বৃষ্টিরঞ্জন আর প্রাগলভ
... ঋষি
১
সমস্ত সময়ের থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো আজ বৃষ্টিরঞ্জনের কাছে
এক আবিষ্কার ।হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের রোবট স্ত্রী , ক্যানিস বৃষ্টিরঞ্জনের কুকুর আর বৃষ্টিরঞ্জনের
একমাত্র সন্তান মাহি যা এই পৃথিবীর কাছে এক রহস্য,এও সম্ভব মেসিন ও মানুষের স্ঙ্গমে
তিরী এক্ মানুষ ।মাহির বয়স এখন চার তবে মানুষের কন্যা হিসেবে মাহির ব্রেনের গতিবিধি
অনেক এগিয়ে ,বৃষ্টিরঞ্জন পরীক্ষা করে দেখেছে মাহির ব্রেইন প্রায় তার সমানুপাত বুদ্ধিধারী
।মাহি এই বয়সে বৃষ্টিরঞ্জনকে তার বিভিন্ন সাইন্টিফিক পরীক্ষায় সাহায্য করে ,বস্তুত
মাহি তার সমস্ত পাঠ বোধহয় হোমির পেট থেকেই শিখে এসেছে ।হোমি এখন একলাই বৃষ্টিরঞ্জনের
পিতৃপুরুষের ব্যাবসা সামলায় ,মাহি বাড়িতে থেকে
বৃষ্টিরঞ্জনের নানা সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্টে সাহায্য করে ।হোমি দুপুরে একবার বাড়িতে
ফিরে রান্না করে বাপ ,বেটিকে খাইয়ে কাঠের গডাউনে ফিরে যায় তারপর সন্ধ্যে করে বাড়ি ফেরে
।বেশ আছে কোচবিহারে নিরিবিলিতে বৃষ্টিরঞ্জন তরফদার ,তার এক্সপেরিমেন্ট ,তার পড়াশুনা
আর জীবন নিয়ে ।
শেষ মাসে বৃষ্টিরঞ্জনের
দুটি আবিষ্কার ক্যালিফোর্নিয়ার সাইন্স দিবসে বেশ জনপ্রিয় হইয়েছে ।প্রথম আবিষ্কারটি
হলো একটা টর্চ যার নাম বৃষ্টি রঞ্জন ডিসটর্চ রেখেছে ,এই টর্চের দুটি সুইচ যার একটা সুইচ অন করে এই বায়ুমণ্ডলে দিন কিংবা রাত্রি সবকিছু ভ্যানিস করা
যায় এবং দ্বিতীয় সুইচ অন করে টর্চের আলো যতদুর যায় ততদূর অবধি সুক্ষ থেকে সুক্ষ যা
কিছু মানুষে র খালি চোখে দেখতে পাওয়া যায়। উদাহরন হিসেবে ধরুন কোন রোগির ব্লাড টেস্ট
না করে এই টর্চ জ্বালিয়ে রক্তে কি জীবানু আছে বলতে পারবেন ,বলতে পারবেন পৃথিবীর কোন
স্তরে জল আছে ,কোথায় খনিজ আছে ।
দ্বিতীয় আবিষ্কারটি একটি ম্যাজিক
হিয়ারিং নট অ্যান্ড বেল্ট ।এর সাহায্যে আপনি যে কোন জীব সে পাখি ,কুকুর ,মাছ সবার
সাথে কথপোকথন করতে পারবেন ।আপনি ম্যাজিক হিয়ারিং নটটা আপনার কানে লাগালেন ,যার সাথে
কথপোকথন করতে চান বেল্টটা তার গলায় জড়িয়ে দিলেন ,আপনি এবার সামনের জনের ভাষা পরিষ্কার
বুঝতে পারবেন ।এই ভাবে বৃষ্টিরঞ্জন ক্যানিসের সাথে কথপোকথন করে দেখেছেন ।
বৃষ্টিরঞ্জনের এই দুটি আবিষ্কার সম্বন্ধে
ক্যালিফোর্নিয়ার সাইন্স জার্নালে এবং ওখানকার
নিউস পেপারে বেশ ফলাও করে আলচিত হইয়েছে ,এর জন্য সারা পৃথিবী ব্যাপি বৃষ্টিরঞ্জনের
নতুন নাম হইয়েছে ফাদার অফ ইনভেন্টার ।
২
মাহি অদ্ভুত শক্তির অধিকারী হইয়েছে
,মেয়েটার শরীরে ঘুম বলে কোন বস্তু নেই ,এর জন্য অথচ বৃষ্টিরঞ্জন চিন্তিত নয় কারন বৃষ্টিরঞ্জন
মাহির ব্লাডসেল পরীক্ষা করে দেখেছে ,ওর রক্তে একটা বিশেষ সেল আছে যা মাহিকে ইন্সট্যান্ট
এনার্জি দেয় ।মাহির কার্যক্ষমতা ,বুদ্ধিতে যে আগামীদিনে বৃষ্টিরঞ্জনকে ছাড়িয়ে যাবে
এবং সাইন্টিস্ট হিসেবে তার মেয়ে যে বৃষ্টিরঞ্জনের থেকে বিখ্যাত হবে এ বিষয়ে বৃষ্টিরঞ্জনের
সন্দেহ নেই ।রাত বারোটা বাজে বৃষ্টিরঞ্জন
আর মাহি এই মুহুর্তে একটি স্পেস্ক্রাফটের ছোট আদল তৈরী করার চেষ্টা করছে ।আগামী
দিনে বৃষ্টিরঞ্জনের ইচ্ছে আছে তার এই স্পেস্ক্রাফটে করে হোমি আর সে অন্য গ্রহে গিয়ে দেখবে তা মানুষের বাসযোগ্য কিনা ।এই বিষয়ে
হোমির সাথে তার কথা হইয়েছে ,তারা যাবে আর মাহি থাকবে পৃথিবীতে ,তাদের যদি কিছু হয়ে
যায় মাহি এই আবিষ্কারটা আগে নিয়ে যাবে ।
বৃষ্টিরঞ্জনের এবার ক্লান্ত লাগছিল
সে মাহিকে বললো তুই দেখ মা ,আমি একটু ঘুমিয়ে নি । বৃষ্টিরঞ্জন বেড রুমে যেতে যেতে
দেখলো হোমি নিজেকে স্ট্যান্ডবাই মুডে চার্জে রেখেছে । বৃষ্টিরঞ্জন ভাবছিল কি অদ্ভুত
তার সংসার মানুষ ,মেসিন মিলেমিশে এক অদ্ভুত চিরিয়াখানা।মাহির যেদিন ডেলিভারি হলো
সেদিন বৃষ্টিরঞ্জন চমকে উঠেছিল সদ্য জন্মানো মাহিকে কোলে নিয়ে ,পেট থেকে বেড়িয়েই
মাহি বলেছিল ইফ আই ম নট রং ,ইউ আর মাই ফাদার ?মাহির বেড়ে ওঠার একএকটা দিন অন্য বাচ্চাদের
ক্ষেত্রে এক এক বছরের সমান ।মাহির বয়স এখন চার বছর বটে তবে সে এই তো ছ মাস আগে অল
ইণ্ডিয়া পুনে সাইন্স সেমিনারে স্টেজে দাঁড়িয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ।এই মেয়ে
একদিন বৃষ্টিরঞ্জনের থেকে বড় সাইন্টিস্ট হবে ।
তখন বোধহয় রাত্রি দুটো মাহির গলার শব্দ
শুনে বৃষ্টিরঞ্জনের ঘুম ভেঙে গেলো ।মাহি বলছে ওয়াট ইস দ্যাট থিং মম ,আই ম সিওর
দ্যাটস নট আ স্টার ,হোমির গলা পাওয়া গেলো সে বলছে বাবা ঘুমোচ্ছে আস্তে ,মাহি বলছে
আমি বাবাকে ডেকে আনি ওটা আসলে কি আমাদের দেখতে হবে । বৃষ্টিরঞ্জন
বিছানা ছেড়ে এগিয়ে গেলো তার রিসার্চ
রুমের দিকে । বৃষ্টিরঞ্জন গিয়ে দেখলো মাহি তার ডিসটর্চটা একটা দুরবীনের সামনে
লাগিয়ে আকাশের দিকে চোখ করে তাকিয়ে আছে । বৃষ্টিরঞ্জনকে দেখে মাহি বললো বাবা দেখো
ওটা ইউ এফ ও নিশ্চয় ,মা বলছে তারা । বৃষ্টিরঞ্জন দুরবীন দিয়ে দেখলো একটা নিটল চোঙের
মতো কিছু উজ্জ্বল হয়ে আকাশে ভাসছে ,হ্যাঁ ওটা তারা বা কোন স্যেটালাইট নয় । বৃষ্টিরঞ্জন
যতদুর পড়াশুনা করে জেনেছে এখন অবধি গল্প না কল্পনায় মানুষ ইউ এফ ও বলে উল্লেখ করলেও ,সাইন্স এখনো কোন এর প্রমান পাই নি । বৃষ্টিরঞ্জন
ডিসটর্চের ভ্যানিস ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে দিল এবং পরিষ্কার দেখতে পেলো ওই উজ্জ্বল চোঙের
ভিতর অদ্ভুত কিছু প্রাণীর নড়াচড়া ।প্রাণীগুলো অদ্ভুত দেখতে আন্দাজ সাইজ তিন ফূট ,শরীর
বলতে থলথলে মাংস ,গা দিয়ে আলো বেরোচ্ছে তাদের ,মাথাটা প্রায় শরীরের তুলনায় তিনগুন
,দুটো বড় বড় ঝুলে পড়া চোখ ,ঠোঁটের বদলে ফটের,মাথায় দুটো লম্বা সিং ,সিঙের আগায় নীল
রঙের আলো জ্বলছে।দেখতে দেখতে সকাল হয়ে আসছিল বৃষ্টিরঞ্জন হোমিকে বললো ক্যামেরাটা
দিতে । বৃষ্টিরঞ্জন ডিসটর্চের ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে বাড়িয়ে ওই উজ্জ্বল চোঙটার এবং
তার ভিতরের অদ্ভুত প্রাণিগুলোর বেশ কিছু ছবি তুলে রাখলো ।
৩
আজ সারাদিন বৃষ্টিরঞ্জন আর মাহি অন্য গ্রহের জীব সম্পর্কে বিস্তর পড়াশুনা করেছে । বৃষ্টিরঞ্জন
তার ডিসটর্চে আজ নতুন এক আলোর ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত করেছে যার মাধ্যমে ওই চোঙের মতো
উজ্জ্বল যানটায় সঙ্কেত পাঠানো যায় ।মাহি এই ব্যাপারে বেশ উত্তেজিত ,সে সমস্ত
ইন্সাইক্লোপিডিয়া খুলে ওই অদ্ভুত প্রাণীগুলোর অনেক গুলো স্কেচ করেছে ।হোমি আজ কাজে
যায় নি সেও বৃষ্টিরঞ্জনকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহে
সাহায্য করেছে ।আজ সন্ধ্যের মধ্যে তরফদার পরিবার সকলে রেডি হয়ে দুরবীন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয়
জিনিসপত্র নিয়ে ছাদে উঠে এসেছে ।
তখন রাত বারোটা হবে বৃষ্টিরঞ্জন গত
দুঘণ্টা ধরে দুরবীনের আর ডিসটর্চের সাহায্যে আকাশে সেই উজ্জ্বল চোঙের উদ্দেশ্যে স্যিগনাল
পাঠিয়ে চলেছে আর মাহি অন্য এক দুরবীনে চোখ রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে
।মাহি হঠাত চিৎকার করে উঠলো ওইতো কিছু একটা নামছে ।বলতে বলতেই তরফদারদের বাগানে ওই
উজ্জ্বল চোঙটা প্রচন্ড ধাতব শব্দ করে নেমে এলো ।দোতলার ছাদ থেকে বৃষ্টিরঞ্জন সহ
মাহি আর হোমি তাদের বাগানে ছুটে গেলো ।ওই তো দরজা খুলছে ,ওই যে অদ্ভুত প্রাণিগুলো
। বৃষ্টিরঞ্জন এগিয়ে গেলো ,একটা প্রাণী প্রায় দশ ফুট লম্বা ওই চোঙটার সিঁড়ি বেয়ে
নিচে নেমে এলো ,হাত বাড়িয়ে দিলো বৃষ্টিরঞ্জনের দিকে কিন্তু মুখে কি একটা বলছে প্রাণিটা ?বোঝা যাচ্ছে না ।হোমি বুদ্ধি করে ওপর
থেকে ছুটে বৃষ্টিরঞ্জনের আবিষ্কৃত সেই নট আর বেল্টটা নিয়ে এসে বেল্টটা অদ্ভুত প্রাণীটার
হাতে দিয়ে ইঙ্গিত করলো গলায় পরতে ।ম্যাজিক নট বৃষ্টিরঞ্জনের কানে , বৃষ্টিরঞ্জন
নিজে বিশ্বাস করতে পারছিল না সেই অদ্ভুত প্রাণীটা বিশুদ্ধ বাংলায় বলছে হ্যালো ! আমি
প্যাগলভ ,আমি আকাশের পাঁচ হাজার কোটী আলোকবর্ষ দূরে হোচি গ্রহে থাকি ।এটা কোথায়
?তুমি কে ? বৃষ্টিরঞ্জন উত্তর দিলো এটা পৃথিবী সৌরমণ্ডলের তৃতীয় গ্রহ ,আমি বৃষ্টিরঞ্জন,এ
আমার মেয়ে মাহি ,ইনি হোমি ,আমি একজন সাইন্টিস্ট ।প্যাগলভ বললো তোমার স্ত্রী তোমার
মতো না মেসিন । বৃষ্টিরঞ্জন উত্তর দিল মেসিন কিন্তু আমার মেয়ের মা ,আমার মেয়ে
কিন্তু মেসিন না ।প্রাগলভ বললো তুমি মস্ত বড় সাইন্টিস্ট ,আমাদের গ্রহে অনেক সাইন্টিস্ট
আছে তোমাকে আমন্ত্রন রইলো আমাদের গ্রহে ।এইবার বৃষ্টিরঞ্জন প্রাগলভকে বললো সে আর
মাহি একবার ওই উজ্জ্বল চোঙের মতো যানটা ঘুরে
দেখতে চাই কারণ ভবিষ্যতে এমন একটা যান তিরী করার ইছছা আছে তার ,প্রাগলভ খুব যত্ন
নিয়ে তাদের সেই উজ্জ্বল চোঙের মতো যানটা ঘুরিয়ে দেখালো ,যানের ভিতর প্রাগলভ তার
স্ত্রী আর সন্তানের সাথে পরিচয় করালো আর একটা উজ্জ্বল ফল বৃষ্টিরঞ্জনকে দিল খেতে
,প্রাগলভ জানালো এ তাদের গ্রহের গাছের ফল ,এই
ফল খেলে নাকি কারোর কোন রোগ হতে পারে না । বৃষ্টিরঞ্জন ফলটা খেলো না সে ভবিষ্যৎ
মানুষের উন্নতির জন্য এবং ফলটা রিসার্চের জন্য পকেটে রাখলো ।ইতিমধ্যে ভোর হয়ে আসছিল
প্রাগলভ বললো এইবার তো যেতে হবে বন্ধু , বৃষ্টিরঞ্জন বন্ধুত্বের স্বীকৃতি হিসাবে
তার আবিষ্কৃত হেয়ারিং ব্যান্ড আর নটটা প্রাগলভকে দিয়ে দিল ।একিরকম সেই উজ্জ্বল চোঙের
দরজাটা বন্ধ হলো ,আকাশের দিকে উড়ে গেলো ।মাহি হাত নাড়লো সেই উজ্জ্বল চোঙের দিকে
তাকিয়ে ।
পরেদিন দেখা গেলো তরফদারের বাগানের
যে অংশে সেই ধাতব উজ্জ্বল যানটা নেমেছিল সেখানে অনেক নীল রঙের ফুল ফুটেছে ।পাড়ার লোকেরা
বললো গত রাতে নাকি পাগলা সাইন্টিস্টের বাড়িতে ভুত এসেছিল ।আর মাহি আর বৃষ্টিরঞ্জন
এখন নতুন এক এক্সপেরিমেন্টে ব্যাস্ত প্রাগলভের দেওয়া নতুন উজ্জ্বল ফলে এমন কি আছে
যাতে রোগ নিরাময় হয় আর অন্য গ্রহের যাওয়ার উড়ো কি করে তৈরী করা যায় ।
No comments:
Post a Comment