Monday, July 20, 2020

বৃষ্টিরঞ্জন

তরফদার পরিবার বহুদিন অপেকক্ষা ,হাজারো মন্দির ,মসজিদ করার পর তাদের শেষ বয়সে এক  ছেলে সন্তান জন্মালো ,স্বভাববত তরফদার পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে গেলো। রঞ্জন তরফদারের  মা নাতির মুখ দেখে বললেন এই ছেলে সাধারণ না যত্নে মানুষ করি। তারপর নাম নিয়ে সমস্যা কি নাম রাখা যায় রঞ্জনের স্ত্রী বহুদিনকার ইচ্ছা মেয়ে হবে ,তার নাম রাখবেন বৃষ্টি ,হলো ছেলে। এই অবস্থায় বৃদ্ধা মুকুলিকা দেবীর  বিধানে ছোট সেই শিশুটির নাম রাখা হলো বৃষ্টিরঞ্জন। 
                           বৃষ্টিরঞ্জন সম্পর্কে তার ঠাকুমার ভবিষ্যৎ দর্শন সত্যি হলো। তরফদার পরিবারে  ছেলে তো হলো কিন্তু তাকে ছেলে না বলে জ্যাঠা বলা চলে। যখন বৃষ্টিরঞ্জনের পাঁচ বছর বয়স তখন তার হাবভাব একজন দশ এগারো বছরের সমান। তার প্রশ্নগুলো স্বয়ং রঞ্জন বাবুকে মাঝে মাঝে অপ্রস্তুত ফেলেছে  ,ছেলের যখন সাত বছর বয়স সে তার বাবাকে প্রশ্ন করে 
আচ্ছা বাবা গরুর যদি সারাবছর প্রায় দুধ দিতে পারে তবে মা পারবে না কেন ? গরুর দুধ আর মায়ের দুধের রং কি একই রকম। রঞ্জন বাবু চমকে যান ছেলের কথা শুনে ,তিনি তার স্ত্রী শীলাকে দেখে বলেন ওগো শুনছো তোমার ছেলে কি প্রশ্ন করছে দেখো। রঞ্জনবাবুর বড় চিন্তা ছিল তখন ছেলে মাঠে যায় না ,খেলে না ,সারাদিন বই পরে আর ছবি আঁকে মানুষের শরীরের। রঞ্জনবাবু খুব চিন্তিত হয়ে বৃষ্টি রঞ্জনকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। বৃষ্টি রঞ্জন সোজা ডাক্তারকে প্রশ্ন করে তুমি তো ডাক্তার ,কিসের ডাক্তার তুমি কাকু  ?ডাক্তার সমস্ত চেকাপ শেষে বলেন আপনার ছেলে একটু স্টুডিয়াস ,সবাইকে যে একইরকম হতে হবে তার তো কথা নেই ছেলে ,আপনার ছেলে ব্রিলিয়ান্ট ,ভবিষ্যতে আপনার ছেলের উজ্বল ভবিষ্যৎ। 
                                   রঞ্জনবাবু ছেলের চিন্তা করতে করতে বোধহয় নির্দিষ্ট বয়সের আগে মারা গেলেন। রঞ্জন বাবুর কাঠের রপ্তানির কারবার,কোচবিহারে রঞ্জনবাবু বড় ব্যবসায়ী এবং ধনবান বলে খ্যাতি। বাবা মারা গেলো বৃষ্টিরঞ্জন তখন সদ্য কোচবিহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান অন্যাটোমি নিয়ে সায়েন্সের ডিগ্রি অর্জন করেছে।  সে সটান এসে শীলা  দেবীকে বলে দিলো আমার দ্বারা ব্যবসা হবে না ,আমাকে আরও পড়তে হবে ,কলকাতায় যাবো। ভিতর ঘর থেকে অসুস্থ মুকুলিকা দেবী চিৎকার করলেন বংশ মর্যাদার আর কিছু রইলো না ,চারপুরুষের ব্যবসা ছেড়ে ছেলে কিনা পড়াশুনা করবে। কিন্তু কি করা ? রঞ্জন কলকাতায় চলে এলো হায়ার স্ট্যাডির জন্য ,তারপর লন্ডন ইউনিভ্যারসিটি থেকে হিউম্যান অন্যাটোমি আর পদার্থ বিদ্যায় ডিগ্রি নিয়ে ফিরে এলো যখন কোচবিহার  তখন তার মা আর ঠাকুমা কেউ অবশিষ্ট নেই ,থাকার মধ্যে মাসতুতো এক ভাই নিত্য যে আজকাল তাদের পিতৃক ব্যবসা দেখাশুনা করে।  
                                 বৃষ্টিরঞ্জনের বেশ ভালো হলো ,তার কোনো তন্ থাকলো না ,সে নিত্যকে বাড়ির নিচ তলা দিয়ে উপরতলায় খুলে ফেললো তার গবেষণার। এখন তার সঙ্গী বলতে একটা দেশি কুকুর যার নাম রেখেছে বৃষ্টিরঞ্জন  ক্যানিস আর যত রাজ্যের বাঁদর ,ইঁদুর ,টিকটিকি ,মানুষের কঙ্কাল,পুরোনো বইপত্র । সকাল বিকেল নিত্যর স্ত্রী অহল্যার খাওয়ার দিয়ে যায় উপরতলায় ,আবার এঁটো বাসন টাসন নিয়ে যায়। বৃষ্টি রঞ্জন  নিজের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম সংগ্রহ ,গাছ পাতা সংগ্রহ ছাড়া ,কারোর সঙ্গে মেসে না। পাড়ার লোকেরা বলে রঞ্জনবাবুর ছেলেটা পড়তে পড়তে পাগল হয়ে গেলো। বৃষ্টিরঞ্জন দাঁড়ি কাটে  না আজ কতদিন ,হয়তো চানও  করে না ,অহল্যা মাঝে মাঝে বলে এমন করে চলবে তোমার ঠাকুরপো ,লোকে যে এবার বেবুন বলবে। বৃষ্টি রঞ্জন হাসে আর বলে বেবুন খারাপ কি সে তো ইতিহাসের মানুষ। অহল্যা কিছু এঁটো  বোঝে না ,হা করে চেয়ে থাকে বৃষ্টিরঞ্জনের মুখের দিকে। 
                        আজ কিছুদিন হলো অহল্যা লক্ষ্য করছে বৃষ্টি রঞ্জন খুব মনোযোগ দিয়ে একটা মানুষের মতো দেখতে লোহার শরীরের ভিতর হাজারো তার জুড়ছে ,কি যে করছে কে জানে ? সেইদিন অহল্যা কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলো কি গো এটা ,কি তৈরী করছো গো ? বৃষ্টিরঞ্জন অহল্যার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলে তোমরা তো আমার বিয়ে টিয়ে দেবে না তো কি করি নিজের পাত্রী নিজেই তৈরী করছি ,তারপর যোগ করে এর নাম হোমি ,এ হলো একটা অতিআধুনিক মেয়ে রোবট,তুমি যা করতে পারো মেয়ে হিসেবে এটাও তৈরী হয়ে যাবার পর সব কাজ পারবে। অহল্যা অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো রান্না করবে ,বাসন মাজবে ? বৃষ্টিরঞ্জন বললো সব পারবে ,এমনকি এ মেয়ে মানুষের মতো জন্ম দিতে পারবে ওর মতো মানুষ । অহল্যা
অবাক হলো রাত্রে নিত্য বাড়ি ফিরলে তাকে বললো বুঝলে ঠাকুরপোর মাথাটা একদম গেছে এবার বিয়ে দেয় ,সে নাকি কি রোবট তৈরী করছে ,বলছে তাকে বিয়ে করবে। 
   বৃষ্টি রঞ্জন খুব মন দিয়ে এখন  হোমির অঙ্গপ্রতঙ্গ তৈরী করছে ,এখন সে নারীর স্তনের গঠন নিয়ে ভাবছে ,ভাবছে তার কর্ম ক্ষমতা। বৃষ্টিরঞ্জন অতি দক্ষতায় হোমির শরীরের মানুষের পঞ্চরীপুর জন্য আলাদা মেমোরি এবং মানুষের মতো ভাবনার জন্য আলাদা অজস্র চিপ তৈরী করেছে। তার এই রোবট আগামী ভবিষ্যতে বিজ্ঞান জগতে একটা বিবর্তন আনবে। তার ইচ্ছে আছে আগামী দিনে সে এমনি পুরুষ রোবট ,জন্তু জানোয়ার সব তৈরী করবে। তার এই রোবট তৈরী করার উদ্দেশ্য আগামী পৃথিবীর জনবসতির চাপ কমানো।মানুষ চাঁদে পা দিয়েছে কিন্তু চাঁদ কতটা মানুষের বাসযোগ্য সেটা মানুষের জানা নেই ,আগামী দিনে তার এই রোবট চাঁদ বা সৌরজগতের অন্য গ্রহতে গিয়ে মানুষের উপযুক্ত বাসযোগ্যতার খোঁজ দেবে,এমনকি এদেরকে দেশের সামরিক বাহিনীতে নিযুক্ত করা যায় ,যাতে আগামী কোনো যুদ্ধে মানুষের রক্ত না ঝরে। মানুষের চিরকাল সমস্ত সমস্যার সমাধান করেছে মেশিন ,বৃষ্টি রঞ্জনের এই রোবট আগামী পৃথিবীতে মানুষকে পৌঁছে দেবে এমন এক স্তরে যখন মানুষ সত্যি অনুভব করবে সে ঈশ্বর। এই নিয়ে বৃষ্টি রঞ্জনেই  একটা পেপার জমা পড়েছে জার্মান রোবটিক্স সায়েন্স ,দেশ বিদেশের সায়েন্স ম্যাগাজিনে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে  বৃষ্টি রঞ্জনের এই রিসার্চ।
    
                   বৃষ্টি রঞ্জনের কাজ প্রায় শেষের দিকে ,হোমি এখন প্রায় তৈরী। সে মেয়েদের    মতো সমস্ত ঘরের কাজ করে। বৃষ্টি রঞ্জন তার দোতলায় একটা রান্নাঘর তৈরী করিয়েছে যেখানে হোমি রান্না করে দেশ ,বিদেশের বিভিন্ন পদ। সেদিন বৃষ্টি রঞ্জন নিত্য আর অহল্যাকে খেতে বলেছিল দোতলায় ,অহল্যা এক্সসটিক স্যালাডে মুখ দিয়ে বলেছিল এ মা এগুলো তো গরুছাগলে খায়। বৃষ্টিরঞ্জন প্রশ্ন করে অহল্যাকে কি খাবে বলো ,অহল্যা পাঁঠার মাংস কেহেটে চায় কিন্তু বাড়িতে কাঁচা মাংস ছিল না তবুও বৃষ্টিরঞ্জকে হমিকে বলে যাও না একটু মাংস রান্না করে নিয়ে এসো। হোমি মিনিট পনেরোর মধ্যে মাংস রান্না করে নিয়ে হাসতে হাসতে পরিবেশন করে অহল্যাকে ,অহল্যা মুখে দিয়েই বলে ,তোমার এই বৌ দারুন রান্না করে। বৃষ্টি রঞ্জন বলে বলতো এটা কিসের মাংস ,অহল্যা গোল চোখে তাকায় ? বৃষ্টিরঞ্জন বলে এটা থোর দিয়ে তৈরী ,অবাক হয়ে যায় অহল্যা। অহল্যা বলে তোমার এই মেমসাহেব বৌকে এইবার শাড়ি পড়তে বোলো এমন ধবধবে শরীর নিয়ে হাঁটা চলা করলে আমার স্বামীটাও যে পাগল হবে। তারপর কিছুটা জ্বালায় অহল্যা বৃষ্টি রঞ্জনকে বলে যবে থেকে তোমার হোমি না চুমি রান্না করছে তুমি তো ঠাকুরপো আমার হাতের রান্না খাও না ,আমি ও তো খারাপ রান্না করি না বোলো। আমি তোমার এই বৌয়ের মতো সুন্দরী না জানি তাই বলে আমার দিকে তাকাতে নেই।  এই সময় বলে হোমি তার নারীকণ্ঠে বলে আমি তো মেশিন গো দিদি ,তুমি তো মানুষ ,তবু হিংসা করছো আমায়। অহল্যার মুখটা ছোট হয়ে যায় ,অহল্যা বলে নতুন বৌ তার আবার এতো চোপা ,বুঝলে ঠাকুরপো আমার যখন সদ্য বিয়ে হয়েছিল আমিও কখনো এমন কটকট করে বলি নি।    
      আজ দিনটা একটু অন্যরকম বৃষ্টিরঞ্জন বহু চেষ্টায় ,বহু রিসার্চ করে হোমির শরীরে জেনিটাল পার্টস লাগিয়েছে। বৃষ্টি রঞ্জনের মাথায় একটা অদ্ভুত ভাবনা মানুষের ষড়রিপু নিয়ে। মানুষের  কাম , ক্রোধ , লোভ , মোহ , মদ ও মাৎসর্য সবকটির মুখোমুখি মানুষেকে নিত্য হতে হয়। আর যেহেতু হোমি একটা মেয়ে তাই বৃষ্টিরঞ্জনকে সমস্ত প্লট করে  ,ছোট ছোট চিপে ইন্সটল করতে হয়েছে হোমির ব্রেইন সিস্টেমে। হোমির শরীরে আসলে ভিতরে রক্তের বদলে আছে অসংখ্য  তামার  তার যেগুলো হোমির ব্রেইনের ডিভাইস থেকে তৎক্ষণিক পৃথিবীর সাথে সংযুক্ত করার জন্য ডেটা সাপ্লাই করে তার অঙ্গপ্রতঙ্গে। মানুষের মতো হোমি চালিত হয় তার  ব্রেইনের মাধ্যমে ,প্রকৃতির সাথে তার সংযুক্তিকরণ মানুষ কিংবা প্রকৃতির রিফ্লেকশনে। 
হোমি পারে মানুষকে বুঝতে ,মানুষকে এনালাইসিস করে তার সামনে যে তার চাওয়া পাওয়াগুলো অনুভব করতে। বৃষ্টিরঞ্জন সমস্ত কিছু মানুষের ভাবনা হোমির চিপে ইন্সটল করেছে ,কিন্তু পারে নি অবস্থা বুঝে মানুষ যেমন মিথ্যে বলে হোমি তা পারে না। যেমন ধরুন  কোনো অসুস্থ লোককে আমরা দেখতে গেলে বলি আপনি সুস্থ হয়ে যাবে ,সেখানে হোমি তার পর্যবেক্ষণে এনালাইসিস করে বলে দেবে আপনি ঠিক এতদিন বাঁচবেন ,আপনার সুস্থ হবার সম্ভাবনা নেই। যেমন এই মুহূর্ত হোমি বৃষ্টি রঞ্জনকে বলছে
- তুমি ঠিক করে আমার ভ্যাজিনাল সেটাপটা করতে পারলে না ,এতে পুরুষ আমাকে সম্ভোগ করতে পারে কিন্তু আমি তো মা হতে পারবো না।
 বৃষ্টিরঞ্জন বললো আমি চেষ্টা করছি হোমি ,ঠিক করে দেবো। 
হোমি বললো তুমি একবার আমার সাথে মিলিত হতে পারো ,তবে হয়তো তোমার এই পার্টসটা তুমি আরো ক্লারিফাই করতে পারো। 
বৃষ্টিরঞ্জন হাসছিল হোমির কথা শুনে --- সে বললো হোমি তোমাকে তোমার ষড়রিপুর প্রতিটি পরীক্ষা দিতে হবে ,আমি আশা করি তুমি পারবে। 
হোমি উত্তরে বললো অন্য সাধারণ মেয়ের মতো তুমি আমাকে তৈরী করেছো ,তোমার জন্য আমি ,তোমাকে আমি খুশি করার যথা সাধ্য চেষ্টা করবো।
.
প্রথম পরীক্ষা (কাম )

কাম বা লাস্য বা লালসা বা লিপ্সা হল শরীরে অনুভূত প্রবল চাহিদা, কামনা ও বাসনার একটি আবেগ বা অনূভূতি। কাম বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে; যেমন: যৌনসঙ্গমের জন্য কাম, জ্ঞানের জন্য কাম, শক্তির জন্য কাম, লক্ষ অর্জনের জন্য কাম ইত্যাদি। তবে যৌনসংগমের বাসনা অর্থেই এটি অধিকহারে ব্যবহৃত হয়।এখন বৃষ্টি রঞ্জনের সমস্যা কাম সম্বন্ধে প্রাক্টিক্যালি কোনো জ্ঞান তার নেই। আজ একত্রিশ বছর বয়সেও বৃষ্টিরঞ্জন কমপ্লিট ভার্জিন। তার কাম সম্বন্ধে জ্ঞান শুধু পুঁথিগত ,সামান্য যা পর্ণ সাইট ঘেঁষে বৃষ্টিরঞ্জনের অভিজ্ঞতায় কাম হলো মানুষের একটি রাক্ষস সৃষ্টির প্রবৃত্তি। হ্যা দুটি পর্যাপ্ত বয়সের মানুষ কামে লিপ্ত হন শুধুমাত্র সন্তান উৎপাদনের জন্য নয় ,নিজেদের স্যাটিসফেকশনের জন্য। কিন্তু স্যাটিসফেকশন লেভেলটা কি সেটা বৃষ্টি রঞ্জন বোঝে না। এই যে নিত্যর বউ  অহল্যা  প্রায় নিয়ম করে তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতঙ্গ তাকে প্রদর্শন করে তার কারণ কি কাম ? আর যদি কাম হয় সে তো অসামাজিক মানে মানুষের ডিকশনারির বাইরে। 
                          আজ রাতে বৃষ্টি রঞ্জন এক্সপেরিমেন্ট করতে চলেছে কাম তার সৃষ্ট রমণীর সাথে। হোমিকে এই বিষয়ে বলায় হোমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়েছে ,হেসেছে তারপর বলেছে যাক মশায়ের সময় হল । অহল্যা এসেছিলো বিকেলের দিকে চা দেওয়ার অছিলায় ,তাকে এই আজকের রাতের এক্সপেরিমেন্টের কথা বলায় সে বৃষ্টিরঞ্জনকে  বললো একবার তো তোমার এই এক্সপেরিমেন্ট আমার সাথে করতে পারতে ,তারপর বলেছে জানি আমি তোমার ফর্সা বৌয়ের মতো এতো সুন্দরী না কিন্তু কি জানো ঠাকুরপো মজা পাবে না ওটা তো মেশিন ,মাংস তো নেই। এই কথাটা সেই বিকেল থেকে বৃষ্টিরঞ্জনকে ভাবাচ্ছে ,সত্যি কি হোমি পারবে না। 
                                        নিত্যকে প্রায় জোর করে অহল্যা আজ অন্য শহরে পাঠিয়েছে ব্যবসার কাজে বিকেলে।  নিত্য লোকটা খারাপ না কিন্তু নিত্যর তো মুরোদ নেই একটা সন্তান দেওয়ার। অহল্যা বহুদিন ধরে অনেক ডাক্তার ,তাবিজ করেও গর্ভবতী হতে পারে নি।  সে দেখতে সুন্দরী না হলেও ,গ্রামের মেয়ে তার একটা আলাদা রূপ  আছে ,কিন্তু সে রূপ দিয়ে আজ অবধি সে ঠাকুরপোকে গলাতে পারে নি। অহল্যা অনেকবার চেষ্টা করেছে বোঝাবার ঠাকুরপোকে কিন্তু ঠাকুরপো মানুষটা পাগল বৈজ্ঞানিক ,সারাদিন শুধু ওই মেয়েমানুষটাকে পরে আছে ,কি যে আছে ওর শরীরে ,কি যে পাবে ঠাকুরপো ওই মেশিন মানুষটার কাছ থেকে। আজ ঠাকুরপো এক্সপেরিমেট করবে নাকি সেক্স ওই মেশিন মেয়েটার সাথে। অহল্যা সেই দৃশ্য দেখবে বলে ঠাকুরপোর বিছানার ঘরের  জানলায় একটা ফুটো করে রেখেছে ,এখন শুধু অপেক্ষা। 
                            রাত প্রায় বারোটার কাছাকাছি অহল্যা বারান্দায় বসে জানলার  ফুটোয় চোখ  দিয়ে মশা কামড় খাচ্ছে। তখন থেকে বিছানায় বসে ঠাকুরপো কি যে বলছে কে জানে মেয়েটাকে। এইতো মেয়েটা জামাকাপড় খুলছে ,কি সুন্দর শরীর মেয়েটার ,নিজের শরীরে হাত বুলিয়ে একবার দেখে নিলো অহল্যা। এই তো ঠাকুরপো প্রায় নগ্ন ,একি ঠাকুরপোকে জড়িয়ে ধরেছে বেহায়া মেয়েটা ,চুমু খাচ্ছে ওরা। ওই তো শুয়ে আছে ঠাকুরপো ,ওই তো মেয়েটা চড়ে  বসেছে ,ঠাকুরপো হাত বাড়িয়ে লাইটটা বন্ধ করে দিলো। কিছু দেখা যাচ্ছে না ,অহল্যা কান পেতে শোনার চেষ্টা করছে ,কোনো শব্দ। একি ঠাকুরপো চিৎকার করছে ,লাগছে হোমি ,লাগছে ,তুমি রেডি নও এখনো সরো সরো,আহ লাগছে তো ,তুমি কি হোমি বাংলা বোঝো না। হোমির গলার স্বর পাওয়া যাচ্ছে হোমি বলছে আমি পারলাম না তোমায় খুশি করতে কিন্তু দোষ তোমার ,তুমি আমাকে তৈরী করতে পারো নি। 
                    বারান্দার দরজা খুলে বৃষ্টিরঞ্জন বেরিয়ে এলো ,দেখলো অন্ধকারে জানলার কাছে অহল্যা বসে ,চাঁদের আলোয় বৃষ্টি রঞ্জন বুঝতে পারছে অহল্যার বডির পার্টসগুলো অনেকটা খোলা। বৃষ্টিরঞ্জন বললো 
- একি তুমি এখানে কি করছো  ?
অহল্যা প্রায় তাচ্ছিল্লের সঙ্গে বললো মাগীটা পারলো না তো ,আমি জানতাম পারবে না ,বলে প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়লো বাঘিনীর মতো বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে। 
বৃষ্টি রঞ্জন কিছু বোঝার আগেই অহল্যা চড়ে বসলো বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে ,তারপর বৃষ্টিরঞ্জনের হাতটা নিয়ে বুলিয়ে দিতে থাকলো নিজের সারা শরীরে। 
এই সময় হোমি এসে তুলতে  চেষ্টা করছিল অহল্যাকে বৃষ্টি রঞ্জনের বুক থেকে ,বৃষ্টি রঞ্জন বললো না এখানে না ,তারপর হোমির দিকে তাকিয়ে বললো তোমাকে যদি পূর্ণাঙ্গতা দিতে হয় এটা আমাকে করতে হবে তুমি আটকিও না প্লিজ। অহল্যা প্রায় চিৎকার করে বললো আজ ছাড়বো না ঠাকুরপো তোমায় আমার একটা বাচ্চা চায় ,তোমার যা চায় তোমার যত এক্সপেরিমেন্ট করে নেও আমার উপর। হোমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলো ,বৃষ্টিরঞ্জন আর অহল্যা এগিয়ে গেলো শোয়ার ঘরের দিকে। 
                           তখন প্রায় পাঁচটা বৃষ্টিরঞ্জন সারারাত জেগে আছে আজ। সে সারারাত ধরে জীবনের প্রথমবার আবিষ্কার করলো নারী তার অন্য নারীর জন্য আর আবিষ্কার করলো নিজেকে জীবনের প্রথমবার পুরুষ হিসেবে। বিছানার উপর ক্লান্ত অহল্যা শুয়ে আছে নগ্ন হয়ে আর বৃষ্টিরঞ্জন খুব পরিমিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে নারী শরীরের দিকে ,সেই দৃষ্টিতে কাম নেই আছে আবিষ্কার। বৃষ্টিরঞ্জনের একজন নারীর দরকার ছিল ,দরকার ছিল অহল্যার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো না হলে সে হোমিকে  তৈরী করতে পারবে না সম্পূর্ণ নারী রূপে। 
     আজ সকালে বৃষ্টি রঞ্জনের ঘুম ভাঙলো পরম তৃপ্তিতে,সে তার এতদিনকার গবেষণার পর হোমির মধ্যে একজন কামার্ত নারীর ভাবনাকে স্থাপন করতে পেরেছে ,করতে পেরেছে হোমিকে কাম  শাস্ত্রে পটু। আজকের তারিখে বৃষ্টিরঞ্জন হলফ করে বলতে পারে পৃথিবীকে হোমি কামের জন্য যে কোন রক্তমাংসের মহিলার থেকে বেশি কাঙ্খিত। সকালের প্রথম আলো এসে পড়ছিল হোমির নগ্ন শরীরের উপর ,বড়ো অদ্ভুতভাবে বৃষ্টি রঞ্জন খুঁজে পাচ্ছিল অহল্যার অঙ্গপ্রতঙ্গের মিল হোমির শরীরে। অহল্যার  সাথে মিলিত হবার পর বৃষ্টিরঞ্জন হোমির স্কিনের কালারটা একটু চেঞ্জ  করে ডার্ক কমপ্লেক্সন করেছে কারণ বৃষ্টি রঞ্জনের মনে হয়েছে ভারতীয় নারীরা একটু ডার্ককমপ্লেকশনে মানায় ভালো। বৃষ্টিরঞ্জন নিজের মধ্যে হেসে উঠলো শেষপর্যন্ত তার আবিষ্কার জিতলো প্রথম রিপু পাশ করে কিন্তু এখনো পাঁচটা বাকি। 

দ্বিতীয় পরীক্ষা (ক্রোধ )

তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।বৃষ্টিরঞ্জন একটি বিদেশি আর্টিকেলে পড়েছে  মনোচিকিত্সক মাইকেল সি গ্রাহামেরে মতে  বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা এবং অনুমানের ক্ষেত্রে ক্রোধকে সংজ্ঞায়িত করেন।  উধারণস্বরূপ বলা যায় আপনার নতুন গাড়িতে পিছন দিয়ে অন্য একটি গাড়ি ধাক্কা মারলো তবে নিশ্চয় আপনার রাগ বা ক্রোধ হবে। আসলে ক্রোধ হলো মানুষের বিপরীতে একটা গতি ,এর সাথে অভিমানও জড়িত থাকে কখনো কখনো। অবশ্যই অভিমানঘটিত ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ সর্বদা  একটু আদুরে হয়। বৃষ্টি রঞ্জন ভাবছিল ঠিক কোন দিক থেকে ,কিভাবে হোমির এই পরীক্ষাটা নেওয়া যায়।সেই রাতে যখন অহল্যা ছেলে বসেছিল বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে সে হোমি ছুটে  এসেছিল অহল্যাকে সরাতে ,কিন্তু সেই সময় হোমির চোখে বৃষ্টিরঞ্জন ক্রোধ পাই নি ,পেয়েছে একটা অভিমান। সেদিন বরং অহল্যা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে তখন অহল্যার মধ্যে একটা ক্রোধ কাজ করছিল বঞ্চিত থাকার জন্য ,তার স্বামী নিত্যের নপুংসক হবার কারণে কিংবা নিজের সময়ের অসহায়তার বিরুদ্ধে। 
                     . গত  বেশ কিছুদিন ধরে হোমি আর বৃষ্টিরঞ্জন শারীরিক ভাবে মিলিত হচ্ছে  এবং সেই মিলন সুখদায়ক। এই নিয়ে অহল্যা সেদিন বলে গেলো বেশ পীড়িত জমেছে বোলো ওই মেশিনটার সাথে। বৃষ্টিরঞ্জন ঠিক করলো আজ থেকে সে হামির সাথে মিলিত হবে না বরং অভিনয় করবে অহল্যার খুব কাছাকাছি থাকার। সেই উদ্দেশ্যে ইদানিং সে অহল্যাকে যখন তখন ডেকে পাঠায়, অহল্যা পুরো সুযোগের সৎব্যবহার  তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তীব্র অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ কে ক্রোধ বলে। এই আবেগের প্রকাশে মুখভঙ্গী বিকৃত হয়ে যায় এবং অপরের কাছে তা ভীতির সঞ্চার করে। ক্রোধ ষড়ঋপুর মধ্যে অন্যতম।অতিরিক্ত ক্রোধের ফলে বাড়তে পারে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন। হার্টঅ্যাটাক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।বৃষ্টিরঞ্জন একটি বিদেশি আর্টিকেলে পড়েছে  মনোচিকিত্সক মাইকেল সি গ্রাহামেরে মতে  বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের প্রত্যাশা এবং অনুমানের ক্ষেত্রে ক্রোধকে সংজ্ঞায়িত করেন।  উধারণস্বরূপ বলা যায় আপনার নতুন গাড়িতে পিছন দিয়ে অন্য একটি গাড়ি ধাক্কা মারলো তবে নিশ্চয় আপনার রাগ বা ক্রোধ হবে। আসলে ক্রোধ হলো মানুষের বিপরীতে একটা গতি ,এর সাথে অভিমানও জড়িত থাকে কখনো কখনো। অবকরে। বৃষ্টিরঞ্জন অহল্যাকে বলেছে আসল গূঢ় কারণটা কিন্তু অহল্যা বলে তোমার কাছে যেটা এক্সপেরিমেন্ট আমার কাছে সেটা সুযোগ মা হবার কিংবা নিজেকে সম্পূর্ণ নারী রূপে ফিরে পাওয়ার। হোমি চায় প্রতি রাত্রে বৃষ্টিরঞ্জনের সাথে মিলিত হতে কিন্তু বৃষ্টিরঞ্জন পুরো ব্যাপারটাকে ইচ্ছাকৃত আমল দেয় না। ফলস্বরূপ হোমির মধ্যে রাগের বদলে কেমন একটা অভিমানের জন্ম দেয়। 
বৃষ্টিরঞ্জন বুঝতে পারে না কি ভাবে হোমির মধ্যে রাগ নামক রিপুটা আবিষ্কার করা যায়। 
এমনি চলতে থাকে বেশ কিছুদিন ,আজ হোমির সম্বন্ধে একটা খবর বেরিয়েছে টোকিওর নিউজ পেপারের পাতায় ,সকাল বেলায় চায়ের   টেবিলে হোমি তুলে দিল বৃষ্টিরঞ্জনের হাতে ,বেশ খুশি মুখে। বৃষ্টিরঞ্জন অবাক হলো হোমির মধ্যে কোনোরকম দুঃখ বা বেদনার প্রকাশ নেই ,কোথাও নিজের ভিতর বৃষ্টিরঞ্জন হয়তো কিছুটা দুঃখিত হলো সে বোধহয় অন্যায় করছে হোমির সাথে। এই সময় অহল্যা উঠে এলো সিঁড়ি বেয়ে ,সোজা এসে প্রায় বৃষ্টিরঞ্জনের কোলে বসে গলা জড়িয়ে ধরলো ,বললো তোমার ভাই বাজারে গেছে আমি ভাবলাম আদর করে আমার ঠাকুরপোকে ,তারপর বাজে একটা ইঙ্গিতে জানতে  চাইলো দুপুরে হবে তো ,হোমি সব দেখছিল উঠে চলে গেলো ভিতরের ঘরে। 
নিত্য কদিন থেকেই অহল্যার মধ্যে একটা অদ্ভুত তফাৎ লক্ষ্য করছে। যে সবসময় খিটখিটে করতো ,সুযোগ পেলেই নিত্যকে জড়িয়ে ধরতো আদর পাওয়ার জন্য সে কেমন জানি গা ছাড়া আজকাল। নিত্যর কোনোবিষয়ে খবর রাখে না ,খেতে দেয় ,রান্না করে ,সব কিছু করে কিন্তু বারংবার কেন জানি ছুটে যায় ওপরে দাদার ঘরে। নিত্য প্রশ্ন করলে বলে এক মানুষ ,ওই তো মেশিনের সঙ্গে থাকে ,কাছের বলতে আমরা ছাড়া কে আছে বোলো। পাড়ার লোকজন আজকাল বলাবলি করছে আজ বহুদিন এই নিয়ে ,নিত্য গা করে না কিন্তু আজকাল খুব সন্দেহ হয় অহল্যাকে। 

অহল্যা পরম তৃপ্তিতে শুয়ে আছে বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে। বৃষ্টিরঞ্জন ভাবছে হোমি কি করছে এখন ? অহল্যা এলেই হোমি চলে যায় রান্নাঘরে কিংবা পিছনের বারান্দায়। কেন জানি এই মেশিন মেয়েটার উপর বৃষ্টিরঞ্জনের মায়া পরে যাচ্ছে ,বৃষ্টিরঞ্জন নিজেকে বোঝাতে চেস্ট করে আজকাল ওটা ওর বৌ না একটা এক্সপেরিমেন্ট। এই সময় দুমদাম করে শব্দ পাওয়া গেলো বারান্দা ঘেঁষা সিঁড়িতে ,ভেজানো দরজা ঠেলে ঢুকে এলো ঘরে নিত্য। ঢুকেই বৃষ্টিরঞ্জনকে উদ্দেশ্য করে  বললো আমি জানতাম শালা তুমি বৈজ্ঞানিক টৈজ্ঞানিক কিছু নও ,শালা পয়লা মাগিবাজ ,এতই যদি মাগিবাজী করার ইচ্ছা থাকে বিয়ে করো না কেন ? প্রচন্ড রাগে নিত্য বৃষ্টিরঞ্জনকে চেপে ধরলো গলা ,ছিটকে ফেলে দিলো ছাড়াতে আসা অহল্যাকে। ঠিক এই সময় প্রচন্ড রুদ্রমূর্তিতে ছুটে এলো হোমি ,এক হাতে প্রায় ঘাড়  ধরে তুলে নিল নিত্যকে ,তারপর বললো কাকে কি বলছো যেন  না। হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের উদ্দেশ্যে বলছিল  উনি কতবড় মানুষ তুমি জানো ,উনি এই সব করছেন শুধু আমার জন্য ,আমাকে সম্পূর্ণ করবেন বলে। একইসময় ঘরের কোন থেকে অহল্যা নিজের কাপড় সামলাতে সামলাতে বললো মুরোদ তো নেই ,যদি হয় তবে ওই ঠাকুপরি সন্তান আমার কোল ভরাবে। নিত্য এগিয়ে গেলো অহল্যাকে মারবে বলে ,এই সময় হোমি নিত্যের সামনে মা দুর্গার মতো দাঁড়ালো বললো যদি ওর গায়ে হাত দেও ,হোমির হুঙ্কারে নিত্য পিছু হটে গেলো। ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে অহল্যার উদ্দেশ্যে বললো তুমি যদি যেতে চাও জিনিসপত্র গুছিয়ে নেও এক্ষুনি। অহল্যা এগিয়ে এলো হোমির দিকে তারপর হোমির গাল টিপে বৃষ্টিরঞ্জনকে বললো আমার আর চিন্তা নেই ,তারপর আবার হোমির দিকে তাকিয়ে বললো এই অভাগী  দিদির যদি কোন ভুলচুক হয় ক্ষমা করিস বোন। অহল্যা একছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। 
                         এতক্ষন যেন একটা চিত্রনাট্য হচ্ছিল আর বৃষ্টি রঞ্জন অবাক হয়ে দেখছিল দর্শকের আসনে। এইবার সম্বিৎ ফেরার পর সে হোমিকে বললো   "তাহলে তুমি সব জানতে  " ? হোমি ঘাড় নাড়িয়ে বললো জানতাম তো পরীক্ষা চলছে। 
বৃষ্টিরঞ্জন বললো তুমি তবে রাগ করলো না কেন। 
হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো " আমার জন্য করছিলে তাই বোধহয় "। তারপর বললো তবে কি আমি পাশ করলাম মশাই ?
বৃষ্টিরঞ্জন জড়িয়ে ধরে হোমিকে চুমু খেয়ে বললো ,পাশ তো করলে কিন্তু আরও যে ছাড়তে পরীক্ষা বাকি।  

তৃতীয় পরীক্ষা (লোভ )

লোভের যদি সঠিক অর্থ বলতে হয় তা হলো অপরের জিনিস পাবার প্রবল বাসনা, লিপ্সা, বিষয়-তৃষ্ণা।আরো গভীর  করে যদি ভাবা হয় তবে তার অর্থ হলো যেটা তোমার না সেটা পাবার বাসনা ,উদাহরণস্বরুপ বলা যেতে পারে ধরুন আপনার বন্ধুর হাতঘড়িটা খুব সুন্দর ,আর আপনার ইছ্চা হলো অমন একটা ঘড়ি কিনতে ,এই যে এই ভাবনাটা মানুষের লোভের পরিচয়। বৃষ্টিরঞ্জন অনবরত ভাবছিল লোভ নিয়ে। অহল্যার মধ্যে যে সন্তান পাবার আকাঙ্খা সেটা কি লোভ ছিল ? হোমি বললো আমি যাচ্ছি গো দোকানে ,তুমি সময় করে খেয়ে নিও ,আমি পাঁচটার আগে চলে   আসবো। নিত্য চলে যাবার পর হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের পৈত্রিকব্যবসাটার দায়িত্ব ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। প্রথম প্রথম বৃষ্টিরঞ্জন আপত্তি করলেও ,পরে মেনে নিয়েছে। হোমির ব্যবহার থেকে কোনোভাবেই প্রকাশ পায় না সে আসলে মানুষ নয় ,মানুষরূপী মেশিন। 
 আজ কেন জানি বৃষ্টিরঞ্জন বললো হোমিকে আমিও যাবো তোমার সাথে ,দাঁড়াও একটু আমি ফ্রেশ হয়ে নি। 
বৃষ্টিরঞ্জন এই প্রথমবার এলো তাদের কাঠ গোডাউনের । গোডাউনের  পুরোনো  যে ম্যানেজার বৃষ্টিরঞ্জনকে দেখা মাত্র বললো ছোটবাবু আপনি এলেন তবে। আপনার বাবা বলতো আমার ছেলেটা একটু পাগল বটে তবে দেখো সে একদিন ঠিক আমার ব্যবসা সামলাবে ,অবশ্য আপনার স্ত্রী কোনোভাবেই বুঝতে দেন না মালিকের অভাব।বৃষ্টিরঞ্জন গম্ভীর ভাবে একটা চেয়ারে বসে খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করছিল হোমির আলাপ আলোচনা গোডাউনের সকল কর্মচারীর সাথে।  এই সময় গোডাউনের ম্যানেজার  এক কাপ চা এগিয়ে দিলো বৃষ্টিরঞ্জনের দিকে, তারপর ফিসফিস করে বললো নিত্য বাবু যাওয়ার সময় আপনাদের সম্বন্ধে অনেক বাজে কথা বলেছেন ,উনি বলেন আপনার স্ত্রী আদৌ মানুষ না একটা মেশিন ,বৃষ্টিরঞ্জন ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে বললেন আপনার কি মনে হয়। ম্যানেজার একটু  অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিলেন না না তা ঠিক না ,হতেই পারে না ,তবে একটা নালিশ আছে আপনার স্ত্রী সম্বন্ধে,তারপর যোগ করলেন আপনার স্ত্রী আমার মেয়ের মতো কিন্তু কি জানেন আপনার স্ত্রী আজ অবধি এই কাঠগোডাউনে একটুও কিছু খান না ,জল না বললে বলেন ওসব আমার খাবার না। 
  বৃষ্টিরঞ্জন  এখন এক মনে হোমির প্রতিটা মুভমেন্ট ভালো করে লক্ষ্য করছে ,আর মনে মনে ভাবছে হোমির ভিতর কোনো পাঁচন তন্ত্র নেই ,তবে একটা সোলার প্যানেল প্লাস একটা ইলেকট্রিক চার্জ সেকশন আছে ,যা  হোমিকে এনার্জি সাপ্লাই করে। এই সময় হঠাৎ একাউন্টস সেকশনে একটা চিৎকার শুনে বৃষ্টিরঞ্জন ছুতে গেলো। ভিতরে হোমি এক্যাউন্টসের ভদ্রলোককে কিছু বলছে ,হোমি বলছে 
- কবে থেকে চলছে এই সব ?
- না মানে ,নিত্য স্যারের সময় থেকেই তো এমন চায়ের বরাদ্দ প্রতিদিন দুশো  টাকা ,যতটা লাগলো লাগলো বাকিটা আমার পকেটে যায়। 
- হোমি চিৎকার করলো আপনার তো সাহস তো কম না ,এর মানে আপনি বোঝেন ,আমি আপনাকে পুলিশে দিতে পারি। 
- না ম্যাডাম এমন করবেন না ,বাড়িতে এত বড় সংসার ,তাই লোভ করেছিলাম। 
- হোমি বলছে  আপনার টাকার দরকার আপনি বলতে পারতেন মাইনে বাড়াতাম ,তাই বলে চুরি। 
এই সময় বৃষ্টিরঞ্জন ঢুকে পরে একাউন্টসরুমে ,সোজা হোমিকে প্রশ্ন করে 
লোভের মানে কি তুমি বোঝো ?
হোমি বলে লোভ হলো মানুষের ষড়রিপুর অন্যতম ,লোভের কারণে যেমন অনেককিছু ধ্বংস হতে পারে ,তেমন যদি লোভ নিজের সৎ উদ্দেশ্যের প্রতি হয় তবে অনেককিছু সৃষ্টি হয়। 
বৃষ্টিরঞ্জন বলে কেমন সেটা 
হোমি বলে যেমন ধরো এই ভদ্রলোকের  এখন চাকরি চলে যেতে পারে লোভের জন্য কিন্তু অন্যদিকে  এই ভদ্রলোক  যদি নিজের ভবিষ্যতের প্রতি লোভ করে নিজের পড়াশুনার ডিগ্রি আরো বাড়াতো তবে হয়তো ওনার এমন করে চুরি করার দরকার পড়তো না। 
এক্যান্টসের ভদ্রলোক প্রায় হোমির পায়ে হুমকি খেয়ে পরে ,হোমি বলো ওঠো উঠে দাঁড়াও ,আর এমন করো না ,তোমার মাইনে কিছুটা বাড়ানো যায় কিনা দেখছি। 
বৃষ্টিরঞ্জন চমকৃত হলো হঠাৎ আনন্দে টাকা বের করে সামনে দাঁড়ানো কর্মচারীকে বললো তোমরা মিষ্টি খেও। 
ফিরতি পথে হোমি বৃষ্টিরঞ্জনকে প্রশ্ন করলো সংসার মানে কি ? বৃষ্টিরঞ্জন অবাক হলো বললো এই যে তুমি আর আমি যেটা করছি। তারপর অবাক করে হোমি প্রশ্ন করলো বৃষ্টিরঞ্জনকে মেশিনের সাথে সংসার করা যায়। 
বৃষ্টিরঞ্জন অপ্রস্তুত হলো তারপর বললো তুমি তোমার তৃতীয় পরীক্ষাটা পাশ করলে আজ।  

চতুর্থ পরীক্ষা (মোহ )

লোভ আর মোহের মধ্যে দুস্তর তফাৎ তেমন কিছু নেই ,তবে গভীর ভাবে ভাবলে লোভের সাথে যদি ঈশ্বর যোগ করা হয় ,যোগফল দাঁড়ায় মোহ। 
অনেকেই আছেন মোহকে ভালোবাসা ভেবে ভুল করেন,অথচ ভালোবাসার শব্দের গভীরে শুয়ে আছে দুটো আত্মা। যে আত্মাগুলো নিজের থেকে ওপরের কথা বেশি ভাবে ,নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়েও যদি কোনো আত্মা অন্য কাউকে ভালো রাখতে চায় সেটা নিশ্চয় ভালোবাসা। কাউকে প্রথম দর্শনে ভালোবাসা কিংবা তার শরীরকে ভালোবাসা এগুলো সব মোহই বটে। 
এই সব ভাবছিল বৃষ্টিরঞ্জন আর খুব খুশি হচ্ছিল মনে মনে হোমির দিকে তাকিয়ে। হোমি একমনে রবীন্দ্রসংগীত গাইছে আর রান্না করছে। মাঝে মাঝে বৃষ্টিরঞ্জন নিজের দৃষ্টি দেখে অবাক হয়ে যায় ,সত্যি সেও বুঝতে পারে না হোমি আদৌ মানুষ না একটি মেশিন রোবট। গতসপ্তাহে জাপান থেকে কিছু ডেলিকেট ঘুরে গেছে ,ঘুরে গেছে ওদের ওখানকার সায়েন্স জার্নালের হেড মিস্টার চিং জো। মিস্টার চিং জো  যথেষ্ট অবাক হয়েছেন হোমিকে দেখে,সে অনায়াসে চিং জোর সাথে ওদের ভাষায় কথা শুধু বলে নি ,বৃষ্টিরঞ্জনের হয়ে দোভাষীর কাজটাও করেছে। চিং জো আগামী মাসে সিঙ্গাপুরে হওয়া ওয়াল্ড সাইন্স প্রজেক্টের সেমিনারে বৃষ্টিরঞ্জন আর হমিকে আমন্ত্রণ করেছে।
                   বৃষ্টি রঞ্জন বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে  এই সব কথা ভাবছিল।বাইরে তখন সন্ধ্যা হয়েছে সবে ,এই মাত্র হোমি ফিরলো কাঠের গোডাউন থেকে। ফিরেই ঘরের বৌয়ের মতো জামা কাপড় চেঞ্জ করে রান্নাঘরে চা বানাতে ঢুকেছিল।  দু কাপ চা নিয়ে এসে দাঁড়ালো হোমি ,বারান্দায় উল্টোদিকে চেয়ারে বসলো সে। ঠিক সেই সময় পাশের বাড়িতে কোথাও শঙ্খ বেজে উঠলো সন্ধ্যা পুজোর। হোমি প্রশ্ন করলো ওটা শঙ্খের শব্দ না ? কিন্তু বাজছে কেন এখন ?
বৃষ্টিরঞ্জন উত্তর দিল সন্ধ্যের পুজো হচ্ছে  ,গৃহস্থের বাড়িতে সকাল সন্ধ্যে মেয়েরা পুজো করে সংসারের মঙ্গলের জন্য। 
হোমি বললো পুজো মানে কি ? আর তবে আমি করি না কেন ? এটাও তো একটা সংসার তাই না। 
বৃষ্টিরঞ্জন বললো পুজো মানে হলো তুমি যার ওপর ভরসা করো ,তাকে খুশি করার জন্য সকাল ,সন্ধ্যা তার আরাধনা করা। 
হোমি বললো আমি তো তোমার ওপরই ভরসা করি ,তবে তোমাকেই অমন সকাল সন্ধ্যে পুজো করতে পারি। 
বৃষ্টিরঞ্জন বললো আমি তো মানুষ ,পুজো তো ঈশ্বরের হয়। 
হোমির বললো ঈশ্বর কাকে বলে ?
বৃষ্টিরঞ্জন বললো এই যে গোলকটা শাস্ত্রমতে ঈশ্বর তৈরী করেছে তুমি জানো নিশ্চয়। ঈশ্বর হলেন মানুষের একটা ভাবনা বা ভয়,যার প্রকৃত বিজ্ঞানে কোনো জায়গা নেই। মানুষ তার স্বার্থ  ,জাত ,বর্ণ এগুলো আলাদা করতে ঈশ্বরকে খুব ভালোভাবে বিভেদ করছে ,করছে হাজারো ঈশ্বর। তারপর বৃষ্টিরঞ্জন যোগ করে ঈশ্বরের কোন মৃত্যু নেই ,নেই জন্ম ,ঈশ্বর অমর। আমি ঈশ্বর হতে পারবো না কারণ আমি মৃত্যুমুখী। 
হোমি প্রশ্ন করে আমার তো মৃত্যু নেই ,আমি কি ঈশ্বর ?
বৃষ্টিরঞ্জন হোমির স্তিমিত হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে বললো তুমি ঈশ্বর নও কারণ তুমি মানুষ সৃষ্ট, তোমার আত্মা নেই।তারপর হঠাৎ বৃষ্টিরঞ্জন হোমিকে প্রশ্ন করলো ,আচ্ছা আমি মরে গেলে তুমি কি করবে ?
হোমি কিছুক্ষন চুপ করে থেকে ছলোছলো চোখে বললো তুমি আমার ঈশ্বর ?
তবে তুমি মরে গেলে আমি তোমার ভাবনা নিয়ে বেঁচে থাকবো ,নিজেকে আরো উন্নত করবো মানুষ সভ্যতার স্বার্থে। ভালোবেসে তো সকল মানুষ মারা যায় ,কিন্তু তুমি মরে গেলেও আমার ভালোবাসা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখবে কারণ আমি এতদিন ধরে তোমার সমস্ত আচার ,আচরণ ,ভাবনা সব আলাদা আলাদা ডিস্কে কপি করছি। তুমি মোর গেলে আমি তোমাকে মরতে দেব না বরং তোমার মতো একটা রোবট তৈরী করে জীবিত রাখবো। 
বৃষ্টিরঞ্জন প্রশ্ন করলো কেন ?
উত্তরে হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের বুকে ঝাঁপিয়ে পরে বললো তোমাকে ভালোবাসি যে ঈশ্বরের  মতো ,তোমার জন্য বাঁচতে পারি আবার মরতেও। 
বৃষ্টিরঞ্জন এতক্ষন কথোপকথনে লক্ষ করছিল তার চোখে জল আসা এক্সপেরিমেন্টটা সফল হয়েছে ,সফল হয়েছে আজ হোমি মোহের পরীক্ষায়।   

পঞ্চম পরীক্ষা (মদ )

মদ শব্দের অর্থ হলো অহংকার, গর্ব, আত্মগৌরব।  মানুষের সাধারণ ভাবে জীবন-যাপন করার মত বিশেষ প্রয়োজনীয় বিষয় বস্তু সমুহ থাকা সত্ত্বেও অতৃপ্ত মন অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী হওয়ায় মনের সে অস্থিরতা, ‘আরও চাই আরও চাই’ ভাব তার নাম মদ রিপু।অন্যভাবে যেকোন মত্ততা সৃষ্টির দ্রব্যকে মদ বলে। এই রিপুটির পরিক্ষার জন্য বৃষ্টি রঞ্জন একটা উপায় আবিষ্কার করছে। সে পাড়ার চায়ের দোকানে খোঁজ করে একজন কাজের মহিলা তৃপ্তিকে নিযুক্ত করেছে। এই নিয়ে হোমি প্রশ্ন করেছিল আমি তো আছি তো আবার তৃপ্তি কেন ? উত্তরে বৃষ্টিরঞ্জন শুধু বলেছিল তুমি তবে আমাকে আরো সময় দিতে পারবে। কিন্তু লক্ষণীয় এটা তৃপ্তি সারাদিনের কাজের লোক হওয়া সত্বেও ,বাড়ির অধিকাংশ কাজ আজও হোমি করে। হোমির অসীম শক্তি হওয়ার কারণে বৃষ্টিরঞ্জন হোমিকে আজ অবধি কখনো ক্লান্ত হতে দেখে নি। বৃষ্টিরঞ্জন রোজ নিয়ম করে যে সুক্ষ অণুবীক্ষণে হোমিকে রেখেছে সেখান থেকে সে ক্রমশ নিশ্চিত একটা মানুষ আর হোমির মধ্যে তফাৎ হোমি নিজের শক্তি রিচার্জ করার জন্য প্রতি রাত্রে নিজেকে চার্জ করে আর মানুষ খাওয়ার খেয়ে সেই শক্তি তৈরী করে। সে দিক থেকে বিচার করলে হোমি মানুষের থেকেও বেশি গ্রহণযোগ্য কারণ তার জীবনে রান্না বান্না ,মলমূত্র ত্যাগ এসবের কোনো জায়গা নেই। এই তো কয়েকদিন হলো বৃষ্টিরঞ্জন হোমির শরীরে সন্তান উৎপাদনের জন্য একটা ক্লিনিক্যাল ডোম ইনস্টল করেছে যেটা অনেকটা আজকে টেস্টটিউব বেবির মতো সন্তান তৈরীতে সক্ষম। এই কারণে আজকাল হোমির সাথে মিলিত হবার জন্য বৃষ্টিরঞ্জনকে কন্ডোম ইউস করতে হয়। 
         আজ রবিবার বৃষ্টিরঞ্জন তার গবেষণাগারে খুব মনোযোগ দিয়ে তৈরী করার চেষ্টা করছে একটা গাছ,এমন একটা গাছ যা মানুষের সমস্ত রকম সবুজ শস্য  মানুষের প্রয়োজন মতো খুব কম সময়ে উৎপাদন করতে পারে। বৃষ্টিরঞ্জনের মাথায় অদ্ভুত একটা ভাবনা তার সাথে কাজ করছে ,গাছ কার্বনডাই অক্সাইড শোষণ করে তার সালোকসংশ্লেষে আর তার পরিবর্তে অক্সিজেন সরবারহ করে কিন্তু তা পৃথিবীর পলিউশান লেভেলকে কমাতে পারে নি। যদি এমন এক বিশেষ শ্রেণীর উদ্ভিত তৈরী করা যায় যা খুব অতিরিক্ত অক্সিজেন সহ ,সমস্ত সবুজ শস্য মানুষের প্রয়োজন মতো উৎপাদন করতে পারে ,তবে পৃথিবীটা বদলাবে ,রোগ কমবে ,মানুষগুলো আর না খেয়ে মরতে হবে না। এই ব্যাপারে তাকে সাহায্য করছে হোমি এটা ,ওটা এগিয়ে দিয়ে। তৃপ্তি ওই ঘরে কাজ করছে ,রান্নাঘরে শব্দ থেকে বোঝা যাচ্ছে তার রান্না প্রায় শেষ। এর মধ্যে একবার সে এই ঘরে হাঁক দিয়ে গেছে টেবিলে যাওয়ার জন্য ,দুপুরের খাবারগুলো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আবার একবার শোনা গেলো গবেষণাগারের দরজার কাছে তৃপ্তির গলা ,খেয়ে নেন দাদাবাবু ,ভাতগুলো যে জল হয়ে যাবে ,আপনিও আসুন গিন্নিমা। 
                                   হোমি বৃষ্টিরঞ্জনকে বললো যাও খেয়ে নেও আমি দেখছি। বৃষ্টিরঞ্জন টেবিলে এসে বসলো ,তৃপ্তি বললো গিন্নিমা এলেন নি ?বৃষ্টিরঞ্জন বললো ও কাজ করছে পরে খাবে ,আমাকে খেতে দেও। তৃপ্তি দুটো থালায় ভাত বাড়লো ,ডাল দিলো ,দিলো ভাজা। একটা থালা গুছিয়ে এগিয়ে দিলো বৃষ্টিরঞ্জনের দিকে আর অন্য থালাটা তুলে সে এগিয়ে গেলো গবেষণাগারের দিকে বললো যাই মাকে দিয়ে আসি অবেলায় খেলে শরীর খারাপ করবে। বৃষ্টিরঞ্জন প্রথমে আতংকিত হয়ে বললো ওখানে এতো রাসায়নিক জিনিষ রয়েছে ,নোংরা হবে। তৃপ্তি হাসতে হাসতে বললো 
আমাকে কি করতে রেখেছেন বাবু ,নোংরা হোক না আমি পরিষ্কার করবো,বলে সে ঢুকে গেলো গবেষণাগারে। 
     বৃষ্টিরঞ্জন মনে মনে ভাবছিল যে হোমি কি আর খাবে ভাত ,আর হাসছিল মনে মনে। এই সময় তৃপ্তির চিৎকার শুনে বৃষ্টিরঞ্জন ছুটে গেলো গবেষণাগারে,দেখলো হোমি মাটিতে পরে আছে তার চোখগুলো বন্ধ ভেতর থেকে কেমন পোড়া গন্ধ আসছে। তৃপ্তি বললো গিন্নিমা খাবে না বলেছিল আমি জোর করে ভাত মেখে মায়ের মুখে তুলে দিলাম আর সেই ভাত খেয়েই কেমন হুমড়ি খেয়ে পড়লো। বৃষ্টিরঞ্জন চিৎকার করে উঠলো তুমি বেরিয়ে যায় এক্ষুনি ,কি হলো দাঁড়িয়ে আছো কেন। তৃপ্তি বেড়িয়ে গেলো মাথা নিচু করে। 
                                 প্রায় দেড় দিন ধরে বৃষ্টিরঞ্জন হোমির ভিতর জলে যাওয়া তারগুলো রিপ্লেস করে যখন প্রথম হোমি চোখ খুলেই বললো তৃপ্তি কোথায় ?
বৃষ্টিরঞ্জন বললো বের করে দিয়েছি ?
হোমি বললো কেন ?বৃষ্টিরঞ্জনের উত্তর শুনে হোমি বললো ওর কোন দোষ নেই গো,আমি যদি ঐসময় না খেতাম তবে ও দুঃখ পেত। 
বৃষ্টিরঞ্জন বাঁকা ঠোঁটে একটু হাসলো বললো তোমার একটুও মনে হলো না কাজের লোকের হাতে খাচ্ছো। 
হোমি বললো মানুষ তো ,আর কাজ সে তো মানুষ বাঁচার জন্য করে ,তারপর বললো আমি যখন তোমায় খাইয়ে দি তখন তো তুমি এমন ভাব না,তারপর বললো প্লিজ তুমি তৃপ্তিকে ফিরিয়ে আনো ওর সংসারে কষ্ট তার উপর মেয়েটা একমাস পোয়াতি। 
বৃষ্টিরঞ্জন হাসলো মনে মনে। 

শেষ রিপু (মাৎসর্য)

মাৎসর্য হচ্ছে ষড় রিপুর শেষ রিপু যার অর্থ হচ্ছে হিংসা।  মনের অনেক নিচু বৃত্তি সমূহের মধ্যে হিংসা হচ্ছে সর্ব নিৎকৃষ্ট বৃত্তি। হিংসা আগুনের মত; যা মনে দাউ দাউ করে প্রতিনিয়ত জ্বলতে পারে। হিংসার কারণে মন কখনও শান্তি ও স্বস্তি লাভ করতে পারে না।অন্যের ভাল সহ্য করতে না পারা এবং অতি আপন জনকেও অযথা সন্দেহের চোখে দেখা মাৎসর্য্য রিপুর কাজ। মাৎসর্য্য রিপুর বশবর্তী মানুষ অন্যের ভাল সহ্য করতে না পারার কারণে অপরের দুঃখে আনন্দিত হয় অপরের আনন্দে হিংসা হয় এবং মনেমনে অপরের অনিষ্ট চিন্তা করে, দেহ মন বাক্য দ্বারা কুট-কৌশলে অপরের ক্ষতি সাধন করে। এই সব কথা ভাবছিল বৃষ্টিরঞ্জন সিঙ্গাপুর এয়ারল্যান্সের জানলার পাশে বসে উপর দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে। তারপাশের সিটে বসে আছে সেই যন্ত্র মানবী যার নাম হোমি।  বৃষ্টিরঞ্জনের এই সৃষ্টি কালকে দুনিয়ার কাছে সারা ফেলে দেবে  সিঙ্গাপুরে হওয়া ওয়াল্ড সাইন্স প্রজেক্টের সেমিনারের পর। 
তবে এই ব্যাপারে হোমির কোনো ভুরুক্ষেপ নেই ,সে বরং ব্যস্ত তার এই প্রথম প্লেনে ওঠার আনন্দটাকে উপলব্ধি করাতে। 
           সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটি মালয় উপদ্বীপের নিকটে অবস্থিত।  সিঙ্গাপুরের মূল ভূখণ্ডটি একটি হীরকাকৃতি দ্বীপ, তবে এর প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে আরও বেশ কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ অবস্থিত। এদের মধ্যে পেদ্রা ব্রাংকা নামের দ্বীপটি সিঙ্গাপুর থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্বে অবস্থিত। সিঙ্গাপুরের সীমানার অন্তর্গত কয়েক ডজন ক্ষুদ্রাকার দ্বীপের মধ্যে জুরং দ্বীপ, পুলাউ তেকোং, পুলাউ উবিন ও সেন্তোসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বড়।সিঙ্গাপুর দ্বীপের বেশিরভাগ এলাকা সমুদ্র সমতল থেকে ১৫ মিটারের চেয়ে বেশি উঁচুতে অবস্থিত নয়। সিঙ্গাপুরের সর্বোচ্চ বিন্দুটির নাম বুকিত তিমাহ; এটি সমুদ্র সমতল থেকে ১৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গ্র্যানাইট পাথরে নির্মিত একটি শিলা। সিঙ্গাপুরের উত্তর-পশ্চিমে আছে পাললিক শিলা দ্বারা নির্মিত ছোট ছোট টিলা ও উপত্যকা, অন্যদিকে পূর্বভাগ মূলত বালুময় সমতল ভূমি দিয়ে গঠিত। সিঙ্গাপুরে কোন প্রাকৃতিক হ্রদ নেই, তবে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে।সিঙ্গাপুর প্রশাসন সমুদ্রতলের মাটি, পর্বত ও অন্যান্য দেশ থেকে মাটি সংগ্রহ করে দেশটির স্থলভাগের আয়তন বৃদ্ধি করে চলেছেনসিঙ্গাপুরের ৪টি দাপ্তরিক ভাষা রয়েছে। এগুলি হল: ইংরেজি, মালয়, চীনা মান্দারিন এবং তামিল। সাধারন ভাষা হিসেবে এখানে ইংরেজিই প্রচলিত। 
                             সিঙ্গাপুরের সায়েন্সকর্নারের  হোটেলের ঘরে  এই মুহূর্তে  বৃষ্টিরঞ্জন দাঁড়িয়ে সাউথ চায়নার সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে। মিস্টার চিং জোর আমন্ত্রণে তাদের এখানে আসা ,মিস্টার চিং জো নিজে গেছিলেন এয়ারপোর্টে তাদের আনতে। এই কিছুক্ষন হলো উনি হোটেলের রুম থেকে গেলেন। এতক্ষন মিস্টার চিং জো নানা প্রশ্নে হোমিকে ব্যস্ত করে তুলেছিল। হোমি যে বৃষ্টিরঞ্জনের স্ত্রী এই কথা শুনে তিনি কিছুটা আশ্চর্য হয়ে বৃষ্টিরঞ্জনকে প্রশ্ন করেন ইন্ডিয়াতে কোনো মেশিন আর মানুষের বিয়ে করার পারমিশন আছে কিবা। বৃষ্টিরঞ্জন শুধু হেসেছে উত্তর দিতে বলেছে মিঞা বিবি রাজি তো ক্যা করেঙ্গে কাজী। এখন প্রায় রাত  আটটা কাল সকার নটার থেকে সেমিনার শুরু ,খাওয়ার এসে গেছে। বৃষ্টিরঞ্জন প্লেন জার্নিতে ক্লান্ত তাই খেয়ে শুয়ে পড়লো সে ,রাত্রে নিয়মমতো হোমি গুডনাইট বলার পর গিয়ে দাঁড়ালো সুইচ বোর্ডের পাশে নিজেকে রিচার্জ করতে। 
                           কাল রাতটা মোটেও ভালো কাটে নি বৃষ্টিরঞ্জনের। কাল রাতে হোটেলে বৃষ্টিরঞ্জনের উপর অতর্কিত একটা হামলা হয় ,হয়তো হোমি না থাকলে আজকের  সকালটা দেখা হতো না বৃষ্টিরঞ্জনের কিংবা হতো না আর হোমি তার শ্রেষ্ট একটা আবিষ্কারকে দেখা এই মুহূর্তে  সায়েন্সের প্রজেক্টের স্টেজের উপর। কাল রাতে একদল দুষ্কৃতী হামলা করে বৃষ্টিরঞ্জনের রুমে হোমিকে কিডন্যাপ করবে বলে। এমন বুলেট বৃষ্টি কাল রাতের আগে বৃষ্টিরঞ্জন কোনোদিন দেখে নি ,তবে শেষ পর্যন্ত হোমির প্রখর বুদ্ধি আর অসীম শক্তির সামনে দুষ্কৃতীরা সব আজ পুলিশের কাছে আর সবচেয়ে অবাক করার কারণ এই হামলার পিছনে আসল কারণটা হলেন মিস্টার চিং জো। বিশ্বাস করতে পারছিলো না প্রথমে বৃষ্টিরঞ্জন ,কিন্তু হোমি তাকে আশ্বস্ত করে এই আক্রমণের কারণ হলো মাৎসর্য অর্থাৎ হিংসা। বৃষ্টিরঞ্জন হেসেছিল সেই অবস্থায় কারণ হোমি তার সব পরীক্ষায় পাশ করে আজ নিজেকে মানুষ প্রমাণিত করেছিল। 
                     সারা স্টেডিয়ামে বয়ে যাচ্ছিল হাততালি, বৃষ্টিরঞ্জনের আবিষ্কার আজ সারা পৃথিবীর কাছে বিস্ময়। হোমি প্রথমেই তার নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে বলে সে হলো বৃষ্টিরঞ্জনের সৃষ্টি যান্ত্রিক মহিলা রোবট এবং বৃষ্টিরঞ্জনের স্ত্রী মিসেস হোমি তরফদার। হোমি যত বলছিল নিজের সম্বন্ধে তার থেকে অনেক বেশি বলছিল বৃষ্টিরঞ্জনের সম্বন্ধে ,সে খুব অনায়াসে পৃথিবীর অন্য দেশের সেরা বিজ্ঞনীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিল। হাততালিতে বারংবার ভেসে যাচ্ছিল সারা স্টেডিয়াম। একজন রাশিয়ান বৈজ্ঞানিক হোমিকে প্রশ্ন করে " তুমি বলছো তোমার আর কোনো রক্ত মাংসের মেয়ের কোনো তফাৎ নেই ,তবে কি তুমি সঙ্গমে উপযুক্ত এবং সন্তান উৎপাদনে সক্ষম " ? হোমি বৃষ্টিরঞ্জনকে চমকে দিয়ে রাশিয়ান ভাষায় যা বললো তার মর্মার্থ হলো " আমি সঙ্গমে  পুরুষকে খুশি করতে অবশ্যই পারি আর এই মুহূর্তে আমার গর্ভে টেস্টটিউব প্রসেসে বেড়ে চলেছে বৃষ্টিরঞ্জনের সন্তান। "
                                             
 

Saturday, July 11, 2020

প্লিজ ক্ষমা করো

প্লিজ ক্ষমা করো 
... ঋষি 
.
হ্যা ফিরছি আফটার দ্যা ব্রেক ,বলে সোহম ফোনটা কেটে দিলো। কিছু ভালো লাগছে না সোহমের ,মাঝে মাঝে এমন হয় সোহমের। সোহম সরকার এই শহরের আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত মানুষের ভিড়ে খুব সাধারণ ,সাধারণ সোহমের চাওয়াপাওয়া। সংসারে মানুষ বলতে প্রীতি আর সোহম ,এই তো একবছর হলো বিয়ে। সোহম শুনেছে তার বন্ধুদের কাছে  বিয়ের পর প্রথম দুতিন বছর ভীষণ মধুময় হয়। সেই হিসাবে সোহমের জীবনটা এই মুহূর্তে বেশ রোমান্টিক  তবে কি যেন একটা নেই প্রীতির মধ্যে। বাবা মার অমতে বিয়েটা করেছিল  সোহম ,সেই কারণে সোহমের বাবা মার সাথে সম্পর্কটা আজকাল বেশ তুঙ্গে। খুব কম গেছে সোহম এই শেষ দু তিনবছরে কোচবিহার নিজের বাড়িতে ,গেলেও ফিরে এসেছে একদিনেই। প্রীতি প্রথম দিন থেকে সোহমের বাবামাকে পছন্দ করে না ,তাই  বিয়ের পর প্রথমবার ছাড়া কোনোবারই সে যায় নি সোহমের সাথে গ্রামের বাড়িতে। এই  নিয়ে মায়ের কাছে অনেক কথা শুনতে হয় সোহমের ,বাবা কম কথা বললেও ,আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন যে প্রীতির মতো একটা ভুটানি  মেয়েকে  বিয়ে করাটা সোহমের ঠিক হয় নি। হাতের ফোনটা আবার  বেজে উঠলো সোহমের ,সোহম জানে প্রীতি ছাড়া কেউ না ,মোটামুটি আধঘন্টা ইন্টারভেলে সোহমের ফোনটা এমনি বাজে ,অফিসেও এই নিয়ে ঠাট্টা ,ইয়ার্কি শুনতে হয় সোহমকে। বেশ বিরক্ত হয়ে ফোনটা তুললো সোহম 
- হ্যালো ,বলো 
- কি করছো হ্যানি ,আই মিস ইউ ডার্লিং 
- তোমার কি আজ কোনো কাজ নেই ,আমি তো অফিসে নাকি 
- এমন করে কথা বলছো কেন 
- কাজ আছে।,বাড়ি গিয়ে ডিসকাশন করি 
ফোনটা কেটে দিল সোহম। 
.
                            প্রীতি জানে সোহম খুব ভালো ছেলে ,একটু সেকেলে ,দেশের বাড়ির প্রতি সোহমের একটা আ লাদা টান আছে ওর ,তবে প্রীতিকে ভালোবাসে। প্রীতির বাড়ি ভুটানে ,ও কলকাতায় এসেছিল পড়াশুনা করতে ,তারপর চাকরি। হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়া হাজারো মানুষের মতো সোহমের সাথে ওর আলাপ ,তারপর প্রেম। বিয়ে করার পর সোহম আর চাকরিটা করতে দেয় নি। একটা দু কামরার ফ্ল্যাট হলো প্রীতির সংসার। সারাদিন সোহম বেরিয়ে যাওয়ার পর তার কাজ বিশেষ কিছু থাকে না। আর বিয়ের পর মেয়েদের তো স্বামী সব। তাই সময় সুযোগ মতো মন খারাপ হলেই প্রীতির সোহমকে ফোন করে ,সে জানে সোহম বিরক্ত হয় ,তবুও করে। আসলে প্রীতির সোহমের এই রাগটা বেশ ভালো লাগে ,প্রীতি জানে সোহম বেশিক্ষন রাগ করে থাকতে পারে না। 
.
                         আজ বেশ রাত্রি করে সোহম বাড়ি ফিরলো। তার বেশ কিছু দিন ধরে কিছুই  ভালো লাগছে না,দমবন্ধ লাগছে  তাই আজ বহুদিন পর সোহম বাড়ে গেছিল। একটু একটু করতে করতে অনেকটা নেশা করে সে বাড়ি ফিরলো যখন তখন রাত্রি বারোটা। সোহম জানতো প্রীতি জেগে বসে থাকবে তবুও সে পরোয়া করে নি আজ ,প্রীতি ফোন করেছে বেশ কয়েকবার কিন্তু সোহম কেটে দিয়েছে ,তার আজকে প্রীতিকেও খুব বিরক্তিকর মনে হচ্ছে। সোহম ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবি ঘুরিয়ে ঘরে ঢুকলো দেখলো তার ডাইনিং কাম কিচেনের লাগোয়া টেবিলটায় প্রীতি সোহমের অপেক্ষা করতে করতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। সোহম ঢোকা মাত্র প্রীতি বললো 
- এতো দেরি ,এতবার ফোন করলাম ধরো নি কেন ?
- ইচ্ছে করে নি। 
- এ কি তুমি মদ খেয়ে এসেছো ? তুমি যে আমাকে খেতে দেও না ,নিজে একা একা গিলে এলে  ?
- তোমাকে কি সবকিছুর কৈফিয়ত দিতে হবে আমাকে ,কখন খাবো ,কখন ঘুমোবো ,কি খাবো ,কখন খাবো। 
প্রীতি এগিয়ে এলো সোহমের দিকে ,সোহমের মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে বললো কি হয়েছে তোমার সোনা  ,এমন করে কথা বলছো  কেন  ?
সোহম এক ঝটকায় প্রীতিকে সরিয়ে দিয়ে ,উত্তরে বললো যাও তো আদিখ্যেতা করতে হবে না ,তোমার জন্য আমার সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ,তোমাকে আমার বিয়ে করা উচিত হয় নি 
প্রীতি বেশ অভিমান করে বললো ,এমন করে বলছো কেন ,আমার কষ্ট হচ্ছে সোনাই বলে সোহমের কাছে আসতে চাইলো। 
সোহম হঠাৎ প্রচন্ড রেগে ,প্রীতির চুলের মুঠি ধরে বললো ,তোকে আমার সহ্য হচ্ছে না বেরিয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। প্রীতির শরীরটাকে সোহম ছুঁড়ে দিলো দরজার দিকে,তারপর এগিয়ে গেলো বেডরুমের দিকে।   
.
সকাল আটটাতে নিয়ম মাফিক ঘুম ভাঙলো সোহমের ,সে চিৎকার করলো প্রীতি আমি উঠেছি চা দেও। কোনো উত্তর না পেয়ে সোহমের খেয়াল হলো গতকাল রাত্রের ঘটনাগুলো ,চমকে উঠলো সে ,তার দু ঘরের ফ্ল্যাটটা,বারান্দা ,রান্নাঘর ,বাথরুম সব ঘুরে এসে বিছানায় মাথায় হাত দিয়ে বসলো। তার বাড়িতে রান্নাঘর একইরকম গোছানো ,বারান্দায় খাঁচায় চন্দনাটা একইরকম ,সোহমের সামনে সাজার আয়নাটার উপর প্রীতির সাজার জিনিস গোছানো। 
সোহমের কান্না পেলো খুব জোরে ,সে ভাবছিল কি করবে সে ? ফোনটা তুলে নিলো সে ,বুঝতে পারলো না কাকে ফোন করবে। সোহম দরজা খুলে বেরিয়ে এলো খুঁজতে লাগলো তার আপার্টমেন্টের চারপাশে পার্ক ,আশেপাশে প্রতিবেশীর বাড়ি ,এক সময় ক্লান্ত হয়ে সে ফিরে আসলো তার ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে সে দেখলো প্রীতি দুধ জ্বাল দিচ্ছে চা করবে বলে। সোহম ছুটে গেলো প্রীতির কাছে ,তাকে জড়িয়ে সারা কপালে চুমু খেতে খেতে বললো কোথায় গেছিলে তুমি আমায় ছেড়ে ?
প্রীতি বললো দুধ ছিল না তাই সামনের দোকানে ,
সোহম প্রীতিকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বসে পড়লো প্রীতির পায়ের কাছে ,
সোহম প্রীতিকে বললো ভুল হয়ে গেছে ,প্লিজ ক্ষমা করো।    

Tuesday, July 7, 2020

মেঘে ঢাকা মানুষ

মেঘে ঢাকা মানুষ

….. ঋষি 

হ্যালো ,হ্যা ভালো আছি ,হ্যা আমার ফিরতে আরো দুদিন। তুমি কেমন আছো ? তিতির ঘুম থেকে উঠেছে ?  মিস্টার মিত্ৰ ফোনটা রাখলেন। অনিমেষ মিত্র

একটি বড় রিয়েলষ্টেট কোম্পানির পদে আছেন ,তার কাজ সারা ভারতবর্ষ ঘুরে বিভিন্ন হোটেল কিংবা রিসোর্টের জন্য জমি দেখা। এইবার সেই উদ্দেশ্যে অনিমেষ  এসেছে মুন্সিয়ারি ,সমতল থেকে এই জায়গাটা প্রায় ২৪০০ মিটার উপরে,মুন্সিয়ারিকে কুমায়ুন পাহড়ের রানি বললে অত্যুক্তি হবে না।তার সাথে উপল বলে একজন অফিসে নতুন জয়েন্ট করা ছেলে এসেছে। এই জায়গাটা আসার পর অনিমেষের এই  প্রথম বার মনে হচ্ছে সে ঈশ্বরের কাছাকছি আছে। চারপাশে এতো নিস্তব্ধ ,এই পরিষ্কার আকাশ ,ঠান্ডাটা কলকাতার লোকেদের জন্য মারাত্নক রকম বেশি হলেও অনিমেষের বেশ ভালো লাগছে। অফিস থেকে থাকার জন্য সামনেই একটা ছোট বাংলো বুক করে দেওয়া হয়েছে অনিমেষ আর উপলের জন্য। রাতে সেই বাংলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাহাড়ের এই পৃথিবীটাকে মনে হয় আকাশের জ্বলতে থাকা তারা গুলোর খুব কাছে।

 .

অনিমেষ আর উপলের হোটেলে আলাদা ঘর থাকা সত্বেও অনিমেষের জোড়াজুড়িতে উপল অনিমেষের ঘরেই আছে। আসলে কি এই নিস্তব্ধ জায়গায় একলা থাকাটা অনিমেষের জন্য খুব মারাত্নক ,যত সব একলা চিন্তাগুলো চেপে ধরে ,যেগুলো থেকে অনিমেষ চিরকাল পালাচ্ছে।অনিমেষের কতগুলো বিচ্ছিরি স্বভাবের মধ্যে একটা হলো সে অতিরিক্ত সিগারেট খায় এবং ড্রিংক করে কিন্তু উপলের আবার সিগারেট আর মদ্য পান দুটোতেই অরুচি। অনিমিষে রাম ঘেঁষা বারান্দা থেকে এসে  তার তিন নম্বর পেগ্টা বানাতে বানাতে দেখলো উপম ফোনটা নিয়ে কাকে যেন বারংবার ট্রাই করছে,একটু টেনস্ট মনে হলো তাকে ।

.

অনিমেষ বললো তোমাদের জেনারেশনের সবচেয়ে বড়ো সমস্যা কি জানো ,তোমরা ফোনটাকে জীবন মনে করো,মনে করো সম্পর্কগুলো সব ফোনের ভিতর।

.

উপল  খুব বিরক্ত হয়ে বললো আপনি কি সব জানেন মশাই ,আমি কাকে ফোন করছি আপনি  জানেন।

 অনিমেষ বললো না বললে জানবো কি করে  ? হাওড়া স্টেশন ছাড়ার পর থেকে দেখছি তুমি ফোনের ভিতর ,তারপর অনিমেষ মদের গ্লাস দেখিয়ে বললো ,আজ একটু খাও বুঝলে ,মন হালকা হবে। অনিমেষ একটা পেগ বানিয়ে দিল উপলকে। দুজনে বাংলোর বারান্দায় গিয়ে বসলো মুখোমুখি।

অনিমেষ একটা সিগারেট ধরিয়ে উপলকে বললো কেন এতো ব্যস্ত হচ্ছো ,আর তো দুদিনের কাজ,আর প্রেম তো ,বিয়েটা  করে নেও ,মিটে যাবে সমস্যা। 

উপল  বললো স্যার তাকে একলা ফেলে এসেছি কলকাতায় ,গ্রামের মেয়ে ছন্দা ,বাড়ির অমতে বিয়ে ,ওতো কলকাতায় কিছু চেনে না।  আসলে ছন্দা এখন সন্তান  সম্ভবা , তিনমাস পরে ওর ডেলিভারি।  ।নতুন চাকরি ,কোনো রকম এক্সকিউস  দেখাতে চাই নি ,চলে এলাম আপনার সঙ্গে ,   খুব চিন্তা হচ্ছে জানেন। অনিমেষ লক্ষ্য করলো ছন্দার সম্বন্ধে বলা কালীন উপলের চোখমুখ কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। অনিমেষে দেখছিল  উপলের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা ,এই কারণে উপলের ভিতরে একটা শংকা আর আগামীর সন্তানের জন্য আনন্দ দুটোই  কেমন এই মুহূর্তে ঝলকে উঠছে উপলের চোখেমুখে।

.

তারপর উপল  বললো আপনার কথা বলুন কিছু ,বৌদি ,ছেলে মেয়ে ?

অনিমেষ আরেকটা পেগ বানাতে বানাতে অন্ধকারে পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্ক ভাবে বললো আমি যখন তোমার মতো বয়সে চাকরিতে যোগ দিলাম তোমার মতো বিয়ে করেছিলাম তিতিরকে ,কলেজে আমার থেকে দুবছরের ছোট। বিয়ের পর বেশ চলছিল বুঝলে তারপর তিতির প্রেগনেন্ট হলো ,আমরা খুব চেষ্টা করেছিলাম ,কিন্তু নষ্ট হয়ে গেলো বাচ্চাটা ,ডক্টর বললো তিতির আর মা হতে পারবে না,আর সেদিন থেকে তিতির বদলে গেলো। হাজারো সাইক্রিয়াটিস্ট দেখলাম ,কিছু হলো না ,তিতির নিজের মেজাজ ধরে রাখতে পারে না ,অল্পতে রেগে গিয়ে হাতের কাছে যা থাকে ছুঁড়ে মারে। তবু আমি পালাই নি ,চেষ্টা করেছি সংসারটা ধরে রাখতে। আমি আজ ত্রিশ বছর চাকরি করে যা জমিয়েছি তাতে এই  ছাপান্ন বছর বয়সে চাকরি না করলেও হয় ,কিন্তু আমি চাকরিটা ছাড়ি নি কেন জানো। আমিও যে মানুষ ,আমার মাঝে মাঝে পালাতে ইচ্ছে হয় ,যেমন এই যে এইখানে আমি তো পালিয়েই আছি কয়েকদিন নিজের সাথে।বাড়িতে লোক বলতে আমি ,তিতির আর আমার এক বৃদ্ধা আত্নীয় কনক দি ,অনেকদিন আছে আমাদের সাথে। তার কাছে তিতিরকে রেখেই আমি পালাই এমনি একটু নিশ্বাস নিতে। কথা বলতে বলতে অনিমেষ আরেকটা পেগ বানাচ্ছিল,উপম বললো আর না স্যার ,অনিমেষ প্লিজ একটা লাস্ট পেগ।

 .

                    আজ সকালটা খুব সুন্দর  ,নীল আকাশটা পুরোপুরি মেঘে ঢাকা ,অথচ হিমালয়ের উপর একটা অদ্ভুত রৌদ্র পড়েছে ,খুব সুন্দর লাগছে এখন প্রকৃতিটা।   আজ সকাল সকাল তারা বেড়িয়ে পড়েছে মানসুরি বাজারের কাছে একটা প্লট দেখতে।বেশ কিছু প্লট তাদের দেখা হয়ে গেছে ,এইবার শুধু কাল তাদের ফাইনাল করতে হবে ,কোন জায়গাটা তাদের রিসোর্টের জন্য আদর্শ। উপল এক মনে ছবি তুলে যাচ্ছে ,গাড়ি চলছে পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে এঁকেবেঁকে সাপের মতো। প্রায় দুঘন্টা চলার পর তারা তাদের দেখতে আসা প্লটটায় পৌঁছল। পাহাড়ের ধরে হিমালয়ের পঞ্চচুল্লিকে সামনে রেখে এই জায়গাটা। দেখেই অনিমেষ বুঝলো তার দেখা জায়গা গুলোর মধ্যে এটাই বেস্ট।উপল এক মনে ছবি তুলছিল পাহাড়ের একদম ধারে দাঁড়িয়ে ,সে হয়তো এই হিমালয় পাহাড়টাকে নিয়ে যেতে চাইছিল ক্যামেরা বন্দি করে তার সন্তানসম্ভবা  স্ত্রী ছন্দার জন্য।

.

অনিমেষ এই মাত্র হাওড়ায় এসে পৌঁছল ,সঙ্গে করে সে নিয়ে এসেছে উপলের নিথর শরীরটা কফিনের বন্দি করে। অনিমেষ আগে থেকে ফোন করে দিয়েছিল অফিসে ,অফিসের সব কলিগরা স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল আর দাঁড়িয়ে ছিল উপলের  পরিবার। স্টেশনে নামা মাত্র সবার আগে এগিয়ে এলো একটা প্রেগনেন্ট  নেপালি মেয়ে ,অনিমেষ বুঝলো এই মেয়েটি ছন্দা ,আর কারণটাও বুঝলো কেন উপলের বিয়েটা ওর পরিবার কেন  মেনে নেয় নি। অনিমেষ ছন্দাকে বললো বাঁচাতে পারলাম না ,চোখের সামনে জলজ্যান্ত ছেলেটা পাহাড়ের খাদ থেকে পরে গেলো।

.

অনিমেষ এই মুহূর্তে অফিসের এসি  গাড়িতে চেপে বাড়ি ফিরছেএতক্ষন ট্রেন জার্নির   ক্লান্তিতে  অনিমেষের চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল  অনিমেষ চোখ বন্ধ করে তলিয়ে যাচ্ছিল  গভীর ভাবনায়,তার চোখের সামনে চলে আসছে সেই দৃশ্যটা ,  উপল দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ের ঢালে ,তার হাতে ক্যামেরা,একমনে ছবি তুলছে ছেলেটা,একটা ছোট্ট ধাক্কা শরীরটা তলিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ে ,পাহাড়ের খাদের পাশে উপরে দাঁড়িয়ে অনিমেষ হাসছে পাগলের মতো একটা ব্রেক মেরে গাড়িটা ট্রাফিকে দাঁড়িয়ে পড়লো ,ঘুমটা আচমকা ভেঙে গেলো অনিমেষের অনিমেষের মনে পড়ছিল তিতিরের মুখটা ,আর সেই কান্নাটা যখন তিতির জেনেছিল সে আর মা হতে পারবে না কখন যেন আনমনে অনিমেষের চোখের সামনেটা ঝাপসা হয়ে যাচ্চিল 


Friday, July 3, 2020

আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ

আমার এই পথ-চাওয়াতেই আনন্দ
....ঋষি 
.
এই ত পায়ে চলার পথ। 
.
 এসেছে সময়ের   মধ্যে দিয়ে , আকাশের  মধ্যে দিয়ে নদীর ধার ঘেঁষে , খেয়া-ঘাটের পাশে বটগাছ-তলায়। তার পরে ওপারের ভাঙা ঘাট থেকে বেঁকে চলে গেছে গ্রামের মধ্যে; তার পরে ধানের  ক্ষেতের ধার দিয়ে, আমবাগানের ছায়া দিয়ে,রথতলার পাশ দিয়ে কোন্ গাঁয়ে গিয়ে পৌঁছেচে জানি না ।অজস্র প্রশ্ন উত্তর এই জীবনে ,অজস্র পথচলা ,অজস্র গভীর কোলাহল ,অজস্র যোগ বিয়োগ।  মানুষের চলার পথের ,হাজারো পথ চলা ,হাজারো স্মৃতি এই সব ভাবছিল এই গল্পের নায়ক এবং পেশাদার পত্রিকার রিপোর্টার  প্রশান্ত।তার মনে পড়ছিল তার স্ত্রী অনুরাধার কথা ,যার সাথে তার ডিভোর্স প্রায় পাকাপাকি , অনুরাধা এখন  প্রশান্তর  এক বন্ধু অনুরাগের সাথে  লিভ ইন এ আছে । প্রশান্ত অনুরাধাকে দোষ দিতে পারে না তাদের সম্পর্কের কারণে ,প্রশান্ত তার এই রিপোর্টারের চাকরির জন্য মোটেও সময় দিতে পারতো না অনুরাধাকে ,তারপর কি করে যেন তার অনুপস্থিতিতে অনুরাধার সম্পর্কটা তৈরী হয় অনুরাগের সাথে। তবে অনুরাধা কোন রাখা ঢাকা করে নি ,যাবার দিন শুধু প্রশান্তকে একটা ফোন করে বলেছিল তুমি মানুষ খারাপ না কিন্তু তোমার সাথে কোনো মেয়ে বিয়ে করে সংসার করতে পারবে না ,ভালো থেকো ,আমাকে ফেরাবার চেষ্টা কোরো না।
.
 প্রশান্তকে একটা প্রতিবেদন লিখতে হবে তার পত্রিকার ভারত ও বাংলাদেশের আন্তর্দেশীয় সম্পর্ক নিয়ে।সে কারণে সে আজ কিছুদিন ধরে চৈতালি বলে  গ্রামটায় এসে উঠছে। গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে পদ্মা নদী নিজের  খেয়ালে  ,বর্ষার নদী তাই পদ্মার রূপ এই সময় দেখার মতো। প্রশান্ত সারা দিন পাশের বর্ডার সিকিউরিটির অফিসে ঘোরাঘুরি করে ,খোঁজ খবর জোগাড় করে ,রাতে এই পদ্মার পাশে একটা গর্ভমেন্ট অফিসের গেস্ট হাউসে থাকে ,তার কাজ প্রায় শেষের দিকে।  প্রশান্তর এই মুহূর্তে যেন পদ্মার জলের দিকে  তাকিয়ে হারিয়ে যাচ্ছিল স্মৃতিতে ,বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিল খুব জোরে ,হঠাৎ ঘোর ভাঙলো ঝিমলির গলার স্বরে ,ঝিমলি বলছে বাবু বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে খুব  জোরে ,বিছানা পত্তর ভিজে যাওয়ার জোগাড় ভিতরে আসুন। এই অঞ্চলে এখনো তেমন করে ক্যারেন্ট আসে নি ,তাই প্রশান্তর ঘরে লণ্ঠন জ্বলছে। প্রশান্তর ঘরে ঢুকলো ,ঝিমলি বললো  এমা জামাটা পুরো ভিজে গেছে ,বলে দৌড়ে কথা থেকে তোয়ালে নিয়ে এলো ,তারপর ভীষণ তাড়াহুড়োতে অন্ধকারে  হোঁচট খেয়ে গিয়ে পড়লো প্রশান্তর গায়ের উপর। বাইরে তখন ভীষণ শব্দ করে একটা বাজে পড়লো ,ঝিমলি ভয় পেয়ে ঢুকে গেলো প্রশান্তর বুকে। 
.
এই গেস্ট হাউসে লোকজন কেউ নেই ,একমাত্র প্রশান্ত হলো একমাত্র আবাসিক।এখানে আসার পর প্রশান্ত জেনেছে বর্ষাকালে এই গেস্টহাউসে কেউ আসে না ,শীতকালে কিছু গর্ভমেন্ট অফিসার আসেন।লোক বলতে এই গেস্ট হাউসে  একটা বিহারি দারোয়ান গেটে, এক রান্নার বুড়ো প্রসন্ন দা আর ঝিমলি প্রসন্ন বুড়োর বউ। ঝিমলি মেদিনীপুরের মেয়ে ,গরীবের সন্তান তাই বাধ্য হয়ে তার বাবা মা তাকে ঝুলিয়ে দিয়েছে প্রসন্নদার গলায়। ঝিমলির বয়স মোটামুটি বাইশ ,চব্বিশের মতো ,গেস্টহাউসে কেউ এলে তার ফাইফরমাশ খাটে ,আর ভীষণ কথা বলে। প্রশান্ত ঝিমলির মুখ থেকেই জেনেছে প্রসন্ন দা নাকি দারুন রান্না করে ,ঝিমলিকে ভালোবাসে কিন্তু ঝিমলির ভালো  লাগে না এখানে ,তার শহর দেখার খুব ইচ্ছে,সে নাকি স্বপ্নে দেখেছে কলকাতায় মোটরগাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। 
.
প্রশান্ত সরাতে চেষ্টা করছিল ঝিমলিকে ,আবার একটা বাজ পড়লো ,ঝিমলি জড়িয়ে ধরলো প্রশান্তকে। প্রশান্ত ভিজে গায়ে প্রায় লেপ্টে ছিল ঝিমলি ,সে প্রশান্তকে বলছিল শান্তি ,বাবু শান্তি আর কিছু না আমাকে সরাবেন না ,আমাকে নিয়ে নিন আপনি ,যা খুশি করুন ,আমি যে আর পারছি না। প্রশান্ত কি করবে বুঝতে পারছিল না ,আজ প্রায় আট মাস অভুক্ত সে,অনুরাধা কি ভেবেছে তার কথা কোনোদিন,তাকে ছেড়ে তো বেশ মস্তি করছে সে রাস্কেল অনুরাগের সাথে। প্রশান্ত হঠাৎ চেপে ধরলো ঝিমলির চুলের মুঠি ,বিছানায় ফেলে পাগলের মতো সে আদর করছিল ঝিমলিকে ,ঝিমলির মুখে সেই সময় শুধু শোনা যাচ্ছিল শুধু একটা শব্দ " শান্তি "। ক্রমশ তুমুল ঝড় ওঠার পর প্রকৃতি যেমন করে শান্ত হয় ,ঠিক তেমন করে প্রশান্ত একসময় লুটিয়ে পড়লো ঝিমলির খোলা বুকে। ঝিমলি বললো বাবু কি শান্তি ,কতদিন পর কেউ আমাকে ছুঁলো। প্রশান্ত চমকে উঠে ঝিমলির মুখের দিকে তাকালো আর ঠিক এই সময় প্রায় দরজার কাছে শোনা গেলো প্রসন্ন দার গলা এই ঝিমলি কি রে মাগি কই তুই ,ঠিক জানি নিশ্চয় মাড়াতে  গেছিস ,যদি মাড়ানো হয়ে গিয়ে থাকে ঘরে চল ,ভাত যে খোলা পরে আছে। ঝিমলি এক ঝটকায় প্রশান্তকে  সরিয়ে  গায়ের শাড়িটা টেনে নিল। 
.
আজ প্রশান্ত  ফিরে চলেছে কলকাতায় ,কাল রাতের ঘটনার পর সে আর মুখোমুখি হতে চাই নি ঝিমলির।কাল রাতে ওই ঘটনার পর অনুরাধাকে প্রশান্ত  ফোন করে জানিয়েছিল সব কথা ,অনুরাধা তাকে বললো তুমি এতো ভেঙে পড়ছো কেন ,তুমি না পুরুষ মানুষ আর পুরুষ মানুষের তো আলাদা একটা খিদে থেকেই যায় ,এ আর নতুন কি ,তারপর বলেছিল ঝিমলিকে কিছু টাকা দিয়ে আসতে। প্রশান্ত ব্যাপারটা মানতে পারে নি তাই সকাল হওয়ার আগেই সে গেস্টহাউস থেকে চেক আউট করেছে সে আর রুমের বিছানায় অনুরাধার   কথা মতো  কিছু টাকা আর একটা চিঠি রেখে এসেছে ঝিমলির নামে ,যাতে লেখা 
.
ঝিমলি ,
.
আমি জানি না তোমার কাছে কি করে ক্ষমা চাইবো কালকের ঘটনার জন্য। তোমাকে আমি ভালোবাসি না ,ভালোবাসি আমার স্ত্রী অনুরাধাকে।আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে আমার বন্ধুর সাথে।  কাল রাতে কি হয়েছিল আমার জানি না অনুরাধার উপর রাগ করে আমি তোমার শরীরটা ছিঁড়ে খুঁড়ে দিতে চেয়েছিলাম। ঝিমলি আমি জানি তুমি ভালো মেয়ে ,জানি আমাকে ক্ষমা  করবে তুমি। সঙ্গে কিছু টাকা রাখা আছে তুমি প্রসন্নদাকে সঙ্গে নিয়ে একবার কলকাতা ঘুরে এসো। জানি না দেখা হবে কিনা আবার ,ভালো থেকো। 
.
ইতি 
প্রশান্ত 
.
এই মুহূর্তে প্রশান্তর  ভ্যানটা এগিয়ে চলেছে পদ্মার পার ঘেঁষে মাটির রাস্তা ধরে। রাস্তাটা চলে গেছে যদি পাড় ধরে বহুদূর। প্রশান্ত  ভাবছিল মানুষের জীবন মানুষেকে কখন কোথায় নিয়ে যায় ,কোন রাস্তায় মানুষের  কে দাঁড়িয়ে থাকে ,সবটাই অনিশ্চিত। প্রশান্ত ভাবছিল মুহূর্তরা চিরকাল এমনি স্মৃতি হয়ে থাকে প্রতিটা মানুষের কাছে। প্রশান্তর মনে পড়ছিল ঝিমলির মুখটা ,আর ঝিমলির চরম সুখের মুহূর্তের শব্দটা " শান্তি "। বড়ো অদ্ভুত মানুষ প্রসন্ন দা ,ঝিমলি ,অনুরাধা সকলেই কত স্বচ্ছ  ,কত সহজে সত্যিগুলো বলতে পারে ,আর প্রশান্ত ভাবছিল নিজের কথা। হঠাৎ এক মুঠো পদ্মার নোনা  হাওয়া প্রশান্তর মুখে লাগলো ,প্রশান্ত গেয়ে উঠলো 
.
" আমার এই   পথ-চাওয়াতেই   আনন্দ।
খেলে যায়   রৌদ্র ছায়া,   বর্ষা আসে   বসন্ত ॥"

Thursday, June 25, 2020

নিস্তব্ধতা

নিস্তব্ধতা 
... ঋষি 

গুগুলে সার্চ মারলে সব পাওয়া যায় ,অথচ এমন কিছু ঘটে এই পৃথিবীতে তার কারণ গুগুল বাবাজি উত্তর দিতে পারে না। যেমন ধরুন আপনি গুগুলে সার্চ মেরে বারুদ তৈরির পদ্ধতি জানতে পারেন ,জানতে পারেন কি ভাবে মারণবোমা তৈরী হয়  অথচ ভোলার বাবা প্রতিদিন রাতে তুমুল নেশা করে এসে ঠিক মিত্তির বাড়ির সামনে  ছড়া বলে 
.
 " যেদিন যায় সেদিন ভালো 
ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো "। 
 .
                     এর কারণ কি ? গুগল বাবাজি বলতে পারেন না। ভিতর দিয়ে তনয়ার বিধবা  শ্বাশুড়ি কমলা মিত্তির চিৎকার করেন মরণ ,বুড়ো ঢ্যামনা রাত হলে রস জাগে। তারপর সদ্য একবছর বিয়ে হওয়া ছেলে প্রবীরের বউকে বলে দেখো তো ,যবে থেকে তোমাদের বিয়ে হয়েছে ,তবে থেকে ঢ্যামনাটা বাড়ির সামনে এসে কবিতা বলে। প্রবীর তার অফিসের কম্পিউটারে কাজ করতে করতে ভাবে সত্যি ভোলার বাবার এমন আচরণের কারণ যদি জানা যেত। 
  .
সময় কাটে মিত্তির বাড়ি পুরোনো হয় ,ঋতু বদলায় পল্টুর দোকানের সামনের কুকুরের বাচ্চাগুলো এখন সারা পাড়া জুড়ে রাতের বেলায় চিৎকার করে। ভোলার বাবা মারা গেছেন আজ এক বছর ,তবে লোকটা মরবার আগেরদিন অবধি মিত্তিরদের ভালোবেসে ছড়া শোনাতে ভোলেন নি। শাশুড়ি কমলা মিত্তির এখন প্রায় অসুস্থার কারণে বিছানায় থাকেন আর তনয়া এখন চিৎকার করে প্রবীরের প্রতি আমাকে কি কাজের ঝি পেয়েছো ,তোমার মার্ গুমুত কাঁচাবার জন্য আমাকে বিয়ে করেছিলে ,মুরোদ তো তোমার জানা আছে। প্রবীর মুখ বুজে অফিসের কাজের বাহানায় কম্পিউটারে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে আর ভাবে যদি গুগুল বাবাজি সত্যি কিছু উপায় বলতে পারেন। 
.
তনয়া মিত্তির রূপে ,গুনে অধিকাংশ বাঙালি মহিলার থেকে সুন্দরী ,তার রূপ আর গুনের কাছে প্রবীর কিছু নয়। তুবু তনয়ার বাপের বাড়ির শিক্ষা তাকে প্রশ্ন করতে  শেখায় নি ? শিখিয়েছে সহ্য করতে। তনয়া আজ প্রায় দশ বছর ধরে সহ্য করছে এই মিত্তিরের ফ্যামিলিকে।সদ্য কলেজ পাশ করে এই পৃথিবীতে তনয়া নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল ,তার গানের গলা ভালো ,ভালো আবৃত্তি করতো সে কিন্তু তার সমস্ত স্বপ্ন  চিতায় দিতে হয় তার পরিবারের ইচ্ছেতে তাকে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। তবু তনয়া মেনে নিয়েছে ,এমনি প্রবীর ছেলে হিসেবে খারাপ না ,তবে মায়ের ন্যাওটা। তবুও তনয়া মানিয়ে নিয়েছিল ,কিন্তু বিয়ের সাত বছরের মাথায় তার স্বামীর সাথে চম্পা বলে কোনো মেয়ের সম্পর্কের কথা সে জানতে পারে। প্রথমে হজম করতে পারে নি কিন্তু ক্রমশ শাশুড়ির কাছ থেকে বারংবার  বাজা,পাড়ার লোকেদের কাছ থেকে  আরো অনেক বাজে উক্তি শুনতে শুনতে তনয়ার মাথাটাই বিগড়ে গেলো। আজকাল সে আর কাউকে এই মিত্তির ফ্যামিলির সহ্য করতে পারে না ,অল্পতেই রেগে যায়। 
.
প্রবীরের বাবা মারা যায় ছোটবেলায় ,মায়ের কাছে মানুষ। ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে তার মা তাকে পড়াশুনা করিয়েছে ,এর জন্য প্রবীরকেও কম কষ্ট করতে হয় নি। তারপর তার জীবনে হঠাৎ আলোর মতো তনয়ার প্রবেশ। প্রবীর জানে সে কোনো মতো তনয়ার যোগ্য নয়।  বিয়ের প্রথম রাতে সে ভেবে পাচ্ছিল না কি ভাবে সে তনয়ার মতো সুন্দরী মেয়েকে স্পর্শ করবে। তার আগে কয়েকবার সে চম্পাকে স্পর্শ করেছিল কিন্তু সে কোনো মতেই তনয়ার যোগ্য নয়। চ্ম্পা  পাশের পাড়ার রতন দার বৌ ,তার সমসাময়িক বয়স কিন্তু প্রবীরের জীবনের সে অন্যতম ভুল। প্রবীর বিয়ের পর চম্পার  থেকে সরতে শুরু করেছিল কিন্তু চ্ম্পা সরতে দিতে চাই নি। প্রায় ব্ল্যাকমেল করে বাধ্য করেছে বিয়ের পরে বেশ কিছুবছর তার সাথে থাকতে। যা হওয়ার ছিল প্রবীরের তাই হয়েছে জীবনে ,তনয়া জানতে পেরেছে এবং প্রবীর তনয়াকে মিথ্যা বলতে পারে নি ,তার উপর এতো বছর বিয়ের পর তাদের কোনো সন্তান হয় নি। ডাক্তার রিপোর্টে পাওয়া গেছে প্রবীরের সমস্যা আছে। 
আজকাল তো তনয়া মোটেও প্রবীরকে  সহ্য করতে পারে না ,যখন তখন যা তা বলে তাকে অপমান করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই আর পাশে থাকা টুকুও ফুরিয়ে গেছে। 
.
প্রবীরের মা মারা গেছেন গত সপ্তাহে। বেশ কিছু দিন ধরে তনয়ার শরীর ভালো যাচ্ছে না ,হঠাৎ হঠাৎ বমি বমি পাচ্ছে। তনয়া আসতে চায় নি ,তবুও প্রবীর জোর করে তনয়াকে নিয়ে এসেছে তাদের ফ্যামিলি ডাক্তারের কাছে।মায়ের কাজ আর মনের চাপটা তো তনয়ার উপর দিয়ে কম যাচ্ছে না।  সমস্ত ডাক্তারি পরীক্ষা করার পর  ডাক্তার জানালেন তনয়া প্রেগনেন্ট। এটা শোনার তনয়া লক্ষ্য করলো পরই হঠাৎ করে সেই মুহূর্তে প্রবীরের মুখে  একটা রাগ জন্মাল আর তারপরই কেমন একটা স্বাভাবিক ভাবেই প্রবীর তনয়াকে জড়িয়ে ধরলো।
   .
এখন প্রায় মধ্যরাত, মিত্তির বাড়ির ভিতর থেকে শোনা যাচ্ছে একটা বাচ্চার কান্না।একই সময় মিত্তির বাইর   সামনে দাঁড়িয়ে ভোলা প্রচন্ড মদ খেয়ে তার বাবার মতো  চিৎকার করে ছড়া বলছে 
 " ভাবের ঘরে কাগের বাসা  
ব্যাঙের ঘরে মানিক ,
যেদিন যায় সেদিন ভালো 
ভাঙা ঘরে চাঁদের আলো "। 
মিত্তির বাড়ির ভিতর থেকে প্রবীর চিৎকার করছে মরতে পারিস না ভোলা ,প্রতিদিন আমার বাড়ির সামনে এসে কেন চিৎকার করিস ? তনয়া একমনে কম্পিউটারে গুগুল সার্চে  ছেলের পেটে ব্যাথার কারণ খুঁজতে খুঁজতে বললো 
মরণ ,তবু যদি তোমার মুরোদ থাকতো। প্রবীর ভাবছে সত্যি যদি গুগুলে সার্চ মেরে জানা যেতএই বাচ্চাটার জন্মের কারণ।
.
 প্রবীর কোলে তুলে নিলো তার ছেলেকে ,আদর করে গালে চুমু খেয়ে বললো তনয়া একটু তাড়াতাড়ি দেখো না ,খুব কাঁদছে বাবু। প্রবীর বাইরে থেকে এইসময় পাড়ার কুকুরগুলো চিৎকারের শব্দ পায় ,তারপর হঠাৎ সময়টার মতো সেও  মেনে নেয় নিস্তব্ধতা,ছেলেটা শান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে এখন। 

Sunday, June 21, 2020

ডিপ্রেশন


ডিপ্রেশন

... ঋষি

                                      

দুমাস ধরে বাড়ি ভাড়া বাকি তুমি বলছো জামা কাপড় ধুই  কিনা ,চাকরিটা থাকলে হয় ,বস  মাদারির বাদর করে নাচাচ্ছে ছুটির দিনগুলোতেও শান্তি নেই ,এখন রাখছি অফিসে যেতে হবে ,এই বলে ফোনটা কেটে দিল অরিত্র ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো .৩০ ইশ দেরি হয়ে গেলো ঈপ্সিতার সাথে কথা বলতে বলতে  ,অরিত্রকে আজ পৌঁছতেই হবে অফিসে .০০ টায়ঈপ্সিতা হলো অরিত্রের বউ ,বাবা মায়ের সাথে মেদিনীপুর থাকে অরিত্র ঘর ভাড়া করে কলকাতায় থাকে চাকরি সূত্রে  ,সে একটা সেলসের অফিসে কাজ করেমেদিনীপুরে অরিত্রের পূর্বপুরুষের বাস ,মা ,বাবা দুজনেই অসুস্থ ,অরিত্র একমাত্র সন্তান তাদের ,বাবা ,মাকে   দেখাশোন করতে ঈপ্সিতা ওখানেই থাকে ,মাসের মধ্যে চারদিন অরিত্র গ্রামে যায় ঈপ্সিতা ওই গ্রামেরই মেয়ে ,সে ওখানে সব সামলে নেয় শুধু অরিত্রের মাঝে মাঝে মন খারাপ করে ,সে মনে মনে ইপ্সিতাকে কলকাতায় এনে রাখতে চায় ,কিন্তু বাবা ,মার্ কথা ভেবে আর হয়ে ওঠে না

.

              অরিত্র অফিস পৌঁছলো কুড়ি মিনিট  লেট্ করে,একে তো নিজের রান্না করা , নিজের টিফিন প্যাক করা থেকে সবটাই তার নিজেকেই করতে হয় ,তার উপর কলকাতার জ্যাম অফিস ঢোকা মাত্র প্রিয়াঙ্কা ডেস্ক থেকে ফোন করে বললো বস ডেকেছে অরিত্র পড়িমরি করে ছুটলো বসের ঘরে ,দরজা টোকা দিতেই  মিস্টার চিন্তন বলতেই প্লিজ কাম ,তারপর নিজের স্বভাবচিত মাড়োয়ারি ভঙ্গিতে বললেন অরিত্র তুমহারা সেলস রিপোর্ট ম্যা দেখা লাস্ট মান্থকা  ,নাথিং ইম্প্রোভ ,আপ এক কম কিজিয়ে ব্যাক অফিসমে শিফট হো যাইয়ে ,অরিত্র উঠে পড়ছিল চেয়ার থেকে ,তিনি আবার যোগ করলেন হ্যা অরিত্র তুম্হারে মাফিক এক কাম  হ্যা, মিস্টার গোলদার  হামলোগোকে মুম্বইকাইকে ক্লাইন্ট ,উনকি  ওয়াফ পার্ক হোটেলমে রুকি হুয়ি হ্যা ,তুম অভি চলে যাও ,উনকে সাথে রহো ,ঊনকো কলকাতা ঘুঘুমানা  হ্যা তুম সাথ রহো অরিত্র আবার চেয়ার থেকে উঠছিল মিস্টার চিন্তন বললেন ওর হ্যা শুনো উনসে জাদা বাত করনেকা জরুরত নেহি হ্যা কিঁউকি ম্যা নেহি চাহাতা মেরি কোম্পানিমে  কোই ইডিয়েট কাম করতা হ্যা উনহে পতা চলে,মিসেস গোলদার জো বলে ওহি শুননা 

.

অরিত্র বেজার মুখে অফিস থেকে বেরিয়ে এলো তার শুধু মনে পড়ছিল বসের মুখটা যখন বস বলছিল  কিঁউকি ম্যা নেহি চাহাতা মেরি কোম্পানিমে  কোই ইডিয়েট কাম করতা হ্যা উনহে পতা চলে,অরিত্রর ইচ্ছা করছিল একটা ঘুরিয়ে ঘুষি মারে বসের মুখে অফিসের চাপে তার মাঝে মাঝে পাগল পাগল লাগে ,আর তার বস তাকে দিয়ে কি না করায় ,পারলে টয়লেটটা তাকে পরিষ্কার করতে বলে কিন্তু কি করবে অরিত্র  ? গ্রামের সংসার ,নিজের খরচ তার  পুরোটাই চলে তার এই চাকরি থেকে সে মাঝে মাঝে ভাবে সে কি ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছে আজকালকার প্রজন্মের মানুষের কাছেডিপ্রেশনশব্দটি বহুল প্রচলিত এই ডিপ্রেশনের সঠিক সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা অরিত্রের কাছে  নেই অরিত্র কোথাও পড়েছিল  মনের একটি জটিল স্তরে  ডিপ্রেশন হল একধরনের ইমোশনাল ইম্ব্যালেন্সকোনো ব্যাক্তির স্বাভাবিক অনুভূতি কিংবা মেজাজের অবনতিকেমেজর ডিপ্রেসিভ ইলনেসবলে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় তিনশ মিলিয়ন ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষ রয়েছেন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি জনের জন মানুষ কোনো না কোনো ধরনের ডিপ্রেশন বা অ্যাংজাইটিতে ভুগছেনএই ডিপ্রেশন থেকে ক্রমশ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা তবে ডিপ্রেশনের সঙ্গে আত্মহত্যার যে ক্লিনিক্যাল সম্পর্ক তার বাইরেও কিছু বক্তব্য থেকে যায় অনেকেই মনে করেছেন আত্মহত্যা একটি শিল্প,আমেরিকান কবি সিলভিয়া প্লাথ বলেছিলেন “Dying is an art, like everything else. I do it exceptionally well.” এবং ১৯৬৩ সালে একটি শীতের সকালে, ভোরবেলায় উনি গ্যাস ওভেনে নিজের মাথা ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন এই আত্মহত্যাকে কি আমরা শুধুই ডিপ্রেশন বলতে পারি..? আমরা এডলফ হিটলারের জীবন ঘাঁটলেও দেখতে পাই যে ১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে ইভা ব্রাউনকে তিনি বিয়ে করে, তার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ফিউরার বাংকারে সস্ত্রীক আত্মহত্যা করেনএছাড়াও সিগমন্ড ফ্রয়েড, যাঁকে আমরা সাইকো-অ্যানালেসিসের জনক বলি, তিনি নিজেই ম্যাক্স স্কার কন্যা আনা ফ্রয়েডের সঙ্গে যৌথ পরামর্শ করে অধিক মরফিন গ্রহণের মাধ্যমে স্বেচ্ছামৃত্যু হিসেবে আত্মহত্যা করে মৃত্যুবরণ করেনঅরিত্র ভাছিল  এই মৃত্যু গুলোকে কি মানুষের শুধুমাত্র চূড়ান্ত ডিপ্রেশনের  উদাহরণ হঠাৎ পার্ক হোটেলের সামনের রাস্তা ক্রস করতে করতে অরিত্রর পায়ের সামনে একটা গাড়ি খুব জোরে  ব্রেক মারে ,ভিতর থেকে ড্রাইভার চিৎকার করে অরিত্রকে গালাগাল দেয় ,মরবার জন্য কি আমার গাড়িটাই ছিল সারা শহরে 

.

রিসেপশনে খোঁজ নিয়ে অরিত্র লিফট বেয়ে এখন পার্ক হোটেলের চতুর্থ ফ্লোরের  ৪০৪ নম্বর রুমের কলিংবেল টিপলো একজন মধ্যবয়স্কা  গোলাগাল বাঙালি ভদ্রমহিলা দরজা খুললেন অরিত্র বললো মিস্টার চিন্তন পাঠিয়েছেন ,ভদ্রমহিলা বললেন ইয়েস চিন্তন কল করেছিল,কাম ইন অরিত্র ঘরে ঢুকে বুঝলো  তার মতো সাধারণ  কেরানির কাছে এই হোটেল রুম চিরকাল স্বপ্ন মিসেস গোলদার অরিত্রকে বাইরে ড্রইংরুমে  বসতে বললেন ,প্রশ্ন করলেন উড ইউ লাইক ওয়ান অর শ্যাম্পেন ? অরিত্র মাথা নাড়লো ,ভদ্রমহিলা অরিত্রকে বসতে বলে অন্য ঘরে চলে গেলেন অরিত্র মাথা ঘুরিয়ে দেখছিল ড্রইংরুমটা ,তার মনে পড়ছিল ঈপ্সিতার সাথে বিয়ের পর হানিমুনের পুরীর হোটেলটার কথা ,অরিত্রর মনে হচ্ছিল সত্যি এই জীবনে তার কিছুই করা হলো না মিসেস গোলদার ফিরে এলেন ,হাতে মদের গ্লাস ,বিদেশী একটা মিউজিক চালিয়ে ড্রইংরুমে  দুলতে লাগলেন ,অরিত্র অবাক হচ্ছিল দেখে এখন মধ্যবয়স্ক ভদ্রমহিলা কি করে একজন পুরুষের সামনে শরীর দেখানো পাতলা  পোশাক পরে এমন করে নাচতে পারে মিসেস গোলদার আবার বললেন কাম ড্যান্স উইথ মি ,অরিত্র বসের কথা মনে করে এগিয়ে গেলো মিসেস গোলদার অরিত্রকে জাপ্টে ধরলেন যেমন করে একটা সিংহ মানুষের উপর চেপে বসে,মিসেস গোলদার বললেন কাম ওন হ্যাগ মি অরিত্র কলের পুতুলের মতো হাত রাখলো মিসেস গোলদারের দুপাশে কোমরে মিসেস গোলদার ক্রমশ মূখ ঘষতে লাগলো অরিত্রর বুকে ,অরিত্র ঈপ্সিতার কথা মনে পড়ছিল ,একসময় মিসেস গোলদার অরিত্রকে টেনে নিয়ে এলো একটা সাজানো বেডরুমে ,উনি জোর করছিলেন অরিত্রের প্যান্টটা খোলার চেষ্টা করছিলেন  অরিত্র চোখ বন্ধ করে চেষ্টা করছিল সহ্য করার ,ধুমসি মহিলাকে হাত দিয়ে ঠেলবার চেষ্টা করছিল মিসেস গোলদার বললেন আই ডোন্ট থিঙ্ক ডিস্ ইস ইউর ফাস্ট টাইম ,লজ্জা পাচ্ছো কেন  ? তারপর যোগ করলেন চিন্তন কি লোক খুঁজে পায় না ,তোমার মতো একজন বোকা সিট কে পাঠিয়েছে হঠাৎ করে অরিত্রর মাথাটা গরম হয়ে গেলো সে ওই মহিলার চুলির মুঠি ধরে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দিলো ,তারপর চড়ে বসলো তার বুকে তারপর গায়ের জোরে ঘুষি মারতে লাগলো ভদ্রমহিলার মুখে,চিৎকার করতে লাগলো আই এম নট আ সিট্ ,আই এম নট আ ইডিয়ট , সেই  মুহূর্তে অরিত্র মিসেস গোলদারের মুখ আর মিস্টার চিন্তনের মুখ দুটো একসাথে দেখছিলপ্রথমে মিসেস গোলদার চিৎকার করছিলেন ,তারপর রক্তাক্ত ,তারপর কখন যেন স্থির হয়ে গেলেন,কিন্তু অরিত্র তখনও এলোপাহাড়ি ঘুষি চালাচ্ছিল মিসেস গোলদারের মুখে  ,চিৎকার করছিল সে