রোবোস্যাপিয়ান
.. ঋষি
সময় যেখানে শেষ হয় সেখান থেকে আমার এই গল্পটা শুরু।
আমি অনেকেত দাঁ অবশ্য এখন শুধুই একটা নাম্বার ৭০০১৩৬।
না পিন কোড না এটা স্যিটিজেন সিপ নাম্বার। আমাদের এখানে
মানে শহরে কারোর কোন নাম নেই আমরা সকলেই নাম্বার,তাতে
আমদের লোকসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।
অবাক হচ্ছেন
আমার এই লেখা শুধু পরের প্রজন্মের জন্য।এটা পৃথিবী না,
তবে পৃথিবীর তলায় একটা শহর।প্রথিবী শেষ হয়ে গেছে আজ
প্রায় সাতশো বছর আগে।কি ভাবছেন আমার বয়স? তা প্রায়
সাতশো বিয়াল্লিশ হবে।কি ভাবে বেঁচে? মশাই আমার শরীরের
ভিতর ফুসফুস,লিভার,কিডনি সব যান্ত্রিক।অবাক হবেন না পৃথিবীর
শেষ দিনে আমরা কিছু মানুষ মানে সায়েন্সটিস্ট,সাহিত্যিক, পেন্টার
অর্থাৎ কিছু বুদ্ধিজীবি নিজেদের বাঁচাতে পালিয়ে আসি মাটির নিচে।
পরে তৈরি করি এই শহর , নাম রাখি ড্রিম ল্যান্ড।
ড্রিম ল্যান্ড বটে এই শহরের লোকসংখ্যা ২৪ লাখ,তার মধ্যে মশাই দশ লাখ মতো
আমার মতো মানুষ, বাকি সব রোবট।এই ড্রিম ল্যন্ডে পৃথিবীর মতো দিন, রাত
সব হয়,গাছপালা, পশু পাখি, নদী পাহাড় সব আছে,তবে সবটাই যান্ত্রিক।
পৃথিবীর উপরে আমাদের সোলার প্যানেল বসানো আর পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে
জমা এনার্জি থেকে আমার এই শহরে সবরকম এনার্জি তৈরি হয়। দাঁড়ান একটু
আসছি আমার রুমের অক্সিজেন লেভেল নেমে যাচ্ছে, এলার্ম বাজছে,একটা
ফোন করা জরুরী।
হ্যা বেশ কোথায় ছিলাম, ও আচ্ছা আমদের এখাবে সব আছে পৃথিবীর মত,
হ্যাঁ অবশ্যই জাত আছে তবে হিন্দু, মুসলিম, শিখ এমন নয় আমরা সকলেই
রোবোস্যাপিয়ান যার দুটো জাত পুরুষ আর নারী ।আমাদের অনুভুতিতে
পৃথিবীর মানুষের মতো সব আছে অর্থাৎ পঞ্চরিপু।তবে এখানে কোন
পুলিশ স্টেশন নেই,কারন ডাকাতি, চুরি, রেপ এগুলো আমাদের ডিক্সানারিতে
নেই।আমাদের এখানে সেক্স লাইব্রেরী আছে যেখানে হাজারো ধরনের নারী ও
পুরুষ রোবট পাওয়া যায়,আপনি ইচ্ছে মতো তাদের সাহায্য নিতে পারেন আপনার
যৌন ক্ষুধা মেটাবার জন্য,এমন এখানে বইয়ের লাইব্রের, এক্সারসাইজ পারলার
সমস্ত ফেসিলিটি আছে।
আমাদের শহরে টাকা পয়সা নেই, পৃথিবীর ভাষায় সব ফ্রি সারভিস।
এখানে আমরা কাজ করি কারণ ওটা আমাদের দায়িত্ব, আমরা যারা মানূষ
রোবট আছি তারা সকলে বুদ্ধির কাজ করি যেমন সৃষ্টি,আবিষ্কার আর বলাবাহুল্য
খাটনির কাজ গুলো সমস্ত রোবট করে।যেমন ধরুন গাছপালা তৈর, নকল সুরজ আর
চাঁদের রক্ষনাবেক্ষন ইত্যাদি।আমাদের খিদে পায় না কারণ আমাদের শরীরের ভিতর
একরকম পজিটিভ এনার্জি ট্রান্সফরমার আছে যা আমাদের সাপ্তাহিক সাইকেলে রিচারজ
করতে হয় ।তাই আমদের শহরে কোন অসুখ নেই,অবশ্যই জন্ম, মৃত্যু এসব তো নেই।
তাই রোবোস্যাপিয়ান মানে আমরা নিজেদের এই সৃষ্টির সব থেকে উন্নত জন্ম মনে করি।
আমাদের এখানে একটা আকর্ষণীয় মিউজিয়াম আছে যেখানে আমরা পৃথিবীর নষ্টের
কারনগুলো রেখেছি কাঁচের বাক্সে সাজিয়ে।পৃথিবীর মানুষের লোভ, হিংসা,পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার
কারন,প লিউসান ইত্যাদি,তাছাড়া রেখেছি রবিন্দ্রনাথ,আইনস্টাইন,গ্যালিলিও - দের মত অজস্র নক্ষত্রের
সৃষ্ট। আমরা পৃথিবীর মতো মাস, বছর ক্যালেন্ডার এক রেখেছি কিন্তু আনাদের ড্রিমল্যান্ডে মানুষের
নষ্ট অনুভুতিগুলো ঢুকতে দি নি।
আমার কানের কাছে মোবাইলের রিংটোনের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। আমি অবাক কি অদ্ভুত
কি দেখছিলাম এতক্ষন।ধরফর করে বিছানায় উঠে বসে মোবাইলটা ধরলাম।হ্যালো! হ্যাঁ মিস্টার দাঁ
বলছি, অপাশ দিয়ে কেউ বলছে শুনলাম " মিস্টার দাঁ,দিস ইস আ রিমাইন্ডার কল ফ্রম রোবোস্যাপিয়ান ,
দিস ড্রিম ফর ইউর নেক্সট লিভিং অনলি"।
.. ঋষি
সময় যেখানে শেষ হয় সেখান থেকে আমার এই গল্পটা শুরু।
আমি অনেকেত দাঁ অবশ্য এখন শুধুই একটা নাম্বার ৭০০১৩৬।
না পিন কোড না এটা স্যিটিজেন সিপ নাম্বার। আমাদের এখানে
মানে শহরে কারোর কোন নাম নেই আমরা সকলেই নাম্বার,তাতে
আমদের লোকসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।
অবাক হচ্ছেন
আমার এই লেখা শুধু পরের প্রজন্মের জন্য।এটা পৃথিবী না,
তবে পৃথিবীর তলায় একটা শহর।প্রথিবী শেষ হয়ে গেছে আজ
প্রায় সাতশো বছর আগে।কি ভাবছেন আমার বয়স? তা প্রায়
সাতশো বিয়াল্লিশ হবে।কি ভাবে বেঁচে? মশাই আমার শরীরের
ভিতর ফুসফুস,লিভার,কিডনি সব যান্ত্রিক।অবাক হবেন না পৃথিবীর
শেষ দিনে আমরা কিছু মানুষ মানে সায়েন্সটিস্ট,সাহিত্যিক, পেন্টার
অর্থাৎ কিছু বুদ্ধিজীবি নিজেদের বাঁচাতে পালিয়ে আসি মাটির নিচে।
পরে তৈরি করি এই শহর , নাম রাখি ড্রিম ল্যান্ড।
ড্রিম ল্যান্ড বটে এই শহরের লোকসংখ্যা ২৪ লাখ,তার মধ্যে মশাই দশ লাখ মতো
আমার মতো মানুষ, বাকি সব রোবট।এই ড্রিম ল্যন্ডে পৃথিবীর মতো দিন, রাত
সব হয়,গাছপালা, পশু পাখি, নদী পাহাড় সব আছে,তবে সবটাই যান্ত্রিক।
পৃথিবীর উপরে আমাদের সোলার প্যানেল বসানো আর পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে
জমা এনার্জি থেকে আমার এই শহরে সবরকম এনার্জি তৈরি হয়। দাঁড়ান একটু
আসছি আমার রুমের অক্সিজেন লেভেল নেমে যাচ্ছে, এলার্ম বাজছে,একটা
ফোন করা জরুরী।
হ্যা বেশ কোথায় ছিলাম, ও আচ্ছা আমদের এখাবে সব আছে পৃথিবীর মত,
হ্যাঁ অবশ্যই জাত আছে তবে হিন্দু, মুসলিম, শিখ এমন নয় আমরা সকলেই
রোবোস্যাপিয়ান যার দুটো জাত পুরুষ আর নারী ।আমাদের অনুভুতিতে
পৃথিবীর মানুষের মতো সব আছে অর্থাৎ পঞ্চরিপু।তবে এখানে কোন
পুলিশ স্টেশন নেই,কারন ডাকাতি, চুরি, রেপ এগুলো আমাদের ডিক্সানারিতে
নেই।আমাদের এখানে সেক্স লাইব্রেরী আছে যেখানে হাজারো ধরনের নারী ও
পুরুষ রোবট পাওয়া যায়,আপনি ইচ্ছে মতো তাদের সাহায্য নিতে পারেন আপনার
যৌন ক্ষুধা মেটাবার জন্য,এমন এখানে বইয়ের লাইব্রের, এক্সারসাইজ পারলার
সমস্ত ফেসিলিটি আছে।
আমাদের শহরে টাকা পয়সা নেই, পৃথিবীর ভাষায় সব ফ্রি সারভিস।
এখানে আমরা কাজ করি কারণ ওটা আমাদের দায়িত্ব, আমরা যারা মানূষ
রোবট আছি তারা সকলে বুদ্ধির কাজ করি যেমন সৃষ্টি,আবিষ্কার আর বলাবাহুল্য
খাটনির কাজ গুলো সমস্ত রোবট করে।যেমন ধরুন গাছপালা তৈর, নকল সুরজ আর
চাঁদের রক্ষনাবেক্ষন ইত্যাদি।আমাদের খিদে পায় না কারণ আমাদের শরীরের ভিতর
একরকম পজিটিভ এনার্জি ট্রান্সফরমার আছে যা আমাদের সাপ্তাহিক সাইকেলে রিচারজ
করতে হয় ।তাই আমদের শহরে কোন অসুখ নেই,অবশ্যই জন্ম, মৃত্যু এসব তো নেই।
তাই রোবোস্যাপিয়ান মানে আমরা নিজেদের এই সৃষ্টির সব থেকে উন্নত জন্ম মনে করি।
আমাদের এখানে একটা আকর্ষণীয় মিউজিয়াম আছে যেখানে আমরা পৃথিবীর নষ্টের
কারনগুলো রেখেছি কাঁচের বাক্সে সাজিয়ে।পৃথিবীর মানুষের লোভ, হিংসা,পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ার
কারন,প লিউসান ইত্যাদি,তাছাড়া রেখেছি রবিন্দ্রনাথ,আইনস্টাইন,গ্যালিলিও - দের মত অজস্র নক্ষত্রের
সৃষ্ট। আমরা পৃথিবীর মতো মাস, বছর ক্যালেন্ডার এক রেখেছি কিন্তু আনাদের ড্রিমল্যান্ডে মানুষের
নষ্ট অনুভুতিগুলো ঢুকতে দি নি।
আমার কানের কাছে মোবাইলের রিংটোনের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেলো। আমি অবাক কি অদ্ভুত
কি দেখছিলাম এতক্ষন।ধরফর করে বিছানায় উঠে বসে মোবাইলটা ধরলাম।হ্যালো! হ্যাঁ মিস্টার দাঁ
বলছি, অপাশ দিয়ে কেউ বলছে শুনলাম " মিস্টার দাঁ,দিস ইস আ রিমাইন্ডার কল ফ্রম রোবোস্যাপিয়ান ,
দিস ড্রিম ফর ইউর নেক্সট লিভিং অনলি"।