Sunday, February 5, 2023

 পৃথিবীতে কত কিছু ঘটে যার কোনো মানে থাকে না ,পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটে যার মানে থাকলেও কিন্তু সত্যি মানেটা ধরা দেয় সময়ের ক্যালেন্ডারে সময়ের সাথে ,অনুভবের সাথে ,ভাবনার আঙিনায়  ।পৃথিবীতে কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে ,ভালোবাসে শান্তির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে একটা জীবন শুধু মাত্র ভালো থেকে কাটিয়ে দিতে। কেউ যদি ভাবে সে একটা উপন্যাস লিখবে  তবে তার লেখার ভাবনায় ভাবতে হবে চরিত্রদের মোচড় ,কিন্তু লেখক  যদি উপন্যাস লিখতে গিয়ে উপন্যাসের চরিত্র অল্প সময়ে বর্ণনা করে দেয় ,তবে উপন্যাস ফুরিয়ে গিয়ে হয়ে যায় ছোটগল্প ,তখনও  লেখকের হাতে অনেকটা হাতিয়ার থাকে ,কারণ উপন্যাস সৃষ্টিতে লেখক ঈশ্বর সে যেমন কিছু চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে কিংবা জন্ম দিতে পারে ,চরিত্রদের নিয়ে খেলতে পারে। কিন্তু অদ্ভুত হলো জীবন নামক ব্যাপ্তিটা একটা  উপন্যাস হলেও ,উপন্যাসের লেখক সময় হলেও কিন্তু সময় চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে না  অবশ্যই বদলাতে পারে কিন্তু নতুন করে জন্ম দিতে পারে না উপন্যাসটা শেষ লিখতে। 

অর্কের জীবনটা অনেকটা সেই বেহিসাবি সময়ের হাতে ছিল কিন্তু  অর্ক জানতো না। অর্ক ভাবতো জীবন মানে খুব সাধারণ একটা উপন্যাস ,খুব শান্তিতে সকলে জীবন কাটিয়ে দেয় মহাবিশ্বে একটা মানুষের জন্য ,শুধুমাত্র একটা মানুষের সাথে একটা জীবন হেসে খেলে কাটিয়ে দিতে পারে। অর্কর শৈশব অর্ককে শিখিয়েছিল তার পাশে যারা আছে তারা তার কেউ না ,আসলে কারণ ছিল না ভাবার যে তার চারপাশে যারা তারা অর্কের নিজের লোক ,নিজের কেউ। কোনো এক অক্টবরের রাতে যেদিন  অন্ধকার অকাশে  চাঁদ ছিল না ,চারিপাশে অন্ধকারে ভূতেদের সাথে কালী নামক কোনো এক দেবীর আরাধনা হচ্ছিল এই ধরায় ,সেদিন অর্কের জন্ম। সুতরাং অর্কের জীবনের সাথে অন্ধকার শব্দটা একটা শরীরের ফোঁড়ার মতো ছিল। অর্কর জন্ম হয়েছিল পাঞ্জাবের কোনই মিলিটারি ক্যাম্পের হাসপাতালে , বাবা সুতীর্থ ছিলেন এক মিলিটারি অফিসার।  তার বাবা কলকাতার লোক হলেও বাবার   পোস্টিং ছিল পাঞ্জাবে ,তাই তার শৈশব কাটার কথা ছিল পাঞ্জাবে কিন্তু ওই যে পৃথিবীতে যা ঘটে তাকি সত্যি সবসময় পৃথিবীর মতো হয়।

তার বাবা  সুতীর্থ লোকটা মারাত্নক রাগী প্রকৃতির ,প্রচুর মদ ও অন্য  নারীতে আসক্তি তার মা শর্মিলাকে বাধ্য করে কলকাতায় বাপের বাড়িতে পালিয়ে আসতে। কিন্তু এই পালিয়ে আসার কারণ শুধু মাত্র অর্কের বাবা সুতীর্থ ছিল না ,ছিল তার মা শর্মিলার প্রেমিক প্রেমাংশু বাবু। প্রেমাংশুবাবু চিরকাল লেখাপড়ায় নিয়ে  থাকতে ভালোবাসটেন  ,পেশায় তিনি  স্কুল শিক্ষিক এবং শর্মিলাকে তিনি ছোটবেলা থেকে চিনতেন ,হয়তো মনের কোনে শর্মিলার জন্য তার প্রেম ছিল। কিন্তু অর্কর দিদা যখন শর্মিলাকে ডিভোর্স করিয়ে প্রেমাংশুবাবুকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। উনি ফিরিয়ে দেন নি ,সমস্ত সময়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ,সমস্ত অধিকারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে ফেলেন শর্মিলাকে ,তখন কত বয়সঅর্কর ,বোধহয় তিন।