Friday, October 6, 2023

সত্যিটা বলে ফেলুন

যৌন পিপাসা নিরুত্তরে এক অন্ধকার ডাক 
ডাকটা অমান্য করা মুশকিল 
আবার মেনে নেওয়াও মুশকিল জানি 
তবু একবার নিজের বুকে হাত রেখে বলুন তো মিথ্যা কি ?
কেন দেখাচ্ছেন ?
কেন দেখাচ্ছেন আপনারা সুখে থাকার বিজ্ঞাপনী সেলফি 
সত্যি বলতে পারছেন না ,ভয় পাচ্ছেন
মুক্তি নেই ,মুক্তির পথে জটিলতা। 
কি চাইছেন ?
নিয়মের সমাজের অধীনে বোঝাপড়া নামক শব্দের সাথে আলিঙ্গন করে 
এই জীবনটা  কাটিয়ে দেবো এমনি। 
.
কি ভালো আছেন তো মশাই ?
নিজেকে খুশি প্রমাণিত করতে জড়িয়ে আছেন সমাজকে সাপের মতো 
তাজমহলের সামনে সাজানো ফ্যামিলি ফটোফ্রেম  
কাঞ্চনজঙ্ঘার পাহাড়ে বুক চিতিয়ে ছবি ,ভালো আছি ,
দিঘায় সমুদ্রের বালিতে জোড়া কাঁকড়া 
বিশ্বাস করাতে চাইছেন নিজেকে ভালো আছেন 
আমি তো বুঝছি মশাই সবটাই, ভয় পাচ্ছেন ,ডিভোর্স ,সমাজ ,নিয়ম 
থাক আর সত্যি বলবো  না। 
.
আপনাকে বলছি ম্যাডাম 
বেনারসী পরে ,সুট ,টাই পরা সামাজিক  মানুষটার পাশে আপনাকে বেশ লাগছে 
ব্যাংক ব্যালান্স ,জীবন বীমায় পাশাপাশি নাম ,বেশ লাগছে। 
তবু রাতের বিছানা জানে ম্যাডাম আপনার শরীরে আজ বহুদিন লাগে নি 
পুরুষের ঘাম ,বালিশের শহরে নেই কোনো পুরুষালি গন্ধ 
সাজানো গোছানো সংসার, 
সেই বোঝাপড়া। 
আজও জানলার দিকে তাকিয়ে আপনি আকাশ খোঁজেন 
সত্যি বলতে পারছেন না তো 
বাপের বাড়ি ,শশুর বাড়ি ,পাড়া প্রতিবেশী কি বলবে। 
.
কি বলছেন আপনারা ,বড্ড বেশি সত্যি বলছি 
দেখে নেবেন ,
তা দেখে নিন
আমি যে জেনে গেছি ব্যাপারটা 
আমি যে জেনে গেছি বোঝাপড়া করে সময় কাটানো যায় 
কাঁদা যায় একলা নিজের কাঁধে মাথা রেখে 
ফটোফ্রেমে  ফ্যামিলি ফটো সাজিয়ে নিজেকে বোঝানো যায় 
ভালো আছি ,
কিন্তু ভালো থাকতে একটা মানুষ  চাই ,একটাই মানুষ 
শুধুই  শরীর নয় ,শুধুই বন্ধু নয় ,শুধু একটা বিশেষ স্পর্শ 
যার সাথে ভালো থাকা যায়
সুতরাং সময় আছে আর মিথ্যে নয় 
অনুরোধ সত্যিটা বলে ফেলুন।  
.
সত্যিটা বলে ফেলুন 
,,, ঋষি

Thursday, October 5, 2023

কবিতা কে

শুধু কবিতা লিখবো বলে এই জীবন 
এমন একটা অনুভব নিয়েই সকলেই কবিতা চেটে বেড়ায় 
আসলে সত্যিটা কেউ বলে না ,
ইট কাঠ পাথুরে শহরে ক্লান্ত মানুষের একমাত্র জীবিকা কবিতা হতে পারে না
অন্ন ,বস্ত্রের থেকে জরুরি অন্য  কিছু কবিতা হতে পারে না 
প্রতিদিন সন্ধ্যেয় ক্লান্ত শরীরে ফিরে আসা মানুষগুলোর কবিতা হতে পারে না 
তবে কবিতা কি ?তবে কবিতা কে ?
.
কবিতা আসলে সাদা পাতায় ঝরতে থাকা রক্ত বিলাপ 
কে কান্নার স্বর কষ্টের অনুভূতিতে বর্ণমালায় লাল হয়ে প্রতিবাদ করে 
প্রতিবাদ করে সময়ের 
অন্যমনস্ক আলোর আশায় এই শহরের অপেক্ষার অন্য নাম কবিতা। 
কবিতা হলো সেই মেয়েটার নাম যার স্বামীকে পিষে দিয়ে গেছে অফিস ফেরত বাস  
কবিতা হলো চাকরি পাই নি বলে সেই ছেলেটার মৃত  নিথর শরীর  
কবিতা হলো সেই মুহূর্ত যখন ভালোবাসাকে  ঠকিয়ে যায় সময় 
কবিতা হলো প্রিয় নারী ,প্রিয় পুরুষ কিংবা অপ্রিয়।  
আমি তো বলি কবিতা দিয়ে বোমা বাঁধা যায় 
আমি তো বলি কবিতা দিয়ে দুঃখের নদীতে বাঁধ দেওয়া  যায় 
আমি তো বলি কবিতা হলো আগুনের থেকে মারাত্নক 
আমি তো বলি কবিতা হলো হেমলকের থেকেও বিষাক্ত 
আমি তো বলি কবিতা হলো মানুষের না বলা কথাদের একটা পেইন্টিং 
হাজারো রঙে ,হাজারো অনুভূতিতে ফুটে ওঠা প্রতিবাদ। 
.
এই যে আজ তুমি  হঠাৎ মাঝরাস্তায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলে 
আমার দিকে হিংস্র এক বিষাক্ততা ছড়িয়ে দিলে 
এটাও কি কবিতা নয় ?
এই যে হঠাৎ এক শয়তান তোমার সময়ের ফাঁকে অকারণে বিরক্ত করে 
তুমি চিৎকার করতে থাকো ,কাঁদতে থাকো 
ছুঁড়ে ফেলে দেও  তোমার কবিতার প্রিয় কবিকে 
সেটাও  কি কবিতা নয়  ?
এই যে এই শহরের ঘুম নেই ,অকারণে বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট 
হাজারো চিৎকার মানুষের ,জীবন যাপনে মিথ্যা ,সত্যি কিংবা ধর্ম ,অধর্মের মিছিল 
এগুলো কি কবিতা না ?
আসলে ইট কাঠ পাথরের শহরে কবিতা একটা অসহ্য মুহূর্তের নাম 
যেখানে ভালোবাসার ফুল ফোটে পাথরে 
যেখানে ক্ষুদার্থের মুশকিলআসান 
যেখানে পথিকের শেষ মাস্তুল 
যেখানে না বলা কথারা ,সময়ের স্বপ্নরা বাবুইয়ের বাসা বোনে 
যেখানে সময়ের ফাঁকে ,মুহূর্তদের আলাপনে 
ঈশ্বর বাঁশি বাজায় 
হঠাৎ তখন সাদা পাতায় টুপ্ টুপ্ করে ঝরে পরে কবির রক্ত
ঈশ্বর শব্দের ছদ্মবেশে কবিতায় লিখে দেয় সময়।  
.
কবিতা কে 
...ঋষি

Sunday, February 5, 2023

 পৃথিবীতে কত কিছু ঘটে যার কোনো মানে থাকে না ,পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটে যার মানে থাকলেও কিন্তু সত্যি মানেটা ধরা দেয় সময়ের ক্যালেন্ডারে সময়ের সাথে ,অনুভবের সাথে ,ভাবনার আঙিনায়  ।পৃথিবীতে কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে ,ভালোবাসে শান্তির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে একটা জীবন শুধু মাত্র ভালো থেকে কাটিয়ে দিতে। কেউ যদি ভাবে সে একটা উপন্যাস লিখবে  তবে তার লেখার ভাবনায় ভাবতে হবে চরিত্রদের মোচড় ,কিন্তু লেখক  যদি উপন্যাস লিখতে গিয়ে উপন্যাসের চরিত্র অল্প সময়ে বর্ণনা করে দেয় ,তবে উপন্যাস ফুরিয়ে গিয়ে হয়ে যায় ছোটগল্প ,তখনও  লেখকের হাতে অনেকটা হাতিয়ার থাকে ,কারণ উপন্যাস সৃষ্টিতে লেখক ঈশ্বর সে যেমন কিছু চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে কিংবা জন্ম দিতে পারে ,চরিত্রদের নিয়ে খেলতে পারে। কিন্তু অদ্ভুত হলো জীবন নামক ব্যাপ্তিটা একটা  উপন্যাস হলেও ,উপন্যাসের লেখক সময় হলেও কিন্তু সময় চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে না  অবশ্যই বদলাতে পারে কিন্তু নতুন করে জন্ম দিতে পারে না উপন্যাসটা শেষ লিখতে। 

অর্কের জীবনটা অনেকটা সেই বেহিসাবি সময়ের হাতে ছিল কিন্তু  অর্ক জানতো না। অর্ক ভাবতো জীবন মানে খুব সাধারণ একটা উপন্যাস ,খুব শান্তিতে সকলে জীবন কাটিয়ে দেয় মহাবিশ্বে একটা মানুষের জন্য ,শুধুমাত্র একটা মানুষের সাথে একটা জীবন হেসে খেলে কাটিয়ে দিতে পারে। অর্কর শৈশব অর্ককে শিখিয়েছিল তার পাশে যারা আছে তারা তার কেউ না ,আসলে কারণ ছিল না ভাবার যে তার চারপাশে যারা তারা অর্কের নিজের লোক ,নিজের কেউ। কোনো এক অক্টবরের রাতে যেদিন  অন্ধকার অকাশে  চাঁদ ছিল না ,চারিপাশে অন্ধকারে ভূতেদের সাথে কালী নামক কোনো এক দেবীর আরাধনা হচ্ছিল এই ধরায় ,সেদিন অর্কের জন্ম। সুতরাং অর্কের জীবনের সাথে অন্ধকার শব্দটা একটা শরীরের ফোঁড়ার মতো ছিল। অর্কর জন্ম হয়েছিল পাঞ্জাবের কোনই মিলিটারি ক্যাম্পের হাসপাতালে , বাবা সুতীর্থ ছিলেন এক মিলিটারি অফিসার।  তার বাবা কলকাতার লোক হলেও বাবার   পোস্টিং ছিল পাঞ্জাবে ,তাই তার শৈশব কাটার কথা ছিল পাঞ্জাবে কিন্তু ওই যে পৃথিবীতে যা ঘটে তাকি সত্যি সবসময় পৃথিবীর মতো হয়।

তার বাবা  সুতীর্থ লোকটা মারাত্নক রাগী প্রকৃতির ,প্রচুর মদ ও অন্য  নারীতে আসক্তি তার মা শর্মিলাকে বাধ্য করে কলকাতায় বাপের বাড়িতে পালিয়ে আসতে। কিন্তু এই পালিয়ে আসার কারণ শুধু মাত্র অর্কের বাবা সুতীর্থ ছিল না ,ছিল তার মা শর্মিলার প্রেমিক প্রেমাংশু বাবু। প্রেমাংশুবাবু চিরকাল লেখাপড়ায় নিয়ে  থাকতে ভালোবাসটেন  ,পেশায় তিনি  স্কুল শিক্ষিক এবং শর্মিলাকে তিনি ছোটবেলা থেকে চিনতেন ,হয়তো মনের কোনে শর্মিলার জন্য তার প্রেম ছিল। কিন্তু অর্কর দিদা যখন শর্মিলাকে ডিভোর্স করিয়ে প্রেমাংশুবাবুকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। উনি ফিরিয়ে দেন নি ,সমস্ত সময়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ,সমস্ত অধিকারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে ফেলেন শর্মিলাকে ,তখন কত বয়সঅর্কর ,বোধহয় তিন। 

  

                                          

Sunday, October 16, 2022

ভগ্নাংশের জীবন

 ভগ্নাংশের জীবন 

.. ঋষি 


প্রেমিক : হ্যালো ! কি করছো ?

প্রেমিকা : অপেক্ষা 

প্রেমিক : কিসের অপেক্ষা ? কার অপেক্ষা ?

প্রেমিকা : আ ঢং ,জানে না যেন ,কার অপেক্ষা ,আমার কে আছে তুমি ছাড়া। 

প্রেমিক : কেন তোমার স্বামী ,তোমার সন্তান ,তোমার গুছোনো সংসার। 

প্রেমিকা : সব যদি গুছোনো হতো এত রাত্রি অবধি আমি কেন তোমার জন্য অপেক্ষা করতাম। 

প্রেমিক : জানো তো অপেক্ষা শব্দটারও একটা শেষ আছে ,কিন্তু আমাদের এই সম্পর্কটার শেষ কোথায়। একটা সত্যি কথা বলবে ,তুমি আমাকে ভালোবাসো ?

প্রেমিকা : না বাসি না ,মন্দ বাসি। তবে আমি চাই তুমি যাতে ভালো থাকো ,সুস্থ ভাবে আমার চোখের সামনে ঘুরে বেড়াও। 

প্রেমিক : তাহলে এ ভালোবাসা নয় ,সে তো বন্ধুরাও এমন চায়। 

প্রেমিকা : তুমি কি জানো না ভালোবাসার প্রথম শর্ত বন্ধুত্ব ,আর তোমায় আমি কতটা ভালোবাসি তা তুমি জানো না। 

প্রেমিক : আমাকে এত ভালোবাসো তো আমার থেকে দূরে থাকো কেন ? আমাকে এত দূরে রাখো কেন ?

প্রেমিকা :বাচ্চাদের মতো বলছে দেখো , তুমি কি জানতে না ভালোবাসার আগে আমার একটা সংসার আছে ,একটা সন্তান আছে। আমি একটা মেয়ে, আমাকে সমাজ ,লোকজন সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। আর সবচেয়ে বড় কথা আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ আছে। তুমি দিতে পারবে আমার সন্তানকে যোগ্য সম্মান ,ওর বাবা গভরমেনন্ট সার্ভিস করে। আমার আর সন্তানের একটা ভবিষ্যত  আছে।  ও রিটায়ার হওয়ার পর পেনশন পাবে ,ও যদি চাকরি করতে করতেও মারা যায় আমি ওর পেনশন পাবো। তা ছাড়াও আমার স্বামীর সাথে কিছু নেই তুমি জানো ,যতটুকু ওই মেয়েটার দিকে চেয়ে একসাথে থাকা। 

প্রেমিক : তবে এই যে পুজোর সময় তোমার স্বামীর সাথে ঘুরলে এই যে ডিসেম্বরে তোমরা পুরি যাচ্ছো তোমার স্বামীর অফিস পিকনিকে এগুলো কি ?

প্রেমিকা : বাবু তুমি বোঝার চেষ্টা করো এই পৃথিবীটা আজও পুরুষতান্ত্রিক ,সংসারে কতগুলো নিয়ম আছে ,তাছাড়া আমার সন্তানকে সুস্থ জীবন দেবার জন্য এই যাওয়াগুলো দরকার ,তাছাড়া আমার সন্তান আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে ,ও সব বোঝে। 

প্রেমিক : তবে কে অপেক্ষা করছে ,তুমি না আমি ?আচ্ছা একটা কথা বোলো যদি তোমার স্বামী মারা যায় ,তখন না হয় আমাদের বয়স হয়ে যাবে ,তখন আমাকে বিয়ে করবে ?

প্রেমিকা : না তোমাকে আমি কোনোদিনই বিয়ে করবো না। সত্যি যদি এমন কিছু হয় আমরা একসাথে থাকতে পারি কিন্তু বিয়ে নয়। আমার মা ,আমার ভাই কেউ মেনে নেবে না ,আমাদের পরিবারে এমন হয় নি কোনোদিন ,তাছাড়াও ও মারা গেলে আমি পেনশন পাবো ,আমার আর মেয়ের জীবন সিকিওর। 

প্রেমিক : তবে কি সারাজীবন ধরে আমি কি অপেক্ষায় করবো ,কোনোদিন তোমাকে পাবো না ,তুমি তো জানো তোমার সন্তান মানে আমার সন্তান। 

প্রেমিকা : আচ্ছা তুমি বলো ভালোবাসলে কি তবে বিয়ে করা জরুরী। 

প্রেমিক ; জরুরী না ,তবে বিয়ে হলো একটা সামাজিক ধাৱা ,যেটা না থাকলে তোমার আমার সম্পর্কটা কেউ মেনে নেবে না। 

প্রেমিকা : কে কি মানলো তাতে কি এসে যায় ,আমরা একসাথে থাকবো সেটাই জরুরী। 

প্রেমিক : তুমি এই ভাবে আমার সাথে সারাজীবন থাকতে পারবে তো ? আমি অপেক্ষা করছি ,করবো। 

প্রেমিকা : শুধু এত টুকু বলি আমি আছি। অনেক রাত হলো এইবার ঘুমিয়ে পড়ো ,আকল অফিস যেতে হবে ,আমি ডেকে দেব। 

প্রেমিক : সে তো জানি তুমি আছো ? কিন্তু আমি বুঝি না আমি কোথায় আছি ?

কি আমাদের ভবিষ্যৎ। 

প্রেমিকা : এতো ভেবে লাভ নেই ,যা হবে দেখা যাবে ,সময় কে দেখেছে ?

প্রেমিক : কিন্তু আমি বাঁচবো তো এতদিন ?

প্রেমিকা : এমন বলে না বাবু ,আমাদের এইভাবেই বাঁচতে হবে ,ভগ্নাংশের জীবন। 

অনেক রাত হয়েছে এইবার ঘুমিয়ে পড়ো বাবু ,সুস্থ থাকতে হবে। কাল সকালে আমি ডেকে দেবো গুডনাইট। 

প্রেমিক : হ্যালো ! হ্যালো ! একটা চুমু দেবে। 

প্রেমিকা : সবটাই তোমার ,কিন্তু এইভাবে চুমু দেওয়া যায় ,ঘুমিয়ে পড়ো বাবু ,সব ঠিক হবে  একদিন।    

কবি ও কবির সন্ধ্যা

 কবি ও কবির  সন্ধ্যা 

,,,,ঋষি 

স্ত্রী : হ্যা গো শুনছো 

কবি : কি ?

স্ত্রী : কি করছো  বলোতো তখন থেকে ওই কম্পিউটারে মুখ গুঁজে ,তোমার কি অফিস থেকে বাড়ি ফিরে কোনো কিছু বলার থাকে না ,এক না হলে বই ,না হলে সারাক্ষন ওই কম্পিউটারে লিখছে ? কি যে লিখছে ছাতার মাথা এত ,বলি কি রবীন্দ্রনাথ হবে নাকি ,আমার সাথে তো একটু থাকতে পারো ? কথা বলতে পারো ?

কবি : কি কথা বলবো ? তোমার সাথে সময় কাটানো মানে তো ওই টিভির সিরিয়ালের পুঁটির মা নিরুদ্দেশ ,না হলে পাশের বাড়িতে কার কি হয়েছে ,না হলে সেই তোমার মায়ের কিংবা ভাইয়ের কথা। 

স্ত্রী : কি করতে সংসার পেতেছিলে ? আমি তো আমার বাবা ,মা কেও তো দেখলাম সারাক্ষন এই বয়সেও কি যে কথা বলে এত। এই তো ওরা ঘুরে এলো পুটুমাসির বাড়ি থেকে ,জানো তো পুটু মাসির মেয়ের  ........

কবি : আরে থামো তো ,লেখাটা বেরিয়ে যাবে মাথা থেকে ,একটু সময় দেও প্লিজ একটু লিখে নি। 

স্ত্রী : কি হবে বলতো এত লিখে ,কে পড়ছে তোমার লেখা ,এই যে গাঁটের কড়ি খরচ করে দুটো কবিতার বই করলে ,কি একটাও তো বিক্রি হলো না ,সব তো একে ওকে দেন করলে। তুমি এত বুদ্ধিমান এই সব লেখা পড়া করে বরং এইবার একটা ব্যবসা করো আমার ভাইয়ের সাথে। জানো তো আমার ভাই রিন্টু এবার দার্জিলিঙে ঘুরে এলো বৌকে নিয়ে ,এই তো ফেসবুকে কত ছবি পোস্ট করলো। 

কবি : উফ ,প্লিজ আমাকে একটু লিখতে দেও ,তুমি কোনোদিন বোঝো নি আমি কি লিখি ,কেন লিখি , বিশ্বাস করো মাথার ভিতর শব্দরা নাচানাচি করে ,কেমন পাগল পাগল লাগে ,যতক্ষণ না লিখছি শান্তি নেই। তুমি জানো আমি যখন লিখি আমার মাথার ভিতর শব্দ বৃষ্টি হয়। প্রতিটা অন্যায় সে সমাজের হোক ,নারীরই হোক ,সে মানুষের হোক আমাকে বড় বিব্রত করে ,,,,

স্ত্রী : তুমি থামবে ,তুমি তো পাগল হয়েছো ,আমাকেও করবে ,এ সব ছাড়ো বরং একটু মুদির দোকান থেকে ঘুরে এসো সাবান শেষ। চিনি আনতে হবে ১ কেজি মতো। যদি রাতে পরোটা খাও তাহলে ময়দা নিয়ে এসো।

কবি : প্লিজ দাঁড়াও লেখাটা শেষ করে নি ,একটু সময়। 

স্ত্রী : রাত কটা বাজে দেখেছো ,মুদির দোকান বন্ধ হয়ে যাবে তো।  

কবি :আচ্ছা তুমি আর কিছু বলতে পারো না (কম্পিউটার ষাট ডাউন করতে করতে ),আমাদের কি আর অন্যকোন কোনো কথা থাকতে নেই। 

 স্ত্রী :তোমার সাথে কথা ,সে তো পাগলের সাথে বলা। তুমি বিনয় ,শক্তি ,সুনীল করবে আর আমার মাথায় কিছু ঢুকবে না। সে তো বিয়ের রাত্রি থেকে শুনছি ,তোমার মনে পরে সেইবার হানিমুনে গিয়ে এমন কবিতা শোনাতে শুরু করলে আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমার কপাল আমার বাড়ির লোকেরা আর ছেলে পাই নি ,বিয়ের আগে শুয়েছিলাম ছেলে পড়াশুনায় ভালো ,ভালো চাকরি করে ,লেখালিখি করে কিন্তু যদি জানতাম তোমার লেখা নিয়ে এই পাগলামি তবে আর বিয়ে করতাম না। 

কবি :তুমি কি বলেছো সারাজীবন আমাকে মাসকাবারি ফর্দ আর অসুখ-বিসুখের ওষুধ ছাড়া। সংসার মানে কি শুধু আলু ,পেঁয়াজ আর চাল ,ইলেকট্রিক বিল। আর কিছু না। আমার দিকে ভালো করে কখনো ফিরে তাকিয়েছো আমি কি চাই ?

স্ত্রী : সংসার মানে এর বাইরে কি ,ভালো থাকবো ,ভালো খাবো ,তিন মাস অন্তর ঘুরতে যাবো ,স্বামীকে জড়িয়ে শোবো কিন্তু তুমি তো শোয়া বসা ও করো না আজ বহুদিন ,একটা বাচ্চা অবধি আমাকে দিতে পারলে না এতদিনে। তোমায় দিয়ে আর কিছু হবে না ওই কবিতা লেখা ছাড়া।

কবি : আমি কি তোমায় ভালোবাসি না ,তোমার জন্য কিছু করি না ,এই যে গত পুজোয় লোন নিয়ে গাড়ি কিনলাম। 

স্ত্রী : ওই গাড়ি কিনলে ,কিন্তু কোথায় ঘুরতে নিয়ে গেলে একাডেমি অফ আর্টসে ,নাটক দেখতে কিন্তু আমি কি বুঝি নাটকের ,সত্যি হলো তোমার সাথে থাকা যায় না ,আমি আছি জোর করে ,না হলে (ফোঁপাতে ফোঁপাতে )

কবি : তুমি কেঁদো না ,আমার কষ্ট হয় ,প্লিজ চুপ করো ,বলো তোমার কি চায় ?

স্ত্রী : তুমি লেখালিখি ছেড়ে দেও ,ও আমার শত্রু ,আমার সংসারটা গিলে খাচ্ছে ,তুমি লেখালিখি ছেড়ে দেও। 

কবি : কি আনতে বলছিলে বেশ ,বোলো লিখে নি ,মুদির দোকানটা বন্ধ হয়ে যাবে। 

 


  

Tuesday, September 27, 2022

এ পারফেক্ট মার্ডার

 এ পারফেক্ট মার্ডার 

... ঋষি 


কেস নো ২০২২ ,বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষকে আদালতে হাজির হবার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। 

বাদী পক্ষের উকিল : ধর্মাবতার আমার মক্কেল প্রদীপকুমার জানার উপর অভিযোগ উনি ওনার স্ত্রীকে ষড়যন্ত্র করে খুন করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ,যা সম্পূর্ণ কল্পিত এবং এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। 

বিবাদী পক্ষের উকিল : ধর্মাবতার পুলিশ অনুসন্ধান করে দেখেছে পেশায় ওসি প্রদীপকুমার জানার সাথে ওনার স্ত্রীর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওনাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ,শুধু ঝগড়া নয় প্রদীপকুমার জানা প্রায়শই নেশা করে বাড়ি ফিরে ওনার স্ত্রীকে মারধর করতেন। ধর্মাবতার আমি প্রদীপকুমার জানাকে একবার উইটনেস বক্সে কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য আপনার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। 

প্রদীপকুমার জানা : আমি যাহা বলিব সত্যি বলিব ,সত্যি ছাড়া মিথ্যা বলবো না। 

বিবাদীপক্ষের উকিল : প্রদীপ বাবু ২০ ই সেপ্টেম্বর অর্থাৎ যেদিন আপনার স্ত্রী মারা যান সেদিন কি হয়েছিল একটু আদালতকে বলবেন। 

প্রদীপকুমার জানা : ধর্মাবতার আমি পেশায় একজন পুলিশ ,সুতরাং আমাকে চোর ,ডাকাত ,পকেটমারদের নিয়ে কাজ করতে হয়।আমি ,আমার স্ত্রী এবং আমার একমাত্র ছ বছরের সন্তান প্রীতম আমরা ভীষণ সুখী পরিবার। আর ঝগড়া কোন পরিবারে হয় না ,সে তো সবখানে হয়।  ঐদিন সকাল ১০ টা নাগাদ আমার মোবাইল ফোন সাব ইন্সপেক্টর মোহন বাবু ফোন করেন যে ঠিক মতো না পাওয়ায় জিটি রোড অবরোধ করা হয়েছে ,আপনি এক্ষুনি আসুন। ধর্মাবতার তখন আমি ওই সকালে ছুটি ওই স্পটে ,সেখানে গিয়ে দেখি উত্তপ্ত জনতা পুলিশকে টিপ্ করে ঢিল ছুঁড়ছে ,আমি ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করার জন্য পিস্তলে খাপে হাত দি দেখি পিস্তলের খাপটা খালি। আমার হঠাৎ মনে পরে তার আগের রাতে আমি আমার পিস্তলটা সার্ভিসিং করে ,ফুল লোডেড করে আমি আমার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে এসেছি। আমি তখন সাব ওসিকে বলি সর্বনাশ আমি আমার সার্ভিস রিভলবার বাড়িতে ফেলে এসেছি ,আমি অফিসের জিপি নিয়ে বাড়ে থেকে ওটা নিয়ে আসছি ,আপনি সামলান ততক্ষন ,কিন্তু বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ ,বলে প্রদীপকুমার ফুপিয়ে কেঁদে ওঠেন। 

 বিবাদীপক্ষের উকিল : বাড়ি গিয়ে আপনি কি দেখলেন ?

প্রদীপকুমার জানা : আমার স্ত্রীর বুলেটবিদ্ধ রক্তাক্ত মৃতদেহ রান্নাঘরের সামনে পরে ,আর আমার ছেলের হাতে সার্ভিস পিস্তল ,সে এককোনে ভয়ে কাঁপছে। 

বিবাদীপক্ষের উকিল : ধর্মাবতার আমরা অনুসন্ধান করে দেখেছি প্রদীপবাবু ছোটবেলা থেকে তার সন্তান প্রীতমকে তার প্রতিটা অনুষ্ঠানে শুধু বন্দুক ,পিস্তল এই সব উপহার দিতেন এবং বাড়িতে প্রায়শই প্রীতম ওই বন্দুক নিয়ে সকলকে গুলি করতো ,প্রদীপ বাবু আপনাকেও তো করতো ? 

প্রদীপকুমার জানা : ধর্মাবতার প্রতিটা বাবা চায় তার সন্তান তার মতো হোক ,হ্যা আমি প্রীতমকে খেলনা বন্দুক কিনে দিতাম ,এবং আমি বাড়ি থাকলে ও ওই সব বন্দুক দিয়ে আমাকে গুলি করতো ,আমি মরে যাবার ভান করতাম ,ও হাসতো ,খুব হাসতো। 

বাদীপক্ষের উকিল : কিন্তু এর থেকে কি প্রমাণিত হয় ধর্মাবতার ,এর থেকে তো প্রমাণিত হয় না প্রদীপবাবু তার স্ত্রীকে খুন করেছেন কিংবা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছেন। 

বিবাদীপক্ষের উকিল :এ তো জলের মতো পরিষ্কার ,প্রদীপবাবু আর স্ত্রীর বনিবনা কিছু ছিল না ,তাই উনি পথের কাঁটা সরাতে ওনার ফুল লোডেড সার্ভিস রিভলবার ইচ্ছাকৃত ওনার সন্তান প্রীতমের হাতের নাগালে ওনার পড়ার ড্রয়ারে  বাড়ি রেখে গেছেন ,কারণ উনি জানতেন ওই রিভলবার দিয়ে প্রীতম তার মাকে ফায়ার করবে ,বাকিটা তো পরিষ্কার। 

বাদীপক্ষের উকিল : এর থেকে কিছুই প্রমাণিত হয় না ,উনি খামোকা ওনার স্ত্রীকে মারতে যাবেন কেন ,ঝগড়া তো সব সংসারে হয়। ধর্মাবতার এইভাবে আদালতের সময় নষ্ট করার কোনো মানে কি আছে ?আমার মক্কেল প্রদীপকুমার জানা সম্পূর্ণ নির্দোষ ,ওনার উপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। 

জজসাহেব : বাদী ও বিবাদীপক্ষের সমস্ত বক্তব্য শোনার পর এটা পরিষ্কার ওসি প্রদীপকুমার জানা সম্পূর্ণ নির্দোষ কারণ ওনার বিরুদ্ধে কোনো প্রমান আদালতে প্রমান করা যায় না। আদালত প্রমানে বিশ্বাস করে কিন্তু কোনো ভাবনা বা গল্পে না। 


কিছুক্ষন পর 

প্রদীপকুমার জানা : হ্যালো হ্যালো ! মায়া আমি কেস জিতে গেছি। আবার আমি ,তুমি আর প্রীতম একসাথে থাকা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না গো।  

Monday, May 30, 2022

নক্ষত্র কথন

 


নক্ষত্র কথন 

.. ঋষি 

..


পৃথিবীর প্রতিটি নক্ষত্রের জ্ঞান মানুষের আছে 

কিন্তু নেই মনের 

তাই আঘাত করা সহজ ,তাই জড়িয়ে ধরা সহজ 

শধু মনকে বোঝাতে হবে 

তুমিও একজন ব্যবসায়ী। 

.

তোমার হিংসা তোমার বুকের ভাঁজে নক্ষত্র নেই 

তোমার হিংসা তাই সম্পকের লড়াই 

তোমার হিংসার বলি প্রাদেশিক জাতীয়তাবাদ 

ওই যে কথায় বলে 

আকাশের গায়ে কত্ত বড় পূর্ণিমার চাঁদ। 

.

পৃথিবীর প্রতিটা নক্ষত্রের আলো পৃথিবীর গায়ে 

নক্ষত্ররা প্রশ্ন করে কে তুমি ? তুমি কার ?

নক্ষত্ররা ঝগড়া করে না 

শুধু মাঝে মাঝে রেগে গেলে ছুটে আসে পৃথিবীর বুকে 

মানুষ বলে তারা খসা 

সময় বলে মিথ্যে কথা 

আসলে মানুষের খালি ঘরে আজকাল মিথ্যের বাস।