লুকোনো বিশ্বাস
……….. ঋষি
=============================================
সবার মাঝে একটা লুকোনো বিশ্বাস থাকে প্রত্যেকে ব্যক্তিগত ভাবে ভীষণ সৎ নিজের কাছে। সুমন সরকার আমাদের সুমন বাবু একটি ম্যালটি ন্যাসনাল ফার্ম চালান। অন্তরবর্তী খবর হলো নিজের শ্যালকের অফিসে একটা টুকরোর বস।
অথচ লেকচার যখন ঝাড়েন তখন মনে হয় আমারিকার
প্রেসিডেন্ডের থেকে প্রতাপশালী ভদ্রলোক। তবে এমনি ভদ্রলোকি
বলা যায় সুমন সরকারকে। প্রত্যহ রুটিনমাফিক ঘুম থেকে উঠে একমাত্র
ছেলে বুবুনকে স্কুলে দিয়ে আসেন ,তারপর চান খাওয়া
দাওয়া করে তার স্ত্রীর কনিকার বানানো টিফিন কৌটো নিয়ে অফিসে যান। একটু বেশি বকেন ভদ্রলোক তাই সামাজিক স্তরে সবাই তাকে একটু এড়িয়ে চলেন ,কানাঘোষায় তাকে অনেকে বক্কম বাবু বলে ডাকেন।
তবে এ হেন বক্কম বাবুর মুডটা
আজ একটু চটকে আছে অফিসে ,সোহিনী মানে সুমনবাবুর
অধীনস্থ মেয়েটা আজ আসে নি।অফিসে ঢোকার মুখে টেলিকলিং থেকে জানতে পারেন সোহিনী আজ আসবে না তার মার শরীর খারাপ
। মধ্য চল্লিশের সুমনের এই একমাত্র একটি উইকপয়েন্ট সোহিনী নামে বছর ছাব্বিশের অবিবাহিত মেয়েটি। মেয়েটিকে দেখলেই কেন জানি সুমনের চোখের পাতা ঠান্ডা হয়ে যায়। পাশের চেয়ারে বসে যখন
সোহিনী কম্পুইটারে কাজ করে সুমনের চোখ আটকে থাকে সোহিনীর প্রত্যেকটা ছন্দে। বেশ কয়েকবার ধরা পরে গেছে সোহিনীর কাছে
,লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নিয়েছে সুমন। সুমনের কাছে সোহিনী বোধহয় একমাত্র তার বেঁচে থাকার কারণ ,উল্টো দিকে সোহিনী জানে
তার বসের মানসিকতা। একটু না জানা ভাব করে থাকে ,অল্প প্রশ্রয় দেই ,চোখে চোখে হাসে আসলে এই কাজটা বাঁচিয়ে রাখা সোহিনীর ভীষণ জরুরী,বাবা মরা মেয়ের এতটুকু তো করতেই হবে। কিন্তু মনে মনে সোহিনী ভালো চেনে সুমনকে মানে মধ্য চল্লিশের পুরুষের ছুঁকছুঁক ভাবনাদের।
অমিত ওর বাড়ির লোক অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে সোহিনীর জন্য রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে । আজ ওদের রেজিস্ট্রি হওয়ার কথা। অমিত জানে কি ভাবে মিথ্যা বলে ম্যানেজ করেছে সোহিনীর আজ অফিসের ছুটিটা। সোহিনী বস বুড়োভামটা কেন যেন সোহিনীকে কাছ ছাড়া করতে চাই না। যখন সোহিনী দেখা করতে আসে বারংবার ফোন আসে বুড়োটার যেন বয়ফ্রেন্ড ওর মিনিটে মিনিটে
খবর নেওয়া দরকার। এই নিয়ে বহুবার ঝগড়া হয়েছে অমিতের সাথে,সোহিনী বলে আগে একটা চাকরী যোগাড় করে দেও
তারপর পৌরুষ দেখিও। ওই তো এসে পরেছে সোহিনীর
বাড়ির লোক ওর মা আর বন্ধুরা।
সুন্দর লাগছে সোহিনীকে,সুন্দর সেজেছে। সোহিনী বললো কতক্ষণ
এসেছো তুমি উত্তর দেওয়ার আগেই ফোনটা বাজলো সোহিনীর ,সোহিনী মুখে আঙ্গুল দিয়ে চুপ চুপ দেখালো। সোহিনী বলছে হ্যা স্যার এই তো ডাক্তার দেখাতে এলাম মাকে ,দেখি কি হয় ,খুব চিন্তায় আছি।
সত্যি খুব চিন্তার কথা
সোহিনীর মার শরীর খারাপ ,কি যে করবে মেয়েটা
,ওইটুকু মেয়ে কত দায়িত্ব এই সব ভাবছে সুমন। সুমন ভাবছিল পরের মাস থেকে মেয়েটার মাইনেটা একটু বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য হেডঅফিসে জানাবে। মনে আছে সেই দিনটা যেদিন ইন্টারভিউ বোর্ডের
সামনে মেয়েটা বসেছিল। ইন্টারভিউ শেষে মেয়েটা বলেছিল চাকরিটা খুব
দরকার স্যার ,মায়ের শরীর ভালো না। একমাত্র সুমনের জন্যই চাকরিটা হয়ে যায় সোহিনীর। তার শ্যালক অবশ্যই এই ব্যাপারে খোঁচা দিতে ছাড়েন না সুমন কে, ইয়ার্কি মেরে ভয় দেখাই
দিদিকে বলে দেবে যে সুমন প্রেম করছে। সুমন বহুবার ভাবার
চেষ্টা করেছে এটা প্রেম কিনা ,বুঝতে পারে নি কারণ
প্রেমের মানেটাই সুমনের কাছে পরিষ্কার না ,শুধু সোহিনীকে দেখলে বুকটা মোচড়ে ওঠে সুমনের। সুমন ঠিক করলো আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরোবে
অফিস থেকে ,একবার সোহিনীর মাকে দেখে আসবেন ,কিছু সাহায্য দরকার কিনা কে জানে মেয়েটার।
এখন রাত্রি দশটা ,দরজা খুললো কনিকা একটু ভীত হয়ে। বহুবার ফোন করেছে সুমনকে ফোন তোলে নি সুমন,অন্যদিন আটটায় বাড়ি চলে আসে যে লোক সে এখনো ফেরে নি । দরজা খুলে দেখলো ক্লান্ত ,মদের নেশায় সোজা ভাবে
দাঁড়াতে পারছে না সুমন। কনিকা বললো ফোন তুলছিলে না কেন ? আবার এত গিলেছ। সুমন জড়ানো গলায় উত্তর
দিল ফোনে চার্জ ছিল না বন্ধ হয়ে গেছে ফোন কখন। কনিকা বললো দেরী করে আসবে একবার জানাতে তো পারতে আমার ফোন নম্বর কি মনে ছিল না
,নাকি ওই সোহিনী মাগীটার সাথে ঢলাচ্ছিলে কোথাও,ওর নম্বর তো মনে থাকে তোমার। হন হন করে দরজা খুলে কনিকা চলে গেল ,বলে গেল আবার চান করে এসে খেয়ে আমাকে কৃতার্থ কর। বুবুন এস দাঁড়ালো বাবার সামনে বাবা কি এনেছ
আমার জন্য। কোলে তুলে নিল সুমন বুবুনকে।
সাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে সুমন ভাবছিল
আজ কি লজ্জায় পরে গেছিল সে ,সারা জীবনে এত অপ্রস্তুত
হয়নি সে। সোহিনীর বাড়িতে ঢুকেই মনে হয়েছিল কিছু অনুষ্ঠান আছে। সোহিনীর মা হাসতে হাসতে এগিয়ে এলেন বললেন
কি আনন্দের দিন আপনি এসেছে ,আসুন আসুন ভিতরে বসুন
,আমি সোহিনীকে ডেকে দিচ্ছি। দুহাতে মিষ্টি আর ফল ,সুমন তখন অন্য পৃথিবীর
জীব। সোহিনী এলো সামনে মাথায় সিঁদুর,অবাক চোখে তাকিয়ে সুমন। কিছু বলার আগে প্রনাম
করে সোহিনী বললো স্যার ভুল হয়ে গেছে, মিথ্যা বলেছি
আসলে, দুম করে বিয়ের ডেট দিয়ে দিল রেজিস্ট্রি অফিস
,আর আপনি তো জানেন আমাদের অবস্থা। অনুষ্ঠান করতে পারবো না ,তাই জানাতে পারি নি
অফিসে। প্লিস স্যার আমার চাকরিটা নিয়ে নেবেন না। সুমন শুধু বললো সোহিনীকে একবার জানাতে পরতে আমায় বলে তার মায়ের জন্য আনা মিষ্টি আর ফলের প্যাকেটগুলো
সোহিনীর হাতে দিয়ে বেরিয়ে এলেন বাড়ি থেকে।
এরপর খাওয়ার টেবিলে সুমন কনিকাকে বোঝাতে
চেষ্টা করলো কেন তার এত দেরী হলো। কিভাবে তার গাড়ির টায়ার লিক হলো ,এক বন্ধুর সাথে
দেখা হলো ,তারপর সময় কাটানোর জন্য বারে। আড্ডা দিতে দিতে সময় পেড়িয়ে গেছে আসলে ফোন চার্জ ছিল না ,তাই ফোন করতে পারে নি। রাত্রে বিছানার চাদরে
বৌকে টেনে নিল বুকে সুমন মনে মনে ভাবলো সোহিনী একবার জানাতে পারতো তাকে।
………………………………XXX…………………………..