বাইকে স্টার্ট
............... ঋষি
========================================================
আমার পৃথিবীতে ছড়ানো দৈনন্দিন সারেঙ্গীর বাইরে আলাদা পৃথিবী ,যেখানে স্পর্শ করে না কোনো খবরের পাতা ,দৈনন্দিন বেকার থাকার গঞ্জনা,সেখানে প্রচুর আলো আর স্বপ্নের ভিড় । সেখানে পৃথিবীর আলোতে আরেকবার যদি জন্ম নেওয়া যায় কি হওয়া যায় শচীন তেন্ডুলকার ,প্লিস যেন আরেকবার শঙ্কর না হয়ে জন্মায়। এমনতর চিন্তা শঙ্করের আজকাল মাথাচাড়া দেয়।
মা হারা শঙ্কর সান্ন্যাল ,বাড়ি নদীয়ায় ,আজ সাত মাস হলো শঙ্করের বর্তমান বাস কলকাতা একটি চায়ের দোকান। দুচোখে স্বপ্ন বড় মানুষ হওয়ার। বাবার মৃত্যু শয্যায় শঙ্করের পৃথিবী ভেঙ্গে পরে। বাবা সাধারণ অফিসের কেরানী ছিলেন ,শঙ্কর তখন সদ্য এইচ এস পাস কলেজে ভর্তি হয়েছে । নিজের জ্ঞাতি গুষ্ঠির কেউ পাশে দাঁড়ায় নি শঙ্করের বাবার মৃত্যুর দিন। বাড়ির সামনে ক্লাবে শঙ্কর কেরাম পিটছিল ,বাবা অসুস্থ ছিল জানতো শঙ্কর।দুপুরে ভাত খেতে এসে বাবার শরীরটা পরে ছিল দরজার কাছে। শঙ্কর কাঁদে নি বাবার মৃতদেহে আগুন দিয়ে শুধু বুঝেছিল শেষ বাঁধনটা ছিঁড়ে গেল। পাড়ার জ্যেঠুরা স্বান্তনা দিয়েছিল বাবা তো চিরকালের নয় কিন্তু কিছুদিন থাকার পর খিদের জ্বালায় বুঝেছিল এখানে আর নয়। আর কোনো পিছুটান ছিল না শঙ্করের একমাত্র মালতী বাদে। মালতী পাশে বাড়ির হারান কাকুর মেয়ে। ছোটবেলা থেকে একসাথে মানুষ হয়েছে। শঙ্কর মা বেঁচে থাকতে মালতীর মা বন্ধু ছিল ,আর সেই সুত্রে তাদের ছেলে মেয়েদের সম্পর্ককে তারা বাঁধতে চেয়েছিল। মা নেই,বাবা ও মারা গেছেন শঙ্কর একদিন দুপুরে লক্ষীর ঘট ভেঙ্গে শেষ সম্বল ২৪২ তা ৬০ পয়সা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল তখন দেখেছিল মালতীর চোখে জল।
কলকাতা এসে শঙ্কর তাজ্জব হয়ে গেল। এমন শহর পৃথিবীতে আছে ,শহরটা ছুটছে দিনরাত। কখনো শান্ত হয় না এ শহর ,কোনো কারণেই থামতে চায় না এই শহর। বড় ভয় পেয়েছিল সে কিন্তু বুঝেছিল বাঁচতে গেলে ছুটতে হবে এই শহরে ,না হলে মৃত্যু নিশ্চিত। কিছুদিন মুটেগিরি করলো হাওড়া স্টেসনে বুঝলো একাজ তার নয়। তারপর আজ পাঁচ মাস এই সল্টলেকে অফিস ঘেঁষা চায়ের দোকানে। তার কাজের সময় সকাল ছটা থেকে রাত্রি সাতটা ,তারপর ছুটি ,মাইনে বারোশো টাকা। আজ পাঁচমাসে শঙ্কর হাজার তিনেক টাকা জমিয়েছে কিন্তু মনে শান্তি নেই তার ,কারণ সে জানে এই কাজ তার নয়। পাশের অফিসের ব্রতীন বাবুকে শঙ্কর বলেছে অফিসে একটা চাকরির জন্য। ব্রতীন দা বেশ ভালো ,মাঝে মাঝে তার খবর নেয়,অফিসে চা দিতে গেলে দু -পাঁচ টাকা বকশিশ দেয়।
আজ শঙ্করের বেশ আনন্দের দিন ব্রতীনদার অফিসে তার অফিস বয়ের চাকরিটা তার হয়ে গেছে।মাইনে তিন হাজার টাকা ,ব্রতীন দাকে কি বলে ধন্যবাদ দেবে বুঝে পায় না শঙ্কর। এই অফিসে কাজ কিছু নেই ,একটু বোতলে জল ভরে দেওয়া,ফাইল এই টেবিল থেকে ওই টেবিলে দেওয়া ,বেশির ভাগ অফিসের একটা বেঞ্চে বসে থাকে শঙ্কর।বসে বসে জীবন্ত স্বপ্ন দেখে ব্রতীনদার
গার্ল ফ্রেইন্ড বৃষ্টিদির মত সেও মালতীকে নিয়ে বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে তারপর দূর বহু দূর। মনটা মুরচে ওঠে শঙ্করের মালতীর জন্য। মনে পরে যায় দেশের বাড়ির কথা। মালতীকে নিয়ে শঙ্কর লুকিয়ে চুরিয়ে সাইকেলে করে নদীর পারে ঘুরছে। মালতীর চুলের গন্ধ ,মিষ্টি হাসি সব কিছু মনে পরে যায় শঙ্করের। পুজোর সময় অফিস বন্ধ থাকে পাঁচদিন। তখন শঙ্কর দেশের বাড়ি যাবে একবার।
আজ পঞ্চমী, অফিসের ছুটি শুরু আজ থেকে। ভারী মজা শঙ্করের ,বেশ কিছু টাকা জমিয়ে ফেলেছে সে। ব্রতীন দা তাকে একটা ব্যাঙ্ক এক্যাউন্ট খুলে দিয়েছে। অনেক টাকা বকশিশ পেয়েছে সে অফিসের সবার কাছে। তার হাসিখুশি স্বভাবের জন্য সে অফিসে বেশ প্রিয়। ট্রেনে চড়ে বসলো শঙ্কর,সে ভীষণ খুশি তার সাথে মালতীর দেখা হবে প্রায় একবছর পর। ট্রেন ছুটছে ,শঙ্কর মালতীর জন্য কেনা শাড়ি,কাঁচের চুড়ি সব বুকে আগলে ছুটে চলেছে ট্রেনের আগে স্বপ্নের দেশে। শঙ্কর বাইকে স্টার্ট দিল ,বৃষ্টিদির মালতী বাইকের পিছনে উঠে বসলো। স্বপ্ন দেখতে দেখতে শঙ্কর ঘুমিয়ে পড়লো কখন যেন।
শঙ্কর ফিরে এসে অফিসে যোগ দিয়েছে আজ এক সপ্তাহ হলো। মনটা তার ভালো নেই। যখন কোনো স্বপ্ন যখন কাঁচের মত টুকরো টুকরো হয়ে যায় ,তখনও মানুষ বাঁচে কিন্তু বাঁচাটুকু মরে যায়। শঙ্কর তো মরে গেছিল তখনি যখন মালতীর মা শঙ্করকে বলেছিল মালতীর বিয়ে হয়ে গেছে। শঙ্করের হাত ধরে ক্ষমা চেয়েছিল মালতীর মা ,তিনি সব জানতেন তবু মালতীর বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারেন নি। শঙ্কর কিছু বলতে পারে নি তবে হৃদয়ের বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলো সব কেমন যেন তেতো হয়ে গেছে জীবনের।
আজ শনিবার হাফডে অফিসের। কিন্তু ইয়ার এন্ডিং তাই মোটামুটি সবাই আছে ব্রতীন দা সকাল থেকে খুব ব্যস্ত ,লাঞ্চ করার সময় পাই নি। এখন রাত্রি নটা বাজে। বৃষ্টিদি অপেক্ষা করছে ব্রতীনদার কাজ শেষ হবার। ব্রতীন দা বারংবার বলছে বৃষ্টি তুমি চলে যাও ,শঙ্কর তোমার ছেড়ে আসছে ,ও বাইক চালাতে পারে তোমায় ছেড়ে আসুক। বৃষ্টি দি যেতে নারাজ বলছে তুমি শেষ করো না আমি আছি। এখন রাত্রি দশটা ব্রতীন দার কাজ শেষ হয় নি ,শংকর বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে ,ব্রতীন দা হাত নাড়ছে বৃষ্টিদিকে বিদায় জানাবার জন্য। বৃষ্টি দি উঠে বসলো শঙ্করের পিছনে ,বললো এই ছোকরা দেখে চালাস। শঙ্করের বুক কাঁপছে দুরুদুরু,মালতীকে বাইকে করে স্বপ্নটা ভাসছে চোখের সামনে। সামনে মহিষবাথান
রাস্তা পুরো ফাঁকা। শঙ্করের বাইকের স্পিড ৬০ এর কাছাকাছি। দূরে অন্ধকার রাস্তার পিচটাকে বাইকের স্পট লাইট চিরে এগোচ্ছে। শঙ্করের মনে স্বপ্নের অন্ধকার চিরে মালতী কানের কাছে বলছে আসতে চালা। একটা শব্দ হলো পিছনের চাকা চ্যাপ্টা হয়ে গাড়িটা পাশের ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা। ধাক্কা খেল শঙ্করের শরীর অব্যক্ত যন্ত্রণা পায়ে ,শঙ্কর বাইক চালাচ্ছে তবু পিছনে মালতী। চোখ বন্ধ করার আগে দেখলো অনেকগুলো মুখ তার উপর ,কেউ বলছে মেয়েটার বিশেষ লাগে নি। শঙ্কর চোখ বুঝলো বাইকে স্টার্ট পিছনে মালতী।
............... ঋষি
========================================================
আমার পৃথিবীতে ছড়ানো দৈনন্দিন সারেঙ্গীর বাইরে আলাদা পৃথিবী ,যেখানে স্পর্শ করে না কোনো খবরের পাতা ,দৈনন্দিন বেকার থাকার গঞ্জনা,সেখানে প্রচুর আলো আর স্বপ্নের ভিড় । সেখানে পৃথিবীর আলোতে আরেকবার যদি জন্ম নেওয়া যায় কি হওয়া যায় শচীন তেন্ডুলকার ,প্লিস যেন আরেকবার শঙ্কর না হয়ে জন্মায়। এমনতর চিন্তা শঙ্করের আজকাল মাথাচাড়া দেয়।
মা হারা শঙ্কর সান্ন্যাল ,বাড়ি নদীয়ায় ,আজ সাত মাস হলো শঙ্করের বর্তমান বাস কলকাতা একটি চায়ের দোকান। দুচোখে স্বপ্ন বড় মানুষ হওয়ার। বাবার মৃত্যু শয্যায় শঙ্করের পৃথিবী ভেঙ্গে পরে। বাবা সাধারণ অফিসের কেরানী ছিলেন ,শঙ্কর তখন সদ্য এইচ এস পাস কলেজে ভর্তি হয়েছে । নিজের জ্ঞাতি গুষ্ঠির কেউ পাশে দাঁড়ায় নি শঙ্করের বাবার মৃত্যুর দিন। বাড়ির সামনে ক্লাবে শঙ্কর কেরাম পিটছিল ,বাবা অসুস্থ ছিল জানতো শঙ্কর।দুপুরে ভাত খেতে এসে বাবার শরীরটা পরে ছিল দরজার কাছে। শঙ্কর কাঁদে নি বাবার মৃতদেহে আগুন দিয়ে শুধু বুঝেছিল শেষ বাঁধনটা ছিঁড়ে গেল। পাড়ার জ্যেঠুরা স্বান্তনা দিয়েছিল বাবা তো চিরকালের নয় কিন্তু কিছুদিন থাকার পর খিদের জ্বালায় বুঝেছিল এখানে আর নয়। আর কোনো পিছুটান ছিল না শঙ্করের একমাত্র মালতী বাদে। মালতী পাশে বাড়ির হারান কাকুর মেয়ে। ছোটবেলা থেকে একসাথে মানুষ হয়েছে। শঙ্কর মা বেঁচে থাকতে মালতীর মা বন্ধু ছিল ,আর সেই সুত্রে তাদের ছেলে মেয়েদের সম্পর্ককে তারা বাঁধতে চেয়েছিল। মা নেই,বাবা ও মারা গেছেন শঙ্কর একদিন দুপুরে লক্ষীর ঘট ভেঙ্গে শেষ সম্বল ২৪২ তা ৬০ পয়সা নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিল তখন দেখেছিল মালতীর চোখে জল।
কলকাতা এসে শঙ্কর তাজ্জব হয়ে গেল। এমন শহর পৃথিবীতে আছে ,শহরটা ছুটছে দিনরাত। কখনো শান্ত হয় না এ শহর ,কোনো কারণেই থামতে চায় না এই শহর। বড় ভয় পেয়েছিল সে কিন্তু বুঝেছিল বাঁচতে গেলে ছুটতে হবে এই শহরে ,না হলে মৃত্যু নিশ্চিত। কিছুদিন মুটেগিরি করলো হাওড়া স্টেসনে বুঝলো একাজ তার নয়। তারপর আজ পাঁচ মাস এই সল্টলেকে অফিস ঘেঁষা চায়ের দোকানে। তার কাজের সময় সকাল ছটা থেকে রাত্রি সাতটা ,তারপর ছুটি ,মাইনে বারোশো টাকা। আজ পাঁচমাসে শঙ্কর হাজার তিনেক টাকা জমিয়েছে কিন্তু মনে শান্তি নেই তার ,কারণ সে জানে এই কাজ তার নয়। পাশের অফিসের ব্রতীন বাবুকে শঙ্কর বলেছে অফিসে একটা চাকরির জন্য। ব্রতীন দা বেশ ভালো ,মাঝে মাঝে তার খবর নেয়,অফিসে চা দিতে গেলে দু -পাঁচ টাকা বকশিশ দেয়।
আজ শঙ্করের বেশ আনন্দের দিন ব্রতীনদার অফিসে তার অফিস বয়ের চাকরিটা তার হয়ে গেছে।মাইনে তিন হাজার টাকা ,ব্রতীন দাকে কি বলে ধন্যবাদ দেবে বুঝে পায় না শঙ্কর। এই অফিসে কাজ কিছু নেই ,একটু বোতলে জল ভরে দেওয়া,ফাইল এই টেবিল থেকে ওই টেবিলে দেওয়া ,বেশির ভাগ অফিসের একটা বেঞ্চে বসে থাকে শঙ্কর।বসে বসে জীবন্ত স্বপ্ন দেখে ব্রতীনদার
গার্ল ফ্রেইন্ড বৃষ্টিদির মত সেও মালতীকে নিয়ে বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে তারপর দূর বহু দূর। মনটা মুরচে ওঠে শঙ্করের মালতীর জন্য। মনে পরে যায় দেশের বাড়ির কথা। মালতীকে নিয়ে শঙ্কর লুকিয়ে চুরিয়ে সাইকেলে করে নদীর পারে ঘুরছে। মালতীর চুলের গন্ধ ,মিষ্টি হাসি সব কিছু মনে পরে যায় শঙ্করের। পুজোর সময় অফিস বন্ধ থাকে পাঁচদিন। তখন শঙ্কর দেশের বাড়ি যাবে একবার।
আজ পঞ্চমী, অফিসের ছুটি শুরু আজ থেকে। ভারী মজা শঙ্করের ,বেশ কিছু টাকা জমিয়ে ফেলেছে সে। ব্রতীন দা তাকে একটা ব্যাঙ্ক এক্যাউন্ট খুলে দিয়েছে। অনেক টাকা বকশিশ পেয়েছে সে অফিসের সবার কাছে। তার হাসিখুশি স্বভাবের জন্য সে অফিসে বেশ প্রিয়। ট্রেনে চড়ে বসলো শঙ্কর,সে ভীষণ খুশি তার সাথে মালতীর দেখা হবে প্রায় একবছর পর। ট্রেন ছুটছে ,শঙ্কর মালতীর জন্য কেনা শাড়ি,কাঁচের চুড়ি সব বুকে আগলে ছুটে চলেছে ট্রেনের আগে স্বপ্নের দেশে। শঙ্কর বাইকে স্টার্ট দিল ,বৃষ্টিদির মালতী বাইকের পিছনে উঠে বসলো। স্বপ্ন দেখতে দেখতে শঙ্কর ঘুমিয়ে পড়লো কখন যেন।
শঙ্কর ফিরে এসে অফিসে যোগ দিয়েছে আজ এক সপ্তাহ হলো। মনটা তার ভালো নেই। যখন কোনো স্বপ্ন যখন কাঁচের মত টুকরো টুকরো হয়ে যায় ,তখনও মানুষ বাঁচে কিন্তু বাঁচাটুকু মরে যায়। শঙ্কর তো মরে গেছিল তখনি যখন মালতীর মা শঙ্করকে বলেছিল মালতীর বিয়ে হয়ে গেছে। শঙ্করের হাত ধরে ক্ষমা চেয়েছিল মালতীর মা ,তিনি সব জানতেন তবু মালতীর বাবার বিরুদ্ধে যেতে পারেন নি। শঙ্কর কিছু বলতে পারে নি তবে হৃদয়ের বেঁচে থাকার স্বপ্নগুলো সব কেমন যেন তেতো হয়ে গেছে জীবনের।
আজ শনিবার হাফডে অফিসের। কিন্তু ইয়ার এন্ডিং তাই মোটামুটি সবাই আছে ব্রতীন দা সকাল থেকে খুব ব্যস্ত ,লাঞ্চ করার সময় পাই নি। এখন রাত্রি নটা বাজে। বৃষ্টিদি অপেক্ষা করছে ব্রতীনদার কাজ শেষ হবার। ব্রতীন দা বারংবার বলছে বৃষ্টি তুমি চলে যাও ,শঙ্কর তোমার ছেড়ে আসছে ,ও বাইক চালাতে পারে তোমায় ছেড়ে আসুক। বৃষ্টি দি যেতে নারাজ বলছে তুমি শেষ করো না আমি আছি। এখন রাত্রি দশটা ব্রতীন দার কাজ শেষ হয় নি ,শংকর বাইকে স্টার্ট দিচ্ছে ,ব্রতীন দা হাত নাড়ছে বৃষ্টিদিকে বিদায় জানাবার জন্য। বৃষ্টি দি উঠে বসলো শঙ্করের পিছনে ,বললো এই ছোকরা দেখে চালাস। শঙ্করের বুক কাঁপছে দুরুদুরু,মালতীকে বাইকে করে স্বপ্নটা ভাসছে চোখের সামনে। সামনে মহিষবাথান
রাস্তা পুরো ফাঁকা। শঙ্করের বাইকের স্পিড ৬০ এর কাছাকাছি। দূরে অন্ধকার রাস্তার পিচটাকে বাইকের স্পট লাইট চিরে এগোচ্ছে। শঙ্করের মনে স্বপ্নের অন্ধকার চিরে মালতী কানের কাছে বলছে আসতে চালা। একটা শব্দ হলো পিছনের চাকা চ্যাপ্টা হয়ে গাড়িটা পাশের ল্যাম্প পোস্টে ধাক্কা। ধাক্কা খেল শঙ্করের শরীর অব্যক্ত যন্ত্রণা পায়ে ,শঙ্কর বাইক চালাচ্ছে তবু পিছনে মালতী। চোখ বন্ধ করার আগে দেখলো অনেকগুলো মুখ তার উপর ,কেউ বলছে মেয়েটার বিশেষ লাগে নি। শঙ্কর চোখ বুঝলো বাইকে স্টার্ট পিছনে মালতী।

No comments:
Post a Comment