Saturday, July 11, 2020

প্লিজ ক্ষমা করো

প্লিজ ক্ষমা করো 
... ঋষি 
.
হ্যা ফিরছি আফটার দ্যা ব্রেক ,বলে সোহম ফোনটা কেটে দিলো। কিছু ভালো লাগছে না সোহমের ,মাঝে মাঝে এমন হয় সোহমের। সোহম সরকার এই শহরের আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড়ে খুব সাধারণ ,সাধারণ সোহমের চাওয়াপাওয়া। সংসারে মানুষ বলতে প্রীতি আর সোহম ,এই তো একবছর হলো বিয়ে। সোহম শুনেছে তার বন্ধুদের কাছে  বিয়ের পর প্রথম দুতিন বছর ভীষণ মধুময় হয়। সেই হিসাবে সোহমের জীবনটা এই মুহূর্তে বেশ রোমান্টিক  তবে কি যেন একটা নেই প্রীতির মধ্যে। বাবা মার অমতে বিয়েটা করেছিল  সোহম ,সেই কারণে সোহমের বাবা মার সাথে সম্পর্কটা আজকাল বেশ তুঙ্গে। খুব কম গেছে সোহম এই শেষ দু তিনবছরে কোচবিহার নিজের বাড়িতে ,গেলেও ফিরে এসেছে একদিনেই। প্রীতি প্রথম দিন থেকে সোহমের বাবামাকে পছন্দ করে না ,তাই  বিয়ের পর প্রথমবার ছাড়া কোনোবারই সে যায় নি সোহমের সাথে গ্রামের বাড়িতে। এই  নিয়ে মায়ের কাছে অনেক কথা শুনতে হয় সোহমের ,বাবা কম কথা বললেও ,আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন যে প্রীতির মতো একটা ভুটানি  মেয়েকে  বিয়ে করাটা সোহমের ঠিক হয় নি। হাতের ফোনটা আবার  বেজে উঠলো সোহমের ,সোহম জানে প্রীতি ছাড়া কেউ না ,মোটামুটি আধঘন্টা ইন্টারভেলে সোহমের ফোনটা এমনি বাজে ,অফিসেও এই নিয়ে ঠাট্টা ,ইয়ার্কি শুনতে হয় সোহমকে। বেশ বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুললো সোহম 
- হ্যালো ,বলো 
- কি করছো হ্যানি ,আই মিস ইউ ডার্লিং 
- তোমার কি আজ কোনো কাজ নেই ,আমি তো অফিসে নাকি 
- এমন করে কথা বলছো কেন 
- কাজ আছে।,বাড়ি গিয়ে ডিসকাশন করি 
ফোনটা কেটে দিল সোহম। 
.
                            প্রীতি জানে সোহম খুব ভালো ছেলে ,একটু সেকেলে ,দেশের বাড়ির প্রতি সোহমের একটা আ লাদা টান আছে ওর ,তবে প্রীতিকে ভালোবাসে। প্রীতির বাড়ি ভুটানে ,ও কলকাতায় এসেছিল পড়াশুনা করতে ,তারপর চাকরি। হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া হাজারো মানুষের মতো সোহমের সাথে ওর আলাপ ,তারপর প্রেম। বিয়ে করার পর সোহম আর চাকরিটা করতে দেয় নি। একটা দু কামরার ফ্ল্যাট হলো প্রীতির সংসার। সারাদিন সোহম বেরিয়ে যাওয়ার পর তার কাজ বিশেষ কিছু থাকে না। আর বিয়ের পর মেয়েদের তো স্বামী সব। তাই সময় সুযোগ মতো মন খারাপ হলেই প্রীতির সোহমকে ফোন করে ,সে জানে সোহম বিরক্ত হয় ,তবুও করে। আসলে প্রীতির সোহমের এই রাগটা বেশ ভালো লাগে ,প্রীতি জানে সোহম বেশিক্ষন রাগ করে থাকতে পারে না। 
.
                         আজ বেশ রাত্রি করে সোহম বাড়ি ফিরলো। তার বেশ কিছু দিন ধরে কিছুই  ভালো লাগছে না,দমবন্ধ লাগছে  তাই আজ বহুদিন পর সোহম বাড়ে গেছিল। একটু একটু করতে করতে অনেকটা নেশা করে সে বাড়ি ফিরলো যখন তখন রাত্রি বারোটা। সোহম জানতো প্রীতি জেগে বসে থাকবে তবুও সে পরোয়া করে নি আজ ,প্রীতি ফোন করেছে বেশ কয়েকবার কিন্তু সোহম কেটে দিয়েছে ,তার আজকে প্রীতিকেও খুব বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। সোহম ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি ঘুরিয়ে ঘরে ঢুকলো দেখলো তার ডাইনিং কাম কিচেনের লাগোয়া টেবিলটায় প্রীতি সোহমের অপেক্ষা করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। সোহম ঢোকা মাত্র প্রীতি বললো 
- এতো দেরি ,এতবার ফোন করলাম ধরো নি কেন ?
- ইচ্ছে করে নি। 
- এ কি তুমি মদ খেয়ে এসেছো ? তুমি যে আমাকে খেতে দেও না ,নিজে একা একা গিলে এলে  ?
- তোমাকে কি সবকিছুর কৈফিয়ত দিতে হবে আমাকে ,কখন খাবো ,কখন ঘুমোবো ,কি খাবো ,কখন খাবো। 
প্রীতি এগিয়ে এলো সোহমের দিকে ,সোহমের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে বললো কি হয়েছে তোমার সোনা  ,এমন করে কথা বলছো  কেন  ?
সোহম এক ঝটকায় প্রীতিকে সরিয়ে দিয়ে ,উত্তরে বললো যাও তো আদিখ্যেতা করতে হবে না ,তোমার জন্য আমার সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ,তোমাকে আমার বিয়ে করা উচিত হয় নি 
প্রীতি বেশ অভিমান করে বললো ,এমন করে বলছো কেন ,আমার কষ্ট হচ্ছে সোনাই বলে সোহমের কাছে আসতে চাইলো। 
সোহম হঠাৎ প্রচন্ড রেগে ,প্রীতির চুলের মুঠি ধরে বললো ,তোকে আমার সহ্য হচ্ছে না বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। প্রীতির শরীরটাকে সোহম ছুঁড়ে দিলো দরজার দিকে,তারপর এগিয়ে গেলো বেডরুমের দিকে।   
.
সকাল আটটাতে নিয়ম মাফিক ঘুম ভাঙলো সোহমের ,সে চিৎকার করলো প্রীতি আমি উঠেছি চা দেও। কোনো উত্তর না পেয়ে সোহমের খেয়াল হলো গতকাল রাত্রের ঘটনাগুলো ,চমকে উঠলো সে ,তার দু ঘরের ফ্ল্যাটটা,বারান্দা ,রান্নাঘর ,বাথরুম সব ঘুরে এসে বিছানায় মাথায় হাত দিয়ে বসলো। তার বাড়িতে রান্নাঘর একইরকম গোছানো ,বারান্দায় খাঁচায় চন্দনাটা একইরকম ,সোহমের সামনে সাজার আয়নাটার উপর প্রীতির সাজার জিনিস গোছানো। 
সোহমের কান্না পেলো খুব জোরে ,সে ভাবছিল কি করবে সে ? ফোনটা তুলে নিলো সে ,বুঝতে পারলো না কাকে ফোন করবে। সোহম দরজা খুলে বেরিয়ে এলো খুঁজতে লাগলো তার আপার্টমেন্টের চারপাশে পার্ক ,আশেপাশে প্রতিবেশীর বাড়ি ,এক সময় ক্লান্ত হয়ে সে ফিরে আসলো তার ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে সে দেখলো প্রীতি দুধ জ্বাল দিচ্ছে চা করবে বলে। সোহম ছুটে গেলো প্রীতির কাছে ,তাকে জড়িয়ে সারা কপালে চুমু খেতে খেতে বললো কোথায় গেছিলে তুমি আমায় ছেড়ে ?
প্রীতি বললো দুধ ছিল না তাই সামনের দোকানে ,
সোহম প্রীতিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বসে পড়লো প্রীতির পায়ের কাছে ,
সোহম প্রীতিকে বললো ভুল হয়ে গেছে ,প্লিজ ক্ষমা করো।    

No comments:

Post a Comment