্টিরঞ্জনের এই সৃষ্টি কালকে দুনিয়ার কাছে সারা ফেলে দেবে সিঙ্গাপুরে হওয়া ওয়াল্ড সাইন্স প্রজেক্টের সেমিনারের পর।
তবে এই ব্যাপারে হোমির কোনো ভুরুক্ষেপ নেই ,সে বরং ব্যস্ত তার এই প্রথম প্লেনে ওঠার আনন্দটাকে উপলব্ধি করাতে।
সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ডটি একটি হীরকাকৃতি দ্বীপ, তবে এর প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ অবস্থিত। এদের মধ্যে পেদ্রা ব্রাংকা নামের দ্বীপটি সিঙ্গাপুর থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের সীমানার অন্তর্গত কয়েক ডজন ক্ষুদ্রাকার দ্বীপের মধ্যে জুরং দ্বীপ, পুলাউ তেকোং, পুলাউ উবিন ও সেন্তোসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বড়।সিঙ্গাপুর দ্বীপের বেশিরভাগ এলাকা সমুদ্র সমতল থেকে ১৫ মিটারের চেয়ে বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয়। সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ বিন্দুটির নাম বুকিত তিমাহ; এটি সমুদ্র সমতল থেকে ১৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গ্র্যানাইট পাথরে নির্মিত একটি শিলা। সিঙ্গাপুরের উত্তর-পশ্চিমে আছে পাললিক শিলা দ্বারা নির্মিত ছোট ছোট টিলা ও উপত্যকা, অন্যদিকে পূর্বভাগ মূলত বালুময় সমতল ভূমি দিয়ে গঠিত। সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক হ্রদ নেই, তবে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।সিঙ্গাপুর প্রশাসন সমুদ্রতলের মাটি, পর্বত ও অন্যান্য দেশ থেকে মাটি সংগ্রহ করে দেশটির স্থলভাগের আয়তন বৃদ্ধি করে চলেছেনসিঙ্গাপুরের ৪টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে। এগুলি হল: ইংরেজি, মালয়, চীনা মান্দারিন এবং তামিল। সাধারন ভাষা হিসেবে এখানে ইংরেজিই প্রচলিত।
সিঙ্গাপুরের সায়েন্সকর্নারের হোটেলের ঘরে এই মুহূর্তে বৃষ্টিরঞ্জন দাঁড়িয়ে সাউথ চায়নার সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে। মিস্টার চিং জোর আমন্ত্রণে তাদের এখানে আসা ,মিস্টার চিং জো নিজে গেছিলেন এয়ারপোর্টে তাদের আনতে। এই কিছুক্ষন হলো উনি হোটেলের রুম থেকে গেলেন। এতক্ষন মিস্টার চিং জো নানা প্রশ্নে হোমিকে ব্যস্ত করে তুলেছিল। হোমি যে বৃষ্টিরঞ্জনের স্ত্রী এই কথা শুনে তিনি কিছুটা আশ্চর্য হয়ে বৃষ্টিরঞ্জনকে প্রশ্ন করেন ইন্ডিয়াতে কোনো মেশিন আর মানুষের বিয়ে করার পারমিশন আছে কিবা। বৃষ্টিরঞ্জন শুধু হেসেছে উত্তর দিতে বলেছে মিঞা বিবি রাজি তো ক্যা করেঙ্গে কাজী। এখন প্রায় রাত আটটা কাল সকার নটার থেকে সেমিনার শুরু ,খাওয়ার এসে গেছে। বৃষ্টিরঞ্জন প্লেন জার্নিতে ক্লান্ত তাই খেয়ে শুয়ে পড়লো সে ,রাত্রে নিয়মমতো হোমি গুডনাইট বলার পর গিয়ে দাঁড়ালো সুইচ বোর্ডের পাশে নিজেকে রিচার্জ করতে।
কাল রাতটা মোটেও ভালো কাটে নি বৃষ্টিরঞ্জনের। কাল রাতে হোটেলে বৃষ্টিরঞ্জনের উপর অতর্কিত একটা হামলা হয় ,হয়তো হোমি না থাকলে আজকের সকালটা দেখা হতো না বৃষ্টিরঞ্জনের কিংবা হতো না আর হোমি তার শ্রেষ্ট একটা আবিষ্কারকে দেখা এই মুহূর্তে সায়েন্সের প্রজেক্টের স্টেজের উপর। কাল রাতে একদল দুষ্কৃতী হামলা করে বৃষ্টিরঞ্জনের রুমে হোমিকে কিডন্যাপ করবে বলে। এমন বুলেট বৃষ্টি কাল রাতের আগে বৃষ্টিরঞ্জন কোনোদিন দেখে নি ,তবে শেষ পর্যন্ত হোমির প্রখর বুদ্ধি আর অসীম শক্তির সামনে দুষ্কৃতীরা সব আজ পুলিশের কাছে আর সবচেয়ে অবাক করার কারণ এই হামলার পিছনে আসল কারণটা হলেন মিস্টার চিং জো। বিশ্বাস করতে পারছিলো না প্রথমে বৃষ্টিরঞ্জন ,কিন্তু হোমি তাকে আশ্বস্ত করে এই আক্রমণের কারণ হলো মাৎসর্য অর্থাৎ হিংসা। বৃষ্টিরঞ্জন হেসেছিল সেই অবস্থায় কারণ হোমি তার সব পরীক্ষায় পাশ করে আজ নিজেকে মানুষ প্রমাণিত করেছিল।
সারা স্টেডিয়ামে বয়ে যাচ্ছিল হাততালি, বৃষ্টিরঞ্জনের আবিষ্কার আজ সারা পৃথিবীর কাছে বিস্ময়। হোমি প্রথমেই তার নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলে সে হলো বৃষ্টিরঞ্জনের সৃষ্টি যান্ত্রিক মহিলা রোবট এবং বৃষ্টিরঞ্জনের স্ত্রী মিসেস হোমি তরফদার। হোমি যত বলছিল নিজের সম্বন্ধে তার থেকে অনেক বেশি বলছিল বৃষ্টিরঞ্জনের সম্বন্ধে ,সে খুব অনায়াসে পৃথিবীর অন্য দেশের সেরা বিজ্ঞনীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল। হাততালিতে বারংবার ভেসে যাচ্ছিল সারা স্টেডিয়াম। একজন রাশিয়ান বৈজ্ঞানিক হোমিকে প্রশ্ন করে " তুমি বলছো তোমার আর কোনো রক্ত মাংসের মেয়ের কোনো তফাৎ নেই ,তবে কি তুমি সঙ্গমে উপযুক্ত এবং সন্তান উৎপাদনে সক্ষম " ? হোমি বৃষ্টিরঞ্জনকে চমকে দিয়ে রাশিয়ান ভাষায় যা বললো তার মর্মার্থ হলো " আমি সঙ্গমে পুরুষকে খুশি করতে অবশ্যই পারি আর এই মুহূর্তে আমার গর্ভে টেস্টটিউব প্রসেসে বেড়ে চলেছে বৃষ্টিরঞ্জনের সন্তান। "
Valo hocche bakitar opekkhay thaklam
ReplyDelete