Friday, October 6, 2023

সত্যিটা বলে ফেলুন

যৌন পিপাসা নিরুত্তরে এক অন্ধকার ডাক 
ডাকটা অমান্য করা মুশকিল 
আবার মেনে নেওয়াও মুশকিল জানি 
তবু একবার নিজের বুকে হাত রেখে বলুন তো মিথ্যা কি ?
কেন দেখাচ্ছেন ?
কেন দেখাচ্ছেন আপনারা সুখে থাকার বিজ্ঞাপনী সেলফি 
সত্যি বলতে পারছেন না ,ভয় পাচ্ছেন
মুক্তি নেই ,মুক্তির পথে জটিলতা। 
কি চাইছেন ?
নিয়মের সমাজের অধীনে বোঝাপড়া নামক শব্দের সাথে আলিঙ্গন করে 
এই জীবনটা  কাটিয়ে দেবো এমনি। 
.
কি ভালো আছেন তো মশাই ?
নিজেকে খুশি প্রমাণিত করতে জড়িয়ে আছেন সমাজকে সাপের মতো 
তাজমহলের সামনে সাজানো ফ্যামিলি ফটোফ্রেম  
কাঞ্চনজঙ্ঘার পাহাড়ে বুক চিতিয়ে ছবি ,ভালো আছি ,
দিঘায় সমুদ্রের বালিতে জোড়া কাঁকড়া 
বিশ্বাস করাতে চাইছেন নিজেকে ভালো আছেন 
আমি তো বুঝছি মশাই সবটাই, ভয় পাচ্ছেন ,ডিভোর্স ,সমাজ ,নিয়ম 
থাক আর সত্যি বলবো  না। 
.
আপনাকে বলছি ম্যাডাম 
বেনারসী পরে ,সুট ,টাই পরা সামাজিক  মানুষটার পাশে আপনাকে বেশ লাগছে 
ব্যাংক ব্যালান্স ,জীবন বীমায় পাশাপাশি নাম ,বেশ লাগছে। 
তবু রাতের বিছানা জানে ম্যাডাম আপনার শরীরে আজ বহুদিন লাগে নি 
পুরুষের ঘাম ,বালিশের শহরে নেই কোনো পুরুষালি গন্ধ 
সাজানো গোছানো সংসার, 
সেই বোঝাপড়া। 
আজও জানলার দিকে তাকিয়ে আপনি আকাশ খোঁজেন 
সত্যি বলতে পারছেন না তো 
বাপের বাড়ি ,শশুর বাড়ি ,পাড়া প্রতিবেশী কি বলবে। 
.
কি বলছেন আপনারা ,বড্ড বেশি সত্যি বলছি 
দেখে নেবেন ,
তা দেখে নিন
আমি যে জেনে গেছি ব্যাপারটা 
আমি যে জেনে গেছি বোঝাপড়া করে সময় কাটানো যায় 
কাঁদা যায় একলা নিজের কাঁধে মাথা রেখে 
ফটোফ্রেমে  ফ্যামিলি ফটো সাজিয়ে নিজেকে বোঝানো যায় 
ভালো আছি ,
কিন্তু ভালো থাকতে একটা মানুষ  চাই ,একটাই মানুষ 
শুধুই  শরীর নয় ,শুধুই বন্ধু নয় ,শুধু একটা বিশেষ স্পর্শ 
যার সাথে ভালো থাকা যায়
সুতরাং সময় আছে আর মিথ্যে নয় 
অনুরোধ সত্যিটা বলে ফেলুন।  
.
সত্যিটা বলে ফেলুন 
,,, ঋষি

Thursday, October 5, 2023

কবিতা কে

শুধু কবিতা লিখবো বলে এই জীবন 
এমন একটা অনুভব নিয়েই সকলেই কবিতা চেটে বেড়ায় 
আসলে সত্যিটা কেউ বলে না ,
ইট কাঠ পাথুরে শহরে ক্লান্ত মানুষের একমাত্র জীবিকা কবিতা হতে পারে না
অন্ন ,বস্ত্রের থেকে জরুরি অন্য  কিছু কবিতা হতে পারে না 
প্রতিদিন সন্ধ্যেয় ক্লান্ত শরীরে ফিরে আসা মানুষগুলোর কবিতা হতে পারে না 
তবে কবিতা কি ?তবে কবিতা কে ?
.
কবিতা আসলে সাদা পাতায় ঝরতে থাকা রক্ত বিলাপ 
কে কান্নার স্বর কষ্টের অনুভূতিতে বর্ণমালায় লাল হয়ে প্রতিবাদ করে 
প্রতিবাদ করে সময়ের 
অন্যমনস্ক আলোর আশায় এই শহরের অপেক্ষার অন্য নাম কবিতা। 
কবিতা হলো সেই মেয়েটার নাম যার স্বামীকে পিষে দিয়ে গেছে অফিস ফেরত বাস  
কবিতা হলো চাকরি পাই নি বলে সেই ছেলেটার মৃত  নিথর শরীর  
কবিতা হলো সেই মুহূর্ত যখন ভালোবাসাকে  ঠকিয়ে যায় সময় 
কবিতা হলো প্রিয় নারী ,প্রিয় পুরুষ কিংবা অপ্রিয়।  
আমি তো বলি কবিতা দিয়ে বোমা বাঁধা যায় 
আমি তো বলি কবিতা দিয়ে দুঃখের নদীতে বাঁধ দেওয়া  যায় 
আমি তো বলি কবিতা হলো আগুনের থেকে মারাত্নক 
আমি তো বলি কবিতা হলো হেমলকের থেকেও বিষাক্ত 
আমি তো বলি কবিতা হলো মানুষের না বলা কথাদের একটা পেইন্টিং 
হাজারো রঙে ,হাজারো অনুভূতিতে ফুটে ওঠা প্রতিবাদ। 
.
এই যে আজ তুমি  হঠাৎ মাঝরাস্তায় তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলে 
আমার দিকে হিংস্র এক বিষাক্ততা ছড়িয়ে দিলে 
এটাও কি কবিতা নয় ?
এই যে হঠাৎ এক শয়তান তোমার সময়ের ফাঁকে অকারণে বিরক্ত করে 
তুমি চিৎকার করতে থাকো ,কাঁদতে থাকো 
ছুঁড়ে ফেলে দেও  তোমার কবিতার প্রিয় কবিকে 
সেটাও  কি কবিতা নয়  ?
এই যে এই শহরের ঘুম নেই ,অকারণে বৃষ্টিতে ভেজা রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট 
হাজারো চিৎকার মানুষের ,জীবন যাপনে মিথ্যা ,সত্যি কিংবা ধর্ম ,অধর্মের মিছিল 
এগুলো কি কবিতা না ?
আসলে ইট কাঠ পাথরের শহরে কবিতা একটা অসহ্য মুহূর্তের নাম 
যেখানে ভালোবাসার ফুল ফোটে পাথরে 
যেখানে ক্ষুদার্থের মুশকিলআসান 
যেখানে পথিকের শেষ মাস্তুল 
যেখানে না বলা কথারা ,সময়ের স্বপ্নরা বাবুইয়ের বাসা বোনে 
যেখানে সময়ের ফাঁকে ,মুহূর্তদের আলাপনে 
ঈশ্বর বাঁশি বাজায় 
হঠাৎ তখন সাদা পাতায় টুপ্ টুপ্ করে ঝরে পরে কবির রক্ত
ঈশ্বর শব্দের ছদ্মবেশে কবিতায় লিখে দেয় সময়।  
.
কবিতা কে 
...ঋষি

Sunday, February 5, 2023

 পৃথিবীতে কত কিছু ঘটে যার কোনো মানে থাকে না ,পৃথিবীতে এমন কিছু ঘটে যার মানে থাকলেও কিন্তু সত্যি মানেটা ধরা দেয় সময়ের ক্যালেন্ডারে সময়ের সাথে ,অনুভবের সাথে ,ভাবনার আঙিনায়  ।পৃথিবীতে কিছু মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে ,ভালোবাসে শান্তির আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে একটা জীবন শুধু মাত্র ভালো থেকে কাটিয়ে দিতে। কেউ যদি ভাবে সে একটা উপন্যাস লিখবে  তবে তার লেখার ভাবনায় ভাবতে হবে চরিত্রদের মোচড় ,কিন্তু লেখক  যদি উপন্যাস লিখতে গিয়ে উপন্যাসের চরিত্র অল্প সময়ে বর্ণনা করে দেয় ,তবে উপন্যাস ফুরিয়ে গিয়ে হয়ে যায় ছোটগল্প ,তখনও  লেখকের হাতে অনেকটা হাতিয়ার থাকে ,কারণ উপন্যাস সৃষ্টিতে লেখক ঈশ্বর সে যেমন কিছু চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে কিংবা জন্ম দিতে পারে ,চরিত্রদের নিয়ে খেলতে পারে। কিন্তু অদ্ভুত হলো জীবন নামক ব্যাপ্তিটা একটা  উপন্যাস হলেও ,উপন্যাসের লেখক সময় হলেও কিন্তু সময় চরিত্র সৃষ্টি করতে পারে না  অবশ্যই বদলাতে পারে কিন্তু নতুন করে জন্ম দিতে পারে না উপন্যাসটা শেষ লিখতে। 

অর্কের জীবনটা অনেকটা সেই বেহিসাবি সময়ের হাতে ছিল কিন্তু  অর্ক জানতো না। অর্ক ভাবতো জীবন মানে খুব সাধারণ একটা উপন্যাস ,খুব শান্তিতে সকলে জীবন কাটিয়ে দেয় মহাবিশ্বে একটা মানুষের জন্য ,শুধুমাত্র একটা মানুষের সাথে একটা জীবন হেসে খেলে কাটিয়ে দিতে পারে। অর্কর শৈশব অর্ককে শিখিয়েছিল তার পাশে যারা আছে তারা তার কেউ না ,আসলে কারণ ছিল না ভাবার যে তার চারপাশে যারা তারা অর্কের নিজের লোক ,নিজের কেউ। কোনো এক অক্টবরের রাতে যেদিন  অন্ধকার অকাশে  চাঁদ ছিল না ,চারিপাশে অন্ধকারে ভূতেদের সাথে কালী নামক কোনো এক দেবীর আরাধনা হচ্ছিল এই ধরায় ,সেদিন অর্কের জন্ম। সুতরাং অর্কের জীবনের সাথে অন্ধকার শব্দটা একটা শরীরের ফোঁড়ার মতো ছিল। অর্কর জন্ম হয়েছিল পাঞ্জাবের কোনই মিলিটারি ক্যাম্পের হাসপাতালে , বাবা সুতীর্থ ছিলেন এক মিলিটারি অফিসার।  তার বাবা কলকাতার লোক হলেও বাবার   পোস্টিং ছিল পাঞ্জাবে ,তাই তার শৈশব কাটার কথা ছিল পাঞ্জাবে কিন্তু ওই যে পৃথিবীতে যা ঘটে তাকি সত্যি সবসময় পৃথিবীর মতো হয়।

তার বাবা  সুতীর্থ লোকটা মারাত্নক রাগী প্রকৃতির ,প্রচুর মদ ও অন্য  নারীতে আসক্তি তার মা শর্মিলাকে বাধ্য করে কলকাতায় বাপের বাড়িতে পালিয়ে আসতে। কিন্তু এই পালিয়ে আসার কারণ শুধু মাত্র অর্কের বাবা সুতীর্থ ছিল না ,ছিল তার মা শর্মিলার প্রেমিক প্রেমাংশু বাবু। প্রেমাংশুবাবু চিরকাল লেখাপড়ায় নিয়ে  থাকতে ভালোবাসটেন  ,পেশায় তিনি  স্কুল শিক্ষিক এবং শর্মিলাকে তিনি ছোটবেলা থেকে চিনতেন ,হয়তো মনের কোনে শর্মিলার জন্য তার প্রেম ছিল। কিন্তু অর্কর দিদা যখন শর্মিলাকে ডিভোর্স করিয়ে প্রেমাংশুবাবুকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। উনি ফিরিয়ে দেন নি ,সমস্ত সময়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ,সমস্ত অধিকারের বিপরীতে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে ফেলেন শর্মিলাকে ,তখন কত বয়সঅর্কর ,বোধহয় তিন।