এ পারফেক্ট মার্ডার
... ঋষি
কেস নো ২০২২ ,বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষকে আদালতে হাজির হবার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
বাদী পক্ষের উকিল : ধর্মাবতার আমার মক্কেল প্রদীপকুমার জানার উপর অভিযোগ উনি ওনার স্ত্রীকে ষড়যন্ত্র করে খুন করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ,যা সম্পূর্ণ কল্পিত এবং এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
বিবাদী পক্ষের উকিল : ধর্মাবতার পুলিশ অনুসন্ধান করে দেখেছে পেশায় ওসি প্রদীপকুমার জানার সাথে ওনার স্ত্রীর সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ওনাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ,শুধু ঝগড়া নয় প্রদীপকুমার জানা প্রায়শই নেশা করে বাড়ি ফিরে ওনার স্ত্রীকে মারধর করতেন। ধর্মাবতার আমি প্রদীপকুমার জানাকে একবার উইটনেস বক্সে কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য আপনার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রদীপকুমার জানা : আমি যাহা বলিব সত্যি বলিব ,সত্যি ছাড়া মিথ্যা বলবো না।
বিবাদীপক্ষের উকিল : প্রদীপ বাবু ২০ ই সেপ্টেম্বর অর্থাৎ যেদিন আপনার স্ত্রী মারা যান সেদিন কি হয়েছিল একটু আদালতকে বলবেন।
প্রদীপকুমার জানা : ধর্মাবতার আমি পেশায় একজন পুলিশ ,সুতরাং আমাকে চোর ,ডাকাত ,পকেটমারদের নিয়ে কাজ করতে হয়।আমি ,আমার স্ত্রী এবং আমার একমাত্র ছ বছরের সন্তান প্রীতম আমরা ভীষণ সুখী পরিবার। আর ঝগড়া কোন পরিবারে হয় না ,সে তো সবখানে হয়। ঐদিন সকাল ১০ টা নাগাদ আমার মোবাইল ফোন সাব ইন্সপেক্টর মোহন বাবু ফোন করেন যে ঠিক মতো না পাওয়ায় জিটি রোড অবরোধ করা হয়েছে ,আপনি এক্ষুনি আসুন। ধর্মাবতার তখন আমি ওই সকালে ছুটি ওই স্পটে ,সেখানে গিয়ে দেখি উত্তপ্ত জনতা পুলিশকে টিপ্ করে ঢিল ছুঁড়ছে ,আমি ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করার জন্য পিস্তলে খাপে হাত দি দেখি পিস্তলের খাপটা খালি। আমার হঠাৎ মনে পরে তার আগের রাতে আমি আমার পিস্তলটা সার্ভিসিং করে ,ফুল লোডেড করে আমি আমার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে রেখে এসেছি। আমি তখন সাব ওসিকে বলি সর্বনাশ আমি আমার সার্ভিস রিভলবার বাড়িতে ফেলে এসেছি ,আমি অফিসের জিপি নিয়ে বাড়ে থেকে ওটা নিয়ে আসছি ,আপনি সামলান ততক্ষন ,কিন্তু বাড়িতে এসে দেখি সব শেষ ,বলে প্রদীপকুমার ফুপিয়ে কেঁদে ওঠেন।
বিবাদীপক্ষের উকিল : বাড়ি গিয়ে আপনি কি দেখলেন ?
প্রদীপকুমার জানা : আমার স্ত্রীর বুলেটবিদ্ধ রক্তাক্ত মৃতদেহ রান্নাঘরের সামনে পরে ,আর আমার ছেলের হাতে সার্ভিস পিস্তল ,সে এককোনে ভয়ে কাঁপছে।
বিবাদীপক্ষের উকিল : ধর্মাবতার আমরা অনুসন্ধান করে দেখেছি প্রদীপবাবু ছোটবেলা থেকে তার সন্তান প্রীতমকে তার প্রতিটা অনুষ্ঠানে শুধু বন্দুক ,পিস্তল এই সব উপহার দিতেন এবং বাড়িতে প্রায়শই প্রীতম ওই বন্দুক নিয়ে সকলকে গুলি করতো ,প্রদীপ বাবু আপনাকেও তো করতো ?
প্রদীপকুমার জানা : ধর্মাবতার প্রতিটা বাবা চায় তার সন্তান তার মতো হোক ,হ্যা আমি প্রীতমকে খেলনা বন্দুক কিনে দিতাম ,এবং আমি বাড়ি থাকলে ও ওই সব বন্দুক দিয়ে আমাকে গুলি করতো ,আমি মরে যাবার ভান করতাম ,ও হাসতো ,খুব হাসতো।
বাদীপক্ষের উকিল : কিন্তু এর থেকে কি প্রমাণিত হয় ধর্মাবতার ,এর থেকে তো প্রমাণিত হয় না প্রদীপবাবু তার স্ত্রীকে খুন করেছেন কিংবা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছেন।
বিবাদীপক্ষের উকিল :এ তো জলের মতো পরিষ্কার ,প্রদীপবাবু আর স্ত্রীর বনিবনা কিছু ছিল না ,তাই উনি পথের কাঁটা সরাতে ওনার ফুল লোডেড সার্ভিস রিভলবার ইচ্ছাকৃত ওনার সন্তান প্রীতমের হাতের নাগালে ওনার পড়ার ড্রয়ারে বাড়ি রেখে গেছেন ,কারণ উনি জানতেন ওই রিভলবার দিয়ে প্রীতম তার মাকে ফায়ার করবে ,বাকিটা তো পরিষ্কার।
বাদীপক্ষের উকিল : এর থেকে কিছুই প্রমাণিত হয় না ,উনি খামোকা ওনার স্ত্রীকে মারতে যাবেন কেন ,ঝগড়া তো সব সংসারে হয়। ধর্মাবতার এইভাবে আদালতের সময় নষ্ট করার কোনো মানে কি আছে ?আমার মক্কেল প্রদীপকুমার জানা সম্পূর্ণ নির্দোষ ,ওনার উপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।
জজসাহেব : বাদী ও বিবাদীপক্ষের সমস্ত বক্তব্য শোনার পর এটা পরিষ্কার ওসি প্রদীপকুমার জানা সম্পূর্ণ নির্দোষ কারণ ওনার বিরুদ্ধে কোনো প্রমান আদালতে প্রমান করা যায় না। আদালত প্রমানে বিশ্বাস করে কিন্তু কোনো ভাবনা বা গল্পে না।
কিছুক্ষন পর
প্রদীপকুমার জানা : হ্যালো হ্যালো ! মায়া আমি কেস জিতে গেছি। আবার আমি ,তুমি আর প্রীতম একসাথে থাকা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না গো।