কবি ও কবির সন্ধ্যা
,,,,ঋষি
স্ত্রী : হ্যা গো শুনছো
কবি : কি ?
স্ত্রী : কি করছো বলোতো তখন থেকে ওই কম্পিউটারে মুখ গুঁজে ,তোমার কি অফিস থেকে বাড়ি ফিরে কোনো কিছু বলার থাকে না ,এক না হলে বই ,না হলে সারাক্ষন ওই কম্পিউটারে লিখছে ? কি যে লিখছে ছাতার মাথা এত ,বলি কি রবীন্দ্রনাথ হবে নাকি ,আমার সাথে তো একটু থাকতে পারো ? কথা বলতে পারো ?
কবি : কি কথা বলবো ? তোমার সাথে সময় কাটানো মানে তো ওই টিভির সিরিয়ালের পুঁটির মা নিরুদ্দেশ ,না হলে পাশের বাড়িতে কার কি হয়েছে ,না হলে সেই তোমার মায়ের কিংবা ভাইয়ের কথা।
স্ত্রী : কি করতে সংসার পেতেছিলে ? আমি তো আমার বাবা ,মা কেও তো দেখলাম সারাক্ষন এই বয়সেও কি যে কথা বলে এত। এই তো ওরা ঘুরে এলো পুটুমাসির বাড়ি থেকে ,জানো তো পুটু মাসির মেয়ের ........
কবি : আরে থামো তো ,লেখাটা বেরিয়ে যাবে মাথা থেকে ,একটু সময় দেও প্লিজ একটু লিখে নি।
স্ত্রী : কি হবে বলতো এত লিখে ,কে পড়ছে তোমার লেখা ,এই যে গাঁটের কড়ি খরচ করে দুটো কবিতার বই করলে ,কি একটাও তো বিক্রি হলো না ,সব তো একে ওকে দেন করলে। তুমি এত বুদ্ধিমান এই সব লেখা পড়া করে বরং এইবার একটা ব্যবসা করো আমার ভাইয়ের সাথে। জানো তো আমার ভাই রিন্টু এবার দার্জিলিঙে ঘুরে এলো বৌকে নিয়ে ,এই তো ফেসবুকে কত ছবি পোস্ট করলো।
কবি : উফ ,প্লিজ আমাকে একটু লিখতে দেও ,তুমি কোনোদিন বোঝো নি আমি কি লিখি ,কেন লিখি , বিশ্বাস করো মাথার ভিতর শব্দরা নাচানাচি করে ,কেমন পাগল পাগল লাগে ,যতক্ষণ না লিখছি শান্তি নেই। তুমি জানো আমি যখন লিখি আমার মাথার ভিতর শব্দ বৃষ্টি হয়। প্রতিটা অন্যায় সে সমাজের হোক ,নারীরই হোক ,সে মানুষের হোক আমাকে বড় বিব্রত করে ,,,,
স্ত্রী : তুমি থামবে ,তুমি তো পাগল হয়েছো ,আমাকেও করবে ,এ সব ছাড়ো বরং একটু মুদির দোকান থেকে ঘুরে এসো সাবান শেষ। চিনি আনতে হবে ১ কেজি মতো। যদি রাতে পরোটা খাও তাহলে ময়দা নিয়ে এসো।
কবি : প্লিজ দাঁড়াও লেখাটা শেষ করে নি ,একটু সময়।
স্ত্রী : রাত কটা বাজে দেখেছো ,মুদির দোকান বন্ধ হয়ে যাবে তো।
কবি :আচ্ছা তুমি আর কিছু বলতে পারো না (কম্পিউটার ষাট ডাউন করতে করতে ),আমাদের কি আর অন্যকোন কোনো কথা থাকতে নেই।
স্ত্রী :তোমার সাথে কথা ,সে তো পাগলের সাথে বলা। তুমি বিনয় ,শক্তি ,সুনীল করবে আর আমার মাথায় কিছু ঢুকবে না। সে তো বিয়ের রাত্রি থেকে শুনছি ,তোমার মনে পরে সেইবার হানিমুনে গিয়ে এমন কবিতা শোনাতে শুরু করলে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমার কপাল আমার বাড়ির লোকেরা আর ছেলে পাই নি ,বিয়ের আগে শুয়েছিলাম ছেলে পড়াশুনায় ভালো ,ভালো চাকরি করে ,লেখালিখি করে কিন্তু যদি জানতাম তোমার লেখা নিয়ে এই পাগলামি তবে আর বিয়ে করতাম না।
কবি :তুমি কি বলেছো সারাজীবন আমাকে মাসকাবারি ফর্দ আর অসুখ-বিসুখের ওষুধ ছাড়া। সংসার মানে কি শুধু আলু ,পেঁয়াজ আর চাল ,ইলেকট্রিক বিল। আর কিছু না। আমার দিকে ভালো করে কখনো ফিরে তাকিয়েছো আমি কি চাই ?
স্ত্রী : সংসার মানে এর বাইরে কি ,ভালো থাকবো ,ভালো খাবো ,তিন মাস অন্তর ঘুরতে যাবো ,স্বামীকে জড়িয়ে শোবো কিন্তু তুমি তো শোয়া বসা ও করো না আজ বহুদিন ,একটা বাচ্চা অবধি আমাকে দিতে পারলে না এতদিনে। তোমায় দিয়ে আর কিছু হবে না ওই কবিতা লেখা ছাড়া।
কবি : আমি কি তোমায় ভালোবাসি না ,তোমার জন্য কিছু করি না ,এই যে গত পুজোয় লোন নিয়ে গাড়ি কিনলাম।
স্ত্রী : ওই গাড়ি কিনলে ,কিন্তু কোথায় ঘুরতে নিয়ে গেলে একাডেমি অফ আর্টসে ,নাটক দেখতে কিন্তু আমি কি বুঝি নাটকের ,সত্যি হলো তোমার সাথে থাকা যায় না ,আমি আছি জোর করে ,না হলে (ফোঁপাতে ফোঁপাতে )
কবি : তুমি কেঁদো না ,আমার কষ্ট হয় ,প্লিজ চুপ করো ,বলো তোমার কি চায় ?
স্ত্রী : তুমি লেখালিখি ছেড়ে দেও ,ও আমার শত্রু ,আমার সংসারটা গিলে খাচ্ছে ,তুমি লেখালিখি ছেড়ে দেও।
কবি : কি আনতে বলছিলে বেশ ,বোলো লিখে নি ,মুদির দোকানটা বন্ধ হয়ে যাবে।
No comments:
Post a Comment