ভগ্নাংশের জীবন
.. ঋষি
প্রেমিক : হ্যালো ! কি করছো ?
প্রেমিকা : অপেক্ষা
প্রেমিক : কিসের অপেক্ষা ? কার অপেক্ষা ?
প্রেমিকা : আ ঢং ,জানে না যেন ,কার অপেক্ষা ,আমার কে আছে তুমি ছাড়া।
প্রেমিক : কেন তোমার স্বামী ,তোমার সন্তান ,তোমার গুছোনো সংসার।
প্রেমিকা : সব যদি গুছোনো হতো এত রাত্রি অবধি আমি কেন তোমার জন্য অপেক্ষা করতাম।
প্রেমিক : জানো তো অপেক্ষা শব্দটারও একটা শেষ আছে ,কিন্তু আমাদের এই সম্পর্কটার শেষ কোথায়। একটা সত্যি কথা বলবে ,তুমি আমাকে ভালোবাসো ?
প্রেমিকা : না বাসি না ,মন্দ বাসি। তবে আমি চাই তুমি যাতে ভালো থাকো ,সুস্থ ভাবে আমার চোখের সামনে ঘুরে বেড়াও।
প্রেমিক : তাহলে এ ভালোবাসা নয় ,সে তো বন্ধুরাও এমন চায়।
প্রেমিকা : তুমি কি জানো না ভালোবাসার প্রথম শর্ত বন্ধুত্ব ,আর তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি তা তুমি জানো না।
প্রেমিক : আমাকে এত ভালোবাসো তো আমার থেকে দূরে থাকো কেন ? আমাকে এত দূরে রাখো কেন ?
প্রেমিকা :বাচ্চাদের মতো বলছে দেখো , তুমি কি জানতে না ভালোবাসার আগে আমার একটা সংসার আছে ,একটা সন্তান আছে। আমি একটা মেয়ে, আমাকে সমাজ ,লোকজন সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ আছে। তুমি দিতে পারবে আমার সন্তানকে যোগ্য সম্মান ,ওর বাবা গভরমেনন্ট সার্ভিস করে। আমার আর সন্তানের একটা ভবিষ্যত আছে। ও রিটায়ার হওয়ার পর পেনশন পাবে ,ও যদি চাকরি করতে করতেও মারা যায় আমি ওর পেনশন পাবো। তা ছাড়াও আমার স্বামীর সাথে কিছু নেই তুমি জানো ,যতটুকু ওই মেয়েটার দিকে চেয়ে একসাথে থাকা।
প্রেমিক : তবে এই যে পুজোর সময় তোমার স্বামীর সাথে ঘুরলে এই যে ডিসেম্বরে তোমরা পুরি যাচ্ছো তোমার স্বামীর অফিস পিকনিকে এগুলো কি ?
প্রেমিকা : বাবু তুমি বোঝার চেষ্টা করো এই পৃথিবীটা আজও পুরুষতান্ত্রিক ,সংসারে কতগুলো নিয়ম আছে ,তাছাড়া আমার সন্তানকে সুস্থ জীবন দেবার জন্য এই যাওয়াগুলো দরকার ,তাছাড়া আমার সন্তান আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে ,ও সব বোঝে।
প্রেমিক : তবে কে অপেক্ষা করছে ,তুমি না আমি ?আচ্ছা একটা কথা বোলো যদি তোমার স্বামী মারা যায় ,তখন না হয় আমাদের বয়স হয়ে যাবে ,তখন আমাকে বিয়ে করবে ?
প্রেমিকা : না তোমাকে আমি কোনোদিনই বিয়ে করবো না। সত্যি যদি এমন কিছু হয় আমরা একসাথে থাকতে পারি কিন্তু বিয়ে নয়। আমার মা ,আমার ভাই কেউ মেনে নেবে না ,আমাদের পরিবারে এমন হয় নি কোনোদিন ,তাছাড়াও ও মারা গেলে আমি পেনশন পাবো ,আমার আর মেয়ের জীবন সিকিওর।
প্রেমিক : তবে কি সারাজীবন ধরে আমি কি অপেক্ষায় করবো ,কোনোদিন তোমাকে পাবো না ,তুমি তো জানো তোমার সন্তান মানে আমার সন্তান।
প্রেমিকা : আচ্ছা তুমি বলো ভালোবাসলে কি তবে বিয়ে করা জরুরী।
প্রেমিক ; জরুরী না ,তবে বিয়ে হলো একটা সামাজিক ধাৱা ,যেটা না থাকলে তোমার আমার সম্পর্কটা কেউ মেনে নেবে না।
প্রেমিকা : কে কি মানলো তাতে কি এসে যায় ,আমরা একসাথে থাকবো সেটাই জরুরী।
প্রেমিক : তুমি এই ভাবে আমার সাথে সারাজীবন থাকতে পারবে তো ? আমি অপেক্ষা করছি ,করবো।
প্রেমিকা : শুধু এত টুকু বলি আমি আছি। অনেক রাত হলো এইবার ঘুমিয়ে পড়ো ,আকল অফিস যেতে হবে ,আমি ডেকে দেব।
প্রেমিক : সে তো জানি তুমি আছো ? কিন্তু আমি বুঝি না আমি কোথায় আছি ?
কি আমাদের ভবিষ্যৎ।
প্রেমিকা : এতো ভেবে লাভ নেই ,যা হবে দেখা যাবে ,সময় কে দেখেছে ?
প্রেমিক : কিন্তু আমি বাঁচবো তো এতদিন ?
প্রেমিকা : এমন বলে না বাবু ,আমাদের এইভাবেই বাঁচতে হবে ,ভগ্নাংশের জীবন।
অনেক রাত হয়েছে এইবার ঘুমিয়ে পড়ো বাবু ,সুস্থ থাকতে হবে। কাল সকালে আমি ডেকে দেবো গুডনাইট।
প্রেমিক : হ্যালো ! হ্যালো ! একটা চুমু দেবে।
প্রেমিকা : সবটাই তোমার ,কিন্তু এইভাবে চুমু দেওয়া যায় ,ঘুমিয়ে পড়ো বাবু ,সব ঠিক হবে একদিন।