Friday, May 21, 2021

বৃষ্টিরঞ্জন আর প্রাগলভ

 

বৃষ্টিরঞ্জন আর প্রাগলভ

... ঋষি

সমস্ত সময়ের থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো আজ বৃষ্টিরঞ্জনের কাছে এক আবিষ্কার ।হোমি বৃষ্টিরঞ্জনের রোবট স্ত্রী , ক্যানিস বৃষ্টিরঞ্জনের কুকুর আর বৃষ্টিরঞ্জনের একমাত্র সন্তান মাহি যা এই পৃথিবীর কাছে এক রহস্য,এও সম্ভব মেসিন ও মানুষের স্ঙ্গমে তিরী এক্ মানুষ ।মাহির বয়স এখন চার তবে মানুষের কন্যা হিসেবে মাহির ব্রেনের গতিবিধি অনেক এগিয়ে ,বৃষ্টিরঞ্জন পরীক্ষা করে দেখেছে মাহির ব্রেইন প্রায় তার সমানুপাত বুদ্ধিধারী ।মাহি এই বয়সে বৃষ্টিরঞ্জনকে তার বিভিন্ন সাইন্টিফিক পরীক্ষায় সাহায্য করে ,বস্তুত মাহি তার সমস্ত পাঠ বোধহয় হোমির পেট থেকেই শিখে এসেছে ।হোমি এখন একলাই বৃষ্টিরঞ্জনের পিতৃপুরুষের  ব্যাবসা সামলায় ,মাহি বাড়িতে থেকে বৃষ্টিরঞ্জনের নানা সাইন্টিফিক এক্সপেরিমেন্টে সাহায্য করে ।হোমি দুপুরে একবার বাড়িতে ফিরে রান্না করে বাপ ,বেটিকে খাইয়ে কাঠের গডাউনে ফিরে যায় তারপর সন্ধ্যে করে বাড়ি ফেরে ।বেশ আছে কোচবিহারে নিরিবিলিতে বৃষ্টিরঞ্জন তরফদার ,তার এক্সপেরিমেন্ট ,তার পড়াশুনা আর জীবন নিয়ে ।

                                                শেষ মাসে বৃষ্টিরঞ্জনের দুটি আবিষ্কার ক্যালিফোর্নিয়ার সাইন্স দিবসে বেশ জনপ্রিয় হইয়েছে ।প্রথম আবিষ্কারটি হলো একটা টর্চ যার নাম বৃষ্টি রঞ্জন ডিসটর্চ রেখেছে ,এই টর্চের  দুটি সুইচ যার একটা সুইচ অন করে  এই বায়ুমণ্ডলে দিন কিংবা রাত্রি সবকিছু ভ্যানিস করা যায় এবং দ্বিতীয় সুইচ অন করে টর্চের আলো যতদুর যায় ততদূর অবধি সুক্ষ থেকে সুক্ষ যা কিছু মানুষে র খালি চোখে দেখতে পাওয়া যায়। উদাহরন হিসেবে ধরুন কোন রোগির ব্লাড টেস্ট না করে এই টর্চ জ্বালিয়ে রক্তে কি জীবানু আছে বলতে পারবেন ,বলতে পারবেন পৃথিবীর কোন স্তরে জল আছে ,কোথায় খনিজ আছে ।

দ্বিতীয় আবিষ্কারটি একটি ম্যাজিক হিয়ারিং নট অ্যান্ড বেল্ট ।এর সাহায্যে আপনি যে কোন জীব সে পাখি ,কুকুর ,মাছ সবার সাথে কথপোকথন করতে পারবেন ।আপনি ম্যাজিক হিয়ারিং নটটা আপনার কানে লাগালেন ,যার সাথে কথপোকথন করতে চান বেল্টটা তার গলায় জড়িয়ে দিলেন ,আপনি এবার সামনের জনের ভাষা পরিষ্কার বুঝতে পারবেন ।এই ভাবে বৃষ্টিরঞ্জন ক্যানিসের সাথে কথপোকথন করে দেখেছেন ।

বৃষ্টিরঞ্জনের এই দুটি আবিষ্কার সম্বন্ধে  ক্যালিফোর্নিয়ার সাইন্স জার্নালে এবং ওখানকার নিউস পেপারে বেশ ফলাও করে আলচিত হইয়েছে ,এর জন্য সারা পৃথিবী ব্যাপি বৃষ্টিরঞ্জনের নতুন নাম হইয়েছে ফাদার অফ ইনভেন্টার ।

মাহি অদ্ভুত শক্তির অধিকারী হইয়েছে ,মেয়েটার শরীরে ঘুম বলে কোন বস্তু নেই ,এর জন্য অথচ বৃষ্টিরঞ্জন চিন্তিত নয় কারন বৃষ্টিরঞ্জন মাহির ব্লাডসেল পরীক্ষা করে দেখেছে ,ওর রক্তে একটা বিশেষ সেল আছে যা মাহিকে ইন্সট্যান্ট এনার্জি দেয় ।মাহির কার্যক্ষমতা ,বুদ্ধিতে যে আগামীদিনে বৃষ্টিরঞ্জনকে ছাড়িয়ে যাবে এবং সাইন্টিস্ট হিসেবে তার মেয়ে যে বৃষ্টিরঞ্জনের থেকে বিখ্যাত হবে এ বিষয়ে বৃষ্টিরঞ্জনের সন্দেহ নেই ।রাত বারোটা  বাজে বৃষ্টিরঞ্জন আর মাহি এই মুহুর্তে একটি স্পেস্ক্রাফটের ছোট আদল তৈরী করার চেষ্টা করছে ।আগামী দিনে বৃষ্টিরঞ্জনের ইচ্ছে আছে তার এই স্পেস্ক্রাফটে করে হোমি আর সে অন্য গ্রহে  গিয়ে দেখবে তা মানুষের বাসযোগ্য কিনা ।এই বিষয়ে হোমির সাথে তার কথা হইয়েছে ,তারা যাবে আর মাহি থাকবে পৃথিবীতে ,তাদের যদি কিছু হয়ে যায় মাহি এই আবিষ্কারটা আগে নিয়ে যাবে ।

বৃষ্টিরঞ্জনের এবার ক্লান্ত লাগছিল সে মাহিকে বললো তুই দেখ মা ,আমি একটু ঘুমিয়ে নি । বৃষ্টিরঞ্জন বেড রুমে যেতে যেতে দেখলো হোমি নিজেকে স্ট্যান্ডবাই মুডে চার্জে রেখেছে । বৃষ্টিরঞ্জন ভাবছিল কি অদ্ভুত তার সংসার মানুষ ,মেসিন মিলেমিশে এক অদ্ভুত চিরিয়াখানা।মাহির যেদিন ডেলিভারি হলো সেদিন বৃষ্টিরঞ্জন চমকে উঠেছিল সদ্য জন্মানো মাহিকে কোলে নিয়ে ,পেট থেকে বেড়িয়েই মাহি বলেছিল ইফ আই ম নট রং ,ইউ আর মাই ফাদার ?মাহির বেড়ে ওঠার একএকটা দিন অন্য বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এক এক বছরের সমান ।মাহির বয়স এখন চার বছর বটে তবে সে এই তো ছ মাস আগে অল ইণ্ডিয়া পুনে সাইন্স সেমিনারে স্টেজে দাঁড়িয়ে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ।এই মেয়ে একদিন বৃষ্টিরঞ্জনের থেকে বড় সাইন্টিস্ট হবে ।

তখন বোধহয় রাত্রি দুটো মাহির গলার শব্দ শুনে বৃষ্টিরঞ্জনের ঘুম ভেঙে গেলো ।মাহি বলছে ওয়াট ইস দ্যাট থিং মম ,আই ম সিওর দ্যাটস নট আ স্টার ,হোমির গলা পাওয়া গেলো সে বলছে বাবা ঘুমোচ্ছে আস্তে ,মাহি বলছে আমি বাবাকে ডেকে আনি ওটা আসলে কি আমাদের দেখতে হবে । বৃষ্টিরঞ্জন

বিছানা ছেড়ে এগিয়ে গেলো তার রিসার্চ রুমের দিকে । বৃষ্টিরঞ্জন গিয়ে দেখলো মাহি তার ডিসটর্চটা একটা দুরবীনের সামনে লাগিয়ে আকাশের দিকে চোখ করে তাকিয়ে আছে । বৃষ্টিরঞ্জনকে দেখে মাহি বললো বাবা দেখো ওটা ইউ এফ ও নিশ্চয় ,মা বলছে তারা । বৃষ্টিরঞ্জন দুরবীন দিয়ে দেখলো একটা নিটল চোঙের মতো কিছু উজ্জ্বল হয়ে আকাশে ভাসছে ,হ্যাঁ ওটা তারা বা কোন স্যেটালাইট নয় । বৃষ্টিরঞ্জন যতদুর পড়াশুনা করে জেনেছে এখন অবধি গল্প না কল্পনায় মানুষ ইউ এফ ও বলে উল্লেখ  করলেও ,সাইন্স এখনো কোন এর প্রমান পাই নি । বৃষ্টিরঞ্জন ডিসটর্চের ভ্যানিস ফ্রিকোয়েন্সি বাড়িয়ে দিল এবং পরিষ্কার দেখতে পেলো ওই উজ্জ্বল চোঙের ভিতর অদ্ভুত কিছু প্রাণীর নড়াচড়া ।প্রাণীগুলো অদ্ভুত দেখতে আন্দাজ সাইজ তিন ফূট ,শরীর বলতে থলথলে মাংস ,গা দিয়ে আলো বেরোচ্ছে তাদের ,মাথাটা প্রায় শরীরের তুলনায় তিনগুন ,দুটো বড় বড় ঝুলে পড়া চোখ ,ঠোঁটের বদলে ফটের,মাথায় দুটো লম্বা সিং ,সিঙের আগায় নীল রঙের আলো জ্বলছে।দেখতে দেখতে সকাল হয়ে আসছিল বৃষ্টিরঞ্জন হোমিকে বললো ক্যামেরাটা দিতে । বৃষ্টিরঞ্জন ডিসটর্চের ফ্রিকোয়েন্সি কমিয়ে বাড়িয়ে ওই উজ্জ্বল চোঙটার এবং তার ভিতরের অদ্ভুত প্রাণিগুলোর বেশ কিছু ছবি তুলে রাখলো ।

আজ সারাদিন বৃষ্টিরঞ্জন আর মাহি  অন্য গ্রহের জীব  সম্পর্কে বিস্তর পড়াশুনা করেছে । বৃষ্টিরঞ্জন তার ডিসটর্চে আজ নতুন এক আলোর ফ্রিকোয়েন্সি যুক্ত করেছে যার মাধ্যমে ওই চোঙের মতো উজ্জ্বল যানটায় সঙ্কেত পাঠানো যায় ।মাহি এই ব্যাপারে বেশ উত্তেজিত ,সে সমস্ত ইন্সাইক্লোপিডিয়া খুলে ওই অদ্ভুত প্রাণীগুলোর অনেক গুলো স্কেচ করেছে ।হোমি আজ কাজে যায় নি সেও বৃষ্টিরঞ্জনকে বিভিন্ন তথ্য  সংগ্রহে সাহায্য করেছে ।আজ সন্ধ্যের মধ্যে তরফদার পরিবার সকলে রেডি হয়ে দুরবীন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র  নিয়ে ছাদে উঠে এসেছে ।

তখন রাত বারোটা হবে বৃষ্টিরঞ্জন গত দুঘণ্টা ধরে দুরবীনের আর ডিসটর্চের সাহায্যে আকাশে সেই উজ্জ্বল চোঙের উদ্দেশ্যে স্যিগনাল পাঠিয়ে চলেছে আর মাহি অন্য এক দুরবীনে চোখ রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছে ।মাহি হঠাত চিৎকার করে উঠলো ওইতো কিছু একটা নামছে ।বলতে বলতেই তরফদারদের বাগানে ওই উজ্জ্বল চোঙটা প্রচন্ড ধাতব শব্দ করে নেমে এলো ।দোতলার ছাদ থেকে বৃষ্টিরঞ্জন সহ মাহি আর হোমি তাদের বাগানে ছুটে গেলো ।ওই তো দরজা খুলছে ,ওই যে অদ্ভুত প্রাণিগুলো । বৃষ্টিরঞ্জন এগিয়ে গেলো ,একটা প্রাণী প্রায় দশ ফুট লম্বা ওই চোঙটার সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলো ,হাত বাড়িয়ে দিলো বৃষ্টিরঞ্জনের দিকে কিন্তু মুখে কি একটা বলছে  প্রাণিটা ?বোঝা যাচ্ছে না ।হোমি বুদ্ধি করে ওপর থেকে ছুটে বৃষ্টিরঞ্জনের আবিষ্কৃত সেই নট আর বেল্টটা নিয়ে এসে বেল্টটা অদ্ভুত প্রাণীটার হাতে দিয়ে ইঙ্গিত করলো গলায় পরতে ।ম্যাজিক নট বৃষ্টিরঞ্জনের কানে , বৃষ্টিরঞ্জন নিজে বিশ্বাস করতে পারছিল না সেই অদ্ভুত প্রাণীটা বিশুদ্ধ বাংলায় বলছে হ্যালো ! আমি প্যাগলভ ,আমি আকাশের পাঁচ হাজার কোটী আলোকবর্ষ দূরে হোচি গ্রহে থাকি ।এটা কোথায় ?তুমি কে ? বৃষ্টিরঞ্জন উত্তর দিলো এটা পৃথিবী সৌরমণ্ডলের তৃতীয় গ্রহ ,আমি বৃষ্টিরঞ্জন,এ আমার মেয়ে মাহি ,ইনি হোমি ,আমি একজন সাইন্টিস্ট ।প্যাগলভ বললো তোমার স্ত্রী তোমার মতো না মেসিন । বৃষ্টিরঞ্জন উত্তর দিল মেসিন কিন্তু আমার মেয়ের মা ,আমার মেয়ে কিন্তু মেসিন না ।প্রাগলভ বললো তুমি মস্ত বড় সাইন্টিস্ট ,আমাদের গ্রহে অনেক সাইন্টিস্ট আছে তোমাকে আমন্ত্রন রইলো আমাদের গ্রহে ।এইবার বৃষ্টিরঞ্জন প্রাগলভকে বললো সে আর মাহি  একবার ওই উজ্জ্বল চোঙের মতো যানটা ঘুরে দেখতে চাই কারণ ভবিষ্যতে এমন একটা যান তিরী করার ইছছা আছে তার ,প্রাগলভ খুব যত্ন নিয়ে তাদের সেই উজ্জ্বল চোঙের মতো যানটা ঘুরিয়ে দেখালো ,যানের ভিতর প্রাগলভ তার স্ত্রী আর সন্তানের সাথে পরিচয় করালো আর একটা উজ্জ্বল ফল বৃষ্টিরঞ্জনকে দিল খেতে ,প্রাগলভ জানালো এ তাদের গ্রহের গাছের  ফল ,এই ফল খেলে নাকি কারোর কোন রোগ হতে পারে না । বৃষ্টিরঞ্জন ফলটা খেলো না সে ভবিষ্যৎ মানুষের উন্নতির জন্য এবং ফলটা রিসার্চের জন্য পকেটে রাখলো ।ইতিমধ্যে ভোর হয়ে আসছিল প্রাগলভ বললো এইবার তো যেতে হবে বন্ধু , বৃষ্টিরঞ্জন বন্ধুত্বের স্বীকৃতি হিসাবে তার আবিষ্কৃত হেয়ারিং ব্যান্ড আর নটটা প্রাগলভকে দিয়ে দিল ।একিরকম সেই উজ্জ্বল চোঙের দরজাটা বন্ধ হলো ,আকাশের দিকে উড়ে গেলো ।মাহি হাত নাড়লো সেই উজ্জ্বল চোঙের দিকে তাকিয়ে ।

পরেদিন দেখা গেলো তরফদারের বাগানের যে অংশে সেই ধাতব উজ্জ্বল যানটা নেমেছিল সেখানে অনেক নীল রঙের ফুল ফুটেছে ।পাড়ার লোকেরা বললো গত রাতে নাকি পাগলা সাইন্টিস্টের বাড়িতে ভুত এসেছিল ।আর মাহি আর বৃষ্টিরঞ্জন এখন নতুন এক এক্সপেরিমেন্টে ব্যাস্ত প্রাগলভের দেওয়া নতুন উজ্জ্বল ফলে এমন কি আছে যাতে রোগ নিরাময় হয় আর অন্য গ্রহের যাওয়ার উড়ো  কি করে তৈরী করা যায় ।

Thursday, May 20, 2021

মিস্টার অনিরুদ্ধ

 

 

মিস্টার অনিরুদ্ধ

... ঋষি

 

পৃথিবীতে  আদিম রিপুদের মধ্যে অন্যতম ক্রোধ ।মিস্টার অনিরুদ্ধ পাঠক ডি এস পি কোলকাতা পুলিশ এই মুহুর্তে রাগে ঠক ঠক করে কাঁপছেন কারন আর এক ইঞ্চির জন্য তার বুলেট টা অপরাধীকে না ছুঁয়ে চলে গেলো আর সেই ফাঁকে অপরাধী চম্পট।মিস্টার পাঠক এই মুহূর্তে কলকাতা পুলিশের সবচেয়ে প্রতিভাবান পুলিশ অফিসার ,তার দাপটে এই মুহূর্তে কলকাতার ক্রিমিনাল এক্টিভিটি অনেক কমেছে ।কিন্তু শেষ চারসপ্তাহে এক খুনীর দাপটে কলকাতায় চারটি খুন হয়েছে ,প্রতিবারে খুনী খুব সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে একইরকম ভাবে খুনগুলো করেছে,কোন প্রমান সে রাখে নি ।,কলকাতা গোয়েন্দা ডিপারট্মেন্ট এর কাছ থেকে খবর ছিল আগেভাগে এইবার ,কিন্তু সামান্য দেরি করে পুলিশ ব্যবাসায়ীর বাড়ি পৌঁছোয় আর খুনী শেষ মুহূর্তে ছাদ বেয়ে পালাবার সময় মিস্টার পাঠক গুলিটা করেন কিন্তু এক ইঞ্চির জন্য গুলিটা ফস্কায়,খুনী সেই সুযোগে চম্পট ।এই কেসে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার খুনীর টার্গেট সকলেই বড় বড় ব্যাবসায়ী ,খুনীর সাথে ব্যাবসায়ীদের কোন আগের যোগাযোগ নেই ,নেই কোন শ্ত্রুতা ,খুনের মটো তাই কিছুতেই ক্লিয়ার নয় পুলিশের কাছে ।

                                          মিস্টার অনিরুদ্ধ বাড়ি ঢুকলেন ,তার ল নিয়ে কলেজে পড়া মেয়ে প্রিয়া ছুটে এলো বললো কি নিপাত হলো ?অনিরুদ্ধ চমকে উঠলেন ,প্রিয়া কি করে জানলো ।প্রিয়া বুদ্ধিমতি মেয়ে সে বাবার মুখ দেখে বললো ,পালিয়েছে তাই ডিপ্রেসড ।অনিরুদ্ধ বললো তুই কি করে জানলি ?প্রিয়া হেসে বললো যেদিন তোমার কোন ক্রিমিনাল অপেরেশান থাকে তুমি সকালে ঘুম থেকে উঠে এক্সারসাইজ করো ,কম কথা বলো ,আর যদি অপেরাশান সাকসেসফুল হয় বাড়ি ফিরে প্রচুর কথা বলো আর ফেইলুওর হলে মুখ ছোট হয়ে যায় তোমার ।অনিরুদ্ধ অবাক হলও প্রিয়া তার মা মরা মেয়ে ,অনেক যত্নে তিনি তাকে মানুষ করছেন ,সে কত বড় হয়ে গেছে ।অনিরুদ্ধ মনে মনে মেয়েকে নিয়ে গর্ব বোধ করলেন এতটুকু মেয়ের লক্ষ্য দেখে ,তবু তিনি মুখে বললেন আজ কলেজ যাও  নি কেন ?প্রিয়া বললো কলেজ মানুষকে বইয়ের শিক্ষা দিতে পারে কিন্তু মানুষের গভীর শিক্ষা তার বোধ ,সুবিনয় বলে যতদিন এই দেশে উঁচু নিচু গরীব বড়লোক ভেদাভেদ থাকবে এই দেশের কিছু হবে না ।মিস্টার অনিরুদ্ধ ধ্মকের সুরে বললেন তোমাকে না বলেছি ওই ডেঁপো ছেলেটার সাথে একদম মিশবে না ,মা বাপের ঠিক নেই তার । প্রিয়া বললো সুবিনয় বলে যারা খুব সহজে খাবার ,শিক্ষা আর চিকিৎসা পায় তারা আসলে দেশের সাধারন  মানুষের ব্যাথা বুঝবে না ,এই ভারতের আজো সত্তর শতাংশ দেশবাসীর জাতীয় ইনকাম মাসে তিনশো টাকা ,তারা বাঁচে কি করে আমরা শহরবাসীরা তার খবর রাখি না কারন আমরা স্বার্থপর টাকার গোলামী করি ।যতদিন না মানুষের অর্থনীতিতে সাম্যতা আসবে ততদিন দেশের প্রগতি সম্ভব নয় ।মিস্টার অনিরুদ্ধ খানিকটা তন্ময় হয়ে মেয়ের কথা শুনছিলেন ,তিনি এবার বললেন এত ডেঁপোমি করতে হবে না যাও অঞ্জলিদিকে খেতে  দিতে বলো আমি চান করে আসছি তারপর বিকেলে আজকের গল্পটা বলবো ।

অনিরুদ্ধ ঘুম থেকে উঠে অঞ্জলিকে এককাপ চা দিতে বসে খবরের কাগজটা খুলে বসলেন ,খবর পড়ে চমকে উঠলেন ,গড়িয়াহাটের সিমেন্ট ব্যাবসায়ী শ্যামসুন্দর আগারওয়ালের খুন ,খুনের অস্ত্র প্লাস্টিক ব্যাগ ,শ্বাস রোধ করে খুন করা হইয়েছে।অনিরুদ্ধ অবাক হলেন কাল ওই ভদ্রলোককেই একটুর জন্য বাঁচানও গেছে কোনরকম আজ সে আর নেই ,খুন ।গতকাল থেকে ওই গড়িয়াহাটের ব্যাবসায়ীর বাড়িতে পুলিশ প্রোটেকশান লাগানো হয়েছিল ,তা সত্বেও পুলিশকে কাঁচকলা দেখিয়ে খুন ,এ তো রীতিমত সিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ ।মুডটা সকাল সকাল তেতো হয়ে গেলো অনিরুদ্ধের ,আএ এই সময় হাতের মুঠোফোনটা বেজে উঠলো ,অফিসের ফোন ,অনিরুদ্ধকে ইমিডিয়েট রেপোর্ট করতে বলা হইয়েছে হেডফিসে ।

 

 

হেডঅফিস থেকে বেড়িয়ে এলো অনিরুদ্ধ,রাজ্যের মন্ত্রী থেকে সমস্ত আমলারা ছিল মিটিং এ  ।অনিরুদ্ধ সহ সমস্ত পুলিশফোর্স কে রীতিমত ওয়ারনিং দেওয়া হলো ,একটা রাজ্যে এত পুলিশ ,গয়েন্দা এত শক্তি থাকা সত্বেও পর পর পাঁচটা খুন ,এদিকে মিডিয়া নাকি মাথার চুল ছিঁড়ে নিচ্ছে ,লজ্জা কি লজ্জা ! অনিরুদ্ধের উপর ভরসা রেখে মন্ত্রী বলেছেন পারলে আপনি পারবেন অনিরুদ্ধ বাবু ,আপনার হাতে সাতদিন আছে ,আপনাকে সমস্ত ক্ষমতা দেওয়া হলো,খুনীকে জীবিত বাঁ মৃত যেমন পারুন ধরুন ।

 

প্রিয়া দেখছে কলেজের গেটে সুবিনয় একটা মঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রর নীতি সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ের উপর কিছু বলছে ,তাকে ঘিরে আছে অনেক স্টুডেন্ট ।সুবিনয় যা বলে তার বেশিরভাগ প্রিয়ার মাথার উপরদিয়ে বেড়িয়ে গেলেও কিছুটা ঢুকছে ।সুবিনয় বলছে কোন রাষ্ট্র একদিনে নিজের পায়ে দাঁড়ায় না তার পেছোনে থাকে সাধারন মানুষের ঘাম ,রক্ত আর সার্থহীন সত্যি ।যদি দেশ গড়তে হয় সাম্যতা দরকার ,দরকার মানুষের বেঁচে থাকার সমস্ত অধিকারের সমঅধিকার আর অধিকার কেউ দেয় না ,ইতিহাস সাক্ষী তা কেড়ে নিতে হইয়েছে চিরকাল ।সেই কারণে আগামী ১৭ ই জুন আমরা গান্ধিমুর্তির পাদদেশ অবধি মিছিল করবো ,বন্ধুরা আপনাদের উপস্থিতি কাম্য ।

প্রিয়া আর সুবিনয় হেঁটে যাচ্ছে কলেজস্ট্রিট দিয়ে পাশ দিয়ে একটা ট্রাম এগিয়ে যাচ্ছে বউবাজারের দিকে ।প্রিয়া বলছে সে আর হাঁটতে পারছে না সাথে গাড়ি থাকা সত্বেও হাঁটাটা বোকামি ,কিন্তু সুবিনয় কিছুতেই  গাড়িতে চলে না ,সে বলে আরাম মানুষকে নষ্ট করে ,সে প্রিয়াকে বলেছে এই যে প্রিয়ার বিলাব্যাসন ,গাড়ি ,বাড়ি সব তার বাবা কাউকে না কাউকে ডিপ্রাইভ করে করেছে ।সুবিনয়ের মতে যে দেশে অর্ধেকের উপর মানুষ প্রতিদিন প্রায় না খেয়ে থাকে সে দেশে গাড়ি চড়াটা অপরাধ ।প্রিয়া বলে সে তার বাবার একমাত্র মেয়ে ,তার বাবার সবকিছু তারই অধিকার ,সুবিনয় ফস করে জ্বলে ওঠে ,অধিকার !আর সাধারন মানুষের অধিকার ,আমার যদি ক্ষমতা থাকতো এই অধিকারওয়ালা গুলোকে আগে গুলি করে মাড়তাম ।তারপর সুবিনয় বললো ধর একদিন আমি তোর বাবার মাথায় বন্ধুকের নল ধ রে আছি তুই কি করবি ,আমাকে ভালবাসবি নাকি বাবার গলা জড়িয়ে ধড়বি ।প্রিয়া বললো সুবিনয় তুমি যদি বাবার সম্পর্কে এমন বলো আমি তোমার সাথে কোন সম্পর্ক রাখবো না । ছোটবেলায় মা মারা গেছে আমার বাবা অনেক কষ্ট করে আমাকে বড় করেছেন ।এইসময় একটা মারুতি ভ্যান এসে থামলও কতগুলো ছেলে আর সুবিনয় মিলে প্রিয়াকে জোর করে গাড়িতে তুলছে ,তারা কি যেন চেপে ধরেছে একটা প্রিয়ার নাকে ,প্রিয়া আর চেয়ে থাকতে পারছে না ।

প্রিয়ার মুখের উপর জল ছেটাচ্ছে সুবিনয়,প্রিয়া চোখ খুলছে ।প্রিয়া চোখ খুলে বুঝতে পারছে সে একটা নোংরা বস্তির মতো কোথাও আছে ,চারদিকদিয়ে দুর্গন্ধ আসছে ,সুবিনয় প্রিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছে ,কি বিশ্বাস হচ্ছে না তো ,আমারও হচ্ছে না ,আর কোন উপায় ছিল না ,একদিন আগে তোর বাবার কারণে মরতে মরতে বেঁচেছি ,কি করছি আমরা ?একটা সম, অধিকারের দেশ চাইছি ,অন্যায় ।আর তোর বাবা সময়ের দালাল হয়ে আমাদের বিপ্লবের বুকে ছুরি মারছে ।  মা কসম বলছি অনিরুদ্ধ পাঠক তোর বাবা না হলে শেষ করে দিতাম ,তোর বাবা বলে তোকে গায়েব করলাম ।সুবিনয় তোর কোন ক্ষতি আমরা করবো না শুধু তোর বাবাকে এই কেস থেকে সরতে হবে , দেখা যাক তোর বাবা তোকে কত ভালোবাসে ।জল খাবি বলে সুবিনয় প্রিয়ার মুখের বাঁধনটা খুলে দিল ,প্রিয়া একমুখ থুথু ছুঁড়ে মারল সুবিনয়ের মুখে তারপর বললো এই জন্য বাবা তোমার সাথে মিশতে বারণ করতো আমি শুনি নি ,বাবা ঠিক বলে বাপ মায়ে খেদানো ছেলে ,আর কি আশা করা যায় তোমার  থেকে ।প্রিয়া বল;ছে সুবিনয় আমি তোমাকে বাহাদুর ভাবতাম ,কিন্তু তুমি খুব সাধারণ ,শুধু মুখে বড় কথা বললে বিপ্লব হয় না ,তুমি আমাকে কিডন্যাপ করে বিপ্লব করবে ।সুবিনয় আর সহ্য করতে পারলো না ,এক থাপ্পড় মারলো প্রিয়াকে ,বললো ,মানুষের সমঅধিকারের জন্য যদি আমি পাঁচটা খুন করতে পারি তবে তোকে খুন করতে আমার বাঁধবে না ,তাছাড়া আমি দোষ করলে তুইও করেছিস ,তুই তোর বাবার সব খবর আমাকে দিস আর টাকা পয়সা দিয়েও আমাদের হেল্প করিস । প্রিয়া কেঁদে উঠলো তুমি আমাকে ইউটিলাইস করলে সুবিনয় দা ?

দিল্লী থেকে গোয়েন্দার বড় অফিসার মিস্টার ভাটস এইমুহুর্তে  দাঁড়িয়ে আছেন দুটো মৃতদেহের সামনে ।উনি ধীরে ধীরে মৃতদেহদুটির মুখের ঢাকনা সরালেন প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বল্লেন চিনতে পারছো ?প্রিয়া কেঁদে উঠলো তার বাবা আর সুবিনয়দা ।মিস্টার ভাটস খুব শান্ত হয়ে প্রিয়াকে বললেন তুমি এর সম্বন্ধে কিছুই জানতে না তাই না ?তুমি কিডন্যাপ হবার পর তোমার বাবা আর সুবিনয়ের দল মিলে মন্ত্রীর মেয়েকে কিডন্যাপ করে ,আসলে তোমার বাবা ভয় পেয়ে গেছিলেন ওনাকে ডেকে যখন সাতদিন সময় দেওয়া হয় খুনীকে ধরতে ।তোমার বাবাই তোমাকে কিডন্যাপ করান যাতে তার  দিকে কোনভাবে কেউ আঙ্গুল না তুলতে পারেন ,কিন্তু ভুল করেন অন্য জায়গায় ,তিনি যে চিঠিটা মেয়ের কিডণ্যাপারের চিঠি বলে কেস থেকে সরে যেতে চান সেটা আমাদের এক্সপার্টরা তোমার বাবার হাতের লেখা বলে ধরে ফেলেন ,তবুও আমদের কাছে মোটিভ ক্লিয়ার হচ্ছিল না।আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তোমার মা যখন মারা যান ,তুমি তখন তুমি খুব ছোট ,উনি তখন মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ,বেশ কিছুদিন সেই সময় অনিরুদ্ধ বাবু পাগলা গারদে ছিলেন ,পরে তিনি সুস্থ ভাবে ফিরে আসেন কিন্তু নিয়মিত তিনি অষুধ খেতেন ।তিনি অপেক্ষা করছিলেন তোমাকে বড় করার জন্য।সুবিনয়ের সাথে পরিচয় ওনার সেই পাগলা গারদে থাকা কালীন ,পাশের একটা অনাথ হোস্টেলে সুবিনয় পড়তো ,খোঁজ নিয়ে জেনেছি সুবিনয়ের পড়ার খরচা সমস্তটাই অনিরুদ্ধ বাবু চালাতেন ।অনিরুদ্ধ বাবুর মধ্যে আসলে দুটি চরিত্র বাস করতো একজন বাবা এবং একজন নকশাল । নিজেকে তিনি একজন বিপ্লবী নকশাল মনে করে সুবিনয়ের মতো কিছু লক্ষ্যভ্রস্ট যুবকদের নিয়ে দল তৈরী করেন পুঁজিবাদী মানুষ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ,কিন্তু উনি ভুলে গেছিলেন এটা নকশাল  যুগ নয় ,এটা পুঁজিবাদী যুগ নয় এ যুগ সাধারন মানুষের ।যাই হোক মিস প্রিয়া আমরা মানে মন্ত্রীসভার কেউ চান না তোমার বাবার কথা জানাজানি হোক তবে লোকে পুলিশের উপর আর বিশ্বাস রাখতে পারবে না ,বরং আমরা সংবাদ মাধ্যমে এই কথা বলবো মিস্টার অনিরুদ্ধ কিছু কুখ্যাত সমাজবিরোধীর সাথে গুলির লড়াইয়ে নিজের কর্তব্যরক্ষায় মারা যান ।প্রিয়া এই সময় বাবাকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো ।

Monday, May 17, 2021

বীরপুরুষ

 


বীরপুরুষ

... ঋষি

 

ঘুম ভেঙে উঠে বসলো বিনু ,পাশে মা নেই ,এই খাটে বিনু ঘুমোয় না,এটা ঠাকুমার খাট ।পাশের ঘরে বাবার গলার স্বর পাওয়া যাচ্ছে ,ঠাকুমাকে বলছে বাবা , মা এত ভেবো না মিনু ঠিক হয়ে যাবে ।এখন করোনা অনেকের হচ্ছে আবার ঠিক হয়ে যাচ্ছে,এত ভেবো না ।বিনুর মা আজ পাঁচ দিন হলো হাসপাতালে ভর্তি ।কি যে এক রোগ এসেছে পৃথিবীতে ,সবাইকে ঘর বন্দী করে রেখেছে । বিনু ক্লাস টু  থেকে থ্রিতে  উঠে গেলো স্কুলে না গিয়ে অনলাইনে পরীক্ষা দিয়ে ।এখন লকডাউন চলছে ,বাবারও অফিস বন্ধ ,বিনু আড়াল থেকে দেখেছে ঠাকুমা খবর শুনলে খালি কাঁদে ।বাবা বন্ধুদের সাথে ফোনে কথা বললে সে  শুনেছে বাবাকে বলতে আর চলছে না বুঝলি এই তো লকডাউন থেকে উঠলাম তার মধ্যে আবার লকডাউন ,জমানো টাকা প্রায় শেষ তারমধ্যে মিনু হাসপাতালে ,সংসারটা বাঁচাতে পারলে হয় ।বিনু মাঝে মাঝে ভাবে সংসার মানে কি ?ছোটবেলায় সে পড়েছে ফ্যামিলি ,বাবা ,মা ,ঠাকুমা ,দাদু  এদেরকে নিয়ে ফ্যামিলি ।দাদু মারা গেছেন আগের বছর করোনাতেই ,বাবা ঠাকুমা সবাই খুব কেঁদেছিল ,মা বলেছিল বিনুকে দাদু নাকি অন্ধকার আকাশের তারা হয়ে গেছেন। ঠাকুমার এখন  শোয়ার ঘরে খাটের পাশে দাদুর একটা ছবি আছে ।

কাল রাতে বিনু একটা স্বপ্ন দেখেছে ,দাদুর সাথে সে পার্কে গেছে ,পাশের বাড়ির  অঞ্জলি দি আর সেই ধিমান বলে দাদাটা পাশাপাশি বসে গল্প করছে ।একটা ষাঁড়দু ম করে কোথা থেকে ছুটে আসছে অঞ্জলি দির দিকে ,ধিমান দা ছুটে পালিয়ে গেলো অঞ্জলিদিকে ফেলে ,বিনু বীরপুরুষ হয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ালো ষাঁড়টার ,ষাঁড়টা পালাচ্ছে ।অঞ্জলি দি বিনুকে কোলে তুলে চুমু খাচ্ছে ,কি অসভ্য বিনু দি ,সে কি আর ছোট আছে নাকি ? দাদু হাততালি দিচ্ছে ।বিনু ঠাকুমার গলা শুনতে পাছছে ঠাকুমা বলছে দাদুভাই এইবার মুখ ধুয়ে নেও তোমার অনলাইন ক্লাস শুরু হবে ।

বিনুর আর ভাল লাগছে না ,এই দুপুরে সারা বাড়ি শান্ত ।বাবা খবরের কাগজ পড়ছে ,ঠাকুমা ঘুমোচ্ছে ,বিনু অনেক্ষন ধরে একটা কাগজের প্লেন তৈরি করতে চাইছে পারছে না ,মা বলেছিল শিখিয়ে দেবে ।বাইরে একটা কোকিল ডাকছে অসময়ে ,বিনু জানে কোকিল বসন্ত কালে ডাকে ,এখন তো গ্রীষ্মকাল কোকিল ডাকছে কেন ? বিনুর মায়ের জন্য মন খারাপ করছে ,মায়ের মতো কেউ ভালোবাসে না তাকে ,সে উঠে গেলো বাবার কাছে ,বাবাকে প্রশ্ন করলো ,বাবা মা কবে আসবে ।বাবা বিনুকে কোলে বসিয়ে বললো আসবে তো খুব তাড়াতাড়ি ।বিনু বাবাকে বললো আমাকে একটা কাগজের প্লেন তৈরি করে দেবে ?

আজ সন্ধ্যে থেকে বিনুর মাথাটা ভারি লাগছে ,বাবাকে খুব চিন্তিত লাগছে ,ডাক্তার কাকুকে ফোন করে বাবা বলছে হ্যাঁ  জ্বর আছে ১০১.১ ডিগ্রি ।বাবা ফোন নামিয়ে ঠাকুমাকে বলছে আমি ওষুধ নিয়ে আসছি মা তুমি ভেবো না ।

ঠাকুমা বলছে ছেলেটা হয়েছে বাদর ,সারা দুপুর জেগে থাকে একটু ঘুমোয় না ,বৌমা হাসপাতালে ভর্তি হাতির পাঁচ পা দেখেছে  ,ঠান্ডা গরম লেগেছে ।আমার বয়স হয়েছে আর আমি পারি  না ,একলা হাতে কত করা যায়। বিনু ভাবছে আচ্ছা মা থাকলে কি ঠাকুমার মতো এমন করতো তার জ্বর এলে ,নাকি বুকে জড়িয়ে বলতো দেখ দুষ্টুমি করিস এত, জ্বর এলো ,এখন আমি কি করি বাবু ?

                    বিনু এখন আর চোখ খুলে চাইতে পারছে না ,সে অদ্ভুত ঘোরে যেন স্বপ্ন দেখেছে ।আকাশের গায়ে লাল লাল অক্ষরে লেখা লকডাউন ।সারা আকাশময় হাজারো কাগজের এরোপ্লেন ,প্রতিটা এরোপ্লেনের উপর এক একজন বসে ।ওইতো মা ,ওইতো বাবা ,দাদু ,ঠাকুমা ,অঞ্জলি দি,ধিমান দা ,স্কুলের দিদিমণি,

শুধুই উড়ছে ।সবাই চীৎকার করছে আর পারছি না ,আর পারছি না ......।

বিনু যেন রবিঠাকুরের বীরপুরুষ,তার হাতে এক বিশাল হাতুড়ি ,সে বলছে আমি সব তালা ভাঙছি এখুনি  ।এই দেখো ভাঙলাম স্কুলের তালা ,এই দেখো ভাঙছি বাজারের তালা ,এই যে বাবা তোমার অফিসের তালা ,মা তোমার হাসপাতালের তালা ।

বিনু আজ চারদিন পর চোখ খুললো ,তার পাশে মা রয়েছে ,মা কবে ফিরে এলো ?মা বাবাকে বলছে কি গো কিছু করো না ,বাবুর যে জ্বর কমে না ,বাবা বলছে তুমি এত চাপ নিয়ো না সদ্য সুস্থ হয়েছো ,বাবুর করোনা হয় নি ,রিপোর্ট নেগেটিভ।বিনু মাকে বললো ক্লান্ত গলায় মা তুমি ভেবো না ,আমি বীরপুরুষ ঠিক হয়ে গেছি ,বলে ভাবের ঘোরে আবৃত্তি করতে লাগলো

মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে

মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে ......।